Home গল্প এক মুঠো স্বপ্ন

এক মুঠো স্বপ্ন

কাজী রিচি ইসলাম

এক মুঠো স্বপ্ন

মিরা নামের ছোট মেয়েটি পড়ে ক্লাস ফাইভে। পড়াশোনায় খুব অমনোযোগী। স্কুলও তার কাছে ভালো লাগে না। শুধু কান্নাকাটি করে বলে, আমি যাব না, স্কুলে আমার ভালো লাগে না। কেন ভালো লাগে না? জিজ্ঞেস করলেই মিরা উত্তর দেয়, স্কুলের ধরাবাধা নিয়ম আমার একটুও ভালো লাগে না। এতো পড়া, আমার অনেক কষ্ট হয়। ক্লাসে পড়া না পারলে কান ধরে দাঁড়াতে হয়। কিন্তু তবুও মিরাকে স্কুলে যেতে হয় তার মায়ের জন্য। মা মিরাকে জোর করে স্কুলে নিয়ে আসেন। বেচারা মিরা বহু কষ্টে স্কুলের সময়টুকু পার করে।

একদিন হঠাৎ মিরাদের স্কুলে এলেন এক নতুন টিচার। ইংরেজি পড়ান। কয়েকদিন ক্লাস নেয়ার পর টিচার বুঝতে পারলেন এ ক্লাসে কে কী ধরনের। তবে টিচার বেশি নজর দিলেন মিরার দিকে। কারণ যতদিন ক্লাস নিয়েছেন তার মধ্যে মিরা একদিনও পড়া পারেনি। এমনকি পড়া শেখার জন্য চেষ্টাও করে না। টিচার একদিন মিরাকে কাছে ডেকে অনেক কথা বললেন, বুঝতে পারলেন মিরার পড়াশোনা করতে ভালো লাগে না এবং স্কুলের পরিবেশও তার কাছে পছন্দনীয় নয়। কয়েকদিন যাওয়ার পর মিরাকে টিচার ডাক দিয়ে বললেন, তুমি বড় হয়ে কী হবে? মিরা স্বাচ্ছন্দ্যে বলল, জানি না। টিচার আবারও বললেন, কেন তোমার কোন এইম নেই?

মিরা বলল, না, না আমার কোন এইম নেই। টিচার বললেন, কেন, তুমি স্বপ্ন দেখ না? নিজেকে নিয়ে কিছু ভাব না? নিজেকে স্টার ভাবতে তোমার ভালো লাগে না?

টিচারের কথা শুনে মিরার ভালো লাগল। তাই তো! মিরা আনমনা হয়ে যায়। কোথায় যেন হারিয়ে যায় মিরা। টিচার ‘মিরা’ বলে ডাকতে মিরা চমকে ওঠে। তারপর টিচার বললেন, মিরা আমি তোমাকে এক মুঠো স্বপ্ন দেব, তুমি নেবে?

মিরা মাথা নেড়ে বলল, হ্যাঁ, নেব।
ঠিক আছে, তোমার কাছে টিচার, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার কোন পেশাটা ভালো লাগে?
মিরা খুব ভেবে চিন্তে বলল, আমি টিচার হতে চাই। টিচার পেশাটা ভালো লাগে, তাহলে সবাই আমাকে ম্যাডাম বলবে।
ঠিক আছে। তাহলে তুমিই বলো, টিচার হতে গেলে কী করতে হবে?
মিরা আবার খুব ভেবে-চিন্তে বলল, অনেক কিছু জানতে হবে।
টিচার বললেন, হ্যাঁ ঠিক বলেছ। আর জানতে হলে পড়তে হবে। এখন থেকে তুমি সবসময় পড়বে, ঠিক আছে?
স্কুলের সব পড়া ভালোভাবে শিখবে। তাহলে তোমার জীবনের ইচ্ছাটা পূরণ হবে।
মিরা বলল, জি স্যার ঠিক বলেছেন। এরপর থেকে মিরা সবমময় পড়া শিখে। প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন কমপ্লিট করে।

বছর ঘুরে এলো সমাপনী পরীক্ষা। সবাই এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করল। মিরাও পরীক্ষা দিল। কিছুদিন পর যখন পরীক্ষার ফলাফল বের হলো তখন ঘটল আশ্চর্য এক ঘটনা। সমাপনী পরীক্ষায় সারা দেশ থেকে ফার্স্ট হয়েছে মিরা। সব টিচার এবং সব বান্ধবী মিরাকে শুভেচ্ছা জানাল।

সবাই মুগ্ধ মিরার সাফল্য দেখে।
দিনে দিনে মিরা হয়ে গেল স্কুলে, পরিবারে এবং দেশের মধ্যে স্টার।

SHARE

Leave a Reply