Home কুরআন ও হাদিসের আলো প্রিয় বন্ধু

প্রিয় বন্ধু

মকবুলা মনজুর

প্রিয় বন্ধু
প্রিয় বন্ধু

অমলদের বাড়ির সামনে বিশাল শিরীষ গাছটা ডালপালা মেলে দাঁড়িয়ে রয়েছে। দূর থেকে গাছটাকে দেখলে মনে হয় যেন বিরাট একটা সুবজ ছাতা। এই মউতলী গ্রামে কারুর বাড়িতেই এমন একটা চমৎকার গাছ নেই। কেউ যদি শহর থেকে কিংবা অন্য গ্রাম থেকে এসে শহীদ মাস্টারের বাড়ি কোনটা জনতে চায় অথবা অন্য গ্রামের কোন স্কুলে উঁচু ক্লাসের ছাত্ররা কেউ জানতে চায় মউতলী স্কুলের ছাত্র অমলযে খুব ভালো কবিতা আবৃত্তি করতে পারে তাদের বাড়ি কোনটা? কারণ তাদের গ্রামের স্কুলের আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় অমলকে তারা অংশগ্রহণ করার জন্য নিয়ে যেতে চায়। তখন এ গ্রামের লোকেরা বলবে, ঐ যে মস্তবড় শিরীষ গাছটা দেখা যাচ্ছে যে বাড়ির সামনেই, ওটাই অমলদের বাড়ি। শহীদ মাস্টার হচ্ছেন অমলের আব্বা।

এ ছাড়াও অমলের আরও একটা গুণ আছে। সেটা হচ্ছে অমল খুব ভালো ফুটবল খেলতে পারে। তাদের স্কুলের ফুটবল টিমের সে সেন্টার ফরোয়ার্ড।

অমলের আব্বা শহীদ হোসেন এই মউতলী গ্রামের স্কুলে মাস্টারি করেন তো তাই ওকে গ্রামের সবাই বলে শহীদ মাস্টার। অমল শুনেছে ওর দাদাও নাকি ছিলেন এই স্কুলের হেডমাস্টার। সেই সময়ে অমলের আব্বাও এই স্কুলে পড়েছেন। তখন অবশ্য স্কুলটা হাইস্কুল হয়নি। ছিলো প্রাইমারি স্কুল। এখন আবার এই স্কুলে অমল পড়ছে। ক্লাস ফাইভে। স্কুলের সবাই জানে ক্লাসের ফার্স্টবয় অমল এ বছর বৃত্তি পরীক্ষা দেবে এবং বৃত্তি পাবেই। কিন্তু এখন অমলের ভয় হচ্ছে সে মনে হয় বৃত্তি পরীক্ষা দিতেই পারবে না। আজ প্রায় দুই সপ্তাহ হলো অমল বিছানায় পড়ে আছে। তার ডানপাশে ভীষণ ব্যথা আর জ্বর জ্বর! কখনই ছেড়ে যায় না। পায়ের ব্যথায় অমল হাঁটতে পারে না ঠিকমত। কী কষ্ট!

অমল জীবনে কখনও এমন করে শুয়ে থাকেনি। স্কুলে কখনও সে অনুপস্থিত থাকেনি। নিয়মিত উপস্থিতির জন্য এ বছর বার্ষিক পুরস্কার বিতরণীর সময় ক্লাসে ফার্স্ট হওয়ার জন্য পুরস্কার ছাড়াও নিয়মিত উপস্থিতির জন্য একটা বিশেষ পুরস্কার পেয়েছে। আর সেই অমল কি না এখন দিনরাত বিছানায় শুয়ে রয়েছে।

গত সপ্তাহে অমলের আব্বা শহীদ সাহেব অমলকে শহরে নিয়ে গিয়েছিলেন ডাক্তার দেখাতে। ডাক্তার অমলকে দেখে ওষুধপত্র দিয়েছেন। তবে এ কথাও বলে দিয়েছেন যে এইসব ওষুধে ভালো না হলে অমলকে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে বড় ডাক্তার দেখাতে হবে। অমল শুনেছে সেই ডাক্তার নাকি অস্থি বিশেষজ্ঞ, যারা হাড়ের চিকিৎসা করেন।

