Home উপন্যাস ঘোস্ট হাউজ অপারেশন

ঘোস্ট হাউজ অপারেশন

আকমল আর টফি একসাথে বসে আছে। আকমল বলল, দেখ টফি, তুই যদি ফের আমাকে আক্কল বলেছিস তো…
টফি বলল, কী? ওই তালগাছের ভূতটার কাছে দিয়ে আসবি নাকি?
আকমল বলল, হ্যাঁ তাই করব। তবে এটা ঠিক যে তোদের পাশাপাশি আমিও ভয় পাই, তবে কম।
আমি এতক্ষণ চুপ করে ছিলাম। পরক্ষণে বলে উঠলাম, থামবি তোরা? আমাদের একটা বড় ধরনের সিদ্ধান্তে আসা উচিত।
টফি বলল, কী সেটা?
আমি বললাম, তাতো তোদের একা বলব না। তোদের বললে মানা করার এক ভাগ লজ্জাও তোরা করবি না। এর চেয়ে ভাল, কাল রাতে আমাদের সব বন্ধুকে আসতে বল। একত্রে সিদ্ধান্ত নিলে আমি নিশ্চিত হবো। এখন আমি চলে যাচ্ছি, তবে বলছি শোন, কাল তোর দুই বন্ধুকে আসতে বলবি।
টফি বলল, কখন আসতে বলব?
আমি বললাম, রাত ১১টায় এলেই চলবে।
কথামতো রাত ১১টায় ৫ জন একত্র হলাম।
বিচ্ছু আমাকে বলল, তুই আমাদের কী ব্যাপারে ডেকেছিস?
ভালো কথা বলেছিস। শোন, আমাদের গোরস্তানের পেছনে ভাঙা পুরনো বাড়িতে কিছু ঐতিহাসিক জিনিস আছে। আমাদের সেগুলো উদ্ধার করা উচিত। তবে সবাই মিলে এটা করতে হবে। দিনের বেলায় সবাই ভয় পায়, আর রাতে তো মানুষ ওই বাড়ির দিকে তাকাতেই পারে না।
রিভার বলল, ওরে বাপরে! আর বলিসনে। শুনে আমার গায়ের পশম খাড়া হয়ে যাচ্ছে। সেদিন দেখি কালো কালো ৪টি কুকুর আর ৪টি বিড়াল বসে আছে। তাদের ছায়া দেখতে পেলাম না। চোখের পলক পড়তেই দেখি সব উধাও।
টফি বলল, বলিস কিরে! তারপর আমাকে লক্ষ্য করে বলল, শুনেছিস কী বলল? যাবি নাকি?
আমি শুনে ভয় পেলাম না। আবার ভয় না পেয়েও থাকতে পারলাম না। বললাম, দুর, এসব ভূতটুত কিছু না। আমাদের দেখলে ভূত সব পালাবে। ওসব ভয় পাসনে।
আকমল বলল, আমার ভয় করছে রে! আমি মনে হয় যেতে পারব না।
আমি বিকট শব্দে ধমক দিয়ে উঠলাম, আক্কেল তুই যাবি না, তোর বাপ যাইবো। বল, যাবি কি না?
আকমল আমতা আমতা করে বলল, যাবো, যাবো, যাবো। তবে তোদের মাঝে থাকব ভাই।
আমি বললাম, তা থাকিস। আর একটি কথা বলতে চাই। আমি আমাদের ওই অভিযানের কর্তা হিসেবে টফিকে রাখতে চাই। কী বলিস টফি, পারবি না?
টফি খুশি হয়ে বলল, খুব পারব। রিভার ও বিচ্ছু, তোরা রাজি আছিস?
হ্যাঁ, রাজি আছি। সমস্বরে বলল দু’জন।
এই সময় আসরে উদয় হলেন আকমলের চাচা বীরবল। বললেন, তোরা এখানে কী করছিস? কোথাও যাবি-টাবি নাকি?
আমি বললাম, ইচ্ছা আছে। উদ্ধার করব কিছু প্রাচীন পুরাকীর্তি।
বীরবল বললেন, কোথায় রে? ওই গোরস্তানের পেছনের বাড়িটাতে নাকি?
