<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>কিশোরকন্ঠ</title>
	<atom:link href="http://www.kishorkanthabd.com/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>http://www.kishorkanthabd.com</link>
	<description>সর্বাধিক প্রচারিত শিশু-কিশোর মাসিক।</description>
	<lastBuildDate>Tue, 02 Feb 2010 12:41:04 +0000</lastBuildDate>
	<generator>http://wordpress.org/?v=2.9.1</generator>
	<language>en</language>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>1</sy:updateFrequency>
			<item>
		<title>ভাষা নিয়ে যত কথা</title>
		<link>http://www.kishorkanthabd.com/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b7%e0%a6%be-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a7%87-%e0%a6%af%e0%a6%a4-%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be/</link>
		<comments>http://www.kishorkanthabd.com/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b7%e0%a6%be-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a7%87-%e0%a6%af%e0%a6%a4-%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be/#comments</comments>
		<pubDate>Mon, 01 Feb 2010 15:08:47 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[প্রচ্ছদ রচনা]]></category>
		<category><![CDATA[আরবী]]></category>
		<category><![CDATA[ইংরেজি]]></category>
		<category><![CDATA[গ্রীক]]></category>
		<category><![CDATA[চীনা]]></category>
		<category><![CDATA[ফাল্গুন]]></category>
		<category><![CDATA[ফেব্রুয়ারি]]></category>
		<category><![CDATA[ফ্রেঞ্চ]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলা]]></category>
		<category><![CDATA[ভাষা]]></category>
		<category><![CDATA[ভাষা আন্দোলন]]></category>
		<category><![CDATA[ভাষা শহীদ]]></category>
		<category><![CDATA[ম্যান্দারিন]]></category>
		<category><![CDATA[স্প্যানিশ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.kishorkanthabd.com/?p=228</guid>
		<description><![CDATA[আবু জাফর মুহাম্মদ ওবায়েদুল্লাহ
ফেব্রুয়ারি এলেই আমাদের মনে পড়ে
ভাষা আন্দোলনের কথা।

ফাগুন এলেই পলাশের ডালে, কৃষ্ণচূড়ার শাখায় ফোটে লাল-লাল ফুল। আর আমরা যারা বাংলা ভাষায় কথা বলি আমাদের চোখে ভাসে- রক্তাক্ত রাজপথ, শহীদ সালাম, বরকত আর জব্বারের নাম। মনের অজান্তে আমরা গেয়ে উঠি “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কী ভুলিতে পারি?”
ভাষা আন্দোলন নিয়ে অনেক লেখালেখি [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>আবু জাফর মুহাম্মদ ওবায়েদুল্লাহ</p>
<p style="text-align: center;"><strong>ফেব্রুয়ারি এলেই আমাদের মনে পড়ে<br />
ভাষা আন্দোলনের কথা।</strong></p>
<p style="text-align: justify;">
<div id="attachment_229" class="wp-caption alignright" style="width: 293px"><a href="http://www.kishorkanthabd.com/wp-content/uploads/2010/01/cover.jpg"><img class="size-full wp-image-229" title="cover" src="http://www.kishorkanthabd.com/wp-content/uploads/2010/01/cover.jpg" alt="" width="283" height="196" /></a><p class="wp-caption-text">শহীদ মিনার</p></div>
<p>ফাগুন এলেই পলাশের ডালে, কৃষ্ণচূড়ার শাখায় ফোটে লাল-লাল ফুল। আর আমরা যারা বাংলা ভাষায় কথা বলি আমাদের চোখে ভাসে- রক্তাক্ত রাজপথ, শহীদ সালাম, বরকত আর জব্বারের নাম। মনের অজান্তে আমরা গেয়ে উঠি “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কী ভুলিতে পারি?”</p>
<p style="text-align: justify;">ভাষা আন্দোলন নিয়ে অনেক লেখালেখি হয়েছে, আরো হবে- যতদিন থাকবে এই বাংলা।<br />
আজ আমরা তোমাদের জন্য লিখছি অন্য বিষয়।<span id="more-228"></span></p>
<p style="text-align: justify;">তার আগে বলে নিচ্ছি আমাদের প্রিয় ভাষা বাংলা কিন্তু পৃথিবীর একটি অন্যতম সুন্দর ভাষা। বর্তমানে বিশ্বের দেশে দেশে ২৫ কোটির বেশি মানুষ বাংলায় কথা বলে। সবচেয়ে আনন্দের কথা বাংলা, আফ্রিকার একটি দেশ সিয়েরালিওয়নের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা। একদিন যে ভাষার অধিকার পাওয়ার জন্য জীবন দিতে হয়েছিল অনেক তাজা প্রাণের- আজ সে ভাষা আন্দোলনের স্মরণে ‘ভাষা দিবস’ ২১ ফেব্র“য়ারি বিশ্বের ১৮৮টি দেশে সগৌরবে উদ্যাপিত হচ্ছে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখছেন বাংলায়।</p>
<p style="text-align: justify;">শিমুল-পলাশ আর হিজল-তমালের দেশ বাংলাদেশে ফেব্র“য়ারি এলেই পাখির কলকাকলির মতো সবখানে ভাষা দিবসের স্মরণে কলরোল মুখর হয় শহর-নগর গ্রাম ও গঞ্জ। এ আমার, তোমার, আমাদের সকলের এক দীপ্ত অহঙ্কার।</p>
<p style="text-align: justify;"><strong>লক্ষ বছর আগে</strong><br />
ছোট্ট পিপীলিকা, ক্ষুদ্র মৌমাছি, বিশাল তিমি, দুষ্ট বানরসহ পৃথিবীর তাবৎ প্রাণীই একে অন্যের সাথে নানা ইশারায় যোগাযোগ রক্ষা করে। আর মানুষ একমাত্র প্রাণী যে ভাষায় বাক্সময় হয়। কথা বলে মনের ভাব প্রকাশ করে। কেবল ইশারা-ইঙ্গিতে তার যোগাযোগ শেষ হয় না। মজার কথা হলো- অন্য প্রাণীর চেয়ে আমাদের কথা বলার শারীরিক ধরনও ভিন্ন। আপনা-আপনি বাগ-যন্ত্রের মধ্য থেকে কথা বেরিয়ে আসে না। কথাগুলোকে সাজিয়ে-গুছিয়ে সুবিন্যস্ত ও সাজুস্যপূর্ণ করে বের করতে হয়। মানব-মস্তিষ্কের এই ভাগটি একটি অসাধারণ অংশ।</p>
<p style="text-align: justify;">কখন কিভাবে কথা বা ভাষার এই বিশেষ প্রতিভা মানুষ অর্জন করলো তার ইতিহাস খুঁজে পাওয়া অসম্ভব। তবে ধরে নেয়া যায়- ভাষা নানা বিবর্তনের মধ্য দিয়ে আজকের অবস্থায় এসেছে। সম্ভবত লক্ষ-লক্ষ বছর আগ থেকে আমাদের পূর্বপুরুষরা বলতে শিখেছে। তবে তাদের ভাষা ছিলো ধীর, শব্দ ভাণ্ডার ছিল সীমিত আর ব্যাকরণ ছিলো অনেক সহজ। ভাষা মহান আল্লাহর এক বিরাট নিয়ামত।</p>
<p style="text-align: justify;">আল্লাহ বলছেন- “পরম দয়াবান আল্লাহ। তিনি শিখালেন আল কুরআন। তিনি মানুষ সৃষ্টি করলেন। আর তাকে শিখালেন বর্ণনা করতে।”</p>
<p style="text-align: justify;"><em>সুতরাং, যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন তিনিই আমাদেরকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন নানা ভাষাভাষী করে।</em></p>
<p style="text-align: justify;"><strong>ভাষার গোড়ার কথা</strong><br />
সম্ভবত ভাষার গোড়ার কথাটি চিরকালই রহস্যাবৃত হয়ে থাকবে। ভিন্ন ভিন্ন ভাষার উৎপত্তি নিয়ে মানুষের মাতামাতি বেশি দিনের নয়। মাত্র দুই শ’ বছর ধরে এ নিয়ে চলছে নানা চিন্তাভাবনা ও গবেষণা। বর্তমান পৃথিবীতে প্রায় পাঁচ হাজার ভাষায় মানুষ কথা বলে। আর তার এক-তৃতীয়াংশই হলো আফ্রিকায়। পণ্ডিতগণ এসব ভাষাকে ২০টিরও কম ‘ভাষা পরিবারে’ বিভক্ত করেছেন। ভাষাগুলো কিন্তু শব্দ, উচ্চারণ ও ব্যাকরণগত নির্মাণের দিক থেকে একে অন্যের সাথে সম্পর্কিত।</p>
<p style="text-align: center;"><strong>খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০০ বছর আগে</strong></p>
<p><a href="http://www.kishorkanthabd.com/wp-content/uploads/2010/01/cover2.jpg"><img class="size-full wp-image-230  alignleft" style="margin-left: 8px; margin-right: 8px;" title="cover2" src="http://www.kishorkanthabd.com/wp-content/uploads/2010/01/cover2.jpg" alt="" width="171" height="158" /></a> <a href="http://www.kishorkanthabd.com/wp-content/uploads/2010/01/cover3.jpg"><img class="size-full wp-image-231   alignright" style="margin-left: 8px; margin-right: 8px;" title="cover3" src="http://www.kishorkanthabd.com/wp-content/uploads/2010/01/cover3.jpg" alt="" width="150" height="151" /></a></p>
<p style="text-align: justify;"><strong>ভাষার পরিবারসমূহ</strong><br />
ভাষার সবচেয়ে বড় পরিবার হচ্ছে- ‘ইন্দো-ইউরোপীয়’ পরিবার। পৃথিবীর অর্ধেকের চেয়েও বেশি মানুষ এ পরিবারভুক্ত ভাষায় কথা বলে থাকেন। এই দলে রয়েছে বাংলা, হিন্দি, ফারসি থেকে নরওয়েজিয়ান এবং ইংরেজি। বলা হয়ে থাকে এসব ভাষা এসেছে পূর্ব ইউরোপ এবং পশ্চিম এশীয় অঞ্চলের সমভূমিতে ঘুরে বেড়ানো যাযাবর উপজাতির কাছ থেকে। আধুনিককালের ইউক্রেন হচ্ছে সে এলাকা। এ অঞ্চলকে এক সময় ‘গোবি’ও বলা হতো। এটি খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০০ সালের কথা।</p>
<p style="text-align: justify;">খ্রিষ্টপূর্ব ২০০০ সাল থেকে ইন্দো-ইউরোপীয় পরিবারের ভাষাভাষী লোকেরা যখন ইউরোপ ছাড়িয়ে আটলান্টিকের উপকূল এবং ভূমধ্যসাগরের উত্তর কূলে উপনীত হলো- তখনই এর ব্যাপক ব্যাপ্তি হলো। পারস্য ও ভারত জয়ের মধ্য দিয়ে তারা ছড়িয়ে গেলো এশিয়ার দূর এলাকাসমূহে।</p>
<p style="text-align: justify;">এ ধরনের আরেকটি ভাষা-পরিবার হচ্ছে ‘সেমেটিক’ ভাষা পরিবার। এশিয়ার পশ্চিম অঞ্চলের লোকেরা এসব ভাষায় কথা বলে। বিশ্বাস করা হয়, এসব ভাষার উৎপত্তি হয় আরবের দক্ষিণাঞ্চলে ঘুরে বেড়ানো একটি উপজাতির ভাষা থেকে।</p>
<p style="text-align: justify;">খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০০ সাল থেকে সেমেটিক ভাষা দক্ষিণ আরবের বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে সিরিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় বিকাশে সেমেটিক জনগোষ্ঠীর বিরাট অবদান ছিলো। মধ্যপ্রাচ্যে একসময় আরামিয়া নামক সেমেটিক ভাষা ‘লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কা’ বা জাতিসমূহের সাধারণ ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।</p>
<p style="text-align: justify;"><strong>ভাষার বড়াই</strong></p>
<p style="text-align: justify;">এক সময় পৃথিবীতে ভাষা নিয়ে বড়-ছোটর লড়াই ছিলো। যেমন ইন্দো-ইউরোপীয় পরিবারভুক্ত কয়েকটি ভাষা মিলে ছিলো ছোট্ট ইন্দো-ইরানি ভাষাগুচ্ছ। এটাকে আর্য ভাষাও বলা হয়। ঊনিশ শতকে এটিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে আর্যভাষী, জাতি বা বর্ণ। এদেরই পথ ধরে নাজিরা দাবি করে নিজেদেরকে ‘ব্লন্ড-প্রভু জাতি’ বলে।</p>
<p style="text-align: justify;">একই অবস্থা ছিলো দু’টি প্রধান সেমেটিক দল যারা মানব ইতিহাসে বড় বড় ভূমিকা রেখেছে- ইহুদি ও আরব জাতির।<br />
ইংরেজি-ফ্রান্স কে বড়? নাকি জার্মান ভাষা বড়?</p>
<p style="text-align: justify;">এ নিয়ে তুমুল বিতর্ক ছিলো এক সময়। এখন কিন্তু এসব লড়াইয়ের বিষয় নয়। তবে শক্তিশালী মিডিয়া যাদের তাদের ভাষাই- এখন শক্তিশালী। ওদের ভাষা শিখতে প্রতিযোগিতা করে অন্যরা। আমাদের দেশে যেমন প্রতিযোগিতা হচ্ছে- ইংরেজি, আরবি, ফ্রেঞ্চ, জাপানি, কোরিয়ান আর জার্মান ভাষা শেখার। হিন্দি তো শেখা লাগে না। সব সময় শুনতে শুনতে শেখা হয়ে যায়।<br />
পুরনো ভাষা থেকে নতুন ভাষা</p>
<p style="text-align: justify;">বিবর্তনের ধারায় পথ চলতে চলতে ব্যবহারিক ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি পরিচিত ইংরেজি ভাষারও কয়েকটি রূপ দেখা যায়। মনে কর, নিউগিনির লোকেরা যে ইংরেজি ব্যবহার করে তা একজন বাইরের লোকের কাছে হাস্যকর মনে হবে। ওখানকার লোকেরা ব্যবসা বাণিজ্য চালানোর জন্য ভাষার সহজতম উপাদানগুলো নিয়ে একটা সাধারণের ভাষা তৈরি করে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের লোকেরা নিজেদের সুবিধার জন্য ইংরেজিতে যোগ করে নিয়েছে কতগুলো স্থানীয় শব্দ, বাগধারা ও বাক্য-রীতি, এর ফলে সেটি হয়ে উঠেছে উপভোগ্য ও বর্ণিল। এভাবে ভাষা বদলাতে থাকে।</p>
<p style="text-align: justify;"><strong>ইংরেজি</strong> : বর্তমান জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে যেসব জার্মানরা ইংল্যান্ডে দখলদার হিসেবে আসে তাদের মাধ্যমে গড়ে ওঠে ইংরেজি ভাষা। পুরনো ইংরেজি ছিল ইংল্যান্ডের বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষার সংমিশ্রণ। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশসমূহের মানুষের সাথে সহাবস্থান করতে করতে এই ভাষার ব্যাকরণ ও শব্দাবলি সহজতর রূপ লাভ করে। জার্মানি অষ্টম ও নবম শতাব্দীতে আর নরওয়ে ১১ শতাব্দীতে ইংল্যান্ড অধিকার করে। ফলে ইংরেজি ভাষায় আমরা প্রচুর রোমান, ল্যাটিন, জার্মান ও গ্রিক শব্দ পাই। বিশেষ করে পুরনো দিনের ইংরেজিতে। মধ্যযুগের ইংরেজিতে দেখা যায় নরওয়েজিয়ান ভাষার প্রভাব। আধুনিক ইংরেজির সূচনা হয় ১৫ শতাব্দীতে। ষোড়শ শতাব্দীতে উইলিয়াম শেকসপিয়রের রচনার মধ্য দিয়ে আধুনিক ইংরেজি একটি স্বীকৃত পর্যায়ে আসে এবং এ সময়ে ১৬০৪ সালে প্রথম ইংরেজি অভিধান প্রকাশিত হয় যার নাম ছিলো- ‘উরপঃড়হধৎু ড়ভ ঊহমষরংয খধহমঁধমব’. প্রথম দিকের আধুনিক ও শেষের আধুনিক ইংরেজি ভাষার মূল পার্থক্য শব্দভাণ্ডার। শিল্প বিপ্লবের ফলে যুক্ত হয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ব্যবসা-বাণিজ্য সংক্রান্ত শব্দসমূহ আর বিশাল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যবহারোপযোগী সাধারণ শব্দসমূহ তৈরি হতে থাকে।<br />
<strong>ফ্রেঞ্চ</strong> : ‘ফ্রেঞ্চ’ ভাষাটি ইন্দো-ইউরোপীয় পরিবারের একটি ভাষা ল্যাটিন ভাষা থেকে উদ্ভূত। রোমান ফ্যাশনে বলা হয় বলে- এ গ্রুপের অন্য ভাষার মতো এটিকেও বলা হয় রোমাঞ্চ ভাষা। ফ্রেঞ্চ- ভাষা হিসেবে ফ্রান্স, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড, কানাডা, আফ্রিকা, ইতালি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ৯ কোটি ৮০ লাখ মানুষ এ ভাষায় কথা বলে। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। রোমাঞ্চ ভাষা পরিবারের অন্য ভাষাসমূহ- ইতালিয়ান যা ইতালি, সুইজারল্যান্ড ও আফ্রিকার অংশবিশেষে ৬ কোটি ৫০ লাখ মানুষের ভাষা। অপরদিকে ১৩ কোটি ৭০ লাখ মানুষ পর্তুগাল, ব্রাজিল, এশিয়া ও আফ্রিকার বিশেষ অংশে পর্তুগিজ ভাষায় কথা বলেন। স্পেন, ল্যাটিন আমেরিকা, ক্যারিবীয় দেশের বিভিন্ন অংশে ২৩ কোটি ১০ লাখ মানুষ স্প্যানিশ ভাষা ব্যবহার করে। রোমানিয়া ও বলকান অঞ্চলের ২ কোটি ৫০ লাখ লোক কথা বলেন রোমান ভাষায়।</p>
<p style="text-align: justify;">যা হোক, এসব ভাষার ব্যবহার চলতে চলতে, আঞ্চলিক ভাষাসমূহের মাঝে প্যারিসের ভাষা জাতীয় ভাষায় পরিণত হয়। এর অন্যতম কারণ, প্যারিস রাজধানী এবং তার রাজনৈতিক প্রভাব ছিল বিরাট। এই হলো আজকের দিনের ‘ফ্রেঞ্চ ভাষা’।</p>
<p style="text-align: justify;"><strong><a href="http://www.kishorkanthabd.com/wp-content/uploads/2010/01/cover4.jpg"><img class="alignleft size-full wp-image-232" style="margin-left: 8px; margin-right: 8px;" title="cover4" src="http://www.kishorkanthabd.com/wp-content/uploads/2010/01/cover4.jpg" alt="" width="130" height="200" /></a>স্প্যানিশ</strong> : আধুনিক স্প্যানিশ বা স্পেনীয় ভাষার গোড়াপত্তন হয় রানি ইসাবেলা ও ফার্ডিনান্ড কর্তৃক মুসলিম শাসিত স্পেন পুনর্দখলের মধ্য দিয়ে। বিশ্বের ৩৩ কোটি ২০ লাখ মানুষ এ ভাষায় কথা বলেন। আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া, চিলি, কলাম্বিয়া, কোস্টারিকা, কিউবা, জেমিনিকান প্রজাতন্ত্র, ইকুয়েডর, এল সালভেদর, গিনি, গুয়েতেমালা, হন্ডুরাস, মেক্সিকো, নিকারাগুয়া, পানামা, প্যারাগুয়ে ও ভেনিজুয়েলার রাষ্ট্রভাষা। এ ছাড়াও কানাডা, মরক্কো, ফিলিপিন ও যুক্তরাষ্ট্রে এর চর্চা হয়।</p>
<p style="text-align: justify;">খ্রিষ্টপূর্ব ১৯ সালে রোমান শাসনের অধীন থাকতে এ অঞ্চলকে বলা হতো হিসপানিয়া। খ্রিষ্টানগণ স্পেন পুনর্দখল করার পর ভাষা, রাজনীতি, সংস্কৃতি ও সামরিক দিক থেকে আমূল পরিবর্তন আনেন। এভাবেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে স্পেনীয় ভাষা। এরা ল্যাটিন, গ্রিক ও আরবি ভাষা হতে অসংখ্য পুস্তক অনুবাদ করেন। ১৪০০ শতকের বিজয়ী স্পেনীয়গণ জয় করতে থাকেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। তাদের উপনিবেশ বি¯তৃত হতে থাকে। এভাবে স্প্যানিশ ভাষা ছড়িয়ে পড়ে মধ্য-আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা এবং উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন স্থানে। ১৮০০ শতকে স্পেন আমেরিকান উপনিবেশ হারালেও এখনও পর্যন্ত স্প্যানিশ ভাষা ল্যাটিন আমেরিকার প্রায় সব জাতির রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।</p>
<p style="text-align: justify;">ফিলিপাইন এক সময় স্পেনের অধীনস্থ রাজ্য ছিল। রাজন্যবর্গের আদালত ও প্রশাসনের ভাষা হিসেবে স্প্যানিশ ব্যবহৃত হতো। স্পেন-আমেরিকার যুদ্ধের পর ফিলিপাইন আমেরিকার হাতে চলে যায়। দীর্ঘদিন ইংরেজি ও তাগালোগ ভাষার পাশাপাশি স্প্যানিশ ব্যবহৃত হতো।</p>
<p style="text-align: justify;"><strong>আরবি</strong> : আধুনিক আরবি সেমেটিক ভাষা পরিবারের সদস্য। সেমেটিক ভাষাগুলো হাজার হাজার বছর ধরে চলে আসছে। মানব ইতিহাসের অন্যতম পুরনো সংগ্রহশালা এ ভাষায়। আরবি সেমেটিক ভাষা পরিবারভুক্ত, প্রোটো সেমেটিক ভাষা যার অতীত মুখের ভাষা হিসেবে লিখিত নয়। আরবি আফ্রো-এশীয় ভাষা উপ গ্রূপের সদস্য। আরবি ছাড়াও সেমেটিক ভাষা পরিবারের সদস্য হিব্রূ, আরামিক, আমহারিক, টিগরিনিয়া, টিগর, গুরেজ, গিজ, সিরিকা, আক্কাদিয়ান, পুনিক, নাবাটিয়ান, অ্যামেরাইট, মোয়াবাইট। এসব ভাষার অনেকই এখন ‘মৃত ভাষা’ কিংবা অপ্রচলিত অথবা কেবল ধর্মীয় ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত। কিন্তু আরবি দিন দিন বিকশিত হয়েছে এবং হচ্ছে। এর প্রধান কারণ ইসলামের উত্থান। বিশেষ করে ইসলামের পবিত্র গ্রন্থ আল কুরআন।</p>
<p style="text-align: justify;">আরবি ভাষার তিনটি বিশেষ রূপ রয়েছে। কুরআনের আরবি, আধুনিক প্রমিত আরবি এবং কথ্য বা আঞ্চলিক আরবি, ক্লাসিক্যাল আরবি মূলত কুরআনে ব্যবহৃত আরবি। কুরআন-হাদিস বুঝতে হলে এই ক্লাসিক্যাল আরবি বুঝতে হয়। অপরদিকে, রেডিও, টিভি, চলচ্চিত্র, নাটক, কবিতা ও কথোপকথনে ব্যবহৃত হয় আধুনিক প্রমিত আরবি। সমগ্র আরব ভাষা-ভাষী এলাকায় ব্যবহৃত আধুনিক-প্রমিত আরবি একই রকম। বিশ্বের দেশে দেশে প্রায় সবখানেই ব্যবহৃত ভাষা আরবি। যেহেতু একসময় জানা পৃথিবীর অধিকটাই ছিল মুসলিম শাসনের অধীন, সেহেতু সেসব দেশের প্রশাসনের ও আদালতের ভাষা ছিল আরবি।</p>