শহীদ সাহেবের মন খুব খারাপ। অমলকে ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করাতে হলে অনেক টাকা দরকার। এতো টাকা তিনি কোথায় পাবেন? তাঁর তো তেমন জমিজমা নেই। স্কুলে বেতনের টাকাই একমাত্র ভরসা। ওদিকে শহরের ডাক্তার বলেছেন, ঢাকায় নিয়ে অমলকে বড় ডাক্তার দেখিয়ে এবং হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা করাতে কমপক্ষে দশ বারো হাজার টাকা লেগে যাবে। এই সব সমস্যা আর দুশ্চিন্তায় অমলের আব্বা, মা আর দাদী খুবই অস্থির হয়ে পড়েছেন।

কিন্তু অমল তো এতসব বোঝে না। সে শুনেছে তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হতে পারে। অমল কখনও ঢাকা শহর দেখেনি। এই সুযোগে তার ঢাকা দেখা হবে এটা ভেবে এত ব্যথা বেদনার মধ্যেও তার একটুখানি খুশি লাগছে। ওর ছোটবোন মিনিও বলছে, ভাইজান তুই ঢাকায় যাবি? অসুখ ভালো হয়ে গেলে ঢাকায় মজা করে বেড়াতে পারবি তাই না?

মিনির কথা শুনে অমলেরও মনে হচ্ছে সে ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসা করালে ভালো হয়ে যাবে, তারপর অনেক বেড়াবে। ঢাকায় অমলের সেজমামার ছেলে বিলটু তারই সমান। নিশ্চয়ই অমল সেরে ওঠার পর সেজমামা তাকে আর বিলটুকে নিয়ে শিশুপার্ক, চিড়িয়াখানা, শহীদ মিনার, জাতীয় স্মৃতিসৌধ এইসব জায়গায় বেড়াতে নিয়ে যাবেন।

আজ সকাল থেকে অমলের পায়ের ব্যথাটা যেন একটু কম। জ্বর অবশ্য কমেনি। অমল বিছানায় শুয়ে জানালার দিকে চেয়ে রয়েছে। শিরীষ গাছটার ঘন সবুজ ঝিরি ঝিরি পাতাগুলো বাতাসে দুলছে, পাতার ফাঁকে ফাঁকে ফিকে গোলাপি রঙের ফুল ফুটেছে। ফুলগুলো কেমন তুলতুলে দেখতে আর হালকা মিষ্টি গন্ধ। এই গাছটা অমলের খুবই প্রিয়। অমলের দাদী বলেন, তিনি যখন বিয়ের পর নতুন বউ হয়ে এই বাড়িতে আসেন সেই বছরে শিরীষ গাছটাতে প্রথম ফুল ফুটেছিলো। অমলের দাদাজান নাকি কোথা থেকে এই গাছটার চারা এনে লাগিয়েছিলেন।

শহীদ সাহেব অমলের জ্বরটা দেখবেন বলে ঘরে ঢুকলেন। দেখলেন অমল কেমন উদাস চোখে জানালার বাইরে তাকিয়ে রয়েছে। তার বুকের ভেতরটা কষ্টে মুচড়ে উঠলো। মনে পড়ে গেলো অমলের জন্মের পর তিনি যখন ওর এই নামটা রাখেন তখন অমলের দাদী বলেছিলেন, এ আবার কেমন নাম রাখলি ছেলের? আমি তো ভেবেছিলাম যে নাতির নাম রাখবো খালেদ। শহীদ সাহেব উত্তর দিয়েছিলেন, বেশতো ওর ভালো নাম খালেদই রাখা যাবে। কিন্তু ডাকনাম থাকবে অমল। অমল মানে কি জানো? নির্মল, পবিত্র।