আমি আবার বললাম, হ্যাঁ, ওখানেই। যুগে যুগে মানুষ যা পারেনি আজ আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি তাই করব।
আমিই তো সেখানে যেতে ভয় পাই। আর তোরা যাবি! আমিও তোদের সাথে যেতে চাই। আগ্রহ নিয়ে বললেন চাচা।
টফি বলল, তাহলে বলুন কবে গেলে ভালো হয়।
পরশু শুক্রবার, ওইদিন গেলেই ভালো হয়।
আমি বললাম, রিভার, বিচ্ছু ও আকমলকে উদ্দেশ করে, ঠিক আছে তাই হবে। কী বলিস তোরা?
ওরা বলল, তাই ভালো।
আমরা অনেকটাই নিশ্চিত সেখানে ভূতটুত আছে। আমাদের এখন থেকেই প্রস্তুত হতে হবে।
বীরবল বললেন, তাহলে শোন, আমার সঙ্গে আগামীকাল সকালে সবাই বাজারে যাবি। সকাল ৭টায় বাজারে উপস্থিত থাকবি। কিছু সরঞ্জামাদি কিনব। উদ্ধারকাজ ও ভূতের সাথে যুদ্ধ করতে কিছু লাঠি, বল্লম, শাবল, কুঠার, তীর ও টর্চবাতি প্রয়োজন। ও হ্যাঁ, টফির বন্ধু জর্ডানকে সাহায্যকারী হিসেবে রাখতে চাই। ওকে ডাকবি। কাল কিছু কথা বলবো। সবাইকে সেখানে থাকতে হবে।

১১ তারিখ ৭টায় সবাই বাজারে উপস্থিত হলাম। কিন্তু জর্ডান এখনও আসেনি।
বীরবল টফিকে বললেন, তুই জর্ডানকে আসতে বলেছিলি?
টফি জবাব দেয়, বলেছিলাম তো, এক্ষুনি এসে যাবে।
আমি বললাম, ওইতো আসছে।
জর্ডান এলে বীরবল তাকে জিজ্ঞেস করেন, শুনেছিস তো সবকিছু টফির কাছ থেকে?
জর্ডান বলল, শুনেছি।
বীরবল আবার বললেন, তুই রাজি আছিস?
জর্ডান বললো, হ্যাঁ, রাজি আছি। থাকব না কেন, আমাদের বয়োজ্যেষ্ঠ বীরবল চাচা আছেন যেখানে।
একটু মুচকি হাসলেন যেন বীরবল চাচা।
বিচ্ছু বলল, তাহলে চলুন, সবকিছু কিনে নেয়া যাক।
বীরবল বললেন, চল আমার সাথে সবাই।
তিনি যেতে যেতে বললেন, শোন, আমাদের এই অভিযানে সবাইকে সাহসী থাকতে হবে। একজনের বিপদে অন্যকে সাহায্য করতে হবে। সবাই লাঠি নিয়ে প্রস্তুত থাকবি, মুহূর্তে ভূত হামলা করতে পারে।
সবকিছু কেনার পর দেখা গেল সকাই দু’টি করে লাঠি, একটি বল্লম, একটি কুঠার, একটি শাবল ও ২টি করে টর্চ পেলাম।
সবাই সবকিছু বুঝে পেলে বীরবল বললেন, কাল বিকেল ৫টায় তোরা সবাই আসবি ঐ বাড়িতে, সঙ্গে একটি করে ছুরি আনবি। আর হ্যাঁ, আমি এই অভিযানের নাম দিতে চাই ‘ঘোস্ট হাউজ অপারেশন’। তোরা একমত কিনা?
আমরা সবাই একবাক্যে বললাম, চমৎকার নাম! আমরা একমত।
রিভার বলল, ৫টায় কোথায় একত্র হবো?