<p style="text-align: justify;"><strong>গ্রিক ভাষা</strong> : জানা মতে খ্রিষ্টপূর্ব ১৩০০ বছর আগে গ্রিক ভাষার প্রচলন হয়। সেটি ছিল মায়া সভ্যতার যুগ। খ্রিষ্টপূর্ব ১২০০ সালে মায়া সভ্যতার ধ্বংস হলে গ্রিক ভাষায় লেখালেখি লুপ্ত হয়। খ্রিষ্টপূর্ব আট শতাব্দীর শেষ দিকে এর বর্ণমালাকেন্দ্রিক ভাষা লিখিত হয়। ক্লাসিক্যাল বা হোলনীয় যুগে গ্রিক ভাষায় অনেক আঞ্চলিক ভাষা থাকলেও সবচেয়ে প্রভাবশালী ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে অ্যাথেন্সে ব্যবহৃত কথ্য ভাষা যাকে বলা হতো- অ্যাল্টিক। এর আরেকটি আঞ্চলিক ভাষার নাম- আয়োনিক। বক্তৃতা, দর্শনকেন্দ্রিক কবিতার ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হতো অ্যাট্টিক আয়োনিক ভাষা। আলেকজান্ডার দিগি¦জয়ী বীর হিসেবে যেসব দেশে গেছেন সেসব দেশেই বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ও নিকট প্রাচ্যের দেশসমূহে।</p>
<p style="text-align: justify;">সাধারণ গ্রিক ভাষা বিজয়ী বীর আলেকজান্ডারের সময়ে গড়ে ওঠে। অ্যাট্টিক-আয়োনিক ভাষাদ্বয়ের সম্মিলনে গড়ে ওঠে হেলেনীয় গ্রিক ভাষা। এটি গ্রিক ভাষায় ব্যাপক শব্দ ভাণ্ডারগত, উচ্চারণগত ও ব্যাকরণের পার্থক্য সূচনা করে। এভাবেই জন্ম নেয় আধুনিক গ্রিক ভাষা।</p>
<p style="text-align: justify;">আজকের আধুনিক প্রমিত গ্রিক ভাষা গড়ে ওঠে ১৮৩০ সালে গ্রিসের স্বাধীনতা লাভের মধ্য দিয়ে। অ্যাথেন্স ও পেলেপোন্সেবাসীগণ এই ভাষার প্রধান ব্যবহারকারী। পরিবর্তনবিমুখ অ্যাট্টিক, আয়োনিক এবং হেলেনীয়গণের বাধার পরও কিন্তু এগিয়ে চলছে আধুনিক গ্রিক ভাষার অগ্রযাত্রা।</p>
<p style="text-align: justify;"><strong>জার্মান</strong> : জার্মানি ও অস্ট্রিয়ায় জার্মান ভাষা ব্যবহার হতে দেখা যায়। ঐতিহাসিকভাবে জার্মান ভাষার তিন কাল, প্রাচীন জার্মান (৭৫০-১০৫০ খ্রিষ্টাব্দ), মধ্যযুগের জার্মান (১০৫০-১৫০০ খ্রিষ্টাব্দ) এবং আধুনিক জার্মান (১৫০০- বর্তমান সময়)। ১৮ শতাব্দীর জার্মান পণ্ডিত ও লেখকগণ এ ভাষাটিকে আজকের আধুনিক ও প্রমিত রূপ দিয়েছেন। এখন এ ভাষায় নতুন বানানরীতি প্রবর্তিত হয়। সরকারি এ উদ্যোগ কার্যকর করতে ২ বছর সময় লেগেছে। বর্তমানে গতানুগতিক ও সংস্কারকৃত দুই জার্মান ভাষাই ব্যবহৃত হয়।</p>
<p style="text-align: justify;"><strong>চীনা ভাষা</strong> : চীনা ভাষায় দক্ষ হতে হলে প্রায় ৭০ হাজার চিহ্ন ও শব্দের সাথে পরিচিত হতে হয়। মাধ্যমিক স্কুলেই ছাত্রছাত্রীদের শেখানো হয় ৫ হাজার চিহ্ন। ১০০ কোটিরও বেশি মানুষ চীনা ভাষায় কথা বলে। প্রধানত চীন ও তাইওয়ানে এ ভাষা প্রচলিত। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা এবং হাওয়াইয়ান দীপপুঞ্জে বহু লোক চীন থেকে এসে অভিবাসী হয়। ফলে তারা চীনা ভাষায়ও কথা বলে।</p>
<p style="text-align: justify;">ভাষাভাষী লোকদের বিচারে চীনা ভাষায় সর্বাধিক মানুষ কথা বলে। এরপরই স্থান ইংরেজির, স্প্যানিশরা তৃতীয়। এশিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী ভাষা হিসেবে পার্শ্ববর্তী দেশসমূহের ভাষার ওপর চীনা ভাষার প্রভাব রয়েছে। যেমন জাপানি, কোরিয়ান ও ভিয়েতনামি ভাষায় চীনা লিপি ব্যবহৃত হয়। আঠার শতক পর্যন্ত পৃথিবীর অর্ধেকের বেশি ছাপানো বই ছিল চীনা ভাষায়।</p>
<p style="text-align: justify;"><span style="text-decoration: underline;">ভাষা নিয়ে অনেক কথা হলো।</span><br />
সব কথার শেষ কথা হলো- ও আমার বাংলা ভাষা খোদার সেরা দান! পৃথিবীতে বাংলাভাষী মানুষের সংখ্যা বিচারে আমাদের স্থান অষ্টম। চলো আমরা এ ভাষাটিকে ভালো করে শিখি। এ ভাষাতেই হাসতে-কাঁদতে এবং বাঁচতে শিখি।</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.kishorkanthabd.com/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b7%e0%a6%be-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a7%87-%e0%a6%af%e0%a6%a4-%e0%a6%95%e0%a6%a5%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>জায়ান্ট হান্টার</title>
		<link>http://www.kishorkanthabd.com/%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%9f-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0/</link>
		<comments>http://www.kishorkanthabd.com/%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%9f-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0/#comments</comments>
		<pubDate>Mon, 01 Feb 2010 14:20:31 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[সায়েন্স ফিকশন]]></category>
		<category><![CDATA[জায়ান্ট হান্টার]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.kishorkanthabd.com/?p=247</guid>
		<description><![CDATA[মহিউদ্দিন আকবর

শাটাপ্। আর একটা কথাও বলবেন না। একটা সপ্তাহ যাবৎ কম্বিং অপারেশন চালিয়েও আপনারা বুনো ভাল্লুকটাকে ধরতে অথবা মারতেও পারলেন না। অথচ জানোয়ারটা আমাদের গ্যাসফিল্ডে একের পর এক হত্যা আর ইউনিটের পর ইউনিট পাইপ লাইনের ট্রান্সফরমার ধ্বংস করে চলেছে। ফরেস্ট রেঞ্জার কমান্ডের এই ব্যর্থতাকে আমি কিছুতেই সহ্য করবো না। প্রয়োজনে সেনাবাহিনী তলব করবো। তখন আমি [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: justify;"><span style="text-decoration: underline;">মহিউদ্দিন আকবর</span></p>
<p style="text-align: justify;">
<div id="attachment_248" class="wp-caption alignright" style="width: 310px"><a href="http://www.kishorkanthabd.com/wp-content/uploads/2010/01/hunter.jpg"><img class="size-full wp-image-248" title="hunter" src="http://www.kishorkanthabd.com/wp-content/uploads/2010/01/hunter.jpg" alt="" width="300" height="207" /></a><p class="wp-caption-text">জায়ান্ট হান্টার</p></div>
<p style="text-align: justify;">শাটাপ্। আর একটা কথাও বলবেন না। একটা সপ্তাহ যাবৎ কম্বিং অপারেশন চালিয়েও আপনারা বুনো ভাল্লুকটাকে ধরতে অথবা মারতেও পারলেন না। অথচ জানোয়ারটা আমাদের গ্যাসফিল্ডে একের পর এক হত্যা <span id="more-247"></span>আর ইউনিটের পর ইউনিট পাইপ লাইনের ট্রান্সফরমার ধ্বংস করে চলেছে। ফরেস্ট রেঞ্জার কমান্ডের এই ব্যর্থতাকে আমি কিছুতেই সহ্য করবো না। প্রয়োজনে সেনাবাহিনী তলব করবো। তখন আমি আপনাদের কারোরই চাকরি বাঁচাতে পারবো না। সুতরাং বুঝতেই পারছেন। আর মাত্র তিন দিন অর্থাৎ বাহাত্তর ঘণ্টার মধ্যে জানোয়ারটাকে জীবন্ত অথবা মৃত যে অবস্থাতেই হোক হাজির করা চাই। রাগ রাগ ভাবটা পুরোপুরি বজায় রেখে স্বদেশ গ্যাস ট্রান্সমিশন বিডি করপোরেশনের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল সাইদ খান টানা তিন মিনিট বক বক করে একটু দম নিলেন। অমনি ফরেস্ট অফিসার আজম রায়হান বেশ জোর দিয়েই বললেন স্যার! জানোয়ারটা স্রেফ বুনো ভাল্লুক নয়। যদি তাই হবে তাহলে এতো দ্রুতগামী এবং বিশাল আকৃতির হতে পারে না। যারা দেখেছে, তাদের ধারণা এটা বিশেষ প্রজাতির কোন দানব আকৃতির প্রাণী। এ পর্যন্ত আমরা ক্লোজসার্কিট ক্যামেরায় জন্তুটার যতগুলো ছবি ধরতে পেরেছি, তাতে জন্তুটির আকৃতি বড় আকারের কালো ভাল্লুক বলে মনে হলেও তার মুভমেন্টের গতি-প্রকৃতির পার্থক্যটা নজরে পড়ার মতো। তাই আমাদের মনে হচ্ছে&#8230;, স্যার! আমাদের কমান্ডার, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং প্রাণিবিশারদ ড. নওশাদ করিমসহ সবাইকে নিয়ে আমরা সিসিক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজগুলো বারবার পরীক্ষা করে বুঝতে পারছি এটা একটা জায়ান্ট হতে পারে&#8230;।</p>
<p style="text-align: justify;">আজম রহমানের কথা শেষ না হতেই কর্নেল সাইদ খান হিটপ্র“ফ নন-ফ্লাক্সিবল ফাইবার-গ্লাসের ইনটেরিয়র ডেকোরেশনের ওয়াল-ফাটানো অট্টো হাসিতে ফেটে পড়ে বললেন থামুন! থামুন! এ কথা মিনিস্টারের কানে পৌঁছলে আপনাদের চাকরি তো যাবেই, আমাকেও রীতিমতো ওএসডি করে ছাড়বেন। তারচেয়ে এক কাজ করুন, সবার মাথায় ভালো করে ঠাণ্ডা পানি ঢেলে আসুন। আমি সবার জন্য কোল্ডড্রিংকস আনাচ্ছি।</p>
<p style="text-align: justify;">কর্নেল সাইদের বক্তব্যে উপস্থিত কর্মকর্তারা অপমান বোধ করলেও কেউ প্রতিবাদ জানাতে সাহসী হলেন না। তবে ড. নওশাদ করিম ছয়টি স্টিল ক্লোজআপের ব্রোমাইড পেশ করলেন কর্নেলের সামনে। কিন্তু একরোখা দিলেন এসব ছবি, গাঁজাখুরি গালগল্প আর জল্পনা-কল্পনা ছাড়ুন। এ যুগে জায়ান্ট আসবে কোত্থেকে? দুনিয়ার সব পাহাড়ি দুর্গম অঞ্চল, সাহারা মরুভূমি কিংবা পুরো আফ্রিকার জঙ্গল চষে একটা দানব আকৃতির প্রাণী খুঁজে পাবেন? অ্যাঁ! আমাকে এসেছেন সেই প্রাগৈতিহাসিক যুগের জায়ান্টের ভয় দেখাতে? আরে, জায়েন্ট কি আজকের যুগের প্রাণী? আপনারা আগে রিপোর্ট করেছেন, প্রাণীটি গভীর রাতে মেঘালয় পাহাড় থেকে নেমে অরণ্য পেরিয়ে গ্যাসফিল্ডে চলে আসে। আবার রেঞ্জারদের তাড়া খেয়ে একই পথে ফিরে যায়। তাহলে জানোয়ারটাকে বধ করতে পারছেন না কেন? ওর গতিপথ তো আপনাদের জানা।</p>
<p style="text-align: justify;">কর্নেলের কথাকে এবার বিনা চ্যালেঞ্জে ছাড়তে দিতে চান না ড. করিম। তিনি কর্নেলের সামনে থেকে ছবিগুলো সরিয়ে নিতে নিতে বললেন স্যার! আমরা কিন্তু আপনাকে জানোয়ারটির অস্বাভাবিক গতির কথাও বলেছি। একমাত্র জায়ান্ট বা জায়ান্টের প্রজাতি ছাড়া এতটা দ্রুতগতিসম্পন্ন কোন ভাল্লুক হতে পারে না। তা ছাড়া প্রাণীটি ভাল্লুকের চেয়ে বেশ বড়। গায়ের রঙ ভীষণ কালো। পেছনের পা থেকে সামনের পা দু’টি বড়। বেশ গোট্টাগাট্টা পেটানো শরীর বলেই ফুটেজে দেখা যায়। ওর চলাচল পথে সেনসিটিভ ওয়েট স্কেল ফেলে দেখেছি প্রাণীটির ওজন প্রায় এক টন। ভয়ঙ্কর চাহনি। নখগুলো প্রায় পাঁচ ইঞ্চি লম্বা। দাঁতের মাপও চার ইঞ্চি। এখানেই প্রাণীটির সাথে ভাল্লুকের বেশ পার্থক্য লক্ষণীয়।</p>
<p style="text-align: justify;">ড. নওশাদ করিমের কথায় কর্নেল আবার অট্টহাসিতে পুরোটা কক্ষ সরগরম করে বললেন আরে সাহেব, থামুন! থামুন! আপনি তো আমাকে সেই পঞ্চাশ হাজার বছর পেছনে নিয়ে যাচ্ছেন। তখন তো মানুষই দুনিয়ায় আসেনি। আর আপনি এসেছেন বর্তমান জামানায় জায়ান্টের গুলগল্প শোনাতে! এটাতো অসম্ভব ব্যাপার। তবে রেঞ্জারদের বলুন না কেন ফাঁদ পেতে জানোয়ারটাকে ধরে ফেলতে। আর না হয় তো গুলি করে মারতে বলুন। আমরা সাধারণ মানুষের জীবন এবং গ্যাসফিল্ডের ওপর আর কোন ধ্বংসলীলা দেখতে চাই না।</p>
<p style="text-align: justify;">কর্নেলের এই ভাষ্যের পর ড. নওশাদ করিম আর কোন কথা না বাড়িয়ে চুপ হয়ে গেলেন। ফরেস্ট অফিসার, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, রেঞ্জার কমান্ডারসহ সবাই বেরিয়ে গেলেন কর্নেল সাইদ খানের কক্ষ থেকে। সবাই গিয়ে বসলেন ফরেস্ট অফিসারের বাংলোতে। অনেকক্ষণ আলোচনা হলো। এক পর্যায়ে ড. নওশাদ প্রস্তাব রাখলেন, আমরা জানোয়ারটাকে ঘায়েল করার জন্য বৈদ্যুতিক নেটের ফাঁদ পাতবো এবং ফাঁদে আটক অবস্থায় জন্তুটাকে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে হত্যা করবো।</p>
<p style="text-align: justify;">যেমনি পরিকল্পনা তেমনি কাজ। কিন্তু মাত্র তিন মিনিটের মধ্যেই বৈদ্যুতিক নেট কেটে ব্যাপক স্পার্কিংকে উপেক্ষা করে জালে আটকে পড়া জানোয়ারটা পালিয়ে বাঁচলো। রেঞ্জারদের শত শত গুলিও জন্তুটাকে এতটুকু কাবু করতে পারলো না।</p>
<p style="text-align: justify;">তবে রেঞ্জাররা অভিযান শেষে একটা আশ্চর্য তথ্য দিয়েছেন। রেঞ্জার কমান্ডার বলেছেন ফাঁদে আটকে ফেলার পর খুব কাছ থেকে যেসব রেঞ্জার জানোয়ারটাকে গুলি চালিয়েছে, তাদের অনেকেই জন্তুটার গায়ে গুলি লাগার পর মেটালিক ইকো শুনতে পেয়েছে, যা একেবারেই অবিশ্বাস্য! এমনকি একজন রেঞ্জার জন্তুটির মাথায় গুলি চালানোর পর আলোর স্ফুরণও হতে দেখেছেন!</p>
<p style="text-align: justify;">রেঞ্জার কমান্ডারের ভাষ্য শুনে সবাই মাথা চুলকাতে চুলকাতে ভাবলেন তাহলে জন্তুটি কি কোন ভিন গ্রহের আগন্তুক? যদি এই ধারণা সঠিক হয়, তাহলে আর এক সেকেন্ডের জন্যও মুখে তালা এঁটে বসে থাকার সুযোগ নেই। অভিযানের তাবৎ ফুটেজসহ সেনাবাহিনীকে সার্বিক পরিস্থিতি জানানো দরকার। আর তা কর্নেল সাইদ খানের মাধ্যমে জানানোই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।<br />
তাই হলো। সেনাবাহিনীর পরামর্শে হঠাৎ পাল্টে গেলো রেঞ্জারদের ডিউটি। তারা জন্তুটিকে অবাধ বিচরণের সুযোগ দিয়ে তাদের নিয়মিত ডিউটি রেঞ্জ থেকে দলে দলে ভাগ হয়ে অরণ্যের বিভিন্ন বিটে চলে গেলেন।</p>
<p style="text-align: justify;">এদিকে অদ্ভুত সেই নাম না জানা জানোয়ারটা ফাঁকা মাঠ পেয়ে রাতেই উড়িয়ে দিলো স্বদেশ গ্যাস ট্রান্সমিশনের সাত নাম্বার সাবগ্রিড। তাতে পুরো জৈয়ন্তাপুর এবং জকিগঞ্জ জোনের গ্যাস সাপ্লাই বন্ধ হয়ে গেলো। গ্যাসের অভাবে ঘরে ঘরে এবং কল-কারখানায় হাহাকার পড়ে গেলো।</p>
<p style="text-align: justify;">সেদিন রাতেই ঘটে গেলো এক প্রলয়ঙ্করী ঘটনা। রাত প্রায় ৩টার দিকে হঠাৎই ভারী আগ্নেয়াস্ত্র এবং ডিনামাইটের ভয়াবহ গর্জনে পুরো এলাকা কেঁপে উঠলো। ভয়ে সন্ত্রস্ত মানুষ যার যার বাড়িতে বিছানা ছেড়ে মাটিতে শুয়ে পড়লেন। আর মৃত্যুর প্রহর গুনে দুই কানে আঙুল চেপে কোন মতে আল্লাহকে স্মরণ করতে করতে রাত কাটিয়ে দিলেন। সবার ভাবনা ছিলো একটাই নিশ্চয়ই ভিনদেশী কোন হানাদার গোষ্ঠী বাংলাদেশের ওপর হামলে পড়েছে। আর বাংলাদেশের চির উন্নত শির সেনাবাহিনীর বীর জওয়ানরা তাদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিয়ে কঠোর প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছেন&#8230;।</p>
<p style="text-align: justify;">কিন্তু পরদিন দিনের আলোয় সরকারের নীরবতা এবং রাতের ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণটা সবারই পরিষ্কার জানা হয়ে গেলো। হাজার হাজার মানুষ গ্যাসফিল্ডের নয় নাম্বার সাবগ্রিড সংলগ্ন অরণ্যে ছুটে গিয়ে দেখতে পেলেন প্রায় লণ্ডভণ্ড অবস্থায় পড়ে আছে তাদের এতদিনকার আতঙ্ক দানবাকৃতির সেই ভাল্লুকটি।</p>
<p style="text-align: justify;">ভারী মেশিনগানের গুলি, ডিনামাইট আর মাইনের আঘাতে দানবটির নকল পশমি আবরণ ঝলসে গিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্টেনলেস স্টিলবডির অংশবিশেষ হাঁ করে আছে। লণ্ডভণ্ড দানবটিকে ঘিরে রেখেছেন সেনাবাহিনীর আর্টিলারি ডিভিশনের কমান্ডোরা। তখন আকাশে টহল দিয়ে এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর রয়েছে বিমান বাহিনীর চারটি হেলিকপ্টার-গানশিপ।</p>
<p style="text-align: justify;">সেনা কমান্ডোদের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুর রহমান হ্যান্ড মাইকে উপস্থিত জনসাধারণকে জানালেন গত দিনের গ্যাস সঙ্কটে আপনারা সরকারের নীরবতা দেখে নিশ্চয়ই অবাক হয়েছেন। সরকারের কোন সহযোগিতাও পাননি, সে জন্য সরকার দুঃখিত। তবে জনগণের নিরাপত্তা, কঠোর সতর্কতা এবং গোপনীয়তার স্বার্থেই এটা করা হয়েছে। এই সুযোগে আমরা অর্থাৎ সেনা কমান্ডোরা এই অরণ্যে সন্ধ্যা ঘনাবার সাথে সাথে স্থল-মাইন এবং ডিনামাইটের ফাঁদ পাতার কাজে নেমে পড়েছিলাম। তার ফলাফল আপনারা নিশ্চয়ই গভীর রাত থেকেই অনুমান করতে পেরেছিলেন। ফাঁদে ঢুকে পড়ার সাথে সাথেই আপনাদের গত প্রায় দেড় সপ্তাহের আতঙ্ক এই অদ্ভুত জানোয়ারকে ধ্বংস করতে আমরাও জীবন বাজি রেখে মাইন ও ডিনামাইট চার্জ করতে শুরু করি। ফলে কী হয়েছে এবার নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন।</p>
<p style="text-align: justify;">আমরা ভিনদেশী শত্রুদের পাঠানো এই জানোয়ারটাকে খতম করেছি। জন্তুটি আদতে কোন বড় জাতের দানবাকৃতির ভাল্লুক নয়। এটা আসলে একটা বায়োনিক আদলের রোবট মাত্র? শত্র“রা আমাদের দেশের গ্যাস ট্রান্সমিশন ফিল্ডকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করার জন্যই গত সপ্তাহের শুরু থেকে রিমোট নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে প্রতি রাতে এটাকে এখানে পাঠাতো। অন্ধকারে মানুষ যাতে এটাকে সত্যিকারের দানব জাতীয় প্রাণী মনে করে, সে জন্য তারা প্রাচীন প্রাণী জায়ান্টের আদলে এই রোবট জন্তুটাকে বানিয়েছে। এই রোবটটির চালিকাশক্তি ছিলো খুবই উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন রিচার্জেবল রেডিওমেটিক ব্যাটারি। আপনারা সুশৃঙ্খলভাবে লাইন ধরে সাবধানে কাছে আসুন এবং দেখুন শত্রুরা আমাদের সাথে যে রিমোট নিয়ে খেলেছে আমরা সেই রিমোট নিয়ন্ত্রকদের কেমন বোকা বানিয়ে দিয়েছি। শত্র“দেরকে আমরাও দেখিয়ে দিয়েছি যে, তোমরা যত বড় ষড়যন্ত্র করেই যন্ত্রদানব জায়ান্ট পাঠাও না কেন, আমরাও কিন্তু দুর্ধর্ষ জায়ান্ট হান্টার।</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.kishorkanthabd.com/%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%9f-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>তিতিরের ঘুড়ি</title>
		<link>http://www.kishorkanthabd.com/%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%98%e0%a7%81%e0%a7%9c%e0%a6%bf/</link>
		<comments>http://www.kishorkanthabd.com/%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%98%e0%a7%81%e0%a7%9c%e0%a6%bf/#comments</comments>
		<pubDate>Mon, 01 Feb 2010 14:18:42 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[বড় গল্প]]></category>
		<category><![CDATA[ঘুড়ি]]></category>
		<category><![CDATA[তিতির]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.kishorkanthabd.com/?p=272</guid>
		<description><![CDATA[ঝর্ণা দাস পুরকায়স্থ
বাড়ি থেকে যখন স্কুলে আসি তখন মা কি রাঁধবে, বুয়া ধুপধাপ করে কাপড় কাচবে কি না, আমার কার্টুনের সিডি পাশের বাড়ির টাবলু এসে নিয়ে যাবে কি না তা কি ভাবি? বোকাই বলে, মোটেও তা নয়। তা হলে?
