ঈদ সংখ্যার অন্যান্য কবিতারা..

এই চাঁদে যে ঈদ

গোলাম নবী পান্না

চাঁদটা দেখে
রোজা রাখি,
রোজার শেষে
চেয়ে থাকি

আবার ওঠে চাঁদ,
ভাঙে খুশির বাঁধ।
এই চাঁদে যে ঈদ,
ভোলায় সবার নিঁদ।

মহাশূন্যের পথে

নজরুল ইসলাম শান্তু
আকাশের কোলে মাথা রেখেছি চন্দ্রের কাছাকাছি,
পৃথিবীর মায়া ভুলে গিয়ে আমি আকাশেই মেতে আছি।
খণ্ড প্রপাতে আকাশ পরীরা আমাকে দেখার পরে,
সৃষ্টির সেরা মানুষ হিসেবে কতো কি প্রশ্ন করে!

প্রশ্নের খোঁজে সঠিক জবাবে ছুটে যাই তারকাতে,
লক্ষ-হাজার তারকার মাঝে ধরা দেই হাতে-নাতে।
চাঁদের কিনারা ভর করে শেষে পৃথিবীর দেখা পাই,
খণ্ড মেঘের জোয়ারের তোড়ে কখনো বা ঢেকে যাই।

আকাশ পরীতে সঠিক জবাবে  ভয় নেই কভু জানি,
ক্ষয় নেই যেনো জীবন মলাটে, ললাটের পরে গ্লানি।
মেঘেরা মেঘেরা মিছিল বেঁধেছে ধরেছে বজ্রবুলি,
ভ্রƒক্ষেপ নেই সাহসের পরে কালো মেঘে  চুলোচুলি।

রঙধনু সাজ আঁচড় মেখেছে আকাশের তাঁবু ধরে,
সাতটি রঙের ঝলক দেখাতে পৃথিবীতে নুয়ে পড়ে।
অতঃপর আমি মনের হরষে উল্কার দেশে ছুটি,
শূন্যের নদী সাঁতরে দু’হাতে খেলছি লুটোপুটি।
চন্দ্রের কাছে তারকার কাছে জীবনের কথা বলি,
পৃথিবীর মায়া ভুলে গিয়ে আমি আকাশের পথে চলি।

ঈদ যেন ঠিক

জাকারিয়া আজাদ

ঈদ যেন ঠিক আনন্দটাকে
বয়ে আনা বোরাক
খুশিই যেন ঈদের জন্য
মজাদার এক খোরাক।

ঈদ যেন ঠিক শাপলা বনের
মিটি মিটি হাসি
ফুল বাগানের সদ্য জাগা
কলি রাশি রাশি।

ঈদ যেন ঠিক অবুঝ শিশুর
কান্না থামা চুম
মায়ের কোলে মাথা রেখে
নিশ্চিন্তে যায় ঘুম।

ঈদ যেন ঠিক নীল আকাশে
মেঘের লুকোচুরি
বাতাসে দেয় মেঘের গায়ে
আলতো সুড়সুড়ি।

ঈদের পঙ্ক্তি

মৃধা আলাউদ্দিন

বস্তিতেও চাঁদ উঠেছে কালকে হবে ঈদ
ছেঁড়া কাঁথায় খোকা-খুকু আর যাবে না নিঁদÑ
ওদের গায়ে উঠবে দ্যাখো নতুন জামালাল
আজকে যদি আমরা সবাই ভাঙতে পারি কাল।

ফিরনি-পায়েস, আলোর কুসুম ওরাও খাবে আজ
এই পৃথিবী নিত্য যদি সত্য করে কাজ,
সত্য কাজে কাল থাকে না কাল থাকে না যাকাতে
এখন চলো আমরা সবাই আলোর রশি পাকাতে।

খুকুর স্বপ্নকুঁড়ি

শফিক ফাতেমা

রোজইতো মা চাঁদ ওঠে ঐ দূর আকাশে
কেমন মজা হত যদি রোজই ঈদের চাঁদ হাসে!
কোর্মা পোলাও জর্দা সেমাই
কাবাব আরো যত খুশি খাই
পাই নতুন জামা নতুন জুতা নতুন চুলের ক্লিপ
ওদের ঘরে জ্বলে না যে কারেন্ট আলো দ্বীপ!
থাকতো না ছেঁড়া জামা কিংবা ছেঁড়া শাড়ি
পথের ধারের ভাঙা থালা নিয়ে ভিখারি
নতুন বেশে ওদের দেখে হতাম বেজায় খুশি
মনের মাঝে এমন এক স্বপ্নকুঁড়ি পুষি।

