Home সাহসী মানুষের গল্প বয়ে যায় নিরন্তর

বয়ে যায় নিরন্তর

কায়েস মাহমুদ

মানুষ হিসাবে যারা বড়, তাঁদের কথাই আলাদা।
হাজার পৃষ্ঠা লিখেও শেষ হয় না তাঁদের জীবন-আলেখ্য।
শেষ হয় না লিখে তাঁদের বহু বর্ণিল জীবনের ইতিহাস।
তখনও বাকি থেকে যায় অনেক কিছু। অনেক কথা। অনেক ইতিহাস।
যেমন আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা।
মস্ত বড় এক সাহসী মানুষ। বিশাল তাঁর জীবন-ইতিহাস।
আজকে জানবো এই মহান ব্যক্তি সম্পর্কে আরও কিছু বিষয়-আশয়।
আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা একবার উসাইরের সাথে দেখা করে বলেন,
যদি আপনি নিরাপত্তার আশ্বাস দেন তাহলে একটি কথা বলি।
সে আশ্বাস দিল।
আবদুল্লাহ বলেন : রাসূলুল্লাহ [সা] আমাকে আপনার নিকট পাঠিয়েছেন। আপনাকে খাইবারের নেতা বানানো তাঁর ইচ্ছা। তবে আপনাকে একবার মদিনায় যেতে হবে।
সে প্রলোভনে পড়ে এবং তিরিশ জন ইহুদিকে সঙ্গে করে আবদুল্লাহর বাহিনীর সাথে চলতে শুরু করলো।
পথে আবদুল্লাহ প্রত্যেক ইহুদির প্রতি নজর রাখার জন্য একজন করে মুসলিম নির্দিষ্ট করে দিলেন। এতে উসাইরের মনে সন্দেহের উদ্রেক হল এবং ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করলো।
ধোঁকা ও প্রতারণার অপরাধে মুসলিম মুজাহিদরা খুব দ্রুত আক্রমণ চালিয়ে তাদের সকলকে হত্যা করেন। এই ঘটনার পর খাইবারের মাথাচাড়া দেয়া বিদ্রোহ দমিত হয়।
পরে হজরত রাসূলুল্লাহ [সা] আবদুল্লাহকে খাইবারে উৎপাদিত খেজুর পরিমাপকারী হিসেবে আবারও সেখানে পাঠান।
কিছু লোক রাসূলুল্লাহর [সা] নিকট আবদুল্লাহর কঠোরতার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলো।
এক পর্যায়ে তারা ঘুষও দিতে চাইল।
ইবন রাওয়াহা তাদেরকে বললেন : হে আল্লাহর দুশমনরা! তোমরা আমাকে হারাম খাওয়াতে চাও? আমার প্রিয় ব্যক্তির পক্ষ থেকে আমি এসেছি।
আমার নিকট তোমরা বানর ও শূকর থেকেও ঘৃণিত।
তোমাদের প্রতি ঘৃণা এবং রাসূলের [সা] প্রতি ভালোবাসা তোমাদের ওপর কোন রকম জুলুলের দিকে নিয়ে যাবে না।
এ কথা শুনে তারা বলল : এমন ন্যায়পরায়ণতার ওপরই আসমান ও জমিন প্রতিষ্ঠিত।
হুদাইবিয়ার সন্ধি অনুযায়ী সে বছরের মুলতবি উমরাহ রাসূল [সা] পরের বছর হিজরি সপ্তম সনে আদায় করেন।
একে উমরাতুল কাদা বা কাজা উমরা বলে।
এই সফরে রাসূলে কারীম [সা] যখন মক্কায় প্রবেশ করেন এবং উটের পিঠে বসে হাজরে আসাওয়াদ চুম্বন করেন তখন আবদুল্লাহ তার বাহনের লাগাম ধরে একটি স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেছিলেন। কবিতাটির কিছু অংশের মর্ম নিম্নরূপ :
ওরে কাফিরের সন্তানরা ! তোরা তাঁর পথ থেকে সরে যা, তোরা পথ ছেড়ে দে। কারণ, সকল সৎকাজ তো তাঁরই সাথে। আমরা তোদের মেরেছি কুরআনের ব্যাখ্যার ওপর, যেমন মেরেছি তার নাজিলের ওপর। এমন মার দিয়েছি যে, তোদের মস্তক দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বন্ধু ভুলে ফেলে গেছে তাঁর বন্ধুকে। প্রভু আমি তাঁর কথার ওপর ঈমান এনেছি।
কবি বলে কথা!