বীরবল বললেন, ৫টায় আমরা বটতলা থেকে রওনা দেবো। তাই তোরা বটতলায় উপস্থিত থাকবি। আকমল, তুই কেরোসিন তেল নিয়ে আসবি।
আমি বললাম, তাহলে আমরা সবাই বারুদ নিয়ে আসবো।
সকলে বলে উঠলাম, হ্যাঁ হ্যাঁ, ঠিক।
বীরবল বললেন, যা, এখন তোরা বাসায় গিয়ে রেস্ট নে। অভিযানের জন্য প্রস্তুত হ।
সবাই যার যার বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিলাম।

১২ তারিখ বিকেল ৫টায় সবাই বটতলায় হাজির হলাম।
আমি বললাম, কিরে টফি, বীরবল চাচা যে এলেন না?
টফি বলল, আসার কথাতো। এক্ষুনি এসে যাবেন নিশ্চয়ই।
জর্ডান বলে উঠল, ওইতো আসছেন। সঙ্গে রিভার, বিচ্ছু ও আকমলও আসছে।
বীরবল এসেই সবার উদ্দেশে বললেন, তোরা প্রস্তুত?
টফি বলল, হ্যাঁ, আমরা সকাই প্রস্তুত।
হঠাৎ বিচ্ছু এক কাহিনী বলা শুরু করলো সেই বাড়ি নিয়ে : আমার একটা কাহিনী মনে পড়ে গেল রে। বলি, শোনÑ গতবার এক লোকের মৃত্যুর পর তাকে দাফনের জন্য সবাই সেই গোরস্থানে নিয়ে যায়। কবরে নামানোর পর হঠাৎ বিকট শব্দ হয় সেই ভাঙা বাড়িতে এবং ৮-১০টি কালো কুকুর সেই বাড়ি থেকে দৌড়ে আসে আর সবাইকে কামড়াতে শুরু করে। কেউ কেউ পালালো আবার কেউবা মারা পড়ল। যারা মারা পড়লো, তাদের আর কবর দেয়া হয়নি। তারা এখনও সেখানে পড়ে আছে। কারণ এই ঘটনার পর কেউ সেখানে যাবার কোনো সাহস খুঁজে পায়নি। এখন হয়তো তাদের সাদা কঙ্কাল দেখতে পাওয়া যাবে।
আমরা সবাই দূর থেকেই বাড়িটাকে স্পষ্ট দেখতে পেলাম। সকলেই রহস্যের আঁচও পেলাম। বাড়িটা ছিলো বিশাল শূন্যের মাঝে একটি ঠাঁই। আশপাশে কোনো ঘরবাড়ি নেই। বাড়ির ফাটলে বটবৃক্ষ ভালো করেই দেখা যাচ্ছে। অন্ধকার বাড়িতে মাঝে মাঝেই আলো জ্বলে উঠছে।
আমরা সবাই চুপচাপ এগুচ্ছি। ছোট জাতের গুইসাপ ও বড় বড় গিরগিটি দেখা যাচ্ছে পথে। একটি গুইসাপ বীরবলের পেছনে পেছনে আসছিলো। বীরবল তা লক্ষ করায় সাপটি অদ্ভুত শব্দ করতে করতে চলে গেলো।
বীরবল বলে উঠলেন, ওরে বাপরে! এখন থেকেই বুঝি আক্রমণ শুরু হলো। সকলে কুঠার নিয়ে প্রস্তুত থাকো। সামনে সাপ পেলেই হত্যা করবি।
আমি বললাম, কয়েকটা মেরেছি। কিন্তু এখনতো সাদা ব্যাঙ আসছে প্রচুর পরিমাণে।
টফি বলল, ঐ দেখ, কত বাদুড় আসছে।
আমরা চিৎকার দিয়ে লাঠি ঘুরাতে ঘুরাতে বাদুড় মারতে গেলাম। হঠাৎ আক্রমণে বিচ্ছু পড়ে গেল। বাদুড়ের আঁচড় লেগে কেটে গেছে ওর হাত। কুঁকড়ে উঠল ও। একসময় রক্তপড়া বন্ধ হলো। বাদুড়ের আক্রমণও বন্ধ হলো।
বাড়ি থেকে যখন আমরা ১০০ গজ মতো দূরে, তখন সন্ধ্যার অন্ধকার টের পেলাম।
আকমল বলল, সন্ধ্যা হয়ে গেছে। বাতি জ্বালিয়ে রাখ।
টফি বলল, ভূমিকম্প হচ্ছে। মাটি কাঁপছে। তোরা টের পাচ্ছিস?