শহীদ সাহেব তাঁর ছাত্রজীবন থেকেই খুব বই পড়েন। তার সবচেয়ে প্রিয় রবীন্দ্রনাথের গল্প, কবিতা, নাটক এই সব। রবীন্দ্রনাথের ডাকঘর নাটকটা পড়ার পর থেকে অমল নামটা তাঁর খুব প্রিয় নাম। আর কাবুলিওয়ালা গল্পের মিনি নামটাও। তাই ছেলের নাম তিনি অমল আর মেয়ের নাম রেখেছেন মিনি।

কিন্তু আজ অমলকে অমন করে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকতে দেখে শহীদ সাহেবের ভীষণ কষ্ট হলো। মনে পড়ে গেলো ‘ডাকঘর’ নাটকের অমলও অসুস্থ হয়ে সারাক্ষণ জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকতো। নাটকের সেই অমল আর সুস্থ হয়ে ওঠেনি, বাঁচেনি। তাহলে কী তাঁর অমলও বাঁচবে না? শহীদ সাহেব শিউরে উঠলেন। না-না। যে করেই হোক তাঁকে টাকা জোগাড় করতেই হবে। অমলকে শহরে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে।

থার্মোমিটার দিয়ে জ্বর দেখলেন শহীদ সাহেব। এখনও একশো এক ডিগ্রি জ্বর রয়েছে। না, আর দেরি করা চলে না। যে করেই হোক অমলকে ঢাকাতে নিয়ে যেতে হবেই। আর সে জন্য টাকা চাই। শহীদ সাহেব স্কুল থেকে কিছু টাকা ধার চেয়ে দরখাস্ত দিয়েছেন স্কুলের সেক্রেটারির কাছে। এখনই একবার সেক্রেটারি সাহেবের বাড়িতে যাওয়া দরকার কিন্তু কতো টাকাই বা স্কুল তাকে ধার দিতে পারবে!

বাহির উঠানে পা দিতেই শহীদ সাহেবের মাথার ওপর ঝুর ঝুর শিরীষ পাতা ঝরে পড়লো। সাথে সাথে আর মনের ভেতর যেন বিদ্যুৎ খেলে গেলো। এই তো! এইতো রয়েছে উপায়। মনে পড়লো মাসখানেক আগে পাশের গ্রামের করাত কলের মালিক রজব আলী তার কাছে এসেছিলো। শিরীষ গাছটা সে কিনতে চায়। রজব আলী জানে এই বিশাল আর পুরনো শিরীষ গাছ থেকে যে কাঠ আর তক্তা পাওয়া যাবে তার অনেক দাম। এত বড় আর পুরনো গাছ এই আশপাশের দশখানা গ্রামের মধ্যে নেই।

কিন্তু শহীদ সাহেব তার কথাকে পাত্তাই দেননি। তিনি হেসে বলেছিলেন, এই গাছ আমার আব্বাজানের হাতে লাগানো গাছ। সারা গ্রামে এরকম একটা গাছ নাই। কী চমৎকার ছায়া দেয় এই গাছ। আমিতো আর পাগল হইনি যে এই গাছ বিক্রি করবো।

তবু রজব আলী বলেছিলো, কিন্তু মাস্টার সাব এই গাছতো অনেক পুরনো হয়ে গেছে। একটা কোনো বড় রকমের ঝড় হলে গাছটা কিন্তু ভেঙে পড়তে পারে।

আমি আপনাকে গাছের দাম দশ হাজার টাকা দিতেছি, গাছটা আপনি আমাকে দ্যান।

দশ হাজার টাকা শহীদ সাহেবের জন্য অনেক টাকা। তবুও তিনি সেদিন শিরীষ গাছটা বিক্রি করার কথা ভাবতে পারেননি। কিন্তু আজ তাঁর মনে হলো, গাছ আমাদের বন্ধু। তাঁর অমলকে সুস্থ করে তোলার জন্য, বাঁচাবার জন্য এই গাছই তাঁর বন্ধুর কাজ করবে। আর এক মুহূর্তও দেরি না করে শহীদ সাহেব রজম আলীর বাড়ির দিকে রওনা দিলেন।