ঈদ মুবারক

কামাল হোসাইন

এক মাস সিয়ামের শেষে
বাঁকা চাঁদ আকাশেতে
ওঠে হেসে হেসে।

ওই চাঁদ ঈদ-চাঁদ জানি
ওই চাঁদ ধুয়ে দেয় মুছে দেয় গ্ল­ানি।
ধনী আর গরিবের ব্যবধানটুকু
একাকার করে দেয়
আজ খোকাখুকু।

ঈদ কারো একা নয়
জানে ওরা তাই
গলাগলি করে হয়
এক বোন-ভাই।

ঈদের এই সম্প্রীতি
ভালোবাসা থাক
চিরদিন অমলিন
এই ভাবে
কেটে যাক, যাক।
খুশির ওই চাঁদখানি
করে চকচক
এসো বলি মন খুলে
‘ঈদ মুবারক’।

খুশির চাঁদ

সিদ্দিক আবু বকর

মেঘে ঢাকা আসমান
গোধূলির লগ্ন
পেতে চাঁদ কাঁধে কাঁধ
ছেলে-বুড়ো মগ্ন।
কেউ খোঁজে ঘাড় গুঁজে
কেউ পা উঁচিয়ে
খোঁজে কেউ সবুজের
ওড়নাটা খুঁচিয়ে।

এই বুঝি রূপা চাঁদ
মেঘ ফুঁড়ে হাসল
জাফরানি সুখ যেন
থরে থরে ভাসল!

অবশেষে তারা ঘেঁষে
যেই চাঁদ উঠল
মরা ডাঙা খরা ভাঙা
খুশিতেই ফুটল।

ঈদের ছুটি

মানসুর মুজাম্মিল

মন ছুটে যায়
মন ছুটে যায় গাঁয়ে
চলি পায়ে পায়ে।

মন ছুটে হয় হয় পাখি
অবাক ডাকাডাকি।
মন ছুটে হয় বন
গভীর বনে ঘোরে আমার
আলোর-ই লণ্ঠন।

মন ছুটে হয় ফুল
মন ছুটে হয় কূল
এই যে গাঁয়ে প্রভাত বেলায়
করেছি কতো ভুল।

মন ছুটে হয় মাছ
গভীর জলে নাচ।

আজকে ঈদের খুশি
হেসে কুটি কুটি।

ঈদের চাঁদে

রেদওয়ানুল হক

ঈদের চাঁদে সুবাস থাকে
আদর থাকে খুব
ইচ্ছে করে আনন্দে আজ
দেই বাড়িয়ে ডুব।

ইচ্ছে করে পাখির সাথে
পাতার সাথে মিশি
সাঁতার কেটে যাই মাড়িয়ে
অন্ধকারের নিশি।

ইচ্ছে করে রঙিন হতে
সজীব হতে মন
সবার সাথে বলতে কথা
চলতে সারাক্ষণ।

ইচ্ছে করে ভাঙতে দেয়াল
রুদ্ধ কালো দ্বার
বিভেদ যারা গড়ে কেবল
তাদের ভাঙা আর।

ঈদ খুশি

আফসার নিজাম

শুভ্র-শাদা বিকেল শেষে সন্ধ্যা আকাশ লাল
লালের শেষে আঁধার হলো জাগল বাঁকা খাল
খাল কি ঈদের চাঁদ
চাঁদ যদি হয় জাগবো সারা রাত

জাগবে আরো ফেরেস্তারা জাগবে পরী-হুর
জেগে থাকার আনন্দ রাত ঢেউয়ের সমুদ্দুর
সমুদ্র নুন স্বাদ
নুনের মতো ভালোবাসায় মিলবে দু’টি হাত।

ঝগড়া বিবাদ ভুলে গিয়ে শত্রু বলি ভাই
স্বর্ণলতার বাঁধন দিলাম কষ্ট রাখি নাই
কষ্ট রাখা ভুল
ভুলগুলো সব প্রেমেতে মশগুল