সকলে বলে উঠলাম, কই, নাতো! আমরা টের পাচ্ছি না।
কিছুপর আমরা বাড়িতে প্রবেশ করলাম।
আমি বললাম, প্রচণ্ড ঝড় হচ্ছে। আমার শরীরে প্রচণ্ড বাতাস বয়ে যাচ্ছে।
সকলে অবাক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকাল, যেন বুঝতে চেষ্টা করছে আমি ঠিক করছি কি-না।
তারপর আমার বন্ধুরা বলল, আমরা তো টের পাচ্ছি না।
বীরবল বললেন, আমার বাতি নিভে যাচ্ছে। আমি বুঝি আর চলতে পারবো না।
সবাই এ সকল উপসর্গ দেখে হকচকিত হয়ে পড়লাম। অনেক পুরনো মূর্তি ও কঙ্কাল দেখতে পেলাম।
রিভার বলে উঠল, আমি একটু আগে একটা মূর্তি আনতে গেলাম। যেই মূর্তিটা ধরেছি ঠিক তখনই মূর্তির নিচ থেকে একটা সাপ আমাকে দংশন করতে এলো। ভাগ্যিস হাতে ছুরিটা ছিল। অবাক কাণ্ড! সাপটা মারার সাথে সাথে কাক হয়ে মাটিতে পড়ে গেল!! আর আমি দৌড়ে চলে এলাম।
সবাই লাঠি হাতে নিয়ে ছড়িয়ে পড়লাম বিভিন্ন স্থানে।
আমি একটি দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করলাম। প্রচণ্ড অন্ধকার স্যাঁতসেঁতে মাটি আর ভ্যাপসা গন্ধ। তেমন কোনো প্রাচীন মূর্তি না পেয়ে ফিরে আসছিলাম। হঠাৎ আমাদের সকলের বাতি নিভে গেলো।
একটা ধ্বনি আমার দিকে আসছে, আমি বুঝতে পারলাম। একটা বিশাল থাবায় ঝাঁকুনি খেয়ে আমি অজ্ঞান হয়ে পড়েও গেলাম।
জ্ঞান ফেরার পর আমি অনুভব করলাম আমাকে একটা শক্ত খোলসের ভেতর আটকে দেয়া হয়েছে আঠা দিয়ে। ভীষণ শক্ত। ছেঁড়া যায় না। তবুও চেষ্টা করলাম। আমি বাঁচার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছি। তাই ছুরি দিয়ে আঠা কেটে, কুঠার দিয়ে খোলস ভেঙে বেরিয়ে আসি। দেখি এক প্রকাণ্ড পাকা ঘরে মাথার খুলি ও কঙ্কাল ইত্যাদি পড়ে আছে। আমরা কে কোথায় আছি জানি না। শুধু জানি আমি বেঁচে আছি।
আমার চারপাশ দিয়ে অনেক বড় বড় সাপ চলাফেরা করছে। একটা সাপ মারায় এর পেট থেকে আরও অনেক বাচ্চা সাপ বেরোয়।
বাড়িটা এতই বড় ছিলো যেন কোথা থেকে শুরু কোথা শেষ তা কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। হঠাৎ দেখলাম টফি ও বীরবল একসাথে কাতরাচ্ছে।
আমি বললাম, কিরে, তোরা কই ছিলি? ওরা ৪ জন কই?
