কয়েকটি কবিতা

ঈদের খুশি

নাসির হেলাল

রাত থম্ থম্ রাতের শেষে সকাল যখন হবে
মনের মাঝে ঈদের খুশি জমাট বেঁধে রবে।
ঈদের খুশি ঈদের খুশি বাঁকা চাঁদের হাসি
ফিরনি কাবাব পায়েস সেমাই দেব রাশি রাশি।
ঈদের খুশি সকাল বিকাল ঈদের খুশি রাতে
নতুন জামা নতুন কাপড় পরবো সবাই প্রাতে।
ঈদের খুশি বাড়ি বাড়ি ঈদের খুশি মাঠে
ঈদের খুশি শহর গঞ্জে ঈদের খুশি হাটে।
ঈদের খুশি ছেলে বুড়োর ঈদের খুশি নানার
ঈদের খুশি গরিব দুঃখীর দুঃখ কথা জানার।
ঈদের খুশি উদার আকাশ ঈদের খুশি দানের
ঈদের খুশি  দু’হাত ভরে উচ্ছল যত প্রাণের।

অজানা দূর দেশে

আবদুল কুদ্দুস ফরিদী

দূর অজানায় পাহাড় আছে সাগর আছে
আরও আছে মরুভূমির দেশ,
বিচিত্র সব দৃশ্যপটে নানা রকম
হাজার পরিবেশ।

এক বিকেলে ঝরনা তীরে বসে বসে
শুনছি ওদের গান
ঝরনা বলে আয়রে খোকন ছুটে চলি
তোরে নিয়ে পাহাড় দেশে চালাই অভিযান।

ভাবছি আমি কেমনে যাবো সাগর তীরে
সাগর থাকে দূর অজানায় নীলচে আকাশ ঘেঁষে,
নদী বলে আমিই তোরে নিয়ে যাবো অজানা দূরদেশে।

মরুভূমির বালুর দেশে সবুজ মরুদ্যান,
দোল দোলানো আঙুর লতায়
বুলবুলি গায় গান,
সেখানটাতে যেতে আমার পাগলপারা প্রাণ।
হাওয়া বলে- নিয়ে যাবো। ভাবিস না আর
থাকিস না আর হয়ে ম্রিয়মাণ।

ঊষার দ্বারে অস্তাচলে মেরুর আঙিনাতে,
সবার আগে ছুটে যাবো সূর্য ওঠা প্রাতে।

রোজা শেষে

তমসুর হোসেন

একটি মাসের রোজার শেষে ভাসিয়ে আলোয় আকাশ কিনার
কার হারানো দামাল ছেলে যায় মাড়িয়ে মেঘের মিনার
প্রতিরাতের অশ্র“কণায় তসবি সালাত অভুক্ততায়
লাখো মোমিন কাঁদছে বসে সহসা কার বিদায় ব্যথায়।

কেমন করে যাচ্ছে চলে হয়ে এমন নিঠুর পাষাণ
হায় রমজান, কাছে ছিলে ভাঙা বুকে ছিল আছান
শুকনো ধরার নিরস বুকে আনলে বয়ে রহম খোদার
বুকের মাঝে সুখের পরশ স্বপ্ন সুবাস গুল বাগিচার।

চাই না ঈদের আনন্দক্ষণ চাই না খেতে ফিরনি কাবাব
কী ফয়সালা মাগফিরাতের এখনো তার পাইনি জবাব
থাকতে যদি সারা জনম আমার পোড়া হতাশ বুকে
নিঃসঙ্কোচে বলতে পারি কাটতো সময় অপার সুখে।

বন্ধু যদি খেয়াল করে সঙ্গী হতে রোজ হাশরে
তোমার সাথে গল্প হতো রঙিন তারার সুখ বাসরে
খোদার বড় প্রিয় তুমি কুরআন নাজিল তোমার বুকে
প্রতি বছর খবর নিয়ো তোমায় পেয়ে থাকবো সুখে।

সিডর

নাসিরুদ্দীন তুসী

পায়রা নদী, পায়রা নদী কী মায়াবী নাম,
নদীর পাশে সবুজ-শ্যামল লবনগোলা গ্রাম।
সিডর এসে জলোচ্ছ্বাসে কেড়ে নিলো তার,
কোলের শিশু মা ও বাবা, সাজানো সংসার।

গাছ-গাছালি, পাখ-পাখালি গরু মহিষ ভেড়া,
বিষখালিতে ভেসে গেছে হয়নি তাদের ফেরা।
কে ফিরেছে? কেউ ফেরেনি, শুধু লাশের সারি,
হারিয়ে স্বজন সবার বুকে শোকের আহাজারি।

মা হারানো ছেলে এবং জাল হারানো জেলে,
তাদের করুণ কান্না শুনি নদীর কাছে গেলে।
বলেশ্বরী, বিষখালি আর জানে পায়রা নদী,
কী বেদনার জলের ধারা বয় সে আজ অবধি।

নদীর অতল, নিতল জলে কান পাতলে কেউ,
জানবে সিডর রেখে গেছে কী বেদনার ঢেউ!

ওরা

এনায়েত রসুল

ওদের চোখে কান্না শুধু
ওদের চুল রুক্ষ
ওদের মুখে মলিন হাসি
ওদের মনে দুঃখ।

ওদের হাতে শূন্য থালা
ওদের বুকে যন্ত্রণা
ওরা খোঁজে অষ্টপ্রহর
বেঁচে থাকার মন্ত্রণা।

ওরা আমার প্রতিবেশী
ওদের কথা জানি না।
ওদের ত্যাগে বেঁচে আছি
গায়ের জোরে মানি না!

SHARE

Leave a Reply