Home কুরআন ও হাদিসের আলো হাদীসের আলো কোরবানির প্রকৃত উদ্দেশ্য

কোরবানির প্রকৃত উদ্দেশ্য

“রাসূলুল্লাহ (সা) এর সাহাবী হজরত যায়েদ ইবনে আরকাম (রা)  থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একদা আমি আরজ করলাম ইয়া রাসূলাল্লাহ (সা)! এ কোরবানি কী? মহানবী (সা) ইরশাদ করলেন, তোমাদের পিতা হজরত ইবরাহিম (আ) এর সুন্নত। আমি আরজ করলাম তা (কোরবানি) করলে আমরা কি পাবো? তিনি রাসূল (সা) ইরশাদ করলেন, (কোরবানির পশুর) প্রত্যেকটি চুলের পরিবর্তে একটি করে নেকি (পাবে)। আমি আরজ করলাম হে আল্লাহর রাসূল (সা)! (কোরবানির পশুর) পশমের কী হবে? রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করলেন, প্রত্যেকটি চুলের পরিবর্তে একটি করে নেকি পাওয়া যাবে।”
(সহীহ ইবনে মাজাহ, আবু দাউদ, হাকেম, মুসনাদে আহমদ)
সুপ্রিয় বন্ধুরা
আমরা সবাই জানি কোরবানি এমন একটি ইবাদত যা মুসলিম সমাজের সামর্থ্যবান লোকদের ওপর ওয়াজিব। এটি ধনী-গরিবের হকের সাথে সম্পৃক্ত। ধনীরা আল্লাহর নামে পশু কোরবানি করে তার একটি অংশ আল্লাহর রাস্তায় বিলিয়ে দেয়। আর গরিব-মিসকিনরা তাদের হক হিসেবে গ্রহণ করে। এই সামান্য বস্তু গ্রহণ করে গরিবরা কিনা আনন্দ পায়। তাদের মুখে হাসি দেখে মন ভরে যায়। পশু কোরবানির মাধ্যমে যদি এভাবে নিজের মনে আনন্দ উপভোগ করা যায়, তা কতই না আত্মতৃপ্তির! এই আত্মতৃপ্তির জন্য নিয়তের খুলুসিয়াত দরকার। যদি নিয়তের মধ্যে কোন গরমিল থাকে তবে তা হবে প্রদর্শনেচ্ছারই শামিল।
সব মানুষেরই উদ্দেশ্য থাকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। কিন্তু প্রিয় বস্তুকে ত্যাগ না করতে পারলে তা কোনক্রমেই সম্ভব নয়। আল্লাহপাক পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেছেন- “কখনোই তোমরা পুণ্য লাভ করতে পারবে না, যদি তোমাদের প্রিয় বস্তুকে আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় না কর।” সুতরাং এর দ্বারা বোঝা যায় বান্দার প্রিয় বস্তুকে আল্লাহর পথে ব্যয় না করা পর্যন্ত তাঁর প্রিয়পাত্র হওয়া যাবে না। এখন আমাদের প্রিয় বস্তু কোনটি তা খুঁজে বের করতে হবে। মানুষের সবচেয়ে প্রিয় বস্তু হলো তার জীবন। জীবনের পরে তার সম্পদ। একজন মানুষের জীবনের শেষ সম্বল হলো তার জীবন। আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য পরীক্ষার কেন্দ্রবিন্দু জীবন নয়। কারণ জীবনের পরে আর কিছু অবশিষ্ট থাকে না। বরং আল্লাহ তায়ালা এখানে দেখতে  চেয়েছেন বান্দার পরীক্ষার সফলতা কতটুকু। বান্দার নিয়তের সীমানা কোথায়? মহান প্রভুর ডাকে যে ব্যক্তি নিজেকে আল্লাহর রাহে সঁপে দিতে পেরেছে সেই সফল হয়েছে। তাই প্রকৃত সফলতার জন্য খালেস নিয়তে আল্লাহর রাস্তায় পশু কোরবানি করতে হবে। আলোচ্য হাদিসে বলা হয়েছে- নিছক আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়তে যে ব্যক্তি পশু কোরবানি করবে, (কোরবানির পশুর) প্রত্যেকটি চুলের পরিবর্তে তাকে একটি করে নেকি দেয়া হবে। সুতরাং পশু  কোরবানি করতে হবে  কোরবানির প্রকৃত উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে। তবেই  কোরবানির প্রকৃত উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হবে।
প্রিয় বন্ধুরা, এসো কোরবানি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করি এবং প্রকৃত উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে অগ্রগামী হই।
গ্রন্থনায় : আবদুল কুদ্দুস মাখন
SHARE

Leave a Reply