ওরা জবাব দেয়ার আগেই বিভিন্ন প্রকার শব্দ শুনে চুপ হয়ে গেলাম। হাসি-কান্না মিলিয়ে শব্দগুলো কাছে আসছিলো। আমরা ৩ জন লুকাতে গেলে দেখলাম জর্ডান, বিচ্ছু, রিভার ও আকমল একত্রে। জর্ডান, বিচ্ছু ও আকমলের হাত-পা কিছুই নেই। মাথার মগজ বেরিয়ে গেছে।
বীরবল আপন ভাতিজা আকমল ও ওদের এই অবস্থা দেখে কেঁদে উঠলেন। আমি বীরবল চাচাকে থামতে বললাম। দেখি রিভার বসে আমাদের দেখছে। ও যেন আকাশের চাঁদ খুঁজে পেল। আমরা নতুন উদ্যমে কাজ করব এখন। আমাদের বাঁচতে হবে। এই চিন্তা করে আমরা চারজন দৌড় শুরু করলাম।
কোনো কথা না বলে আমরা চারজন দৌড়াচ্ছি। এখন রাস্তাটা পরিষ্কার দেখতে পেলাম। জীবনের ভয়ে প্রাণপণে ছুটছি।
হঠাৎ কী যেন আমাদের ভয় বাড়িয়ে দিলো।
একটা বিশাল থাবা আমাদের পিছু নিলো। ছায়ায় দেখতে পেলাম মুখখানি বিশাল বড়। দীর্ঘ দাঁত আর নখ। শরীরে রক্ত। দেয়াল ভেঙে পড়ল আমাদের ওপর। ভাগ্যের জোরে আমি, টফি, রিভার ও বীরবল বেঁচে গেলাম। কিন্তু তখন পেছনে ফিরে তাকানোর এতটুকু সময়ও ছিলো না।
একটা কঙ্কালের পায়ে ধাক্কা খেয়ে আমি ও টফি পড়ে গেলাম। রিভার আমাদের দেখতে পেলো না। এদিকে রাক্ষসটি আসছে তার বিশাল থাবা নিয়ে।
আমার প্যান্ট নরম ছিলো। তাই প্যান্ট সামান্য ছিঁড়েই ছুট দিলাম বাইরে। কিন্তু বেচারা টফি আর ছুটে আসতে পারলো না। আমি তীর ছুড়লাম সেই রাক্ষসের দিকে, কাজ হলো না। এরপর ম্যাচ বের করে কেরোসিনের পটে আগুন দিয়ে বাড়ির দিকে ছুড়ে মারলাম এবং বাইরে প্রাণপণে বেরিয়ে আসি। আমি ভেবেছিলাম রাক্ষস টফিকে গিলে খেয়েছে কিন্তু যখন আগুন লাগিয়ে কেরোসিনের বোতল ছুড়ে মারি তখন বিস্ফোরণের সাথে রাক্ষসের মৃত্যুর চিৎকারসহ টফির সেই করুণ চিৎকার আমার হৃদয়কে ঝাঁকিয়ে তোলে। কিন্তু টফি এখনও বেঁচে আছে দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম। ওকে নিয়ে দৌড় দিলাম। হঠাৎ স্মরণ হলো, রিভার! ও কোথায় গেলো?
বাইরে প্রচণ্ড ঝড় হচ্ছিল।
হঠাৎ রিভারকে দেখে মন আনন্দে ভরে উঠলো। একত্রে কোলাকুলি করলাম। বাড়িতে ফিরলাম। তখন রাত বাজে ৩টা ১৫ মিনিট।
ঘুম হয়নি রাতে। সকালে গ্রামবাসী এ বাড়ির দিকে রওনা হলো, দূরে দাঁড়িয়ে আমি আর রিভার দেখলাম। সেখানে হাজার হাজার কালো কাক পড়ে আছে।
আজ ১৮ তারিখ। ১২ তারিখের সেই ঘটনার পর আমার মন খুবই খারাপ। কোন খেলার মধ্য দিয়ে এই ভয়াবহ ঘটনাটা ঘটে গেলো। আমার বন্ধুরা সত্যিই প্রকৃত বন্ধুর মতো। এখন সবাই-ই কম-বেশি আহত। ওদের জন্য এখন মন খুবই খারাপ করছে। আশপাশে কোন লোকজন না দেখলেই কেঁদে ফেলি। মা ঠিকই বুঝতে পারেন। আমাকে দেখে মারও খুব কষ্ট হয়।
আজ ৫টা দিন কেটে গেলো। ওদের সাথে দেখাও করতে পারিনি। যাইহোক, আমরা এত কষ্ট করেও কিছুই উদ্ধার করতে পারিনি। পেরেছি শুধু সেই রাক্ষসকে ধ্বংস করতে আর জীবন বাঁচিয়ে আনতে।
