Home সাক্ষাৎকার সাক্ষাৎকার

সাক্ষাৎকার

বছর ঘুরে আবার আমাদের মাঝে হাজির হলো ঈদুল ফিতর। ঈদকে ঘিরে সবারই থাকে অসংখ্য স্মৃতি, শত ভাবনা। এবারের ঈদে দেশের বিশিষ্ট ও জনপ্রিয় ব্যক্তিরা কী ভাবছেন? কৈশোরে তারা কিভাবে ঈদ কাটাতেন? দেশের সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরদের নিয়ে তাদের ভাবনাই বা কী এসব প্রশ্নের উত্তর জেনে নিই তাদের দেয়া সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারগুলো থেকে। সাক্ষাৎকার সংগ্রহে ছিলেন সাইফ মাহদী

Opi
Opi

ইকতেখার আলম অপি

কিশোরকণ্ঠ : তুমি কেমন আছ?
ইকতেখার আলম অপি : ভালো আছি। খুউব ভালো আছি।
কিশোরকণ্ঠ : কোন্ ক্লাসে এবং কোথায় পড়ছ?
ইকতেখার আলম অপি : আমি এবার দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ছি। আমার স্কুলের নাম সেন্ট আলবার্টস স্কুল।
কিশোরকণ্ঠ : যে মোবাইলটি পছন্দ করেছিলে ওটা কি কিনেছ? না কিনলে কবে কিনবে?
ইকতেখার আলম অপি : না, এখনো কিনিনি, আমি যে এখনো ছোট! তবে বড় হলে ঠিকই কিনে নেব।
কিশোরকণ্ঠ : আচ্ছা, এবারের ঈদ তুমি কিভাবে কাটাবে?
ইকতেখার আলম অপি : এবারের ঈদে সকালে উঠেই গোসল করে নতুন পায়জামা-পাঞ্জাবি পরে আব্বু-আম্মুকে সালাম করবো। আব্বু আর ভাইয়ার সাথে পরে নামাজে যাব। আইসক্রিম খাব। তারপর নামাজ থেকে ফিরে ড্রেস চেঞ্জ করবো। সেমাই খাব। এরপর নানুর বাসায় যাব। নানুকে সালাম করবো। বড় মামা-মামানীকে সালাম করবো। এরপর সারাদিন নানার বাড়ি আনন্দ করে বাসায় ফিরে আসবো। আমার ঈদ চার থেকে পাঁচ দিন থাকে। বাসায় ফিরে কার্টুন দেখতে বসবো। কেননা কার্টুন আমি বেশি পছন্দ করি।
কিশোরকণ্ঠ : তোমার আশপাশের গরিব বন্ধুদের জন্য এবারের ঈদে কী আয়োজন করেছো?
ইকতেখার আলম অপি : আমার আশপাশের গরিব বন্ধুদের ঈদের দিন সেমাই বিরিয়ানি খাওয়াব। আর তাদের সাথে আনন্দ করবো, খেলবো। আমি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি পশু-পাখিকে। আমার ফেভারিট পশু হচ্ছে ঘোড়া। ঘোড়াকে কেউ আঘাত করলে আমার ভীষণ কষ্ট লাগে!

opi
opi

কিশোরকণ্ঠ : তুমি কি আব্বু-আম্মুর কথা শোনো?
ইকতেখার আলম অপি : আমি আব্বু-আম্মুর কথা শুনি এবং মানি। কিন্তু মাঝে মাঝে দুষ্টুমিও করি। এর জন্য কখনো তারা রাগ করেন আবার আদরও করেন। কারণ আমি তো পড়ালেখা ঠিকমতো করি। অবশ্য পড়ার সময় যদি না পড়ি তাহলে আম্মু একটু একটু বকা দেয়। আর আমিতো ভালো করে পড়িই।

কিশোরকণ্ঠ : কিশোরকণ্ঠের পাঠক-পাঠিকাদের জন্য কিছু বলবে? ওরা কিন্তু তোমাকে খুব পছন্দ করেছে।
ইকতেখার আলম অপি : আমি কিশোরকণ্ঠকে ধন্যবাদ দিতে চাই। আর আমার কথা যে তারা ছেপেছে এ জন্য আমি অনেক কৃতজ্ঞ। পাঠক-পাঠিকাকে বলতে চাই, আপনারা ঠিকমতো পড়াশোনা করবেন। এ দেশকে ভালোবাসবেন এবং দেশের প্রতি শ্রদ্ধা রাখবেন। আর আপনারা কিশোরকণ্ঠ পড়বেন।