রোমি বলে, আরে বাবা তা হলে কি?
তিতির বলে, তা হলো স্কুল থেকে বাড়ি যখন ফিরে যাই তখন [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><strong>ঝর্ণা দাস পুরকায়স্থ</strong></p>
<div id="attachment_273" class="wp-caption alignright" style="width: 285px"><a href="http://www.kishorkanthabd.com/wp-content/uploads/2010/01/titir1.jpg"><img class="size-full wp-image-273" title="titir1" src="http://www.kishorkanthabd.com/wp-content/uploads/2010/01/titir1.jpg" alt="" width="275" height="202" /></a><p class="wp-caption-text">তিতিরের ঘুড়ি</p></div>
<p>বাড়ি থেকে যখন স্কুলে আসি তখন মা কি রাঁধবে, বুয়া ধুপধাপ করে কাপড় কাচবে কি না, আমার কার্টুনের সিডি পাশের বাড়ির টাবলু এসে নিয়ে যাবে কি না তা কি ভাবি? বোকাই বলে, মোটেও তা নয়।<span id="more-272"></span> তা হলে?<br />
রোমি বলে, আরে বাবা তা হলে কি?<br />
তিতির বলে, তা হলো স্কুল থেকে বাড়ি যখন ফিরে যাই তখন হাবিজাবি ভাবনাগুলো মাথার মাঝে থাকবে কেন? সব ঝেড়ে ফেলে বাড়ি ঢুকব না?<br />
সনেট তাজ্জব, হাবিজাবি ভাবনা? বলছিস কি রে?<br />
অবাক হয়ে তিতিরের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে বোকাই, রোমি, সনেট ওরা। তিতিরের বলা হাবিজাবি ভাবনাটি কি তা ওরা বুঝতেই পারছে না।<br />
হোমওয়ার্ক, হোমওয়ার্কের কথা বলছি, বুঝতে পারছিস না?<br />
গালে হাত দিয়ে ক্লাসের বন্ধুরা সবাই বলে, ওহ্! তিতির খুব মন খারাপ করা সুরে বলে, স্কুলে স্যার-ম্যামদের একগাদা হোমওয়ার্ক দেবার দরকার কী বল?<br />
হ্যাঁ তাইতো।<br />
কথাগুলো তো ওরা কখনোই ভেবে দেখেনি। তিতির আসলে অনেক বোঝে, তাইতো ওর মাথায় এমন ভাবনা এসেছে।<br />
স্কুলের পড়া স্কুলেই শেষ হবে। হোমওয়ার্কের মানেটা কী? বাড়িতে অন্য কাজ আছে না! কার্টুন দেখা, বাদল মামুর কাছে থেকে গল্প শোনা।<br />
সনেট গালে হাত দিয়ে করুণ সুরে বলে, মিসরা আমাদের আনন্দে থাকতে দেবে না, এ জন্যই গাদা গাদা হোমওয়ার্ক দিয়ে দেয়।<br />
বোকাই বলে, আমরা  হোমওয়ার্ক  করব না টিভি দেখব বল।<br />
সত্যিই তো ওদের কথা কেউ ভাবে না, না হলে কি মিমি ম্যাডাম এমন রচনা দিতে পারেন? বিড়াল  সম্পর্কে দশ লাইন লিখো, কুকুর সম্পর্কে বারো লাইন লিখো।<br />
বিড়াল কি বাড়িতে কখনও ছিল? দূরের ছাদের কার্নিশে বসে বিড়াল মিঁউ মিঁউ করে কেঁদেছে, কখনও রাস্তার পাশের ডাস্টবিনে খাবার নিয়ে তিন-চারটে বিড়াল ঝগড়া করেছে। জানালার গ্রিলে মুখ চেপে তিতির তাকিয়ে দেখেছে ওদের কাণ্ড। সাদা তুলোর মতো একরাশ পশমে ঢাকা ছোট্ট বিড়ালটিকে কেউ খেতে দেয়নি।<br />
তিতির বলছে, মা দেখে যাও মা কী খারাপ লাগছে, বাচ্চা বলে কেউ খেতে দিচ্ছে না। ওকে তুলে নিয়ে আসি মা। এইটুকুন দুধ খেতে দিলেই হবে।<br />
মা চোখ পাকিয়ে বলেছেন, খবরদার তিতির, কক্ষনো এমন কাজ করবে না দশতলার ওপরে বিড়াল পোষা যায় নাকি? ঘরদোর নোংরা করে দেবে।<br />
ঝকঝক ঘরের মেঝে, দুধসাদা রঙের জানালার গ্রিল, পরদা ফিনকি দিয়ে ওঠা আলোর দিকে তাকিয়ে তিতির বোঝে এ বাড়িতে বিড়াল বড় বেমানান।<br />
এর পরও কী করে যেন মিঁউ মিঁউ করে কেঁদে কেঁদে একটি মিনি বিড়াল এসে ঢুকে গেল। খুব মজা তিতিরের, পাশের ফ্ল্যাটের মুন্না আর তিতির ব্যালকনিতে খুব আনন্দ করল ওকে নিয়ে।<br />
মুন্নার মা, তিতিরের মা দু’জনেই চ্যাঁচামেচি করছেন, কী হচ্ছে ওসব? হোমওয়ার্ক নেই? স্কুলে পড়া নেই? এমনই এমনই খেললেই হবে?<br />
পড়া পড়া আর হোমওয়ার্ক! ওদের দু’জনের চোখের সামনে বাদল মামা বস্তার ভেতরে ঢুকিয়ে মিনিটাকে কোথায় যেন নিয়ে গেল।<br />
মুন্না আর তিতির সে রাতে খুব কেঁদেছে। পড়ার টেবিলে বসেছে শুধু, পড়া তো মোটেও হয়নি, মিনি বিড়ালের জন্য বারবার ঝাপসা হয়ে এসেছে চোখ। মুন্না তো ‘আমার বিল্লাটাকে তাড়িয়ে দিলে কেন?’  বলে চেঁচিয়ে কাঁদল অনেকক্ষণ।<br />
ওর মা রাগ করে বলল, দ্যাখো, বুড়ো ছেলে কেমন কাঁদে!<br />
বড়রা যে যাই বলুক বুকের ভেতরটা কেমন ফাঁকা হয়েছিল তিতিরের। সারা গায়ে তুলোর মতো পশমে ঢাকা মিনি বিড়ালের কথা মনে করে বুকের ভেতরটা ভীষণ খাঁ খাঁ করত।<br />
বিড়ালের কথা একসময় ভুলেও গেল  তিতির। তবে ফ্ল্যাট বাড়ি নিয়ে ওর মনে কেমন একটা ভাবনা ঢুকে যায়। আরে বাবা কথায় কথায় ফ্ল্যাট বাড়ি। কে বলেছে তোমাদের ফ্ল্যাট বাড়িতে থাকতে? বিড়াল পুষতে পারব না, কুকুর আনতে পারব না তাহলে কী করব আমি? শুধুই পড়া? সেই পড়া? সেই হোমওয়ার্ক?<br />
কুকুর-বিড়াল বাড়িতে থাকলে, কিংবা তিতির পুষতে পারলে দশ-বারো লাইন কেন একশ’ লাইনও লিখতে পারত। কিন্তু ওসব তো আর হবার নয়।<br />
বাদল মামা বলে, কেন, গরু দেখিসনি কখনো? চার পা, দু চোখ এগুলো লিখতে পারিস না।<br />
তিতির খুব রাগ করে, মামু, তুমি আর বাজে বাজে বুদ্ধি দিও না তো। কুকুর-বিড়াল-গরু সব কি এক? বললেই  হলো!<br />
বাদল মামু বলল, প্রায় এক নয়? দুই চোখ, দুই কান, এক রকমই তো।<br />
লিখতে বসে খুব মন খারাপ করে তিতির। গরুও কি ছাই আমি ভালো করে দেখেছি?<br />
গাঁয়ে মানুষ গরু পোষে,  ছাগল পোষে, কুকুর-বিড়াল তো আছেই এই ফ্ল্যাট বাড়িতে ওসব কি আর থাকে? ম্যাডামরা বুঝবে না?<br />
দু’তিন লাইন কোন রকমে লিখেছে, এরপর আর এগোয় না, দশ-বারো লাইন লেখা কি সহজ কথা?<br />
মাকে জিজ্ঞেস করতেই বলেন, দেখছিস তো, বাড়িতে আজ ক’জন খাবে, চুলোতে মাছ চড়িয়েছি, ঐ শোন প্রেসার কুকার সিটি দিচ্ছে নামাতে হবে। এখন যা বাবা, গেস্টদের আসার সময় হয়ে গেছে।<br />
লে বাবা বিড়াল নিয়ে বারো লাইন রচনার কী হবে! এ তো আর রাবার নয় যে তিতির টেনে লম্বা করবে।<br />
ও মাদার তুসোর মিউজিয়াম দেখেছে, প্ল্যানিটেরিয়াম দেখেছে, উর্বন সাফারি পার্ক দেখেছে। ওগুলো লিখতে দিলে তো তিতির ফটাফট লিখতে পারবে। সেসব তো আর টিচাররা লিখতে দেন না।<br />
বিড়াল নেই তাহলে My Pet Cat  সম্পর্কে সে লিখবেটা কী?<br />
বুক ভরা রাগে গর গর করতে থাকে তিতির। আরে বাবা আগে জেনে  নাও কার বাড়িতে কুকুর-বিড়াল আছে, কার বাড়িতে ফুল-ফলের বাগান রয়েছে, তারপর তো হোমওয়ার্ক দেবে।<br />
মিমি ম্যাডাম বইয়ের পড়ার চেয়ে আউট নলেজের দিকে নজর দেন বেশি। তাই যখন তখন বই বন্ধ করে জিজ্ঞেস করতে  থাকেন ফুল বাগান সম্পর্কে কিছু বলতে।<br />
তিতির বলবেটা কী? ফুল বাগানের সে কি জানে! বাগান বলতে কিছু আছে নাকি শহরে? স্কুলে রয়েছে, পার্কে রয়েছে, বাড়িতে কি কিছু আছে!<br />
মাটির টব রয়েছে ক’টা কিন্তু সেগুলোতে শুধু পাতাবাহার আর ক্যাকটাস।<br />
তিতিন বলে, ফুল গাছ কিছু লাগাও না কেন মা? মা মন খারাপ করা সুরে বলেন, কত ফুল গাছ কিনে আনলাম রে তিতির। জবা, গাঁদা ফুলের টব নিয়ে এলাম বাড়িতে। দু-একদিন ফুটল, তারপর গাছ শুকিয়ে মরে গেল।<br />
বাদল মামা বলে, যত করলে তো ফুল ফুটবে।<br />
মা মুখ ঝামটা দিয়ে বলেন, নাহ যত করিনি, তোমায় বলেছে।<br />
তিতির ভাবে, ফুল নেই তো ফুলবাগান কী করে হবে! শুধু পাতাবাহার আর ক্যাকটাস গাছ রাখলে কি ভালো লাগে?<br />
একবার তিতির নিচে বাদল মামার সাথে গিয়ে কিনে আনে ফুলগাছ। নয়নতারার গাছটি দশ-বারোটি ফুল ফুটিয়ে উটের গলার মতো লম্বা হতেই থাকে। মন খারাপ হয়ে যায় তিতিরের। রন্তু, টিপটিপ ওদের বাড়িতে নয়নতারার গাছ ঝুপসি পাতাতে ছেয়ে আছে। ওর বাড়িতে সবই যেন অন্য রকম। ফুলগাছের ডালগুলো লম্বা মতো হয়ে গ্রিলের বাইরের দিকে ঝুঁকে আছে যেন রাস্তা-ঘাটের মানুষ দেখছে।<br />
বাদল মামা নয় যেন মুশকিল আসান মামা। আরে  হাঁদা- বুঝলি না? সূর্যের আলো ঠিকমতো পায় না তো তাই গাছটি আলোর জন্য মুখ বাড়িয়ে আছে।</p>
<p><strong>দুই.</strong><br />
স্কুল থেকে ডাক পড়ে মা-বাবার।<br />
মা বলেন, তুমি যাও গিয়ে দেখে এসো কী করেছে ছেলে। পরক্ষণেই পাকড়াও করে ছেলেকে, কি রে স্কুলে গিয়ে বুঝি খুব দুষ্টুমি করিস?<br />
অবাক হয়ে তিতির বলে, বাহ রে, আমি কোথায় দুষ্টুমি করলাম? কে বলেছে শুনি? হোমওয়ার্কের জন্য আমার পাগল পাগল অবস্থা<br />
বাবা ঠা ঠা করে হাসেন। তো হোমওয়ার্কের জন্য ভাবনা? কুকুর-বিড়াল লিখতে হলে লিখবি চারটি পা, দু’টি চোখ, দু’টি কান আছে।<br />
বাহ রে ওদের স্বভাব কেমন, কী খেতে ওরা ভালোবাসে, সে সব লিখতে হবে না? সেগুলো কি আমি জানি? আমাকে কি পুষতে দিয়েছ তোমরা?<br />
মিষ্টি মিষ্টি গলার সুর কান্নায় ভেঙে আসে তিতিরের, পুরনো দুঃখ উথলে ওঠে ওর।<br />
মা ওর দুঃখ ভুলিয়ে দিতে চান। বলেন, ফুল নিয়ে ওকে কিছু বলো, শেষ করুক না হোমওয়ার্ক।<br />
ক্রিসেনথিমাম ফুলকে বাংলায় আমরা চন্দ্রমল্লিকা বলি এই সব আর কী?<br />
বাবা বাথরুমে ঢুকতে ঢুকতে বলেন, শোন অলরেডি আই অ্যাম লেট। তুমিই নিয়ে বসো না একটু ছেলেকে।</p>
<p>মা স্কুলে এসে হতবাক। মিমি ম্যাডামের সামনে বসে বোবা হয়ে যান। বাড়িতে সারাক্ষণ কথা বলা মায়ের কথা একেবারেই হারিয়ে যায়।<br />
বাড়িতে কি আপনি ওর খাতাপত্র একেবারেই চেক করেন না? বিড়াল লিখতে দিয়েছি, লিখেছে চার পা, দু’ চোখ বেশ ঠিক আছে। এর পরই লিখেছে আমি আর মুন্না একটি মিনি বিড়াল বাড়িতে এনে দুধ খেতে দিয়েছি। মাছ খেতে দিয়েছি কিন্তু মা আর আন্টির জন্য মিনি বিড়ালটি বাড়িতে পুষতে পারিনি।<br />
মা চোখ গোল গোল করে ম্যাডামের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকেন।<br />
আরও শুনুন, তাকিয়ে আছেন কেন এমন করে? ও উর্বন সাফারি পার্ক দেখেছে, বার্লিন ওয়াল দেখেছে, এলিফ্যান্ট ফলস দেখেছে কিন্তু কাছে থেকে কোন কুকুর দেখেনি। এটার নাম কম্পোজিশন? শেম অন ইয়ু।<br />
অনেকটা সময় শক্ত শক্ত কথা শুনে এক সময় উঠে দাঁড়ান মা।<br />
মিমি ম্যাডাম বলেন, এবার ঘুড়ি লিখতে দিয়েছি মানে কাইট। ছুটি হলেই আপনারা বাইরে চলে যান। গাঁয়ের বাড়ি নয় বিদেশে। কেন নিজের দেশে দেখার কিছু নেই? ভাওয়ালের রাজবাড়ি, কুমিল্লার ময়নামতি, বগুড়ার মহাস্থানগড় আজকালকার ছোটরা কিছুই দেখেনি। এগুলো নিয়ে আপনারা ভাববেন না? মিলি ম্যাডাম অনেক কঠিন কথার পর মোলায়েম সুরে বলেন, নিজের দেশের সাথে পরিচয় করিয়ে দিন ছেলের।<br />
শেষের কথাতে চোখ ভিজে যায় মায়ের। সত্যিই তো ও কি বাঁধানো ঘাট, পুকুর, মেঠোপথ, বড়শি দিয়ে মাছ ধরা দেখেছে কোনদিন? শীতের পিঠে খাওয়া, ঢেঁকিতে চালের গুঁড়ো কোটা, বাঁধানো কলসিতে খেজুরের রস, ঘাসের বুকে টুপটাপ শিশির ঝরা এগুলো তো কখনও দেখেনি তিতির।<br />
মা বাড়িতে এসে ঘোষণা দিলেন, এবার আর সিঙ্গাপুর-লন্ডন যাওযা নয়, এবার আমরা নিজেদের গাঁয়ে যাব।<br />
বাবা চোখ কপালে তুলে বলেন, সে কী?<br />
মা মিষ্টি সুরে বলেন, নিজের দেশের সাথে ছেলেকে পরিচয় করে দিতে হবে না?<br />
বাদল মামা খুশি খুশি গলায় বলেন, তাই বলো। এবার রচনা লিখতে দিয়েছে আমার সাবজেক্ট।<br />
তোমার সাবজেক্ট? বাবা তাজ্জব।<br />
তিতিরের এবারের হোমওয়ার্কের সাবজেক্ট ঘুড়ি। এবার মামা-ভাগ্নে মিলে ঘুড়ি নিয়ে চল্লিশ লাইন লিখব।<br />
মা গালে হাত দিয়ে বলেন, রক্ষে কর- চল্লিশ লাইন নয়- বারো লাইন।<br />
মামা বলেন ওকে সিসটার, নো প্রবলেম।<br />
বাড়িতে যেন উৎসব নয় মহা উৎসব। লাল-নীল-সবুজ-হলুদ রঙের কাগজ এলো। বাঁশের শলা খুব সুন্দর করে তৈরি করল মামা। শুক্র-শনিবার ছুটির দিন তিতির আর বাদল মামার নাওয়া-খাওয়ার ঠিকঠিকানা নেই। ঘরদোর কাগজ-কাঠি-আঠাতে ছৈ ছত্রাকার। ঘুড়ি তৈরি হলো, এবার মাঞ্জা বানাতে হবে ঝকমারি কি কম? ভাতের মাড়, কাচের ছোট টুকরো আরও টুকিটাকি কিছু মিশিয়ে সুতোতে মাঞ্জা দিতে হবে। ফ্ল্যাটের মুন্না, ঋতু, ইভান, পৃথুও তিতির আর মামাকে সাহায্য করে।<br />
মা বিরক্ত হয়ে বলেন, ঘরদোরের কী অবস্থা করেছে দ্যাখো। বাজার থেকে ঘুড়ি-লাটাই কিনে নিয়ে এলেই তো হয়।<br />
মামা বলে, তাহলে তিতিরের প্র্যাকটিক্যাল অভিজ্ঞতা কী করে হবে!<br />
এক শীতের সকালে পুরানা পল্টনের আকাশে উঠল চার-পাঁচটা ঘুড়ি। নীল নীল আকাশ, তার মাঝে তিতির, মুন্না, পৃথু, ঋতু, ইভানের রঙিন ঘুড়িগুলো উড়তে থাকে। লাটাইয়ের সুতো একেক বার ওরা ছাড়ে আবার প্রয়োজন মতো গুটিয়ে নেয়, ভারী মজার খেলা!<br />
মা-বাবা এসে পাশে দাঁড়িয়েছেন। ঘুড়িতে প্যাঁচ লাগিয়েছে তিতির। ওদের ‘ভোকাট্টা ভোকাট্টা’ চ্যাঁচামেচিতে অন্যরকম হয়ে ওঠে পুরানা পল্টন লাইন ছাদ।<br />
ঋতু বলে, খেলাটা তো কম্পিউটার গেম-এর চেয়েও মজার রে তিতির।<br />
ইভান বলে, আমি আর কার্টুন ফিল্ম দেখব না, আকাশে ঘুড়ি উড়াবো।<br />
পৃথু বলে, আমিও আর ‘প্লে স্টেশন’ খেলব না, ‘গড অব ওয়ার’, ‘এজ অব মাইথোলজি’র সিডি কিনব না, এবার থেকে শুধু ঘুড়ি ঘুড়িই খেলব।<br />
ঘুড়ি রচনাটি শীতের ভোরে বসে খুব মনোযোগ দিয়ে লিখে তিতির। মনও খারাপ হয় ওর কেন ম্যাডাম বারো লাইন লিখতে বললেন, ওর যে আরও আরও অনেক লাইন লিখতে ইচ্ছে করছে।<br />
চোখের সামনে ভেসে উঠছে শীতের সোনালি রোদ, নীল নীল আকাশ, পাঁচ-ছয়টি রঙিন ঘুড়ি, সুতো জড়িয়ে রাখা আর ছেড়ে দেবার কায়দায় লাটাইয়ের খটাখট আওয়াজ।<br />
মা বলেন, এবার বই রেখে ওঠো তিতির। লাল-চাল দিয়ে বসা ভাত করেছি খেতে এসো।<br />
মিমি ম্যাডামকে ক্লাসের সবাই ভয় পায়, ভালোও বাসে। পড়াশোনা ঠিকমতো না করলে গম্ভীর হয়ে থাকেন, আবার ঠিকমতো পড়া শিখলে গালভরা হাসি হাসেন।<br />
মাস্টার তিতির, লুক অ্যাট মি। আমার দিকে তাকাও মাই বয়। ইয়ু আর ফ্যানটাসটিক, সুপার্ব। কাম টু মি। গুটি গুটি পায়ে ম্যাডামের কাছে এগিয়ে যায় সে। ওর খোলা খাতাটির ওপর ম্যাডাম লাল কালি দিয়ে লিখেছেন অ+, লিখেছেন ভেরি ভেরি গুড।<br />
মামা যে কথায় কথায় বলে প্র্যাকটিক্যাল নলেজ তা-ই ঠিক। নইলে তিতির কি এত চমৎকারভাবে ‘ঘুড়ি’ রচনাটি লিখতে পারত!<br />
ক্লাসের বন্ধুরা কম্পোজিশন নিয়ে তিতিরকে বরাবর বকুনি খেতে দেখেছে আজ অন্যরকম কিছু দেখে ওরা এক সাথে বলতে থাকে হিপ হিপ হুররে<br />
খুশিতে যে চোখ ভিজে যায়, এই প্রথম জানল ছোট্ট তিতির।</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.kishorkanthabd.com/%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%98%e0%a7%81%e0%a7%9c%e0%a6%bf/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>সকলের প্রতি সুবিচার করা ঈমানের দাবি</title>
		<link>http://www.kishorkanthabd.com/%e0%a6%b8%e0%a6%95%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%88/</link>
		<comments>http://www.kishorkanthabd.com/%e0%a6%b8%e0%a6%95%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%88/#comments</comments>
		<pubDate>Mon, 01 Feb 2010 14:13:25 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[কুরআনের আলো]]></category>
		<category><![CDATA[ঈমান]]></category>
		<category><![CDATA[কুরআন]]></category>
		<category><![CDATA[মায়িদা]]></category>
		<category><![CDATA[সুবিচার]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.kishorkanthabd.com/?p=268</guid>
		<description><![CDATA[“নিশ্চয়ই কোন জাতির বিদ্বেষ যেন তোমাদেরকে তাদের প্রতি অবিচার করতে উদ্বুদ্ধ না করে। তোমরা নির্বিশেষে সকলের প্রতি সুবিচার কর, কারণ তাই তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী। জেনে রেখো, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের যাবতীয় কাজের খবর রাখেন।”
(সূরা মায়িদা-আয়াত : ৮)
সুপ্রিয় বন্ধুরা,
বিচার ও ইনসাফ প্রত্যেকটি মানুষের অতি স্বাভাবিক অধিকারের বিষয়। পানি, আলো ও বাতাস প্রভৃতি প্রাকৃতিক সম্পদ যেমন দেশের প্রত্যেকটি [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<blockquote style="text-align: justify;"><p>“নিশ্চয়ই কোন জাতির বিদ্বেষ যেন তোমাদেরকে তাদের প্রতি অবিচার করতে উদ্বুদ্ধ না করে। তোমরা নির্বিশেষে সকলের প্রতি সুবিচার কর, কারণ তাই তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী। জেনে রেখো, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের যাবতীয় কাজের খবর রাখেন।”</p>