কবি বলেই তিনি এমন সুন্দর কবিতা আবৃত্তি করতে পেরেছিলেন।
ঈমানদার সাহসী কবিরা তো এমনই হন।
এক সময় হজরত উমার [রা] ধমক দিয়ে বলেন : আল্লাহর হারামে ও রাসূলের [সা] সামনে এভাবে কবিতা পাঠ?
রাসূল [সা] তাঁকে শান্ত করে বলেন : উমার! আমি তার কথা শুনছি। আল্লাহর কসম! কাফিরদের ওপর তার কথা তীর বর্শার চেয়েও বেশি ক্রিয়াশীল।
তিনি আবদুল্লাহকে বলেন : তুমি এভাবে বল : লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু, নাসারা আবদাহ ওয়া আয়ায্যা জুনদাহ, ওয়া হাযামাল আহযাবা ওয়াহদাহ-
এক আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনি তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন, তাঁর সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করেছেন এবং একাই প্রতিপক্ষের সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিত করেছেন।
আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা উপরোক্ত বাক্যগুলি আবৃত্তি করছিলেন, আর তার সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে উচ্চারণ করছিলেন সমবেত মুসলিম জনমণ্ডলী। তখন মক্কার উপত্যকাসমূহে সেই ধ্বনি প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরছিল।
সে এক অবাক কাণ্ড!
হিজরি অষ্টম সনের জামাদি-উল-আউয়াল মাসে মুতার যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
রাসূলুল্লাহ [সা] বসরার শাসকের নিকট দূত মারফত একটি চিঠি পাঠান।
পথে মুতা নামক স্থানে এক গাসসানী ব্যক্তির হাতে দূত নিহত হয়।
দূতের হত্যা মূলত যুদ্ধ ঘোষণার ইঙ্গিত।
রাসূল [সা] খবর পেয়ে যায়িদ ইবন হারিসার নেতৃত্বে তিন হাজার সৈন্যের একটি বাহিনী মুতায় পাঠান।
যাত্রার প্রাক্কালে হজরত রাসূলে কারীম [সা] বলেন : যায়িদ হবে এ বাহিনীর প্রধান। সে নিহত হলে জাফর ইবন আবি তালিব তার স্থলাভিষিক্ত হবে। জাফরের পর বাহিনীর প্রধান হবে আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা। আর সেও যদি নিহত হয় তাহলে মুসলমানরা আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের আমীর বানিয়ে নেবে।
বাহিনী মদিনা থেকে যাত্রার সময় হজরত রাসূলে কারীম [সা] সানিয়্যাতুল বিদা পর্যন্ত অগ্রসর হয়ে তাদের বিদায় জানান।
বিদায় বেলা মদিনাবাসী তাদেরকে বলল : তোমরা নিরাপদে থাক এবং সফল হয়ে ফিরে এসো। আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা কাঁদতে লাগলেন।
লোকেরা বলল : কাঁদার কী আছে?
তিনি বললেন, দুনিয়ার মহব্বতে আমি কাঁদছি না।
তিনি সূরা মারইয়াম এর ৭১ নং আয়াতÑতোমাদের প্রত্যেকেই তা অতিক্রম করতে হবে। এটা তোমার রবের অনিবার্য সিদ্ধান্ত-পাঠ করেন। তারপর তিনি বলেন, আমি কি সেই পুলসিরাত পার হতে পারবো?