Sakib al hasan
Sakib al hasan

সাকিব আল হাসান

সহ-অধিনায়ক, বাংলাদেশ ক্রিকেট দল

কিশোরকণ্ঠ : আপনার কিশোর বয়সের ঈদস্মৃতি কি মনে পড়ে? কিভাবে তখন ঈদ উদ্যাপন করতেন?
সাকিব আল হাসান : অবশ্যই মনে পড়ে। তবে এখন মনে করার সময় কম পাই। তারপরও মনে পড়ার ভেতরে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতাম, নানুর বাড়ি যেতাম। এছাড়া আরো আত্মীয়ের বাসায় যেতাম এবং যেখানে-সেখানে ঘুরতাম-ফিরতাম আর কী। প্রচুর এনজয় করতাম।
কিশোরকণ্ঠ : এখন কিভাবে কাটে আপনার ঈদ?
সাকিব আল হাসান : যেহেতু খেলাকেই পেশা হিসেবে নিয়েছি (এটি ছোটকাল থেকে আমার নেশাও), তাই সেভাবেই ঈদটাকে কাটাই। ঈদের সময়তো মাগুরাতেই আসি। পরিবারের সবার সাথে হাসি আনন্দে ঈদকে এনজয় করি। ঈদের নামাজ পড়ি, সেমাই বিরিয়ানি খাই, আর বন্ধুদের সাথে কাটাই।
কিশোরকণ্ঠ : সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরদের ঈদ আনন্দে শরিক করার জন্য কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করেন? এ ক্ষেত্রে সরকার ও সমাজের দায়িত্ব কী?

Sakib
Sakib

সাকিব আল হাসান : আসলে একদিনের জন্য তো আর আনন্দ করে লাভ নেই। তবে ঈদের আনন্দ যদি ভাগ করি তাদের সাথে তাহলে আমার অনেক ভালো লাগবে। আমি শুধু ঈদ কেন, সারা বছরই আমার আনন্দে শরিক করাতে চাই সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের। আমার কথা হচ্ছে সমাজে যারা বিত্তশালী আছেন তারা যদি শুধু ঈদকে টার্গেট না করে পুরো বছরই তাদের মুখে হাসি ফুটানোর চেষ্টা করেন, তাদের শিক্ষা গ্রহণ করার সুযোগ করে দেন, তাহলে ভালো হয়। আমরা শুধু সরকার সরকার বলি। সরকারের সাথে সাথে আমাদেরও উচিত সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেয়া। আমি সুযোগ পেলেই তাদের জন্য চেষ্টা করি এবং করে যাবো ইনশাআল্লাহ।
কিশোরকণ্ঠ : শিশু-কিশোরদের প্রকৃত চরিত্রবান, আদর্শ দেশপ্রেমিক ও আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া উচিত বলে মনে করেন?
সাকিব আল হাসান : আমার মনে হয় শিশু প্রকৃত চরিত্রবান বা দেশপ্রেমিক বা আলোকিত মানুষ হয়ে বেড়ে উঠবে কি-না তা নির্ধারণ করবে পরিবেশ। আমরা যদি পরিবেশকে ভালো করে গড়ে তুলতে পারি অর্থাৎ ঝগড়া-বিবাদ, কলহ-ফ্যাসাদ, হিংসা-রেষারেষিমুক্ত রাখতে পারি তাহলে শিশুরা উপরোক্ত আলোকেই গড়ে উঠতে পারবে। আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত শিশু-কিশোরদের জন্য এই ধরনের পরিবেশ সৃষ্টি করা।