<p>(সূরা মায়িদা-আয়াত : ৮)</p></blockquote>
<p style="text-align: justify;"><strong>সুপ্রিয় বন্ধুরা,</strong><br />
বিচার ও ইনসাফ প্রত্যেকটি মানুষের অতি স্বাভাবিক অধিকারের বিষয়। পানি, আলো ও বাতাস প্রভৃতি প্রাকৃতিক সম্পদ যেমন দেশের প্রত্যেকটি মানুষই পেতে পারে। এ অধিকার থেকে কেউ কাউকে বঞ্চিত করতে পারে না, তেমনি সুবিচারও প্রত্যেকটি মানুষেরই সমানভাবে প্রাপ্য। এ ব্যাপারে ধনী-গরিব, রাজা-প্রজা এমনকি মুসলিম-অমুসলিমের মাঝেও কোনরূপ পার্থক্য করা চলে না। তাই বিশ্ব প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যশীল ও স্বাভাবিক নিয়ম এবং তাই ইসলামের চিরন্তন ব্যবস্থা। ইসলামে বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে মানুষের সুবিচার করার উপদেশ দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে আল্লাহতায়ালা বলেছেন : ‘তোমরা ফায়সালা করবে পূর্ণ সুবিচার ও নিরপেক্ষ ইনসাফের সাথে, আল্লাহতায়ালা তোমাদের কতই না ভালো কাজের উপদেশ দিচ্ছেন।’</p>
<p style="text-align: justify;">একজন শাসকের কাছ থেকে সুবিচার পাওয়া সমাজের প্রতিটি মানুষের অধিকার। কোন কারণে সমাজের কেউ যদি অপরাধ করে, এ জন্য তার শাস্তি হতে পারে। কিন্তু এ কথা আমাদের মনে রাখতে হবে যেন শাস্তির সীমানা পেরিয়ে না যায়। কেউ কারো প্রতি প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে যেন তার প্রতি অবিচার করে না বসে। এ সুযোগে শাস্তির মাত্রাটা যেন তার ওপর বাড়িয়ে না দেয়। কারো প্রতি পক্ষপাতিত্ব করে তার ওপর নির্যাতন চালানো বা তাকে মাত্রাতিরিক্ত কষ্ট যেন না দেয়। এহেন কাজ আল্লাহ পছন্দ করেন না। কারণ আল্লাহ বান্দার মনের খবর জানেন।</p>
<p style="text-align: justify;">একজন প্রকৃত ঈমানদারের প্রতি তার ঈমানের দাবি হলো সকল মানুষের প্রতি সুবিচার করা। ছোট-বড়, কালো-সাদা, ধনী-গরিব সকলের সাথে তার প্রাপ্য অনুযায়ী বিচার করা। সকলের সাথে যদি সুবিচার করা না যায়, কারো প্রতি অবিচার করা হয় তবে এটা হবে জুলুম এবং অন্যায়। আর আল্লাহ এ জাতীয় বিচার পছন্দ করেন না। সুতরাং ঈমানের দাবি অনুযায়ী সকলের সাথে সুবিচার করতে হবে।</p>
<p style="text-align: justify;"><span style="color: #339966;">প্রিয় বন্ধুরা,<br />
এসো আমরা সকলের সাথে যেন সুবিচার করতে পারি তা এখন থেকে চেষ্টা করি।</span></p>
<p style="text-align: justify;"><span style="text-decoration: underline;"><strong>গ্রন্থনায় : আবদুল কুদ্দুস মাখন</strong></span></p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.kishorkanthabd.com/%e0%a6%b8%e0%a6%95%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%88/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>স্বপ্ন ও স্বাধীন</title>
		<link>http://www.kishorkanthabd.com/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%a8-%e0%a6%93-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a7%80%e0%a6%a8/</link>
		<comments>http://www.kishorkanthabd.com/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%a8-%e0%a6%93-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a7%80%e0%a6%a8/#comments</comments>
		<pubDate>Mon, 01 Feb 2010 14:07:44 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[কিশোর উপন্যাস]]></category>
		<category><![CDATA[স্বপ্ন]]></category>
		<category><![CDATA[স্বাধীন]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.kishorkanthabd.com/?p=265</guid>
		<description><![CDATA[মুহাম্মদ ইফতেখার

শৈশবে স্বাধীন যখন খেলনার স্টেথোস্কোপটা কানে ঝুলিয়ে চেস্টপিসটা বাবার বুকের ওপর চেপে ধরতো আর আধো আধো স্বরে বলতো, ‘দেকি তো আব্বু, তোমার শলীলটা কেমন আছে’- মোর্শেদ সাহেব তখন মুগ্ধ-চোখে ছেলের দিকে তাকিয়ে থাকতেন আর গর্বিত কণ্ঠে স্ত্রীকে বলতেন, ‘দেখেছো, আমাদের স্বাধীনের মাঝে এখনই কেমন ডাক্তার-ডাক্তার ভাব, তুমি দেখো বড়ো হলে ও নিশ্চয়ই আমাদের মুখ [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: justify;"><span style="text-decoration: underline;">মুহাম্মদ ইফতেখার</span></p>
<p style="text-align: justify;">
<div id="attachment_266" class="wp-caption alignright" style="width: 310px"><a href="http://www.kishorkanthabd.com/wp-content/uploads/2010/01/kishor-uponnash.jpg"><img class="size-full wp-image-266" title="kishor-uponnash" src="http://www.kishorkanthabd.com/wp-content/uploads/2010/01/kishor-uponnash.jpg" alt="" width="300" height="280" /></a><p class="wp-caption-text">স্বপ্ন ও স্বাধীন</p></div>
<p>শৈশবে স্বাধীন যখন খেলনার স্টেথোস্কোপটা কানে ঝুলিয়ে চেস্টপিসটা বাবার বুকের ওপর চেপে ধরতো আর আধো আধো স্বরে বলতো, ‘দেকি তো আব্বু, তোমার শলীলটা কেমন আছে’<span id="more-265"></span>- মোর্শেদ সাহেব তখন মুগ্ধ-চোখে ছেলের দিকে তাকিয়ে থাকতেন আর গর্বিত কণ্ঠে স্ত্রীকে বলতেন, ‘দেখেছো, আমাদের স্বাধীনের মাঝে এখনই কেমন ডাক্তার-ডাক্তার ভাব, তুমি দেখো বড়ো হলে ও নিশ্চয়ই আমাদের মুখ উজ্জ্বল করবে!’</p>
<p style="text-align: justify;">কিন্তু স্বাধীন আজকাল যেভাবে লেখাপড়া করছে তাতে বাবার সে-স্বপ্ন কি কখনো বাস্তবায়িত হবে?<br />
রিপোর্ট-কার্ড সাইন করতে গিয়ে ওর প্রি-টেস্ট পরীক্ষার রেজাল্ট দেখে মোর্শেদ সাহেব সহসা ভাবনায় পড়লেন। ধমক লাগিয়ে ছেলেকে বললেন, ‘হোয়াটজ দিস, এ-তো দেখছি কোনোমতে পাস করা!’<br />
ব্যাপারটা স্বাধীনের মোটেও ভালো লাগলো না। ও মনে করে এখন সে আর সেই ছোট্টটি নেই যে বাবা ওকে এভাবে ধমকধামক দেবেন। স্বাধীন তাই বিরক্ত হয়ে কপাল কুঁচকে মুখটা ফুলিয়ে রাখলো।<br />
মোর্শেদ সাহেব আরো রেগে গেলেন। অনেক কিছু সহ্য করার ক্ষমতা তার আছে, কিন্তু স্বাধীনের অধঃপতন তিনি মোটেও সহ্য করতে পারেন না। নিজেদের একমাত্র সন্তানটিকে মানুষ করতে গিয়ে কতো কিছুই না করেন তিনি আর তার স্ত্রী মিলে, অথচ স্বাধীন যেন সেটা বুঝতেই চায় না।</p>
<p style="text-align: justify;">ওর মাঝে সে-বোধটা জাগাতেই মোর্শেদ সাহেব কড়া ভাষায় বলতে লাগলেন, ‘রেজাল্টের যদি এই অবস্থা হয় তাহলে আর লেখাপড়া করার দরকার কী? যা গ্যারেজে গিয়ে কাজ করগে, নইলে রিকশা চালা। কাজ করলে দুটো টাকা যেমন কামাই করতে শিখবি, তেমনি জীবন সম্বন্ধে ধারণাও জন্মাবে&#8230;’<br />
রেবা পাশেই বসা ছিলেন। স্বামীর কাপে চা ঢালছিলেন তিনি। সকালের চায়ের উষ্ণ ধোঁয়া যেনো পরিস্থিতির আভাস দিচ্ছিলো।<br />
রেবা স্বাধীনের দিকে তাকালেন।<br />
দেখলেন তার ছেলেটি মন খারাপ করে বসে আছে।<br />
বড্ডো মায়া লাগলো রেবার। স্বামীকে তাই বললেন ‘থাক, যা হবার তা হয়েছে। তুমি আর এখন মাথা গরম করো না। দেখবে নেক্সট টাইমে ও ঠিকই ভালো করবে।’</p>
<p style="text-align: justify;">ছেলের জন্য রেবার মনে স্নেহের কোনো কমতি ছিলো না। আদরের সময় আদর আর শাসনের সময় শাসন তিনি যতই এ নীতিতে অটল থাকতে চান না কেন, আবেগ তাকে দুর্বল করে দেয়। ছোটবেলায় এক দুর্ঘটনায় বাবা-মাকে হারানোর পর চাচা-চাচীর কাছে থেকে বড়ো হয়েছেন তিনি। ফলে বঞ্চিত হয়েছেন বাবা-মায়ের অনেক আদর আহ্লাদ থেকে। তিনি চান না তার সন্তানটিও সেই শূন্যতা অনুভব করুক। তাই শাসনের ক্ষেত্রগুলোতেও মমতাই প্রদর্শন করেন রেবা।<br />
মোর্শেদ সাহেব স্ত্রীর কথা মানতে পারলেন না। বললেন, ‘কিসের ভালো করবে! সামনে ওর টেস্ট পরীক্ষা, তারপর এসএসসি। প্রিটেস্টে প্রশ্ন সামান্য হার্ড করেছে, তাতেই এ অবস্থা! তাহলে টেস্টে ও কী করবে? নিশ্চয়ই ফেল! আর টেস্টে ফেল করলে ওকে বোর্ড পরীক্ষা দিতে দেবে?’</p>
<p style="text-align: justify;">স্বাধীন এবার আর চুপ করে থাকতে পারলো না। সহ্য-ধৈর্য ওর মাঝে এমনিতেই একটু কম, তা ছাড়া এক রেজাল্ট নিয়ে বাবা যা শুরু করেছেন! স্বাধীন বলেই ফেললো, ‘দেখো বাবা, আমি এখন যথেষ্ট ম্যাচিউর, আমার ভালো-মন্দ আমি বুঝি। ছোটো বাচ্চাদের মত এখন আর আমার পড়াশোনা নিয়ে তোমাদের ভাবা লাগবে না, আমারটা আমিই বুঝবো’ বলে চট করে চেয়ার থেকে উঠে ঝোলাসদৃশ স্কুল ব্যাগটা সাইডে ঝুলিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে গেলো?</p>
<p style="text-align: justify;">রেবা কত্ত করে বললেন, এই স্বাধীন &#8230;. দাঁড়া.. যাসনে&#8230;&#8230;..নাস্তাটা করে যা&#8230;&#8230;&#8230;&#8230;. কিন্তু মায়ের কোনো কথাই স্বাধীনের কানে গিয়ে পৌঁছলো না। ও যাওয়ার পর মোর্শেদ সাহেব স্ত্রীকে শাসিয়ে বললেন, ‘দেখেছো, কতো বেয়াদব হয়েছে! আরো লাই দাও ছেলেকে’ বলে হাতের রিপোর্ট কার্ডটায় তড়িঘড়ি করে নিজের একটা সই দিয়ে তিনিও উঠে চলে গেলেন।<br />
রেবা একাকী বসে রইলেন ডাইনিং টেবিলে।<br />
স্কুলে এসে স্বাধীন দেখলো অ্যাসেম্বলির জন্য সবাই মাঠে এসে জড়ো হচ্ছে। ক্লাস রুমে যাওয়ার সুযোগ ছিলো না, তাই ব্যাগ নিয়েই লাইনে দাঁড়ালো ও।</p>
<p style="text-align: justify;">দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটির পর আজ স্কুলে এসে অনেকটা ফ্রেশ লাগছে স্বাধীনের। এই দুইদিন বাসায় থাকতে থাকতে একদম বোর হয়ে গেছে। ছুটির দিনগুলোও আজকাল কেমন যেনো একঘেয়ে মনে হয় ওর কাছে। শুধুমাত্র সকালে একটু বেশি করে ঘুমানোর সুযোগ পাওয়া যায়- এই যা, তা ছাড়া আর সব তো সেই একই স্যারদের বাসায় প্রাইভেট পড়তে যাওয়া, বাবার সামনে পাঠ্যবই নিয়ে পড়ে থাকা আর ফুরসত পেলেই টিভির রিমোট নয়তো কম্পিউটারের মাউস অথবা কি-বোর্ড টেপাটিপি করা এই চক্রাকার জীবন স্বাধীনের আর ভালো লাগে না!</p>
<p style="text-align: justify;">বেড়াতে যাওয়ারও তেমন কোনো জায়গা নেই ওর। মায়ের দিকটায় কেউ নেই বললেই চলে। বাবার দিকটায় যারা আছেন, তারা থাকেন যশোরে, ওর দাদাবাড়ি আর তার আশপাশ এলাকায়। ঢাকায় যে দু-একজন থাকেন তারা দূর সম্পর্কে আত্মীয়, যাওয়া-আসা খুব কম।</p>
<p style="text-align: justify;">এ ছাড়া কোনো বিনোদনকেন্দ্রে গিয়ে যে একটু শান্তিমতো ঘুরে বেড়াবে, সে সুযোগও তো নেই। ছুটির দিনগুলোতে ওসব জায়গায় যে পরিমাণ ভিড় থাকে! আগে তাও বিকেলবেলাটা এলাকার বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে কিংবা ক্রিকেট খেলে কাটিয়ে দেয়া যেতো, কিন্তু আসন্ন টেস্ট পরীক্ষার কারণে বাবা সেটাও বন্ধ করে দিয়েছেন। এসব কারণেই স্কুলেই এখন বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে স্বাধীন।<br />
স্কুলটাও খুব সুন্দর।<br />
বেশ পরিপাটি।</p>
<p style="text-align: justify;">লাল ইটের তিনটি চারতলা ভবন যেনো সগৌরবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে কম্পাউন্ডের পূর্ব, উত্তর আর পশ্চিমাংশ জুড়ে। মাঝের ভবনটার ঠিক সামনে এক পাশে শহীদ মিনার, অপর পাশে ফুলের বাগান। এরপর ঘাসের চাদর বিছানো সবুজ মাঠ, বাস্কেটবল খেলার গ্রাউন্ড রয়েছে মাঠের একাংশে। দক্ষিণে বিশাল গেট।<br />
স্কুলটার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন আশফাক সাহেব, প্রধান শিক্ষকও ছিলেন তিনি-ই। স্কুলটাকে ঘিরে তার ছিলো অনেক স্বপ্ন, জীবদ্দশায় যেগুলো অধিকাংশই তিনি পূরণ করে যেতে পারেননি।<br />
আশফাক সাহেবের মৃত্যুর পর শওকত চৌধুরী প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। স্কুলের নিয়ম কানুনে অনেক পরিবর্তন এনেছেন তিনি। তাঁর প্রচেষ্টার ফলেই এ ‘সেন্ট্রাল বয়েজ স্কুল’ এর ছাত্ররা শুধু লেখাপড়ায় নয়, অপরাপর ক্ষেত্রেও বেশ সুনাম কুড়িয়েছে।<br />
অ্যাসেম্বলি করতে করতে স্বাধীন ওদের লাইনটার দিকে তাকালো।</p>
<p style="text-align: justify;">ষাট-পঁয়ষট্টি জন ছাত্রের দীর্ঘ সারি। স্মার্ট যে ছেলেটি সবার সামনে দাঁড়িয়ে, সে ওদের ক্লাসের ক্যাপ্টেন, নাম তন্ময়। এরপর কায়েস, ক্লাসের ফার্স্ট বয়। ছেলেটা লেখাপড়ায় ভালো হলেও স্বভাবে ভীষণ চঞ্চল। তারপর দাঁড়িয়ে মামুন, সাকিব, শাহরিয়ার আর মেহেদী। মামুন, সাকিব, শাহরিয়ার এরা সবাই ক্লাসের প্রথম সারির ছাত্র, মেহেদী ওদের মতো না হলেও ভাবভঙ্গি সবসময় ভালো ছাত্রদের মতোই থাকে। সকাল-সকাল ক্লাসে এসে ফার্স্ট অথবা সেকেন্ড বেঞ্চে জায়গা নেয়, স্যার-ম্যাডামদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখে, ক্লাস টেস্টে হায়েস্ট মার্কস তোলে আর টার্ম পরীক্ষায় ভালো করতে তুমুল চেষ্টা করে। এবারের প্রি-টেস্টে ওর চেষ্টা অনেকখানি কাজে দিয়েছে। অল্পের জন্য ৪.৬৯ পায়নি মেহেদী, নইলে সাকিবের পরিবর্তে ও থার্ড হতো।<br />
স্বাধীন অবশ্য খুশি-ই হয়েছে মেহেদী থার্ড হতে পারেনি। ফোর্থ হয়েই ছেলেটার দেমাগ যা বেড়েছে, থার্ড হলে না জানি কী করতো?<br />
স্বাধীন ভাবে, কেন যে একটা সময় ও মেহেদীর সাথে মিশতো!</p>
<p style="text-align: justify;">মেহেদীর পেছনে দাঁড়িয়ে রুদ্্র, চলাফেরায় যে বেশ উগ্র। স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য শাহাদাত সাহেবের পুত্র এই রুদ্র। বাবার ক্ষমতার জোরে আর বয়সের উন্মাদনার প্রভাবে কোনো কিছুরই ধার ধারে না। ও নিয়মনীতির তোয়াক্কা করে না একেবারেই। পাশের লাইনে দাঁড়ানো কমার্সের পার্থর সঙ্গে সেই কখন থেকে ফালতু সব বিষয় নিয়ে বকবক করে যাচ্ছে। থামবার নাম নেই! পেছন থেকে আনিস ওকে থামতে বলেও উল্টো কথা শুনলো। রুদ্র আনিসকে বললো, ‘তোর গা জ্বলে কেন? তোর মুখ দিয়ে কথা বলছি?’<br />
রুদ্র এমনই।<br />
নিজের যা ইচ্ছা তা-ই করে। কারো কথাই শোনে না।</p>
<p style="text-align: justify;">ওর এই স্বভাবটা স্বাধীনের খুব পছন্দ। আর তাই আজকাল রুদ্রর সাথেই থাকে ও। স্বাধীন মনে করে এভাবে চললে জীবনটাকে যেনো পরিপূর্ণভাবে উপভোগ করা যায়, পাওয়া যায় অবাধ স্বাধীনতার স্বাদ। কিন্তু অবাধ স্বাধীনতা যে কখনো-কখনো সীমাহীন ভুলের জন্ম দেয়, তা ওকে কে বোঝাবে!<br />
অ্যাসেম্বলির পর যথারীতি ক্লাস শুরু হলো।</p>
<p style="text-align: justify;">ক্লাস টেনের বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম পিরিয়ডটা সবসময় ‘গণিত’ দিয়ে শুরু হয়। ক্লাস নেন কবীর স্যার। প্রতিদিনের মতো আজও নাম ডাকার খাতা হাতে যথাসময়ে ক্লাস রুমে প্রবেশ করলেন তিনি।<br />
ছাত্ররা দাঁড়িয়ে তাঁকে শ্রদ্ধা জানালো।<br />
দাঁড়ালো না শুধু একজন।<br />
আর সে বেয়াদবটা হচ্ছে রুদ্র। ও বসে-বসে নিজের চুলগুলো জেল দিয়ে ঠিক করছিলো।</p>
<p style="text-align: justify;">স্বভাবতই কবির স্যার ওর আচরণে অসন্তুষ্ট হলেন, তবে সেটা তিনি মারধর করে প্রকাশ করলেন না। কারণ ছাত্র পেটানোটা তার অভ্যাসের মধ্যে নেই। তা ছাড়া পিটিয়ে কাউকে যে কোনো কিছু শেখানো যায় না, সে কথা তিনি খুব ভালো করে জানেন।<br />
স্যার তাই নিজের বিরক্তিটা প্রকাশ করলেন এভাবে- ‘রুদ্র কী হবে চুলকে জেলি বানিয়ে? হাতে বালা আর গলায় মালা ঝুলিয়ে লাভ কীÑ বাকি সবই যদি ঠিক না থাকলো!’<br />
সারা ক্লাস তখনো দাঁড়িয়ে। রুদ্রের দিকে তাকিয়ে কেউ মুচকি-মুচকি হাসছে, কেউবা বিরক্ত হচ্ছে।<br />
স্বাধীন রুদ্রের পাশেই দাঁড়ানো ছিলো। স্যারের কথা শুনে ওর হাসি পাচ্ছিলো।</p>
<p style="text-align: justify;">নাম-ডাকার খাতা টেবিলে রেখে কবীর স্যার হাতের ইশারায় সবাইকে বসার অনুমতি দিলেন। নিজেও বসলেন। তারপর সকলের দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলেন, ‘গতকাল হেডস্যার মিটিং ডেকেছিলেন। সেখানে গিয়ে শুনলাম এবারে প্রি-টেস্ট পরীক্ষায় নাকি অল সাবজেক্টে পাস করেছে মাত্র ফর্টি পার্সেন্ট স্টুডেন্ট; বাকিরা কেউ এক সাবজেক্টে, কেউ দুই সাবজেক্টে, কেউবা চার-পাঁচ সাবেজেক্টে ফেল!’ বলে রুদ্রের দিকে কয়েক সেকেন্ডের জন্য তাকিয়ে পুনরায় সবার উদ্দেশে বলতে লাগলেন, ‘সামনে তোমাদের টেস্ট পরীক্ষা। এবার বোর্ড থেকে নির্দেশ এসেছে যারা এই পরীক্ষায় এক সাবজেক্টেও ফেল করবে তাদের এসএসসি পরীক্ষায় অ্যাটেন্ড করতে দেয়া হবে না। সুতরাং, সবকিছু বাদ দিয়ে এ-ক’টা দিন ঠিকমতো পড়াশোনা করো।’ বলে নাম-ডাকার খাতাটা খুলে রোল কল করা শুরু করলেন তিনি।</p>