লোকরা তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলল : আল্লাহ তোমাকে রাসূলুল্লাহর [সা] সাথে আবার মিলিত করবেন।
তখন তিনি স্বরচিত একটি কবিতা আবৃত্তি করেন। কবিতাটির অর্থ নিম্নরূপ:
‘তবে আমি রহমানের কাছে মাগফিরাত কামনা করি, আর কামনা করি তরবারির অন্তর্ভেদী একটি আঘাত, অথবা কলিজা ও নাড়িতে পৌঁছে যায় নিযার এমন একটি খোঁচা, আমার কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রমকারী যেন বলেÑহায় আল্লাহ, সে কত ভালো যোদ্ধা ও গাজী ছিল।’
মদিনা থেকে শামের মায়ান নামক স্থানে পৌঁছে তাঁরা জানতে পারেন যে, রোমান সম্রাট হিরাকল এক লাখ রোমান সৈন্যসহ বালকা-র মাব নামক স্থানে অবস্থান নিয়েছে। আর তাদের সাথে যোগ দিয়েছে লাখম, জুজাম, কায়ন, বাহরা, বালী-সহ বিভিন্ন গোত্রের আরও এক লাখ লোক।
এ খবর পেয়ে তাঁরা মায়ানে দুই দিন ধরে চিন্তা-ভাবনা ও পরামর্শ করেন। মুসলিম সৈনিকদের কেউ কেউ মত প্রকাশ করে যে, আমরা শত্র“পক্ষের সৈন্যসংখ্যা ও প্রস্তুতির সব খবর রাসূলকে [সা] অবহিত করি। তারপর তিনি আমাদেরকে অতিরিক্ত সৈন্য দিয়ে সাহায্য করবেন অথবা অন্য কোন নির্দেশ দেবেন এবং আমরা সেই মুতাবিক কাজ করব।
আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা তখন সৈনিকদের উদ্দেশ্যে এক জ্বালাময়ী ভাষণ দেন। তিনি বলেন,
হে জনমণ্ডলী, এখন তোমরা শত্র“র মুখোমুখি হতে পছন্দ করছো না; অথচ তোমরা সবাই শাহাদাত লাভের উদ্দেশ্যে বের হয়েছো। আমরা তো শত্র“র সাথে সংখ্যা, শক্তি ও আধিক্যের দ্বারা লড়বো না। আমরা লড়বো দীনের বলে বলীয়ান হয়ে-যে দীনের দ্বারা আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সম্মানিত করেছেন। তোমরা সামনে ঝাঁপিয়ে পড়। তোমাদের সামনে আছে দু’টি কল্যাণের যে কোন একটিÑহয় বিজয়ী হবে নতুবা শাহাদাত লাভ করবে।
সৈনিকরা তাঁর কথায় সায় দিয়ে বলল : আল্লাহর কসম! ইবন রাওয়াহা ঠিক কথাই বলেছেন। তারা তাদের সকল দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ঝেড়ে ফেলে দিয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হন।
আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহাও একটি স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করতে করতে তাদের সাথে চলেন।
তাঁরা মায়ান ত্যাগ করে মুতায় পৌঁছে শিবির স্থাপন করেন।
এখানে অমুসলিমদের সাথে এক রক্তক্ষয়ী অসম যুদ্ধ হয়।
ইতিহাসে এই যুদ্ধ মুতার যুদ্ধ নামে খ্যাত। মুসলিম বাহিনীর সংখ্যা মাত্র তিন হাজার আর শত্র“বাহিনীর সংখ্যা ছিল অগণিত।
প্রচণ্ড যুদ্ধ শুরু হলো। সেনাপতি যায়িদ ইবন হারিসা যুদ্ধক্ষেত্রে শহীদ হলেন।
জাফর তাঁর পতাকাটি তুলে নিলেন।