Fazlur Rahman Babu
Fazlur Rahman Babu

ফজলুর রহমান বাবু

বিশিষ্ট অভিনেতা

কিশোরকণ্ঠ : আপনার কিশোর বয়সের ঈদস্মৃতি কি মনে পড়ে? কিভাবে তখন ঈদ উদ্যাপন করতেন?
ফজলুর রহমান বাবু : অবশ্যই মনে পড়ে। জীবনের মূল্যবান ও আনন্দময় সময়গুলোতে সমস্ত বন্ধু-বান্ধরা একসঙ্গে ঘুরতাম। আর ঈদে তো কথা-ই নেই। ঈদের নামাজ পড়তাম আর বন্ধুরা দলবেঁধে বের হতাম ঘুরতে। অনেক আনন্দ পেতাম। খুশিতে কাটতো ঈদ। সেই সময় একটা মাত্র জামা কিনে দেয়া হতো বাসা থেকে। সেই জামা পেয়েই খুশি থাকতাম আমরা। আমরা অনেক আনন্দেই থাকতাম। সেই সময় আমাদের আকাক্সক্ষা ছিল কম। যা পেতাম তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতাম। রোজার ঈদের পাওয়া জামা দিয়ে কোরবানির ঈদটাও পার করে দিতে হতো।
কিশোরকণ্ঠ : এখন কিভাবে কাটে আপনার ঈদ?
ফজলুর রহমান বাবু : এখনো ঈদ সেরকমই কাটে কিন্তু আনুষ্ঠানিকতা বেড়েছে। কোনো কোনো বছর গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরে যাওয়া হয়। অনেক ভালো লাগে। অনেক বন্ধু যারা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মরত আছে সবার সাথে গেট-টুগেদার হয়, ভালো লাগে। সারা বছর যেখানে কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকি, এই ঈদকে উপলক্ষ করে গ্রামে এসে অনেক ভালো লাগে। এক সবুজ-স্নিগ্ধ পরশ পাই। আর যখন ঢাকায় থাকি এত আনন্দের হয় না। মনে হয় অন্যান্য দিনের ছুটির মত ছুটি পালন করছি। গ্রামের পরশ এক অন্যরকম অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।
কিশোরকণ্ঠ : তখনকার ঈদ আর এখনকার ঈদের আনন্দের মধ্যে কোনো পার্থক্য লক্ষ করেন কি?
ফজলুর রহমান বাবু : আসলে আনন্দের বিষয়টা বয়স ভেদে। বর্তমানে যদি আমি সেই আগের বয়সে থাকতাম তাহলে তখনকার আর এখনকার ঈদের ভেতর পার্থক্যটা অনেক সহজেই দেয়া সম্ভব হতো। কারণ একজন শিশু ফজলুর রহমান বাবু আর এখন প্রায় মধ্যবয়সে উপনীত ফজলুর রহমান বাবুর মানসিকতা, এক নয়। তবে আগে আমরা অল্পতেই সন্তুষ্ট থাকতাম কিন্তু বর্তমানের শিশু-কিশোরদের ঈদের চাহিদা অনেক এটাই পার্থক্য।
কিশোরকণ্ঠ : সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরদের ঈদ আনন্দে শরিক করার জন্য কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করেন? এ ক্ষেত্রে সরকার ও সমাজের দায়িত্ব-কর্তব্য কী?
ফজলুর রহমান বাবু : আসলে সরকারের একার পক্ষে কিছুই করা সম্ভব নয়। সামাজিকভাবেই আমাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। মানুষ হিসেবেই আমাদের ব্যক্তিবিশেষে প্রত্যকেরই দায়িত্ব হচ্ছে আশপাশের সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোর কার তা খুঁজে বের করা। এবং তাদের সমস্যা সমাধানে এগিয়ে যাওয়া। ঈদের আনন্দে শুধু শরিকই নয় সবসময়ই তাদের প্রতি দৃষ্টি রাখা উচিত। ইসলামের তো বিধানই আছে জাকাত দেয়া। প্রতিবেশী না খেয়ে আছে কি-না খোঁজ নিয়ে খাবারের ব্যবস্থা করা। তবে আমি জানাতে চাই আমি অবশ্যই এই শ্রেণীর মানুষের জন্য ভালো কিছু করার চেষ্টা করছি, করবো। আপনারাও এগিয়ে আসুন।
কিশোরকণ্ঠ : শিশু-কিশোরদের প্রকৃত চরিত্রবান, আদর্শ, দেশপ্রেমিক ও আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া উচিত বলে মনে করেন?
ফজলুর রহমান বাবু : পরিবার থেকেই এই প্রক্রিয়াটা শুরু হয় বা শুরু হওয়া উচিত। প্রতিটি পরিবারই বিভিন্ন মাইন্ডের। তবে প্রতি পরিবারই চাইবে তার বংশধর তাদের মতোই হবে, হোক সেটা আদর্শের পরিপন্থী। প্রত্যেক পরিপন্থীরই দেশের প্রতি ভালোবাসা বিদ্যমান থাকে। এছাড়া অন্যান্য বিষয়গুলোকে ঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারে একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই পারে একজন ছাত্রকে প্রকৃত চরিত্রবান, আদর্শ, দেশপ্রেমিক ও আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে। এ জন্য প্রত্যেক ব্যক্তি এবং রাষ্ট্রকে সমানভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে।

SHARE

1 COMMENT

Leave a Reply to শিউলি রহমান Cancel reply