অমল যখন শুনলো তার চিকিৎসার টাকা জোগাড়ের জন্য তার আব্বা  শিরীষ গাছটা বিক্রি করে দিচ্ছেন তখন তার খুব কষ্ট হলো। কাঁদো কাঁদো হয়ে বললো, আব্বা তুমি যে বলো গাছ আমাদের বন্ধু, তাহলে কেন তুমি এই গাছটা বিক্রি করে দিচ্ছ? এখন তো রজব আলী চাচার লোকেরা গাছটা কেটে নিয়ে যাবে। আমার খুব খারাপ লাগবে। দাদীরও ভীষণ দুঃখ হবে। ও গাছটা তো দাদাজান লাগিয়েছিলেন।

অমলের কথা শুনে দাদী বললেন, আমার সোনা ভাই। গাছ বিক্রির টাকায় যদি তোমাকে চিকিৎসা করে সুস্থ করে তোলা যায় তাহলে আমার কোন দুঃখ হবে না। এ গাছটা আমার আদরের হলেও তোমার চেয়ে আদরের আর কোন কিছুই নেই আমার জন্য।

শহীদ সাহেব বললেন, নিশ্চয়ই গাছ আমাদের প্রিয় বন্ধু। আর বন্ধুর প্রয়োজনে যে নিজেকে উৎসর্গ করতে পারে সেই হচ্ছে প্রকৃত বন্ধু। ঐ শিরীষ গাছটাও তোমার সেই রকম বন্ধু। তবে গাছটা কাটতে দেখলে তোমার কষ্ট হবে জেনেই আমি রজব আলীকে বলেছি তোমাকে ঢাকায় নিয়া যাবার পর যেন সে গাছটা কাটে।

ঢাকার বড় ডাক্তার অমলকে দেখে বললেন, কালই ওকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ওর পায়ের হাড়ে একটা ছোটোখাটো অপারেশন করতে হবে। এটা একটা হাড়ের কঠিন অসুখÑ যা কমবয়সী ছেলেমেয়েদেরেই বেশি হয়ে থাকে।

যদিও অমল খুব সাহসী ছেলে। তবু অপারেশনের কথা শুনে ভয় পেয়ে গেলো। কাঁদো কাঁদো হয়ে বললো, ডাক্তার সাহেব! আমি কি তাহলে আর নিজে নিজে হাঁটতে পারবো না?

ডাক্তার সাহেব হেসে অমলের পিঠ চাপড়ে বললেন, নিশ্চয়ই পারবে। হাঁটতে পারবে, খেলতে পারবে, সব পারবে। তবে প্রথম কয়েক মাস বেশ সাবধানে চলাফেরা করতে হবে। এই ধরো তিন চার মাস। তার আগে অবশ্য একবার তোমাকে ঢাকায় এসে আমাকে পা-টা দেখিয়ে যেতে হবে।

অপারেশনের দুই সপ্তাহ পর অমল হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলো। বাসে করে যেতে অমলের কষ্ট হবে বলে সেজমামা তাঁর একজন বন্ধুর কাছ থেকে গাড়ি জোগাড় করেছেন। অমলদের সাথে সেজমামাও যাবেন। আর যাবে বিলটু। এ যাত্রায় অমলের পায়ের অসুবিধার জন্য ঢাকায় কিছুই বেড়ানো হয়নি। দেখা হয়নি কোন কিছুই। তবে তিন চার মাস পরে যখন অমল আবার ঢাকায় আসবে, তখন সেজমামা তাকে আর বিলটুকে নিয়ে অনেক বেড়াবেন। চিড়িয়াখানা, বাচ্চাদের জন্য ফ্যান্টাসি পার্কÑ এই সব দেখাবেন।