কিছুক্ষণ পর তিনিও শাহাদাত বরণ করলেন।
এবার আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা ঝাণ্ডা হাতে তুলে নিয়ে সামনে অগ্রসর হলেন। তিনি ছিলেন ঘোড়ার পিঠে। ঘোড়ার পিঠ থেকে নামার মুহূর্তে তাঁর মনে একটু দ্বিধার ভাব দেখা দিল। তিনি সব দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে দিয়ে আপন মনে একটি কবিতা আবৃত্তি করতে লাগলেন। তার কিছু অংশ নিম্নরূপ :
‘হে আমার প্রাণ! আমি কসম করেছি, তুমি অবশ্যই নামবে, তুমি স্বেচ্ছায় নামবে অথবা নামতে বাধ্য করা হবে। মানুষের চিৎকার ও ক্রন্দন ধ্বনি উত্থিত হচ্ছে,  তোমার কী হয়েছে যে, এখনও জান্নাতকে অবজ্ঞা করছো? সেই কত দিন থেকে না এই জান্নাতের প্রত্যাশা করে আসছো, পুরনো ফুটো মশকের এক বিন্দু পানি ছাড়া তো তুমি আর কিছু নও। হে আমার প্রাণ, আজ তুমি যা কামনা করতে এখন তোমাকে তাই দেয়া হয়েছে, তুমি তোমার সঙ্গীদ্বয়ের কর্মপন্থা অনুসরণ করলে হিদায়াত পাবে।’
উপরোক্ত কবিতাটি আবৃত্তি করতে করতে তিনি ঘোড়া থেকে নেমে পড়েন।
তখন তাঁর এক চাচাতো ভাই গোশতসহ এক টুকরো হাড় নিয়ে এসে তার হাতে দেন। তিনি সেটা হাতে নিয়ে যেই না একটু চাটা দিয়েছেন, ঠিক তখনই প্রচণ্ড যুদ্ধের শোরগোল ভেসে এলো।
‘তুমি এখনও বেঁচে আছ’Ñএ কথা বলে হাতের হাড়টি ছুড়ে ফেলে তরবারি হাতে তুলে নিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা।
শত্র“পক্ষের এক সৈনিক এমন জোরে তীর নিক্ষেপ করে যে, মুসলিম বাহিনীর মধ্যে ত্রাসের সৃষ্টি হয়। একটি তীর তাঁর দেহে বিদ্ধ হয়। তিনি রক্তরঞ্জিত অবস্থায় সাথীদের আহ্বান জানান। সাথীরা ছুটে এসে তাঁকে ঘিরে ফেলে এবং শত্র“ বাহিনীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ইতোমধ্যে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
মুতায় অবস্থানকালে শাহাদাতের পূর্বে একদিন রাতে তিনি একটি মর্মস্পর্শী কবিতা আবৃত্তি করছিলেন। আবৃত্তি শুনে যায়িদ ইবন আরকাম কাঁদতে শুরু করেন। তিনি যায়িদের মাথার ওপর দুররা উঁচু করে ধরে বলেন: তোমার কী হয়েছে? আল্লাহ আমাকে শাহাদাত দান করলে তোমরা নিশ্চিন্তে ঘরে ফিরে যাবে।
হজরত রাসূলে কারীম [সা] ওহির মাধ্যমে মুতার প্রতি মুহূর্তের খবর লাভ করে মদিনায় উপস্থিত লোকদের সামনে বর্ণনা করছিলেন।
মুতার খবর আসার পূর্বেই রাসূল [সা] মদিনায় যায়িদ, জাফর ও আবদুল্লাহর শাহাদাতের খবর দান করেন। তিনি বলেন : যায়িদ ঝাণ্ডা হাতে নেয় এবং সেও শহীদ হয়। তিনি এ কথা বলছিলেন আর তাঁর দুই চোখ থেকে অশ্র“ গড়িয়ে পড়ছিল।