প্রেমের বাগান ফুল ফুটাবে, ফুলে থাকে ঈদ
ঈদের খুশি সবার সমান শিক্ষা আসল ভিত
ভিতটা হলো মূল
মূলের থেকে সরে গেলে বাঁচবে না একচুল।

ঈদের ছড়া

দেলওয়ার বিন রশিদ

মেঘের পাশে চাঁদ উঠেছে আকাশ আলো করে
ঈদের খুশি উপচে পড়ে সবার ঘরে ঘরে।
পাখির ডানায় চঞ্চলতা ঠোঁটে সুখের সুর
খুশির খবর ছড়িয়ে দিতে যায় যে সখিপুর।

জরির জামায় খোকাখুকু হয়ে রঙিন ফুল
নতুন ছন্দে খুশির হাওয়ায় দোলে দেদুল দুল।

ঈদের খুশি মধুর বড়, ঈদ আসুক প্রতিদিন
জীবন হোক সুখ আনন্দের স্বপ্নময় হোক রঙিন।

আবার এসেছে ঈদ

আবুল হোসেন আজাদ

আবার এসেছে খুশি ভরা ঈদ
একটি বছর পরে,
সিয়ামের মাস রমজান শেষে
আমাদের ঘরে ঘরে।
পাখি ডাকা ভোরে মধুর আজানে
ভেঙে গেল যেই ঘুম,
মহা মিলনের খুশি অনাবিল
বাতাসে ছড়ায় চুম।
আজ নয় কোন বিভেদের বেড়া
সপ প্রাণ এক দিল,
আভিজাত্য ও অহঙ্কারের
খুলে দিই আটাখিল।
এনেছে মমতা মানুষে সমতা।
ত্যাগের মহিমা ঈদে,
সারাটি জীবনে থাকনা এমন
সুন্দর  তাগিদ।

ঈদ এসেছে ঈদ

চঞ্চল শাহরিয়ার

আম্মু যখন ব্যস্ত থাকে
ঘর গোছানোর কাজে
বুবু যখন পুতুল হয়ে
সাজে দারুণ সাজে।

আব্বু যখন অফিস থেকে
ফিরছে তাড়াতাড়ি
পিকলু যখন নেচে নেচে
ঘুরছে সারা বাড়ি।

নতুন জামা লাচ্ছা সেমাই
যখন কেনার ধুম
তখন বুঝি ঈদ এসেছে
তাক ডুমা ডুম ডুম।

কবি মেঘ

(আল মাহমুদ পরম প্রিয়)
আবিদ আজম

শান্তিপুরে থাকেন কবি বাড়িটা টিক দ্বিতল
মন যেন তার আস্ত সোনা একটুও নয় পিতল
তার বাড়িতে যাই
প্রাণ খুলে গান গাই।
ভালো লাগায় বুক ভরে যায় সবই লাগে শীতল
তার আকাশে উড়তে থাকি আমি তখন পাখি
মনের সাথে মন মিলিয়ে ভীষণ মাখামাখি
অবাক চোখে দেখি
একটু ও নয় সেকি
দূর নীলিময় তার ছবিটা কল্পনাতে আঁকি।
মুগ্ধ চোখে যখন দেখি ভাসছে মেঘের ভেলা
বলেই ফেলে  মেঘ আমায় আর করোনা হেলা
তোমার সাথে নেবে?
উড়ার ডানা দেবে।
বৃষ্টি হয়ে সেই কবি মেঘ দেখায় দারুণ খেলা।

সম্প্রীতি চাই

মনসুর আজিজ

নদী ভাঙে মন ভাঙে
কারো শুধু ঘর ভাঙে
ভাঙবে না শুধু জানি প্রীতি

কখনো চলার পথে
কিছুটা বলার পথে
ভাঙবো না কখখনো নীতি।

অনেকে জবান ভাঙে
মান সম্মান ভাঙে
মনুষত্ব ভাঙে রোজ

তারা মানুষের জ্ঞাতি
প্রচারিত সুখ্যাতি
কখনো কি রাখে কারো খোঁজ?

আমরা মানুষ হবো
কথা সবে কম কবো
রবো মানুষের দিলে তাই

সৎ পথে চলে চলে
সত্যটা বলে বলে
সম্প্রীতি সব জনে চাই।

ঈদ সংখ্যার অন্যান্য কবিতারা
SHARE

Leave a Reply