<p style="text-align: justify;">এ-স্কুলে একটি মাত্র ক্যান্টিন। বেশ বড় না হলেও একদম ছোটো নয়। পার্টিশন দিয়ে দু’ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে ভেতরটা একপাশ বেচা-কেনার জন্য, অপর পাশ টিচারদের চা-টা খাওয়ার জন্য। টিচাররা না থাকলে ক্যান্টিনের মামারা সেখানে বসেন; কখনো গল্প করেন, কখনো পেপার পড়েন।<br />
তবে সেটা অবসর সময়ে।<br />
এখন অবসর নয়।</p>
<p style="text-align: justify;">একটু আগে টিফিনের ঘণ্টা দিয়েছে। ক্যান্টিনের সামনে এখন ছাত্রদের মারাত্মক ভিড়। কেউ ‘মামা একটা বার্গার, কেউবা ‘মামা একটা স্যান্ডউইচ’ বলে মামাদেরকে বার্গার-স্যান্ডউইচ বানিয়ে ফেলছে। পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক সমাজব্যবস্থায় আহার জোগাড় করতে গিয়ে ভবিষ্যতে ওদের যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হবে তার চর্চাটাও বুঝি এখান থেকেই সেরে নিচ্ছে!<br />
সেই ভিড়ের ভেতর ঢুকেই স্বাধীন একটা বার্গার কিনলো। মাঠ দিয়ে যেতে যেতে ও সেটা খেতে লাগলো।</p>
<p style="text-align: justify;">রাতুল আশপাশেই কোথাও ছিলো। ওকে দেখে সহসা কাছে এসে বলতে লাগলো ‘কিরে দোস্ত, একা-একাই খাবি?’ রাতুল স্বাধীনের অনেক পুরনো বন্ধু। ক্লাস এইট পর্যন্ত ওরা প্রতিবছর না হোক, প্রায় বছরই একই সেকশনে থাকতো। নাইনে ওঠার পর স্বাধীন সায়েন্স আর রাতুল কমার্স নেয়ায় এখন একটা গ্যাপ তৈরি হয়েছে- এই যা। তবে ক্লাস বসার আগে, টিফিন পিরিয়ডে কিংবা স্কুল ছুটির পর মাঝে মধ্যে দেখা হয় ওদের। ঠিক আজ যেমনটা হয়ে গেলো।<br />
রাতুলকে দেখে স্বাধীন মৃদু হাসলো, বার্গার থেকে কিছুটা অংশ ছিঁড়ে ওকে দিলো।<br />
রাতুল সেটা খেতে-খেতে বললো, ‘তোদের ক্লাসে র‌্যাগডের প্রিপারেশন কেমন চলছে?’<br />
‘র‌্যাগ ডে!’ স্বাধীন রাতুলের দিকে হা-করে তাকিয়ে রইলো।</p>
<p style="text-align: justify;">‘কেন, তোরা এখনো প্ল্যান-প্রোগ্রাম শুরু করিসনি? আমাদেরতো শুরু হয়ে গেছে বিদ্যুত, দোদুল, রাইয়ান মিলে দায়িত্ব নিয়েছে। শুনছি খুব মজা হবে। আফটার অল, স্কুল লাইফের লাস্ট ক্লাস! সেটা কি আর দশটা দিনের মতো? হেডস্যারের অনুমতি নেয়ার জন্য অ্যাপ্লিকেশন দিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে চাঁদাটা ওরা একটু বেশিই নিচ্ছে- পাঁচশ টাকা! কে জানে, মা দিতে পারবে কি না?’ শেষের কথাটা বলে রাতুল কেমন যেনো বিষণ হয়ে গেলো।<br />
হাঁটতে হাঁটতে পশ্চিম দিকের স্কুল ভবনটার পেছনের একটা নিরিবিলি স্থানে এসে পড়লো ওরা। অদূরেই রুদ্র আর পার্থ দাপাদাপি করে বেড়াচ্ছিলো।</p>
<p style="text-align: justify;">ওদের পেয়ে স্বাধীন আর রাতুলের সাথে থাকতে চাইলো না। ‘তুই এখন যা, পরে কথা হবে তোর সাথে’ বলে দ্রুত পায়ে হেঁটে রুদ্র আর পার্থর কাছে চলে গেলো।<br />
স্বাধীনকে আসতে দেখে পার্থ বলে উঠলো, ‘আররে বস, এতো দেরি করলে কেন’ স্বাধীনও ওদের সাথে মিশে গেল।<br />
রাতুল বজ্রাহতের মতো দাঁড়িয়ে সব দেখলো। ওর মনে হলো, যে স্বাধীনকে ও চিনতো এ যেন সে নয়, বরং অন্য কেউ। ওর মাঝে কত পরিবর্তন!<br />
রাতুল দ্রুত ফিরে এলো সেখান থেকে।</p>
<p style="text-align: justify;">টিফিন পিরিয়ড শেষে পুনরায় ক্লাস শুরু হলো। স্বাধীন ক্লাস করলো না। রুদ্র আর পার্থর সাথেই আড্ডা চালিয়ে গেলো।<br />
পড়ার টেবিলে বসে রাতুল শুধু হাই তুলছিলো। ও খেয়াল করে দেখেছে, পরীক্ষা সামনে এলেই এমনটা হয়। অথচ যেই পরীক্ষা শেষ, অমনি ঘুমও ছুঁ-মন্তর-ছুঁ! তখন শত চেষ্টা করেও চোখের পাতা এক করা যাবে না।<br />
নাহ, রাতুল আর পারছিলো না। ও বই-খাতা গুটিয়ে মায়ের রুমে গেলো। মায়ের সাথে রাতের খাবারটা খেয়েই কিছুক্ষণের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়বে।</p>
<p style="text-align: justify;">শাহনাজ তখন বিছানায় বসে খাতা দেখছিলেন। ক্লাস টেস্টের খাতাগুলো দেখতে দেখতে তার একেবারে বিরক্তি ধরে যাচ্ছিলো। ছেলেমেয়েরা আজকাল বাংলাকে কোনো বিষয়-ই মনে করে না। পরীক্ষার খাতায় কী যে লেখে! যেমন কাটাকুটি, তেমনি হিজিবিজি দেখলে মনে হয় পরীক্ষার খাতা নয়, বাসার রাফ খাতা! কেউ-কেউ আবার আবোল-তাবোল লিখে পাতার-পর-পাতা ভরে রাখে।<br />
রাতুল এসে বললো, ‘মা ভাত খাবে না?’<br />
শাহনাজ বললেন, ‘তোর ক্ষুধা লাগলে খেয়ে নে, আমি পরে খাবো।’</p>
<p style="text-align: justify;">রাতুল চলে যাচ্ছিলো, শাহনাজ হঠাৎ কী ভেবে যেন ওকে থামালেন। রাতুল মুখ ফেরানোর পর বললেন, ‘ভাত খাবি কী দিয়ে? বুয়া তো দেখলাম শুধু করলা ভাজি আর ডাল রান্না করে রেখে গেছে। তুই একটু বোস, আমি একটা ডিম ভেজে দিচ্ছি- বলে খাতাগুলো একত্রিত করে টেবিলের ওপর রেখে তিনি উঠতে যাচ্ছিলেন। রাতুল কাছে এসে বাধা দিয়ে বললো, ‘থাক মা, তোমার আর কষ্ট করার দরকার নেই। আমি ঐ দিয়ে খেয়ে নিতে পারবো।’<br />
‘হয়েছে, আর পাকামো করা লাগবে না!’ ছেলেকে চুপচাপ বসিয়ে শাহনাজ রান্নঘরের দিকে যেতে-যেতে বললেন, ‘পাঁচ মিনিট বোস।’</p>
<p style="text-align: justify;">রাতুল মায়ের যাওয়ার পথের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে রইলো। কতো সহজেই মা সবকিছু ম্যানেজ করে ফেলতে পারেন!<br />
রাতুল ভালো করেই জানে প্রতিদিন মায়ের ওপর দিয়ে কতো ধকল যায়, তবুও এক মুহূর্তের জন্যও মনে হবে না যে, তিনি ক্লান্ত কিংবা জীবন সংগ্রামে পরাজিত। আসলে এটা আর কিছুই নয়, মনের জোর। এই একটা জিনিসই তো আছে, যেটা মানুষকে চলার প্রেরণা দেয়। নইলে বাবা মারা যাওয়ার পর সবকিছুই তো শেষ হবার উপক্রম হয়েছিলো। মা ধীরে ধীরে সবকিছু আবার গুছিয়ে এনেছেন।<br />
পেছনের কথা মনে পড়তেই রাতুল আবার পড়ার টেবিলে গিয়ে বসলো। গুটানো বই-খাতাগুলো খুলে রিভিশন দেয়া শুরু করলো। ওকে আরো সিরিয়াস হতে হবে।</p>
<p style="text-align: justify;">ঘড়িতে তখন রাত ১১টা। খাবার টেবিলে স্বাধীনকে অনুপস্থিত দেখে মোর্শেদ সাহেব স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কী ব্যাপার, স্বাধীন খাবে না?’</p>
<p style="text-align: justify;">রেবা মলিন কণ্ঠে বললেন, ‘সকালের ঘটনায় ও এখনো রাগ করে আছে। দুপুরে স্কুল থেকে ফেরার পর রুমে ঢুকে সেই যে দরজা বন্ধ করেছে, আর খোলেনি। কতবার কতভাবে বললাম, তা-ও খুললো না’ বলতে বলতে রেবার চোখ দুটো ভারী হয়ে উঠলো।<br />
স্ত্রীর কথা শুনে মোর্শেদ সাহেব দ্রুত স্বাধীনকে ডাকতে গেলেন। ওর দরজায় নক করতে করতে নরম গলায় বললেন, ‘স্বাধীন, দরজাটা খোল বাবা! এত রাগ ভালো নয়। দরজাটা খোল।’</p>
<p style="text-align: justify;">স্বাধীনের কোনো সাড়াশব্দ নেই।<br />
মোর্শেদ সাহেব আবার বলতে লাগলেন, ‘দরজাটা খোল বাবা। এভাবে না খেয়ে থাকলে শরীর খারাপ করবে। বের হ, ক’টা খেয়ে নে স্বাধীন।’</p>
<p style="text-align: justify;">এবারো কোন সাড়াশব্দ নেই।<br />
মোর্শেদ সাহেব এবার চিন্তায় পড়লেন। আবার ওর দরজায় নক করতে যাবেন এমন সময় হঠাৎ করে দরজাটা খুলে গেলো। বাইরে বেরিয়ে এলো স্বাধীন। কোনো দিকে তা তাকিয়েই সোজা ডাইনিং টেবিলের কাছে গিয়ে চেয়ার টেনে বসলো।<br />
বিকেল থেকেই পেটের ভেতর ক্ষুধার হাহাকার শুরু হয়েছে, তবুও অভিমানের কারণে এতক্ষণ সহ্য করেছিলো।</p>
<p style="text-align: justify;">স্বাধীন খেতে আসায় রেবা ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। ওর প্লেটে চামচ ভরে ভরে ভাত তরকারি দিতে শুরু করলেন। মোর্শেদ সাহেব স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন। ভাতের লোকমা মুখে দিতে দিতে তিনি ভাবতে লাগলেন, তার ছোট্ট স্বাধীন কিভাবে যেন দিন দিন বড় হয়ে যাচ্ছে। বয়ঃসন্ধিকালের শারীরিক পরিবর্তনের পাশাপাশি মানসিক পরিবর্তনগুলোও ওর মাঝে সুস্পষ্টভাবে লক্ষ্য করছেন তিনি।</p>
<p style="text-align: justify;">মোর্শেদ সাহেব ভালো করেই জানেন, এই বয়সের ছেলেমেয়েদের বিচারবুদ্ধি থাকে একটু কম, আবেগটা থাকে প্রবল। ফলে বেশি আদর পেলে যেমন বিগড়ে যাওয়ার ভয় থাকে, তেমনি কড়া শাসন করলে কিছু একটা করে ফেলতে পারে এই দুশ্চিন্তাও থাকে। তাই এদের কোনোকিছু শেখাতে ও বুঝাতে হয় সাবলীল ভাষায়, অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে, উৎসাহ এবং আত্মবিশ্বাস দিয়ে।</p>
<p style="text-align: justify;">মোর্শেদ সাহেব সেই পন্থাই অবলম্বন করলেন। খাওয়া-দাওয়ার পর রেবার সাথে স্বাধীনকে নিয়ে বসলেন। ছেলের কাঁধে হাত রেখে বোঝাতে লাগলেন, ‘দেখ বাবা, তুই আমাদের একমাত্র সন্তান। তোকে ঘিরে আমাদের অনেক প্রত্যাশা। এই প্রত্যাশাগুলো নষ্ট করিস না। আর কয়েক মাস পরই তো এসএসসি পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় যদি ভালো রেজাল্ট করতে না পারিস তাহলে ভালো কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবি না। জীবনে পিছিয়ে পড়বি। হতাশা তাড়া করবে তোকে। বাবা-মা হয়ে তোর এ-অবস্থা আমরা দেখতে পারবো না। তা ছাড়া এমন তো নয় যে তুই পারবি না। একটু চেষ্টা করেই দেখ না! এখনো তো সময় আছে। সিরিয়াস হ, পড়াশোনায় মনোযোগ দে। যা বললাম, বুঝতে পেরেছিস?’</p>
<p style="text-align: justify;">স্বাধীন মাথা নাড়লো।<br />
কিন্তু বাবার কথাগুলো ও সত্যিই বুঝতে পারলো কি না, তা তো সময়ই বলে দেবে।&#8230;.</p>
<p style="text-align: justify;"><strong>দুই.</strong></p>
<p style="text-align: justify;">নীরব নিস্তব্ধ রাত।<br />
ঘন জঙ্গল।<br />
একাকী হেঁটে যাচ্ছে স্বাধীন।<br />
ওর সারা শরীর ঘামে ভেজা, চোখে-মুখে দুশ্চিন্তা।<br />
কিভাবে ও এলো এখানে?<br />
এখন কিছুই মনে করতে পারছে না।<br />
যেভাবেই হোক এখান থেকে দ্রুত সরে পড়া উচিত।<br />
স্বাধীন জোরে পা চালানো শুরু করলো।<br />
ও হাঁটছে তো হাঁটছে।<br />
সহসা কিসের সাথে যেন হোঁচট খেয়ে ও পড়ে গেলো গভীর এক খাদে।<br />
প্রথমে ভেবেছিলো কাদামাটি, পরে বুঝলো চোরাবালি।<br />
দ্রুত হাত-পা ছোড়াছুড়ি শুরু করলো। সাহায্য চেয়ে চিৎকার করতে লাগলো।<br />
কিন্তু কেউ এলো না ওকে সাহায্য করতে, ও হারিয়ে যাচ্ছে চোরাবালির অতল গহ্বরে!<br />
আমচকা ঘুমটা ভেঙে গেলো। আশপাশে তাকিয়ে দেখলো না, কিছুই হয়নি ওর। ওটা ছিলো নিছক একটা দুঃস্বপ্ন। কিন্তু এই দুঃস্বপ্নটাই কেমন যেনো বিষণ করে দিলো স্বাধীনকে।<br />
বায়োলজি ল্যাবের এক কোনায় চুপচাপ বসেছিলো স্বাধীন।<br />
হঠাৎ অভি এসে জিজ্ঞেস করতে লাগলো, ‘কিরে কী হইছে তোর? গায়ে ঠাটা পড়ছে নাকি?’<br />
স্বাধীন খেয়াল করে দেখেছে, এই অভি ছেলেটা সবসময় ওর পিছে লেগে থাকে। স্বাধীন একদম সহ্য করতে পারে না এটা। কেউ তার ওপর নজর রাখছে এ ব্যাপারটা মোটেও পছন্দ করে না সে।<br />
অভির প্রশ্নের জবাবে স্বাধীন কিছুই বললো না। শুধু চোখ দুটো বড়ো বড়ো করে ওর দিকে তাকিয়ে রইলো।<br />
ওদিকে শুচি ম্যাডাম এতক্ষণ ব্যবচ্ছেদ ট্রেতে ক্লোরোফর্ম দিয়ে অজ্ঞান করা ব্যাঙটা সেট করছিলেন। আলপিন দিয়ে সেটার সামনের ও পেছনের পায়ের তালু ট্রের মোমের সাথে আটকে দিয়ে তিনি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললেন, ‘এ্যাই দেখো, সবাই এদিকে তাকাও&#8230; আমি এখন ব্যাঙ কেটে দেখাবো, তোমরা সবাই খেয়াল করো’- বলে কাঁচি আর চিমটার সাহায্যে ব্যাঙটার তলদেশের মাঝ বরাবর কেটে উন্মুক্ত করলেন তিনি।<br />
ব্যাঙের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলো এভাবে এতটা কাছ থেকে দেখতে পেয়ে কিছু ছাত্র এর মাঝেই ‘এ্যাঁক’, ‘উয়্যাক’ শব্দ করা শুরু করলো।<br />
ওদের অবস্থা দেখে শুচি ম্যাডাম বললেন, ‘ব্যাঙ দেখেই এই অবস্থা? এইচএসসি লেভেলে গিয়ে যখন তেলাপোকা কাটতে হবে, তখন তো মনে হয় অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাবে।’<br />
ক্লাসের চটপটে ছেলে অনন্ত সঙ্গে সঙ্গে বললো, ‘ম্যাডাম, এইচএসসি লেভেলে গিয়ে বায়োলজি নিলে তো, এখন নিয়েই যেই ধরা খাইছি!’<br />
‘ধরা তো খাবাই। ভালো করে পড়ো বায়োলজি বইটা? পুরো সময় তো ম্যাথ, ফিজিক্স আর কেমিস্ট্রির পেছনে লেগে থাকো!’<br />
ম্যাডাম ওদের ভুলটা ধরিয়ে দিলেন।</p>
<p style="text-align: justify;">প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসের পর টিফিন পিরিয়ড ছিলো।<br />
রুদ্র স্বাধীনকে জিজ্ঞেস করলো, ‘কিরে, যাবি নাকি?’<br />
‘কই?’<br />
‘আজকে পার্থর বার্থ ডে। ও বলছে আমাদের সাথে সেলিব্রেট করবে। আমরা এখনি বের হবো। বাইরে গিয়ে ঘুরবো, খাবো। তুই গেলে চল, নইলে এইখানে বয়ে-বয়ে ডিম পাড়।’<br />
স্বাধীনের মন খারাপ ছিলো। ও ভেবে দেখলো, ঘোরাঘুরি করলে ভালো লাগতে পারে। তাই রাজি হয়ে গেলো।<br />
দু’জনে ক্লাস রুম থেকে ব্যাগ আনতে যাবে এমন সময় অভি এসে ঘিরে ধরলো ওদের। বললো ‘তোরাই কেবল যেতে পারবি না, আমাকেও নিতে হবে।’<br />
‘ক্যান, ঠ্যাকা পড়ছে?’ রুদ্র ওকে বোল্ড করলো। স্বাধীন রাগে দাঁত কিটমিট করছে।<br />
‘হ্যাঁ, ঠ্যাকা পড়ছে।’<br />
রুদ্র ওকে বোল্ড করলো। স্বাধীন রাগে দাঁত কিটমিট করছে।<br />
‘হ্যাঁ, ঠ্যাকা পড়ছে। ’<br />
অভিও নাছোড়বান্দা, ‘তোরা যদি আমাকে না নেস তাহলে আমি কবীর স্যারকে সব বলে দেবো।’<br />
‘বলগে-’ রুদ্র আর কথা বাড়ালো না, স্বাধীনকে নিয়ে চলে এলো।<br />
অন্য সময় হলে ও অভিকে কয়েকটা কিল-ঘুষি মেরে একেবারে সাইজ করে দিতো। এখন স্কুল পলানোর তালে আছে বলে কিছু করলো না।<br />
টিফিন পিরিয়ডে তিনজন রোজ যে জায়গায় আড্ডা দিতে আসে, সেই জায়গার ওয়াল টপকে ওরা প্রথমে বাইরে বের হলো। তারপর একটা রিক্সা নিয়ে চলে গেলো ছেলেদের ফ্যাশন হাউস ‘অল ইন ওয়ান’-এ।</p>
<p style="text-align: justify;">পার্থ প্রতিবছর নিজের বার্থ ডে-তে আর কিছু করুক-না করুক, একগাদা শপিং করবেই। সেই ঐতিহ্য ধরে রাখতেই ও অনেক কিছু কিনলো। প্রথমে নিলো জোড়াতালি দেয়া আঁটসাঁট জিন্স-প্যান্ট, তারপর ঢুলুঢুলু টি-শার্ট, এরপর ‘ডেঞ্জার’ ছাপার রিস্ট ব্যান্ড, গলার জন্য শিকল, ডাইনোসারের পায়ের সাইজের স্যান্ডেল ইত্যাদি ইত্যাদি।<br />
ওর কেনাকাটার ধুম দেখে স্বাধীন রুদ্রকে বললো, ‘কিরে, আমাদের পার্থ কি লটারি জিতেছ নাকি? যেভাবে সব কিনছে, বিল তো পাঁচ-ছয় হাজারের নিচে আসবে না!’<br />
কিন্তু রুদ্র কিছুই শুনতে পেলো না। শুনবে কিভাবে? দু’কানেই ইয়ার ফোন লাগানো ছিলো যে! ইদানীং চলতে-ফিরতে, উঠতে বসতে- সব জায়গাতেই কানে ইয়ার ফোন লাগিয়ে ও গান শোনে। ভাবটা এমন- পারলে টয়লেটে গিয়েও গান শোনে। শ্রবণ প্রতিবন্ধীরা যেমন হেয়ারিং এইড ছাড়া চলতে পারে না, রুদ্রও তেমনি কানে ইয়ার ফোন না লাগিয়ে থাকতে পারে না।<br />
স্বাধীন টান দিয়ে ওর এক কানের ইয়ার ফোন খুলে দিয়ে কথাগুলো আবার বললো।<br />
বিষয়টা একেবারেই স্বাভাবিক এমন ভঙ্গি করে রুদ্র বললো, ‘বাদ দে তো, ওর বাপের অনেক টাকা আছে। এসব ওর কাছে মামুলি ব্যাপার।’<br />
‘অল ইন ওয়ান’ থেকে তিনজনে গেলো ‘চায়না টাউন’ রেস্টুরেন্টে। বার্থ ডে-টা যেহেতু পার্থর তাই রুদ্র আর স্বাবধীন মিলে ওকে কিছু খাওয়াতে চাইলো। কিন্তু পার্থ কিছুতেই ওদের তা করতে দিলো না।<br />
‘চায়না টাউন’ থেকে লাঞ্চ সেরে রাস্তায় হাঁটতে-হাঁটতে ওরা প্লান করতে লাগলো- এরপর কোথায় যাওয়া যায়। রুদ্র একটা বললো, পার্থ একটা বললো। স্বাধীন আবার বললো আরেকটা&#8230;<br />
ঘোরাঘুরি শেষে সন্ধ্যার ঠিক একটু আগে স্বাধীন যখন বাসায় ফিরলো, রেবা তখন বেশ উদ্বিগ্ন। জিজ্ঞেস করলেন, ‘কিরে বাবা, কই ছিলি এতক্ষণ?’<br />
স্বাধীন আমতা-আমতা করে একটা বানোয়াট জবাব দিয়ে দ্রুত কেটে পড়লো।<br />
মোর্শেদ সাহেব এই সময়টায় বাসায় থাকেন না বলেই বেঁচে গেলো। নইলে কিছুতেই এতো সহজে ছাড় পেতো না স্বাধীন।<br />
ঘটনাটা ঘটলো পরদিন।<br />
কবীর স্যার ক্লাসে ঢুকে রুদ্র আর স্বাধীনকে দাঁড় করালেন। জানতে চাইলেন, কমার্সের পার্থর সাথে গতকাল স্কুল পালিয়ে তারা কোথায় গিয়েছিল।<br />
