Home তোমাদের গল্প এগিয়ে যাবার স্বপ্ন

এগিয়ে যাবার স্বপ্ন

মাহফুজা জাহান তাকিয়া

এগিয়ে যাবার স্বপ্ন
এগিয়ে যাবার স্বপ্ন

ঈদ। মুসলমানদের শ্রেষ্ঠ ধর্মীয় উৎসব। ঈদ মানবতা, সাম্য ও মৈত্রীর জয়গান সমাজের উঁচু-নীচু সকল স্তরে ছড়িয়ে দিতে আসে। শিক্ষা দেয় ছোট-বড়, ধনী-গরিব সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে সবার এক সাথে আনন্দে শরিক হওয়ার। ঈদের এই শিক্ষাকে বর্তমান জীবনে বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে সাবিহা ও তার বান্ধবীরা মিলে একটি ফান্ড গঠন করে। তারা ক্লাস এইটের ছাত্রী। ঈদের দু’মাস আগে তারা এই পরিকল্পনা গ্রহণ করে। প্রথমে সাবিহা, সোনিয়া, ফায়জা, শারমিন, তান্নি ও নাঈমা তাদের ক্লাসের প্রতিটি ছাত্রীর পুরনো, ব্যবহার্য নয় এমন জামাগুলো সংগ্রহ করে। পরে অন্যান্য ক্লাসের মেয়েরা এ ব্যাপারে কৌতূহলী ও আগ্রহী হয়ে সাড়া দেয়। ফলে দুই সপ্তাহের মধ্যেই ওদের বিতরণী ফান্ডে ২৫৫টি পোশাক জমা হয়ে যায়।

অতঃপর তারা স্কুলের সচ্ছল শিক্ষক-ছাত্রীদের কাছ থেকে চাঁদা তুলতে শুরু করে। সবাই নিজস্ব সামর্থ্য অনুযায়ী টাকা-পয়সা দেয়। আশাতীত সাফল্য পেয়ে তারা মহান প্রভুর শোকরিয়া আদায় করে। ২৮তম পবিত্র রমজানের দিনে ফায়জা তার চাচাকে বলে, ‘চাচ্ছু। আমাদের বিতরণী ফান্ডের জন্য আপনার পক্ষ থেকে অনেক সাহায্য পেয়েছি। এখন কি কাল দয়া করে কিছু খাদ্য-দ্রব্য কেনার জন্য আমাদের মার্কেটে নিয়ে যাবেন, প্লিজ? আর পরশু আমরা কাপড় ও খাবার বিলিয়ে দেব। আপনি কি আমাদের সঙ্গে থাকবেন?’ আবেদনের সুর, ফায়জার গলায়। ঠিক আছে। কিন্তু ছোট মানুষ তোমরা।

রোজাও রাখবে। তোমাদের কষ্ট হবে না?’

জি না, চাচ্চু। তাছাড়া আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্য কষ্ট করলে সাওয়াব হবে না?

নিশ্চয়ই, মামণি। আল্লাহ তোমাদের যেন সবসময় সাহায্য করেন। আমি তোমাদের নিয়ে যাবো।

অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। ওদের ফান্ডের সকল কার্যক্রম প্রায় সম্পন্ন হয়ে গেছে। ঈদের আগের দিন তারা ছয়জন কাছের বস্তিগুলোতে গিয়ে যথাসম্ভব কাপড় বিতরণ করলো। যেসব বাচ্চা একটু আগেও নতুন জামার জন্য কাঁদছিলো আর অনেক বড়দের মন প্রচণ্ড খারাপ ছিলো, আল্লাহর রহমতে এবং সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলে ওরা ছয় বান্ধবী তাদের মুখে হাসি ফোটাতে সক্ষম হয়। তারপর পরিচিত কিছু দুঃখী পরিবারকে দুধ সেমাই ইত্যাদি খাদ্য দিলো। অতঃপর তারা সবাই মিলে মহান আল্লাহ তায়ালার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে। এভাবে ছোট হয়েও সমাজসেবামূলক কর্মে এগিয়ে এসে তারা সবার মধ্যমণিতে পরিণত হয়। অনেকেই ওদের কাজে অনুপ্রাণিত হয়ে ওঠে। ঈদের আনন্দ সবার মধ্যে বিলিয়ে দেয়ার মাধ্যমে তারা যে আত্মতৃপ্তি লাভ করে, তার কোন তুলনাই হয় না। তাছাড়া ভালো কাজের স্বীকৃতি সর্বত্রই পাওয়া যায়। ফলে স্কুলের শিক্ষকগণ ওদের বেশি আদর করেন। ওদের আব্বু-আম্মুও আজ সন্তানগর্বে গর্বিত। এছাড়া সাহায্যপ্রাপ্ত অসহায় মানুষগুলোর দোয়া তো রয়েছেই। তাই ওরা জীবনে আরো অনেক ভালো কাজে এগিয়ে যাওয়ার ও সাহায্য করার স্বপ্ন দেখে। এসো, প্রিয় কিশোরকণ্ঠ বন্ধুরা! আমরাও ওদের সুন্দর স্বপ্ন বাস্তবায়নে অংশ নিই।

SHARE

1 COMMENT

  1. উৎসাহমূলক গল্প আরো বাড়ানো দরকার।আর এই গল্পটা অনেক ভাল।

Leave a Reply