আজ আমি গ্রামের মানুষজনকে এই কাহিনী পুনরায় জানাই। এ কথাও জানাই যে আমরা পুনরায সেই বাড়িতে যাব। এখন সেখানে কোনো ভয় নেই। কারণ সকল রাক্ষস মারা গেছে। এখন গেলে হয়তো সুদূর প্রাচীনকালের কিছু নিদর্শন পাওয়া যাবে। সকলে রাজি হলেন এবং ১৯ তারিখে সেখানে যাবো বলে সিদ্ধান্ত নিলাম।

১৯ তারিখ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১১টা ৫০ মিনিটে সকল গ্রামবাসী সেখানে হাজির হলাম এবং বাড়িতে প্রবেশ করলাম। মনে হলো বাড়িতে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। সবাই ছড়িয়ে ছিটিয়ে বাড়ির সবকিছু দেখতে লাগলাম। কিছু না পেয়ে সবাই হতাশ হলাম।
আবার ভালো করে খুঁজতে লাগলাম। কিন্তু কিছু না পেয়ে যখন সবাই ফিরছিলাম, হঠাৎ আমার পা একটা গর্তে আটকে গেল। সবাই আমাকে টেনে তুলল। এবং গর্তের দিকে তাকাল। আমিও দেখলাম।
সুড়ঙ্গ দেখা যাচ্ছে ভেতরটাতে। নতুন কিছু পাওয়ার আশায় আমার বুক ভরে উঠল। এক এক করে সবাই নামলো। আমার সঙ্গে আনা টর্চবাতি জ্বালিয়ে নিলাম।
ভেতরে ভীষণ গরম এবং স্যাঁতস্যাঁতে গন্ধ আর অন্ধকার। কিন্তু সঙ্গে টর্চ ছিল বলে আমরা হাঁটতে পারছি।
ভেতরে ঢুকতেই আমরা একটি চিঠি পেলাম। এতে লেখাÑ ‘এই সুড়ঙ্গের ভেতরে পুরনো কিছু জিনিস এবং মোহর রয়েছে। ৭ জন যুবক এর রহস্য উদঘাটনের উদ্দেশ্যে এই বাড়িতে আসবে। এবং লুকিয়ে থাকা সম্পদ উদ্ধার হবে।’
আমি উৎসাহের সাথে বলে উঠলাম, এ তো আমাদের সাথে মিলে গেল। চলুন আমরা কাজ শুরু করি।
ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অনেক সোনার মোহর খুঁজে পেলাম আমরা। মণিমুক্তা খুঁজে পেলাম।  তারপর সবকিছু গ্রামে নিয়ে এলাম।
এক মুরুব্বি আমাকে উদ্দেশ করে বললেন, এখন তুমি এগুলো কী করতে চাও?
আমি অনেক ভেবেচিন্তে উত্তরে বললাম, এসব কিছু আমরা ঢাকায় জাদুঘরে প্রদান করব এবং প্রাপ্ত অর্থ গ্রামের উন্নয়নে কাজে লাগবো।
সবাই আমার কথা শুনে আমাকে বাহবা দিলেন।

আব্দুল্লাহ আল নোমান

SHARE

1 COMMENT

  1. আব্দুল্লাহ আল নোমান ভাই আপনাকে অনেক অনেক প্রীতি ও শুভেচ্ছ। আশা করি আপনি ভাল আছেন আমিও আপনার দোয়ায় ভাল আছি। আপনি এত সুন্দর করে এই উপন্যাসটি আমাদের উপহার দিয়েছেন তার জন্য আমি চির কৃতজ্ঞ। আমি গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার চন্দনপাঠ গ্রামের এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছি। ছোট বেলা থেকেই আমারও উপন্যাস, কবিতা, ছড়া, কৌতুক, নাটিকা, ছন্দ, গল্প পড়তে আগ্রহী। আমি বোনারপাড়া ডিগ্রী কলেজের বিবিএস শাখার ১ম বর্ষের ছাত্র। আমার জন্য দোয়া করবেন। আমিও আপনার জন্য দোয়া করবো আপনি যেন পরবর্তিতে আরও সুন্দর করে উপন্যাস লিখতে পারেন। ধন্যবাদ-

Leave a Reply