মুতার তিন সেনাপতির মৃত্যুর খবর রাসূলুল্লাহর [সা] নিকট পৌঁছলে তিনি উঠে দাঁড়ান এবং তাঁদের কর্মকাণ্ড বর্ণনা করে এই বলে দুআ করেন: আল্লাহ তুমি যায়িদকে ক্ষমা করে দাও। এ কথা তিনবার বলেন, তারপর বলেন: আল্লাহ তুমি জাফর ও আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহাকে ক্ষমা করে দাও।
সামরিক দক্ষতা ছাড়াও হজরত আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহার আরও অনেক যোগ্যতা ছিল।
এ কারণে রাসূলুল্লাহ [সা] তাঁকে সমাদর করতেন অনেক বেশি।
সেই জাহিলী আরবে যে মুষ্টিমেয় কিছু লোক আরবিতে লেখা জানতো, আবদুল্লাহ তাদের অন্যতম। ইসলাম গ্রহণের পর রাসূল [সা] তাঁকে স্বীয় কাতিব [লেখক] হিসাবে নিয়োগ করেন।
তিনি ছিলেন তৎকালীন আরবের একজন বিখ্যাত কবি।
কবি হাসসান কুরাইশদের বংশ ও রক্তের ওপর আঘাত হানতেন, কবি কাব কুরাইশদের যুদ্ধ-বিগ্রহ ও অতীত ইতিহাস বর্ণনা করে তাদের দোষ-ত্র“টি তুলে ধরতেন। পক্ষান্তরে আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা তাদের কুফরীর জন্য নিন্দা ও ধিক্কার দিতেন।
আবদুল্লাহ ছিলেন স্বভাব কবি। উপস্থিত কবিতা রচনায় তিনি ছিলেন অত্যন্ত দক্ষ।
হজরত যুবাইর ইবনুল আওয়াম [রা] বলেন : তাৎক্ষণিক কবিতা বলার ক্ষেত্রে আমি আবদুল্লাহ অপেক্ষা অধিকতর সক্ষম আর কাউকে দেখিনি। একদিন তিনি মসজিদে নববীতে গেলেন। পূর্বেই সেখানে হযরত রাসূলে কারীম [সা] একদল সাহাবীর সাথে বসে ছিলেন। তিনি আবদুল্লাহকে কাছে ডেকে বলেন, তুমি এখন মুশরিকদের সম্পর্কে কিছু কবিতা শোনাও। আবদুল্লাহ কিছু কবিতা শোনালেন। কবিতা শুনে রাসূল [সা] একটু হাসি দিয়ে বলেন, আল্লাহ তোমাকে অটল রাখুন।
আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা ছিলেন একজন দুনিয়া বিরাগী আবিদ ও সব সময় আল্লাহকে স্মরণকারী ব্যক্তি।
জিহাদের প্রতি ছিল তাঁর দুর্নিবার আকর্ষণ।
বদর থেকে নিয়ে মুতা পর্যন্ত যত যুদ্ধ হয়েছে তার একটিতেও তিনি অনুপস্থিত থাকেননি।
আবদুল্লাহ সবার আগে যুদ্ধে বের হতেন এবং সবার শেষে ঘরে ফিরতেন।
হজরত রাসূলে কারীমের আদেশ-নিষেধ তিনি অক্ষরে অক্ষরে পালন করতেন।
হযরত আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা যেমন রাসূলকে [সা] গভীরভাবে ভালোবাসতেন তেমনি রাসূলও [সা] তাকে ভীষণ ভালবাসতেন।
রাসূলের [সা] সেই ভালোবাসার নজির রয়ে গেছে প্রচুর।
কবি হলেও হজরত আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা ছিলেন সকল সময় দীনের প্রতি একনিষ্ঠ।
সততা ও সাহস ছিল তাঁর একান্ত ভূষণ।
আর মানবিকতা ও উন্নত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ছিল সীমাহীন।
এ ধরনের বহু গুণের সমন্বয় ঘটেছিল তাঁর জীবনে।
এ জন্যই তো তিনি হতে পেরেছিলেন বিরল এক পুরুষ। যার দৃষ্টান্তের সুবাতাস বয়ে যায় নিরন্তর।

SHARE

Leave a Reply