খুব সকালে অমলরা ঢাকা থেকে মাত্রা করেছে। শহরের মধ্যে পথের দু’পাশে সব বড় বড় দালান। শহর ছাড়িয়ে যেতেই দু’পাশে বড় বড় সব আম, জাম, শিশু, বট আর অশত্থ গাছ। সারি সারি বাবলা গাছের ঝিরি ঝিরি পাতার ফাঁকে গোলগোল তুলোর মত ফুল।

অমলের তাদের বাড়ির শিরীষ গাছটার কথা মনে পড়ে মন খারাপ হয়ে গেলো। নিশ্চয়ই ওদের বাড়ির সামনের সেই ছায়াঢাকা জায়গাটা এখন ধু-ধু হয়ে গেছে।

হঠাৎ সেজমামা বললেন, অমল! বিলটু! দেখো, এইবার আমরা যমুনা সেতুর কাছাকাছি এসে গিয়েছি। ভালো করে দেখো।

অমলরা খুব উৎসাহে গাড়ির জানালার বাইরে চেয়ে রইলো। ঢাকায় যাবার সময় অমল জ্বর আর পায়ের ব্যথায় এতই কাতর ছিলো সে কোথা দিয়ে যমুনা সেতু পার হয়ে গিয়েছিলো বুঝতেই পারেনি। বিলটুও কখনও যমুনা সেতু দেখেনি। তার খুব আনন্দ হচ্ছে নদী আর সেতু দেখে। অমরা বাড়িতে পৌঁছবার সাথে সাথে অমলের মা আর দাদী ছুটে এলেন। মিনি এলো লাফাতে লাফাতে। বাইরের বারান্দায় পেতে রাখা চেয়ারটাতে অমলকে বসিয়ে দিলেন আব্বা। অমল দেখলো বাড়ির সামনেটা একবোরে ফাঁকা।

সেজমামা গাড়ির ভেতর থেকে সব জিনিসপত্র বের করছেন। অমলের আব্বা গাড়ির পেছনের ডালাটা একটুখানি তুলে ধরে বললেন, এবার আমি অমলের কয়েকজন বন্ধুকে বের করছি।

বন্ধু! গাড়ির পেছনে বন্ধু! সবাই যেন চমকে গেলো। অমলের আব্বা গাড়ির ডালাটা তুলে একে একে ছয়টা গাছের চারা বের করলেন। বললেন, গতকাল আমি ঢাকার নার্সারি থেকে এই গাছের চারাগুলো কিনে এনেছি। এই তিনটা হচ্ছে মেহগিনি, এই দুটো সেগুন। আর এই যে দেখছো ঝিরিঝিরি পাতা এটা হচ্ছে কৃষ্ণচূড়া ফুলের গাছ।

মিনি চোখ গোলগোল করে বললো, মাগো! এতো গাছ! এতো গাছ আমরা কোথায় লাগাবো আব্বা?

আব্বা বললেন, আমি ঠিক করেছি মেহগিনি গাছগুলো বাড়ির ডানপাশে লাগাবো, সেগুন দুটো বাড়ির পেছনে।

আর কৃষ্ণচূড়াটা বাড়ির একদম সামনেÑ যেখানটা এখন ফাঁকা হয়ে রয়েছে। দু’তিন বছরের মধ্যেই দেখবে বৈশাখ মাসে কৃষ্ণচূড়া ফুল ফুটে বাড়িটা আলো হয়ে যাবে।

তখন লোকে বলবে, ঐ যে লাল ফুলে ভরা গাছটা যে বাড়ির সামনে ওটাই অমলদের বাড়ি।

একটা গাছের বদলে ছয়টা গাছ! একজন বন্ধুর বদলে ছয়জন বন্ধু। আনন্দে বিস্ময়ে অমলের মুখে কোন কথা এলোনা। তার কেন যেন কেবলই কান্না পেতে লাগলো!

SHARE

1 COMMENT

Leave a Reply