রুদ্র স্বীকার করার পাত্র নয় এবং ও সেটা করলোও না। স্বাধীন একবার ঘাবড়ে গিয়ে বলে দিতে যাচ্ছিলো, কিন্তু রুদ্রের খোঁচা খেয়ে ও সত্যটা চেপে গেলো।<br />
কবীর স্যার মিথ্যা বলা একদম পছন্দ করেন না। তিনি ভীষণ রেগে গেলেন। রুদ্র আর স্বাধীনকে ক্লাসরুম থেকে বের করে দিলেন।<br />
শুধু যে গতকালের ঘটনায় তিনি ওদের ওপর এতটা চটেছেন তা নয়। বেশ কিছুদিন ধরেই ওদের নামে স্যার-ম্যাডামদের সম্পর্কে আজে-বাজে মন্তব্য করা, ক্লাস ফাঁকি দেয়া, চিপাচাপাতে গিয়ে আড্ডা দেয়ার মতো বড়ো ধরনের অভিযোগও পাচ্ছিলেন তিনি। মাঝে দু-একবার ওয়ার্নিংও দিয়েছেন। কাজ হয়নি। তাই আজ এমনটা করতে বাধ্য হলেন।<br />
ওদিকে এভাবে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে স্বাধীনের খুব অপমানে লাগছিলো। ওর মনে হচ্ছিলো, সারা স্কুল যেন ওর দিকে তাকিয়ে আছে।<br />
এ-সব কিছুর মূলে অভি। দুষ্টুটা এখন মুচকি-মুচকি হাসছে!<br />
দাঁড়া, আজ তোর একদিন কী আমার একদিনÑ স্বাধীন মনে মনে বললো।</p>
<p style="text-align: justify;">টিফিন পিরিয়ডে স্কুলমাঠে অভির পথ আটকালো স্বাধীন। সঙ্গে রুদ্রও ছিলো।<br />
তর্জনি উঁচিয়ে স্বাধীন ওকে বললো, ‘তোর সাহস তো কম নয়!’<br />
অভি দৃঢ়কণ্ঠে বললো, ‘আমিতো আগে বলছিলামÑ আমারে না নিলে তোদের কথা আমি বলে দেবো।’<br />
রুদ্র ওর শার্টের কলার চেপে ধরলো, ‘ওই, তুই আমাদের থ্রেট দিস?’<br />
অভি নিজেকে ছাড়াতে-ছাড়াতে বললো, ‘আমার আর থ্রেট দেয়ার দরকার কী থ্রেটে তো তোরা এমনিতেই আছিস, নিজেদের চিন্তা কর।’<br />
স্বাধীন আর নিজেকে সামলাতে পারলো না। সহসা ওর পেটে খুব জোরে একটা ঘুষি মেরে বসলো।<br />
সঙ্গে সঙ্গে ‘বাবা-গো’ বলে পেট ধরে মাটির ওপর বসে পড়লো অভি।<br />
মুহূর্তেই একটা জটলা পাকিয়ে গেলো ওদের ঘিরে।<br />
হৈচৈ শুনে শওকত সাহেব তার রুম থেকে বেরিয়ে এলেন। হেডস্যারকে আসতে দেখে রুদ্র আগেই কেটে পড়লো। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি পেলেন স্বাধীনকে।<br />
ব্যাপারটা শওকত সাহেব কিছুতেই বরদাস্ত করতে পারলেন না। যেখানে নিয়ম শৃঙ্খলার জন্য তার স্কুলের বিশেষ সুনাম রয়েছে, সেখানে এমন ঘটনা!<br />
শওকত সাহেব স্বাধীনকে ঘাড় ধরে তার রুমে নিয়ে গেলেন। ফোন করে ওর গার্ডিয়ান ডাকলেন।<br />
মোর্শেদ সাহেব হন্তদন্ত হয়ে রুমে ঢুকলেন। স্বাধীনকে পেয়ে সঙ্গে-সঙ্গে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কিরে কী হয়েছে?’<br />
ও কিছু বলার আগেই শওকত সাহেব শুরু করলেন, ‘এটা আপনার ছেলে?’<br />
‘জি হ্যাঁ, কিন্তু কী হয়েছে?’<br />
‘কী হয়নি সেটাই বলুন? এমন ভায়োলেন্ট ছেলেদের আপনারা স্কুলে পাঠান কেন যারা স্কুলের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করে, মামামারি করে ক্লাসমেটকে আহত করে? এদের কী শিক্ষা দেন বাসায়? আপনাদের মতো অভিভাবকদের কারণেই আমাদের সমাজের আজ এ করুণ দশা!’ শওকত সাহেবের কণ্ঠে ক্ষোভের আগুন ঝরতে লাগলো।<br />
হেডস্যারের কথা শুনে মোর্শেদ সাহেব লজ্জায়, রাগে, অপমানে একেবারে যেন মাটির সাথে মিশে যাচ্ছিলেন। ছেলেটা তাকে আর অবশিষ্ট রাখলো না!<br />
রেবা খুব চিন্তিত ছিলেন। অনেকক্ষণ আগে মোর্শেদ সাহেব তাকে ফোন করে জানিয়েছিলেন যে তাকে স্বাধীনের স্কুল থেকে ডাকা হয়েছে, কিন্তু কেন তখন বিস্তারিত কিছুই বলতে পারেননি তিনি। এরপর স্বামীর সেল ফোনে অনেকবার কল করেছেন রেবা, মোর্শেদ সাহেব কল রিসিভ করেননি। কী ব্যাপার, কী হলোÑ ভেবে ভেবে রেবার চিন্তা আরো বেড়ে গেছে অনেক গুণে।<br />
কলিংবেলটা বাজতেই বিদ্যুৎ বেগে ছুটে গিয়ে দরজাটা খুললেন তিনি। মোর্শেদ সাহেবের সাথে স্বাধীন ঘরে ঢুকলো।<br />
স্বাধীনকে ঠিকঠাক দেখে রেবা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন কিন্তু চিন্তামুক্ত হতে পারলেন না। স্বামীর কাছে জানতে চাইলেন কী হয়েছে।<br />
রেবার প্রশ্ন শুনে মোর্শেদ সাহেব রেগে গেলেন। সমস্ত রাগ ঢাললেন স্ত্রীর ওপর, ‘জানতে চাও কী হয়েছে? জিজ্ঞেস করো তোমার ছেলেকে, কী করেছে ও। খালিতো লাই দাও।’<br />
রেবা এমনিতেই চিন্তিত ছিলেন, তার ওপর স্বামী আসল ব্যাপারটা না বলে আগেই তাকে দোষারোপ করছে। রেবাও রেগে গেলেন, ‘ছেলে কি আমার একার? তোমার না?’<br />
‘না ও আমার সন্তান না। যদি আমার সন্তান হতো তাহলে সোসাইটিতে আমার সম্মানটুকু নষ্ট হতে দিতো না, স্কুলে গিয়ে গুণ্ডামি করতো না!’<br />
‘কী? গুণ্ডামি!’ রেবা কপাল কুঁচকালেন।<br />
‘হ্যাঁ, গুণ্ডামি। মারামারি করে এক ক্লাসমেটকে হসপিটালে পাঠিয়ে দিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, ওর ক্লাসটিচার আমাকে বললেন, আজকাল নাকি ও স্কুল পালায়, স্যার-ম্যাডামদের নিয়ে অশোভন মন্তব্য করে, আড্ডা দেয়, আরো কতো কী! হেডস্যার বলেছেন, এমন ছেলেকে তার স্কুলে আর রাখবেন না। ওকে টিসি দেয়ার ব্যবস্থা করছেন তিনি। তা ছাড়া ওই ছেলের যদি কিছু হয়, তাহলে আরো বড়ো ধরনের ঝামেলা হবে। আমি কিচ্ছু জানি না। ও যেমন অন্যায় করেছে, তেমনি শাস্তি পাবে। আমি আর ওর ব্যাপারে নেই। ভেবেছিলাম শুধু লেখাপড়াতেই অমনোযোগী, এখন তো দেখছি &#8230; উফ!’ মোর্শেদ সাহেব বসা থেকে উঠে দাঁড়ালেন, নিজ রুমে গিয়ে ঠাস করে দরজা লাগিয়ে মনের ভেতরের রাগটা প্রকাশ করলেন।<br />
রেবা যেন বিশ্বাসই করতে পারলেন না। যে স্বাধীনকে তিনি এতো ভালোবাসা দিয়ে বড়ো করেছেন, সেই স্বাধীন এমন করতে পারলো?<br />
‘কিরে, তোর বাবা যা বলে গেলো ঠিক?’ জিজ্ঞেস করলেন তিনি।<br />
স্বাধীন মাথা নামিয়ে রাখলো।<br />
ওর নীরবতা রেবার সামনে সবকিছু স্পষ্ট করে দিলো। ফলে যেটা তিনি কখনোই করেন না, আজ সেটাই করলেন। ঠাস করে স্বাধীনের গালে একটা চড় বসিয়ে দিলেন।<br />
এই প্রথম স্বাধীন উপলব্ধি করলো কতো বড়ো একটা ভুল সে করে ফেলেছে।<br />
সন্ধ্যার আলো-আঁধারিতে ছাদে দাঁড়িয়ে ছিলো স্বাধীন। নিজেকে আজ বড় নিঃসঙ্গ মনে হচ্ছে ওর। মনে হচ্ছে এক সমস্যাসঙ্কুল গহ্বরের ভেতর আটকে গেছে, যেখান থেকে ওকে উদ্ধার করবার কেউ নেই। ঠিক সেই দুঃস্বপ্নের মতোই।<br />
কিন্তু এসবের জন্য ও নিজেই কি দায়ী নয়? নিজের সবটুকু জ্ঞান বর্জন করে ও এতদিন যা করেছে, যেখানে চলেছে; তার সবটাই কি ভুল ছিলো না?<br />
কিসের জন্য ও এসব করেছিলো, নিজের একঘেয়ে জীবনটাতে বৈচিত্র্য আনতেই তো? আর সমবয়সীদের মাঝে ‘হিরো’ হওয়ার অদম্য বাসনা থেকে। কিন্তু এর জন্য এমন ভুল পথ অবলম্বন করার কী দরকার ছিলো?<br />
হেড স্যার যেভাবে ক্ষেপেছেন তাতে তিনি নিশ্চয়ই ওকে টিসি দিয়ে দেবেন। তারপর কোন স্কুলে ভর্তি হবে? এ অবস্থায় কোনো স্কুল তো ওকে ভর্তিও নেবে না। লাইফটা শেষ হয়ে যাবে একদম!<br />
ইস! কেন করলো এমনটা?<br />
কেন?<br />
অতীতের অজ্ঞানতা, বর্তমানের অনুশোচনা আর ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তাÑ এই তিনে মিলে স্বাধীনের মাঝে গভীর হতাশার সৃষ্টি করলো। রাতে ঘুমোতে পারলো না। বিছানায় শুয়ে শুধু এপাশ-ওপাশ করলো।<br />
বাস্তবতার সাথে খাপ খাওয়াতে বড় কষ্ট হচ্ছে ওর। এখন শুধু চাই মুক্তি, সবকিছু থেকে অব্যাহতিÑ স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললো।<br />
সকালে ঘুম থেকে উঠে স্বাধীনের রুমের দরজা খোলা দেখে রেবা চমকে গেলেন।<br />
ওর রুমে ঢুকতেই তার বুকটা ধুক করে উঠলো।<br />
কোত্থাও নেই তার স্বাধীন। বিছানায়, বাথরুমে, ব্যালকনিতে- না কোত্থাও নেই।<br />
বহু খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে তার চোখ গিয়ে পড়লো স্বাধীনের পড়ার টেবিলে, পেপারওয়েট দিয়ে আটকে রাখা কাগজটির ওপর।<br />
তিনি হাতে তুলে নিলেন সেটা।</p>
<p style="text-align: justify;">স্বাধীনের চিঠি।<br />
রেবা দ্রুত পড়তে লাগলেন।</p>
<blockquote><p>প্রিয় বাবা ও মা,<br />
পারলে আমাকে ক্ষমা করে দিও।<br />
কখনো ভাবিনি, জীবনে এমন একটা দুঃসময় আসবে যখন নিজের কাছ থেকেই নিজে পালিয়ে বেড়াবো।<br />
পরিস্থিতি এতটাই বিরূপ হয়ে উঠবে, বুঝতেই পারিনি!<br />
আমি আর পারছি না, তাই বাসা ছেড়ে চলে যাবার সিদ্ধান্ত নিলাম। প্লিজ, আমার খোঁজ করো না।<br />
ইতি<br />
তোমাদের স্বাধীন।</p></blockquote>
<p style="text-align: justify;">চিঠিটা পড়া শেষ হতেই রেবা তাড়াতাড়ি স্বামীকে ঘুম থেকে ডেকে তুললেন।<br />
সব শুনে মোর্শেদ সাহেবও অস্থির হয়ে পড়লেন। শত হোক নিজের ছেলে। ভুল যা করেছে, করেছে। তাই বলে এভাবে চলে যাবে?<br />
মোর্শেদ সাহেব ছেলের খোঁজে বের হলেন।</p>
<p style="text-align: justify;">ওদিকে বাস টার্মিনালের ভেতর বসে স্বাধীনও খুব একটা শান্তিতে ছিলো না। রূঢ় বাস্তবতা থেকে মুক্তি পেতে ও সবকিছু ফেলে চলে এসেছে ঠিকই, কিন্তু রেখে এসেছে পিছুটান। ক্ষণে-ক্ষণে যা ওকে প্রলুব্ধ করছে ফিরে যেতে। বাবা-মাকে খুব মিস করছে স্বাধীন!</p>
<p style="text-align: justify;">বাসা থেকে বের হয়েছে সেই কোন ভোরে! আকাশ থেকে তখন অন্ধকার আবরণটা কেবল সরেছে মাত্র, পথে ঘাটে মানুষ ছিলো দু-একজন। স্কুল ব্যাগের ভেতর নিজের কিছু কাপড়-চোপড়, প্রয়োজনীয় কয়েকটা জিনিসপত্র আর প্যান্টের পকেটে সমস্ত জমানো টাকা নিয়ে ও যখন বের হলো, আর একটি বারের জন্যও পেছনে ফিরে তাকালো না।<br />
মুক্তির নেশায় এতটাই মত্ত ছিলো যে, গভীরভাবে কিছুই ভেবে দেখেনি তখন। এখন খুব খারাপ লাগছে।<br />
স্বাধীনের কেন যেন মনে হচ্ছে, আশপাশের সবাই ওর দিকে আড়চোখে তাকাচ্ছে।<br />
ওর খুব অস্বস্তি ও অশান্তি লাগছে।<br />
বারবার গলা শুকিয়ে যাচ্ছে।<br />
ব্যাগ থেকে প্লাস্টিকের বোতলটা বের করে ও পানির শেষ ঢোকটুকু গিললো।<br />
শূন্য পানির বোতলটা হাতে নিয়ে আবার ভাবনার জগতে হারিয়ে গেলো।<br />
এখন কোথায় যাবে ও? কী করবে? ঘুরেফিরে এই বিষয়গুলোর ভেতরই হাবুডুবু খাচ্ছিলো স্বাধীনের মন।<br />
সহসা একটা টোকাই ছেলে এসে ওর মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করলো। বললো, ‘ভাইজান, দুইটা ট্যাকা দেবেন?’<br />
স্বাধীন প্রথমে পাত্তা দিলো না।</p>
<p style="text-align: justify;">দ্বিতীয়বার ছেলেটা যখন বিনীত স্বরে বললো, ‘ভাইজান, দেন না দুইটা ট্যাকা। কাইল রাইত থেইকা কিচ্ছু খাই না!’ স্বাধীন তখন ওর দিকে তাকালো। শুকনো শরীর, তামাটে চামড়ার রঙ। পরনে মলিন হাফপ্যান্ট। এমন ছেলে ও এর আগেও রাস্তা-ঘাটে অনেক দেখেছে, কিন্তু আজ কেন যেন মায়া লাগলো।</p>
<p style="text-align: justify;">যদিও নিজের জমানো টাকাগুলো এখন ওকে খুব হিসেব করে খরচ করতে হবে, তারপরও পকেট থেকে দশ টাকার একটা নোট বের করে ও ছেলেটাকে দিলো। ছেলেটা সেটা পেয়ে খুশিতে নাচতে নাচতে চলে গেলো।</p>
<p style="text-align: justify;">কী আশ্চর্য, কত অল্পেই সন্তুষ্ট হতে পারে এরা! হতাশা আর গ্লানি ছাড়া আর কী আছে এদের জীবনে? তবুও তো এরা বেঁচে আছে। বাস্তবতার সাথে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে।</p>
<p style="text-align: justify;">ব্যাপারটা স্বাধীনকে গভীরভাবে নাড়া দিলো। ওর মাঝে একটা চেতনা জেগে উঠলো। ও উপলব্ধি করলো, যেভাবে সবকিছু ফেলে চলে এসেছে, তাতে ও মোটেও অতীত থেকে মুক্তি পাবে না। বরং তা প্রতি মুহূর্তে উল্টো ওকে তাড়া করে বেড়াবে। এর চেয়ে সত্যের মুখোমুখি হয়ে তার সাথে সংগ্রাম করাই শ্রেয়।</p>
<p style="text-align: justify;">স্বাধীন উঠে দাঁড়ালো। ওর মেরুদণ্ড এখন টানটান, কপাল প্রশস্ত, হাত দুটো মুষ্টিবদ্ধ। যে করেই হোক ও এখন ফিরে গিয়ে সামনাসামনি সবকিছুর মোকাবেলা করবে। এতদিন যা ভুল করেছে, এখন তা শুধরাবে। ভালো ছেলে হয়ে সবাইকে দেখিয়ে দেবে, বাবা-মার স্বপ্ন কিভাবে পূরণ করতে হয়।</p>
<p style="text-align: justify;">স্বাধীন ব্যাগটা কাঁধে ঝোলালো। টার্মিনালের ভেতর থেকে বাইরে বের হয়ে ফুটপাথ ধরে হাঁটা শুরু করলো।</p>
<p style="text-align: justify;">নগরীর ভাঙাচোরা ফুটপাথ ওর কাছে জীবনের বন্ধুর পথের মতোই মনে হলো। তবুও এ পথ আজ পাড়ি দেবে ও। কেননা আজ স্বাধীন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাকে মানুষ হতেই হবে, প্রকৃত বড় মানুষ।</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.kishorkanthabd.com/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%a8-%e0%a6%93-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a7%80%e0%a6%a8/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>সেই দিনগুলো</title>
		<link>http://www.kishorkanthabd.com/%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%87-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a7%8b/</link>
		<comments>http://www.kishorkanthabd.com/%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%87-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a7%8b/#comments</comments>
		<pubDate>Mon, 01 Feb 2010 14:02:44 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[স্মৃতিকথা]]></category>
		<category><![CDATA[আল মাহমুদ]]></category>
		<category><![CDATA[কিশোর স্মৃতি]]></category>
		<category><![CDATA[কৈশোর]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.kishorkanthabd.com/?p=261</guid>
		<description><![CDATA[মানুষের জীবনের ঘটনাপ্রবাহ যেমন আল মাহমুদের কবিতায় এসেছে তেমনি এসেছে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের বেদনা। ছড়া ও কিশোর-কবিতার ভুবনে একটি উঁচু অবস্থানে উঠে গেছেন তিনি।]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<h2 style="text-align: justify;">আল মাহমুদ</h2>
<blockquote>
<p style="text-align: justify;">মানুষের জীবনের ঘটনাপ্রবাহ যেমন আল মাহমুদের কবিতায় এসেছে তেমনি এসেছে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের বেদনা। ছড়া ও কিশোর-কবিতার ভুবনে একটি উঁচু অবস্থানে উঠে গেছেন তিনি। <span id="more-261"></span>আল মাহমুদের প্রায় সব কাব্যগ্রন্থের সাথেই রয়েছে দু’চারটি শিশু-কিশোর কবিতা যা পাঠকদের বিমোহিত করে। তার এসব কবিতায় পাঠক উচ্ছ্বসিত হন। কল্পনার রঙধনু চোখের সামনে তুলে ধরে ক্লান্তিহীন এক চমৎকার বাংলাদেশ। শব্দের সুরে অন্য অর্থ, বক্তব্যের আড়ালে অন্য মাধুর্য, রূপকল্প, বর্ণনার সৌকর্য, পরিশীলিত প্রকাশের চমৎকারিত্ব আল মাহমুদের শিশু-কিশোর কবিতাকে করে তুলেছে অনন্য। এ সংখ্যায় প্রকাশিত হলো আল মাহমুদের কৈশোরস্মৃতির</p>
</blockquote>
<p><strong><span style="text-decoration: underline;">দশম কিস্তি</span></strong></p>
<p style="text-align: justify;">মানুষের জীবন খুবই বৈচিত্র্যময়<a href="http://www.kishorkanthabd.com/wp-content/uploads/2010/01/kishror-srity.jpg"><img class="alignleft size-medium wp-image-262" style="margin-left: 8px; margin-right: 8px;" title="kishror-srity" src="http://www.kishorkanthabd.com/wp-content/uploads/2010/01/kishror-srity-240x300.jpg" alt="" width="240" height="300" /></a>। প্রতিনিয়ত মানুষের জীবনে আসে পরিবর্তন। মানুষ অবশ্য পরিবর্তনের পক্ষপাতী। একটু আগে যেখানে সুখের নহর বইছিল একটু পর সেখানেই দুঃখের সাগর বয়ে যায়। কোন একটি জিনিস পাওয়ার জন্য মানুষের আকাক্সক্ষা সীমাহীন। সে মনে করে কাক্সিক্ষত জিনিসটি পেলে সে খুবই লাভবান হবে। কিন্তু সবাই কাক্সিক্ষত বস্তুটি পায় না। যারা পায় তারা খুশি হয় আর যারা পায় না তারা আশায় বুক বেঁধে থাকে। এই যে আশা, এটিই মানুষের জীবনের বাহক। এই আশা না থাকলে মানুষের জীবনধারা অচল হয়ে যেত। পৃথিবী আজ এরকম সুন্দর হতো না।</p>
<p style="text-align: justify;">যাইহোক, মানুষের জীবন চিরবৈচিত্র্যময় ও গতিশীল। মানুষ চাক আর না চাক জীবন সদাবেগবান। এ জীবন কখনো থেমে থাকে না। কিন্তু মানুষ সেটা বুঝতে পারে না। আমি নিজের কথাই বলি। এই তো ক’দিন আগেও স্কুলে যেতাম। পাড়ার সহপাঠীদের সাথে কত না মজা করে ঘুরতাম। মাঝে মাঝে মনে হতো পাখিদের সাথে উড়ে বেড়াই। কত না সুখেই কেটেছিল দিনগুলো। কিন্তু আজ একি! চারপাশে সবকিছু আছে। না চাইতে অনেক কিছু পাই। কোন কিছুরই অভাব নেই। কিন্তু তবু কোথায় যেন শূন্য শূন্য বোধ হয়। মনে হয় কিছুই নেই। এর মূল কারণ মনের বল। আগে মনে বল ছিল, আকাশের চাঁদকে মনে হতো হাতের মুঠোয়। আর এখন মনে বল নেই। টেবিলে কলমটিকে মনে হয় সাত সমুদ্র তের নদী দূরে।</p>
<p style="text-align: justify;">প্রকৃতপক্ষে মানুষের জীবন মানুষের সাথে থাকলেও সবসময় তা মানুষের ইচ্ছার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর একজন নিয়ন্ত্রণকারী আছেন। মানুষের চেয়ে নিয়ন্ত্রকের নির্দেশ তার কাছে অধিক শিরোধার্য। ভাষা মানুষের সেই নিয়ন্ত্রকের সেরা দান। ভাষা আছে বলেই আমরা মাকে ‘মা’ বলে ডাকতে পারি। ছোট্ট বোনটিকে ‘এই বুড়ি’ অথবা ‘আপু’ বলে সম্বোধন করি। কখনো ভালো না লাগলে মনের সুখে গান গাই, গান শুনি কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে আমাদের যেমন ভাষা আছে, পৃথিবীর প্রত্যেকটি প্রাণীর নিজস্ব ভাষা আছে। তারা তাদের ভাষায় মানুষের মতোই সবকিছু করে।</p>
<p style="text-align: justify;">আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলি। এটা আমাদের রাষ্ট্রভাষা, মাতৃভাষা। এই ভাষা আমাদের নিজস্ব ভাষা। আমরা জাতি হিসেবে বাংলাদেশী আর আমাদের ভাষা বাংলা। পৃথিবীতে এমন অনেক জাতি আছে যাদের নিজস্ব কোনো ভাষা নেই। তারা অন্য জাতি বা দেশের ভাষায় কথা বলে। এ ক্ষেত্রে আমরা সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং স্বতন্ত্র।</p>
<p style="text-align: justify;">আমাদের এই ভাষা, যাদের একই সাথে নিজস্ব ভাষা ও দেশ আছে তাদের থেকেও স্বতন্ত্র। কারণ আমাদের ভাষার একটি গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস আছে। যা অন্য কোন ভাষার নেই। এই ভাষার জন্য আমাদের পূর্বপুরুষরা তাদের জীবন দিয়েছেন। সে এক অমর ইতিহাস।</p>
<p style="text-align: justify;">১৯৫২ সাল। ফেব্রুয়ারি মাস, আমি বয়সে নবীন। সারা দেশে তুমুল উত্তেজনা। চারদিকে যুদ্ধংদেহি মনোভাব। সবার মুখে এক কথা ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’। এক মুখ থেকে অন্য মুখে। এক কথা এক সুর। ক্রমে ক্রমে ভাষার ভালোবাসা গণআন্দোলনে রূপ নেয়। তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী এ আন্দোলন ঠেকাতে জারি করে কারফিউ। কিন্তু কে শুনে কার কথা! ১৯৫২ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি জীবনের মায়া ত্যাগ করে কারফিউ উপেক্ষা করে ঢাকায় বের হয় মিছিল। পুলিশ মিছিলে গুলি চালালে রফিক, বরকত ও সালামরা শহীদ হন। এ খবর শোনার পর সারা দেশ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। শুরু হয় তুমুল আন্দোলন। আমরা সে আন্দোলনে অর্থ সাহায্য দেয়ার জন্য ট্রেনে চড়ে ক্যানভাস করে টাকা জোগাড় করতাম। জনগণ আমাদের সাহায্য করেছিল। তাদের সমর্থন ভাষা আন্দোলনকে বেগবান করতে সহায়তা করেছে।</p>
<p style="text-align: justify;">পরবর্তীতে তারা সফলও হয়েছিলেন। আর তাদের রক্ত, জীবন ও আন্দোলনের ফসল আজকের এই বাংলাভাষা।</p>
<p style="text-align: justify;">আমাদের উচিত যারা এই ভাষার জন্য প্রাণ উৎসর্গ করেছেন তাদের প্রতি সম্মান জানানো ও দোয়া করা। সেই সাথে মাতৃভাষা ভালোভাবে লিখতে, পড়তে, বলতে ও এই ভাষাতে কবিতা আবৃত্তি করতে শেখা। বাংলা ভাষাকে অবজ্ঞা করে ইংরেজিতে কথা বলে ও লেখাপড়া করে ভাষা দিবসে শুধু ভাষা শহীদদের কবরে ফুল দিলে ভাষার মর্যাদা রক্ষা করা হয় না। আর এটা ভাষা শহীদদের উদ্দেশ্যও ছিল না। বরং তাদের উদ্দেশ্য ছিল মায়ের মুখে, স্কুলের পাঠ্যবইয়ে, অফিস আদালতে বাংলাভাষার প্রসার। তাদের জীবনদান সেদিন সার্থক হবে যেদিন আমরা বাংলাভাষাকে ভালোবাসবো, বাংলাভাষার চর্চা করবো এবং বিশ্বের বুকে বাংলা ভাষাকে ছড়িয়ে দেবো। আমি তোমাদের সেই আহ্বানই জানাচ্ছি।</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.kishorkanthabd.com/%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%87-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a7%8b/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>আইডিয়া কাপে শ্রীলঙ্কাই সেরা</title>
		<link>http://www.kishorkanthabd.com/%e0%a6%86%e0%a6%87%e0%a6%a1%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a7%87-%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%b2%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%87-%e0%a6%b8/</link>
		<comments>http://www.kishorkanthabd.com/%e0%a6%86%e0%a6%87%e0%a6%a1%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a7%87-%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%b2%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%87-%e0%a6%b8/#comments</comments>
		<pubDate>Mon, 01 Feb 2010 13:56:18 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[খেলার খবর]]></category>
		<category><![CDATA[আইডিয়া কাপ]]></category>
		<category><![CDATA[ক্রিকেট]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলাদেশ ক্রিকেট]]></category>
		<category><![CDATA[সাকিব]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.kishorkanthabd.com/?p=254</guid>
		<description><![CDATA[হতাশ করেনি বাংলাদেশ
হাসান শরীফ

ফাইনালে ভারত হারে- প্রায় প্রবাদে পরিণত হওয়া এই কথাটি নিয়ে সাম্প্রতিককালে কিছুটা সংশয়ের সৃষ্টি হচ্ছিল। কিন্তু ঢাকায় তার সত্যতা ফের মিললো আইডিয়া কাপ তিন জাতি ক্রিকেটের ফাইনালে ধোনিদের পরাজয়ে। শিশির যেখানে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে, তখন টসে জয়েই ম্যাচ জয় হয়ে যায়, সেখানে ১৩ জানুয়ারির ফাইনালে শ্রীলঙ্কার জয় অবধারিতই ছিল। কিন্তু যে [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<h2 style="text-align: justify;">হতাশ করেনি বাংলাদেশ</h2>
<p style="text-align: justify;"><strong>হাসান শরীফ</strong></p>
<p style="text-align: justify;">
<div id="attachment_255" class="wp-caption alignright" style="width: 310px"><a href="http://www.kishorkanthabd.com/wp-content/uploads/2010/01/khela.jpg"><img class="size-full wp-image-255" title="khela" src="http://www.kishorkanthabd.com/wp-content/uploads/2010/01/khela.jpg" alt="" width="300" height="162" /></a><p class="wp-caption-text">আইডিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন শ্রীলংকা</p></div>
<p>ফাইনালে ভারত হারে- প্রায় প্রবাদে পরিণত হওয়া এই কথাটি নিয়ে সাম্প্রতিককালে কিছুটা সংশয়ের সৃষ্টি হচ্ছিল।<span id="more-254"></span> কিন্তু ঢাকায় তার সত্যতা ফের মিললো আইডিয়া কাপ তিন জাতি ক্রিকেটের ফাইনালে ধোনিদের পরাজয়ে। শিশির যেখানে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে, তখন টসে জয়েই ম্যাচ জয় হয়ে যায়, সেখানে ১৩ জানুয়ারির ফাইনালে শ্রীলঙ্কার জয় অবধারিতই ছিল। কিন্তু যে টুর্নামেন্ট বিশাল বিশাল স্কোর দেখে আসছিল কিংবা ব্যাটে-বলে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রত্যাশা সেটা আসল ম্যাচটিতে দেখা যায়নি। শ্রীলঙ্কা অনায়াসে জেতেনি, প্রায় পুরোটা সময়ই তাদের খেলতে হয়েছে, কিন্তু একবারের জন্যও ভারত ফাইনালে আধিপত্য বিস্তার করতে পারেনি। ফলে নিরানন্দ ফাইনালের মধ্য দিয়েই শেষ হতে হয়েছে টুর্নামেন্টটিকে।</p>
<p style="text-align: justify;">অবশ্য টুর্নামেন্টটির শেষদিকের ম্যাচগুলোতে প্রথমে ব্যাট করা দলগুলো কিছুটা সমস্যায় পড়েছে খেলার শুরুতেই উইকেট হারিয়ে। কিন্তু তবুও শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং সহায়ক উইকেটের সুবাদে প্রতিবারই রান অন্তত দুই শ’ পার করিয়ে নিতে সক্ষম হয়। ফাইনালেও ভারত তা-ই করেছে। ৬০ রান তুলতেই ৫ উইকেট পড়ে যাওয়ার পরও তারা ২৪৫ রান সংগ্রহ করে শ্রীলঙ্কাকে ৪৮ ওভার পর্যন্ত আটকে রেখেছিল। আর সেটা হয়েছিল সুরেশ রায়নার সেঞ্চুরির সুবাদে। অবশ্য, ভারতীয় বোলাররাও একটু উদ্দীপ্ত ছিলেন। ভারতের রান আরেকটু হলে হয়তো আরো কঠিন অবস্থায় পড়তে হতো শ্রীলঙ্কাকে। কিন্তু শেষে ব্যাট করা দলই জেতে-এই আইডিয়া কাপের এই আইডিয়ারই জয় হলো।</p>
<p style="text-align: justify;">এই জয়ের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কা শিরোপা জয়ের পাশাপাশি আরো কয়েকটি হিসাব মিলিয়ে নিলো। আগের মাসে ভারতের মাটিতে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে পারলো। তা ছাড়া একদিনের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে উভয় দল ১৪টি করে খেলে ৬টি করে জিতেছিল (২টি পরিত্যক্ত হয়েছিল), এবার শ্রীলঙ্কা এগিয়ে গেল।</p>
<p style="text-align: justify;">নতুন বছরের শুরুর টুর্নামেন্টে একটি ম্যাচেও জয় পায়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। আইডিয়া কাপ তিন জাতি ক্রিকেটে এক ম্যাচ আগেই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়েছিল তারা। ফলে ফাইনালে নিছক দর্শক হয়েই থাকতে হয়। গত বছরটা দুর্দান্ত খেলার পর আরেকটু সাফল্য আসতেই পারতো। কিন্তু তবুও বলা যায়, বাংলাদেশ খুব খারাপ খেলেছে, তা নয়। বিশেষ করে প্রথম দুই ম্যাচে শ্রীলঙ্কা ও ভারতকে খুব একটা খারাপভাবে মোকাবেলা করেনি।</p>
<p style="text-align: justify;">
<div id="attachment_256" class="wp-caption alignleft" style="width: 260px"><a href="http://www.kishorkanthabd.com/wp-content/uploads/2010/01/khela3.jpg"><img class="size-full wp-image-256" title="khela3" src="http://www.kishorkanthabd.com/wp-content/uploads/2010/01/khela3.jpg" alt="" width="250" height="160" /></a><p class="wp-caption-text">বাংলাদেশের সেরা পারফর্মার সাকিব</p></div>
<p>প্রতিটি ম্যাচেই বাংলাদেশ দলের কিছু না কিছু অর্জন ছিল। ভারতের বিরুদ্ধে ২৯৬ রান করতে পেরেছিল। কোনো টেস্ট প্লেয়িং দেশের বিরুদ্ধে এটাই সর্বোচ্চ রান। বিশেষ করে ব্যাটসম্যানরা প্রমাণ করেছেন, তারা চাপ সামলানোর বিষয়টি অনেকটাই আয়ত্তে এনেছেন। টপ অর্ডারে বিপর্যয় ঘটলেও তারা অনেকটাই সামাল দিতে পারেন। অবশ্য বোলাররা আরেকটু সাফল্য দেখাতে পারলে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো আরো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারতো। তবে চারটি ম্যাচেই বাংলাদেশকে খেলতে হয়েছে শিশিরভেজা মাঠে। বাংলাদেশের মূল শক্তি স্পিনাররা এ থেকে কোনো সুবিধাই করতে পারেননি। তবে ভারতের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে টসে জিতেও প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত প্রশ্নবোধকই থেকে গেছে।</p>
<p style="text-align: justify;">আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশকে বেশ কিছু কঠিন ম্যাচ খেলতে হবে। তার পর শুরু হবে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি। ফলে আরো ভালো করতে হবে বাংলাদেশকে।</p>
<p style="text-align: justify;">বিশ্বকাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট শুরু হবে ২০১১ সালে। কিন্তু কাউন্টডাউন শুরু হয়েছে এবং তা হয়েছে ঢাকায় বিশ্বকাপ ট্রফি উন্মোচনের মধ্য দিয়ে। ক্রিকেটের সর্বোচ্চ আসর শুরুর ৪০৪ দিন আগে ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠানটি হোটেল শেরাটনে গত ৯ জানুয়ারি বেশ সাড়ম্বরেই অনুষ্ঠিত হয়।</p>
<p style="text-align: justify;">আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল এবং চার আয়োজক ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি হয়।</p>
<p style="text-align: justify;">আয়োজক হিসেবে পাকিস্তানের নামটি থাকলেও সেখানে কোনো খেলা হবে না। সন্ত্রাসে জর্জরিত দেশটিকে হতাশাতেই থাকতে হবে। ফলে বিশ্বকাপ হবে বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কায়। এর মধ্যে ভারত ও শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপ আয়োজনের অভিজ্ঞতা থাকলেও বাংলাদেশের এবারই প্রথম।</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.kishorkanthabd.com/%e0%a6%86%e0%a6%87%e0%a6%a1%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a7%87-%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%b2%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%87-%e0%a6%b8/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>আকাশছোয়াঁ টাওয়ারের গল্প</title>
		<link>http://www.kishorkanthabd.com/%e0%a6%86%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%81-%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%93%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa/</link>
		<comments>http://www.kishorkanthabd.com/%e0%a6%86%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%81-%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%93%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa/#comments</comments>
		<pubDate>Mon, 01 Feb 2010 13:52:25 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[জানার আছে অনেক কিছু]]></category>
		<category><![CDATA[টাওয়ার]]></category>
		<category><![CDATA[বুর্জ খলিফা]]></category>
		<category><![CDATA[বুর্জ দুবাই]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.kishorkanthabd.com/?p=251</guid>
		<description><![CDATA[
তোমার দৃষ্টি উপরে নয়, নিচে নিক্ষেপ করো। দেখবে, দিগন্তছোয়াঁ সমুদ্র; আরও দেখবে নীল আকাশটা ক্রমশ মিশে গেছে ঠিক মরুভূমির সাথে। দারুণ ব্যাপার, তাই না? আরও দারুণ হবে যদি তুমি নিজেকে কল্পনা করতে পারো যে তুমি মাটি থেকে বিশাল উচ্চতাবিশিষ্ট এক বিল্ডিংয়ের ১২৪ তলায় এক  পর্যবেক্ষণ ডেকে দাঁড়িয়ে আছো।
না, এখন আর কল্পনা নয়, এবার এই [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: justify;">
<div id="attachment_252" class="wp-caption alignright" style="width: 152px"><a href="http://www.kishorkanthabd.com/wp-content/uploads/2010/01/janar-ase-onek-kisu.jpg"><img class="size-medium wp-image-252" title="janar-ase-onek-kisu" src="http://www.kishorkanthabd.com/wp-content/uploads/2010/01/janar-ase-onek-kisu-142x300.jpg" alt="" width="142" height="300" /></a><p class="wp-caption-text">বুর্জ দুবাই-বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন</p></div>
<p>তোমার দৃষ্টি উপরে নয়, নিচে নিক্ষেপ করো। দেখবে, দিগন্তছোয়াঁ সমুদ্র; আরও দেখবে নীল আকাশটা ক্রমশ মিশে গেছে ঠিক মরুভূমির সাথে। দারুণ ব্যাপার, তাই না? আরও দারুণ হবে যদি তুমি নিজেকে কল্পনা করতে পারো যে তুমি মাটি থেকে বিশাল উচ্চতাবিশিষ্ট এক বিল্ডিংয়ের ১২৪ তলায় এক  পর্যবেক্ষণ ডেকে দাঁড়িয়ে আছো।<span id="more-251"></span></p>
<p style="text-align: justify;">না, এখন আর কল্পনা নয়, এবার এই দৃশ্যটাকে বাস্তবে উপভোগ করা যাবে। বুঝতেই পারছো গেল ৪ জানুয়ারি উদ্বোধন হয়ে যাওয়া আকাশছোয়াঁ স্থাপনা ‘বুর্জ খলিফা’র কথা বলছি। এটা এখন বর্তমান বিশ্বের উচ্চতম ভবন। ডজন ডজন বিশ্বরেকর্ড হাতে নিয়ে দুবাইয়ের মরুভূমিতে আকাশ ছুঁয়ে দাঁড়িয়েছে নতুন এই উচ্চতম ভবনটি। নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান এমার প্রপার্টিজ। উদ্বোধনের পরপরই জানা গেল ‘বুর্জ খলিফা’ গোটা দশেক বিশ্ব রেকর্ড করে বসে আছে। উচ্চতম দালানের রেকর্ড তো আছেই, তার সঙ্গে যোগ হয়েছে উচ্চতম মসজিদ, উচ্চতম সুইমিংপুল, এলিভেটরে চড়ে দীর্ঘতম ভ্রমণের রেকর্ড।</p>
<p style="text-align: justify;">বুর্জ খলিফা উচ্চতায় এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের দ্বিগুণ। এটি তৈরির আগ পর্যন্ত পৃথিবীর উচ্চতম দালান ছিল তাইওয়ানের ‘তাইপে ১০১’ যার উচ্চতা এক হাজার ৬৬৭ ফুট।</p>
<p style="text-align: justify;">বুর্জ খলিফা এখন শুধু বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবনই না, এটি এখন বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু স্থাপনাও বটে। পোল্যান্ডোর ওয়ারশ রেডিও মাস্টকে (২,১২০.৬৭ ফুট) টপকে বিশ্বের সর্বোচ্চ স্থাপনার রেকর্ডটিও দখলে নিয়ে নিয়েছে বুর্জ খলিফা। দুবাইয়ের এই দানবীয় ভবন নির্মাণে পাক্কা দেড় শ কোটি মার্কিন ডলার খরচ হয়েছে। সময় লেগেছে পাঁচ বছর। ২০০৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ভবনটির কাজ শুরু হয়। কী নেই ১৬০ তলার ওই দালানে! সাত তারা হোটেল থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ, করপোরেট অফিস, আবাসন ব্যবস্থা, মসজিদ, সুইমিংপুল সবই আছে। অভ্যন্তরীণ সজ্জায় এক হাজার চিত্রকর্ম স্থান পেয়েছে। এই প্রথম কোনো আকাশছোঁয়া ভবনে আবাসনের ব্যবস্থাও রাখা হলো। ভবনের ১৯ থেকে ৩৭ তলা এবং ৭৭ থেকে ১০৮ তলায় থাকার ব্যবস্থা আছে। প্রায় ৯০০ অ্যাপার্টমেন্ট আছে ভবনে। বুর্জ খলিফায় প্রতি বর্গফুট জায়গার মাসিক ভাড়া (অফিস-আদালতের জন্য) চার হাজার ডলার বা দুই লাখ ৮০ হাজার টাকা।</p>
<p style="text-align: justify;">ভবনটির নকশা করেছে স্কিডমোর ওয়িংস অ্যান্ড মেরিল (এসওএম) নামে একটি প্রতিষ্ঠান। গগনচুম্বী দালান-কোঠা নির্মাণে প্রতিষ্ঠানটির খ্যাতি বিশ¡জুড়ে। প্রতিষ্ঠানটি শিকাগোর উইলস টাওয়ার, নিউইয়র্কের বিশ¡ বাণিজ্য কেন্দ্রের মতো বিশাল সব স্থাপনার নকশা করেছে। বুর্জ খলিফার প্রধান প্রকৌশলী এসওএম-এর বিল ব্যাকার। তাঁর সহযোগী ছিলেন অ্যাড্রিন স্মিথ।</p>
<p style="text-align: justify;">সুউচ্চ ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে স্টিলের কাঠামো এখন বেশ জনপ্রিয় হলেও অতি উচ্চতা ও দীর্ঘ স্থায়িত্বের কথা ভেবে নির্মাতারা ভবনটিতে কংক্রিট ব্যবহার করেছেন। আর কংক্রিটের ঢালাই দিতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করতে হয়েছে। সেটি হলো, দুবাইয়ে দিনের বেলা তাপমাত্রা প্রায়ই ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে গিয়ে ঠেকে। এত উচ্চ তাপমাত্রায় সিমেন্ট, বালু ও পাথরের মিশ্রণ সহজে জমাট বাঁধে না। তাই রাতের বেলায়  ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় বাতাসের আর্দ্রতাকে কাজে লাগানো হয়েছে। ফলে কংক্রিটের ঢালাই দ্রুত জমাট বেঁধেছে। আর গ্রীষ্মে ঢালাইয়ের কাজে পানির পাশাপাশি বরফও ব্যবহার হতো।</p>
<p style="text-align: justify;">বুর্জ খলিফাকে ঢাকতে ১৫ লাখ ২৮ হাজার বর্গফুট কাঁচ লেগেছে। বহিরাঙ্গে সাজসজ্জার জন্য চীন থেকে আনা হয়েছে ৩০০ বিশেষজ্ঞ। বিশাল এই ইমারতটি একসঙ্গে ২৫ হাজার লোকের ভার সইতে পারবে। এই ভবনে ৫৭টি লিফট আছে, আছে আটটি চলন্ত সিঁড়ি। এত উঁচুতে ওঠাটা যেন ক্লান্তিকর না হয় সেটি বিবেচনায় রেখে প্রকৌশলীরা বিশ্বের দ্রুততম লিফট বানিয়ে দিয়েছেন। একেকটি এলিভেটর সেকেন্ডে ৩৩ ফুট ওপরে উঠতে পারে।</p>
<p style="text-align: justify;">যত দিন পর্যন্ত আরেকটি ভবন এসে একে হারিয়ে না দেয়, তত দিন সবার ওপরে দাঁড়িয়ে রইবে বুর্জ খলিফা।</p>
<p style="text-align: justify;"><em><strong>জে হুসাইন</strong></em></p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.kishorkanthabd.com/%e0%a6%86%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%81-%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%93%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>জিহ্বা দ্বারা যে কষ্ট দেয় সে জাহান্নামি</title>
		<link>http://www.kishorkanthabd.com/%e0%a6%9c%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be-%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%af%e0%a7%87-%e0%a6%95%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a7%9f/</link>
		<comments>http://www.kishorkanthabd.com/%e0%a6%9c%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be-%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%af%e0%a7%87-%e0%a6%95%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a7%9f/#comments</comments>
		<pubDate>Mon, 01 Feb 2010 13:36:16 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[হাদীসের আলো]]></category>
		<category><![CDATA[জিহ্বা]]></category>
		<category><![CDATA[হাদিস]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.kishorkanthabd.com/?p=245</guid>
		<description><![CDATA[“হজরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, একজন লোক রাসূলুল্লাহ (সা) এর নিকট এসে নিবেদন করলো, হে আল্লাহর রাসূল! অমুক স্ত্রীলোকটি অধিক নফল নামাজ, অধিক নফল রোজা ও অধিক দান-খয়রাতের জন্য বিখ্যাত কিন্তু সে তার প্রতিবেশীদেরকে জিহ্বা দ্বারা কষ্ট দেয়। রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, সে জাহান্নামি। সে আবার আরজ করলো, হে আল্লাহর রাসূল (সা), অমুক স্ত্রীলোকটি সম্পর্কে [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: justify;">“হজরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, একজন লোক রাসূলুল্লাহ (সা) এর নিকট এসে নিবেদন করলো, হে আল্লাহর রাসূল! অমুক স্ত্রীলোকটি অধিক নফল নামাজ, অধিক নফল রোজা ও অধিক দান-খয়রাতের জন্য বিখ্যাত কিন্তু সে তার প্রতিবেশীদেরকে জিহ্বা দ্বারা কষ্ট দেয়। রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, সে জাহান্নামি। সে আবার আরজ করলো, হে আল্লাহর রাসূল (সা), অমুক স্ত্রীলোকটি সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে যে, সে নফল নামাজ কম পড়ে, নফল রোজা কম রাখে এবং কম দান করে কিন্তু মুখের ভাষা দিয়ে কোন প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয় না। রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, সে জান্নাতবাসী।” (মিশকাত)</p>
<p style="text-align: justify;">সুপ্রিয় বন্ধুরা, সামাজিক জীবনে প্রতিবেশীর হক একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। কারণ একজন মানুষ একাকী জীবনযাপন করতে পারে না। পরস্পর পরস্পরের মুখাপেক্ষী। তাই সামাজিক জীবনে প্রত্যেক মানুষেরই রয়েছে কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য। সুখে-দুঃখে একজন আরেকজনের অংশীদার হওয়া, কেউ অসুস্থ হলে তার দেখাশোনা করা এটি একটি ঈমানী দায়িত্ব। তাই প্রত্যেক মু’মিন বান্দার উচিত তার প্রতিবেশীর হক আদায় করা। প্রতিবেশীর হকের গুরুত্ব সম্পর্কে হাদিসে বলা হয়েছে যে, ‘কোন বান্দা যদি কোন প্রতিবেশীর হক নষ্ট করে, আল্লাহ ঐ ব্যক্তিকে ততক্ষণ পর্যন্ত ক্ষমা করবেন না যতক্ষণ না সে ক্ষমা করে।’ সুতরাং এর দ্বারা বোঝা যায়, প্রতিবেশীর হক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।</p>
<p style="text-align: justify;">এ ব্যাপারে অত্র হাদিসে বলা হয়েছে কোন বান্দা যদি মুখের ভাষা দিয়ে কাউকে কষ্ট দেয় এবং সে যত বড় বুজুর্গই হোক না কেন, সে অধিক পরিমাণে নফল ইবাদত করলেও সে জাহান্নামি। পক্ষান্তরে কোন ব্যক্তি নফল ইবাদত কম করল কিন্তু সে সমাজের কোন মানুষকে তার মুখের কথা দ্বারা কষ্ট দেয় না তবে সে জান্নাতবাসী। জিহবা এমন একটি বস্তু যা দ্বারা একজন মানুষ আরেকজন মানুষের অনেক বড় ক্ষতি করে ফেলতে পারে। জিহ্বা বা মুখের কথাকে ধারালো অসির সাথে তুলনা করা যেতে পারে। ধারালো অসি যেমন কোন বস্তুকে কেটে ক্ষত-বিক্ষত করে ফেলতে পারে, তেমনিভাবে মুখের কথা একজন মানুষের মনকে ক্ষত-বিক্ষত করে ফেলতে পারে। রাসূল (সা) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমাকে তার দু’টি বস্তুর ব্যাপারে নিশ্চয়তা দিতে পারবে একটি লজ্জাস্থান, আরেকটি দুই চোয়ালের মধ্যখানে অবস্থিত বস্তু অর্থাৎ জিহবা, তার জান্নাতের ব্যাপারে আমি রাসূল জিম্মাদার হবো।’ এর মাধ্যমে আমরা উপলব্ধি করতে পারি জিহবা দ্বারা কাটা দাগ বা ক্ষতস্থান সহজে শুকিয়ে যায় না, এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। তাই আমাদের উচিত জিহবাকে সংযত রাখা। সতর্কতার সাথে কথা বলা যাতে আরেক মানুষ কষ্ট না পায়।</p>
<p style="text-align: justify;">প্রিয় বন্ধুরা, এসো আমরা আমাদের জিহ্বাকে সংযত রেখে এমনভাবে কথা বলি যাতে মানুষ কোন কষ্ট না পায়।</p>
<p style="text-align: justify;"><span style="text-decoration: underline;"><em>গ্রন্থনায় : আবদুল কুদ্দুস মাখন</em></span></p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.kishorkanthabd.com/%e0%a6%9c%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be-%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%af%e0%a7%87-%e0%a6%95%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a7%9f/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>ঝাড়ুদার মাছ</title>
		<link>http://www.kishorkanthabd.com/%e0%a6%9d%e0%a6%be%e0%a7%9c%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9b/</link>
		<comments>http://www.kishorkanthabd.com/%e0%a6%9d%e0%a6%be%e0%a7%9c%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9b/#comments</comments>
		<pubDate>Mon, 01 Feb 2010 13:25:42 +0000</pubDate>
		<dc:creator>admin</dc:creator>
				<category><![CDATA[প্রবন্ধ]]></category>
		<category><![CDATA[ক্যাটফিশ]]></category>
		<category><![CDATA[গোবি]]></category>
		<category><![CDATA[চিংড়ি]]></category>
		<category><![CDATA[চিকলিডস]]></category>
		<category><![CDATA[ঝাড়ুদার মাছ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://www.kishorkanthabd.com/?p=239</guid>
		<description><![CDATA[ আরিফ হাসান

আমরা অনেকেই ঝাড়ুদার ভাইদের মানুষই মনে করি না। ভাবি ওরা খুব নীচু শ্রেণীর এক ধরনের প্রাণী। অথচ তারা রোজ যে কাজটি করেন সেটা যে অনেক উঁচু মাপের কাজ এটা কেউ ভাবিই না। একবার ভাবো তো, তারা না থাকলে কী হতো? চারপাশে ময়লার পাহাড় জমে যেত। নোংরা পরিবেশে বাস করতে করতে আমরা অসুস্থ হয়ে [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: justify;"><span style="text-decoration: underline;"> আরিফ হাসান</span></p>
<p style="text-align: justify;">
<div id="attachment_240" class="wp-caption alignright" style="width: 260px"><a href="http://www.kishorkanthabd.com/wp-content/uploads/2010/01/feature.jpg"><img class="size-full wp-image-240" title="feature" src="http://www.kishorkanthabd.com/wp-content/uploads/2010/01/feature.jpg" alt="" width="250" height="176" /></a><p class="wp-caption-text">ঝাড়ুদার মাছ</p></div>
<p>আমরা অনেকেই ঝাড়ুদার ভাইদের মানুষই মনে করি না। ভাবি ওরা খুব নীচু শ্রেণীর এক ধরনের প্রাণী। অথচ তারা রোজ যে কাজটি করেন সেটা যে অনেক উঁচু মাপের কাজ এটা কেউ ভাবিই না। একবার ভাবো তো, তারা না থাকলে কী হতো? চারপাশে ময়লার পাহাড় জমে যেত। নোংরা পরিবেশে বাস করতে করতে আমরা অসুস্থ হয়ে পড়তাম। তারপর&#8230;<span id="more-239"></span></p>
<p style="text-align: justify;">ঝাড়ুদাররা আমাদের মতোই মানুষ। তবে প্রাণিজগতেও (মাছের জগতে) ঝাড়ুদার আছে। তারা মানুষ ঝাড়ুদারদের মতো রাস্তাঘাট, বাড়িঘর বা অফিস-আদালত পরিষ্কার করে না। তারা পরিষ্কার করে আরেক মাছের শরীর, গলা, ফুলকা আরো অনেক কিছু। এরা বিভিন্ন ধরনের মাছের আঁইশ, মুখ এবং ফুলকার মধ্যে বাস করা পরজীবী খেয়ে এদের শরীর পরিষ্কার করে দেয়। এই সব মাছ বেঁচে যায় বিভিন্ন ধরনের রোগের আক্রমণ থেকে। ভাবছো অন্য মাছের মুখের ভেতর ঢুকে ময়লা পরিষ্কার করা তো ভয়ঙ্কর ব্যাপার। যদি সুযোগ বুঝে ঝাড়ুদার মাছটিকে সাবাড় করে দেয়! না, অন্য মাছেরা এমন কাজ একেবারেই করে না। করবেই বা কেন? ঝাড়ুদার মাছ যখন অন্য মাছের মুখে ঢুকে ময়লা পরিষ্কার করে তখন ওরা মজা তো পায়ই, ময়লা পরিষ্কার হওয়ায় রোগে ভুগে মরার হাত থেকেও তো বেঁচে যায়, তাই না?</p>
<p style="text-align: justify;">অন্য মাছের শরীর পরিষ্কার করার জন্য ঝাড়–দার মাছের একটা নির্দিষ্ট স্টেশন থাকে। এখানে এসেই অন্য মাছ তাদের ময়লা পরিষ্কার করে যায়। সাধারণত সাগরের যে এলাকায় প্রচুর প্রবাল প্রাচীর আছে সেই এলাকাটাকেই এরা স্টেশন হিসেবে ব্যবহার করে। ঝাড়ুদার মাছের সবচেয়ে বড় স্টেশন হলো ভারত এবং প্রশান্ত মহাসাগরের প্রবাল প্রাচীর ঘেরা এলাকা। যে সব মাছের মুখ, দাঁত, আঁইশ, মরা চামড়া বা ফুলকা পরিষ্কার করা দরকার তারা এই স্টেশনে এসে নানান অঙ্গভঙ্গি করে ঝাড়ুদার মাছের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করে। এখানে অনেক সময় ‘বাঘ ও বকের গল্প’র মতো ঘটনা বলে বড় কোনো মাছের মুখ বা দাঁত পরিষ্কার করার সময় ঝাড়ুদার মাছেরা খুব সাবধানে থাকে।</p>
<p style="text-align: justify;"><a href="http://www.kishorkanthabd.com/wp-content/uploads/2010/01/feature2.jpg"><img class="alignleft size-full wp-image-241" style="margin-left: 8px; margin-right: 8px;" title="feature2" src="http://www.kishorkanthabd.com/wp-content/uploads/2010/01/feature2.jpg" alt="" width="200" height="159" /></a>মানুষের জগতে ঝাড়ুদার ভাইয়েরা রাস্তাঘাট কিংবা বাড়িঘর পরিষ্কার করার বিনিময়ে যেমন টাকা পায় তেমনি মাছের জগতে ঝাড়ুদার মাছেরা পায় খাবারের নিশ্চয়তা। অর্থাৎ বড় বড় মাছের মুখ, দাঁত, আঁইশ কিংবা ফুলকার ফাঁকে লুকিয়ে থাকা ময়লা বা খাদ্যকণাই হলো ঝাড়–দার মাছের প্রধান খাবার।</p>
<p style="text-align: justify;">ঝাড়ুদার মাছ হিসেবে সবচেয়ে বেশি সুখ্যাতি আছে র‌্যাসেস নামের এক ধরনের মাছের। এরপরই যাদের নাম পাওয়া যায় তারা হলো চিকলিডস, ক্যাটফিশ, গোবি ও এক ধরনের চিংড়ি।</p>
<p style="text-align: justify;">যাদের বাড়িতে অ্যাকুরিয়াম আছে তাদেরকে মাঝে মধ্যেই অ্যাকুরিয়াম পরিষ্কার করতে হয়। যারা এটা করে তারাই জানে এটা <a href="http://www.kishorkanthabd.com/wp-content/uploads/2010/01/feature3.jpg"><img class="alignright size-full wp-image-242" style="margin-left: 8px; margin-right: 8px;" title="feature3" src="http://www.kishorkanthabd.com/wp-content/uploads/2010/01/feature3.jpg" alt="" width="200" height="146" /></a>কতো ঝামেলার কাজ। এই ঝামেলার কাজটি পানির মতো সহজ করে দিতে পারে ঝাড়ুদার মাছ। অ্যাকুরিয়ামে থাকা অন্য মাছের ত্যাগ করা ময়লা, মাছের গা থেকে ঝরে পড়া মরা চামড়া বা আঁইশ এবং বিভিন্ন ধরনের খাদ্যকণা পরিষ্কার করার কাজে ঝাড়ুদার মাছ নিজেদের দারুণ পটু হিসেবে প্রমাণ করেছে। ফলে বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের অ্যাকুরিয়ামে অন্য মাছের পাশাপাশি ঝাড়ুদার মাছ হিসেবে র‌্যাসেস, চিকলিডস, ক্যাটফিশ, গোবি ও চিংড়ি মাছ রাখা হয় অন্য মাছের শরীর পরিষ্কার করার জন্য।</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://www.kishorkanthabd.com/%e0%a6%9d%e0%a6%be%e0%a7%9c%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9b/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
	</channel>
</rss>
