Home গল্প তোমাদের গল্প অন্যরকম আনন্দ -মাহমুদুল হাসান তামিম

অন্যরকম আনন্দ -মাহমুদুল হাসান তামিম

সকাল থেকেই মুনজুর অনেক আনন্দিত। কারণ, মুনজুর তার আব্বু-আম্মুর সাথে আজ সায়াদদের বাসায় বেড়াতে যাচ্ছে। সায়াদ তার খুব ভালো বন্ধু। দু’জন একত্র হলে শুরু হয় নানান গল্প। এতোদিন মুনজুর নতুন কী শিখলো, কী দেখলো ও কী ঘটলো তা সায়াদকে বলে। সায়াদও বলে জমিয়ে রাখা কথা। দু’জনের মাঝে দারুণ ভাব।
মুনজুরের আম্মু খাবার রান্না করছে। ওর আব্বু বেশ কিছু খাবারের খালি প্যাকেট এনেছে। কিন্তু এগুলো কী করবে তা মুনজুর জানে না। মুনজুর একবার কৌতূহল নিয়ে ওর আম্মুকে জিজ্ঞেস করলো, আম্মু! এতো খাবার কেন রান্না করছো?’’
মুনজুরের আম্মু মুচকি হেসে বললো, ‘সময় হলে বুঝতে পারবে।’

মুনজুরেরা মাগরিবের পরে বাসা থেকে বের হলো। ওর আব্বুর হাতে একটি ব্যাগ। তাতে অনেকগুলো খাবার ভর্তি প্যাকেট। ওর আব্বু একটা রিকশা ডাকলো। রিকশা ওয়ালা বললো, ‘কোই যাবেন?’
মুনজুরের আব্বু বললো,
‘লঞ্চঘাটে।’
রিকশা ওয়ালা বললো, ‘ত্রিশ টাকা দিয়েন।’
মুনজুরের আব্বু বললো, ‘আচ্ছা।’
তারপর ওরা রিকশায় উঠে পড়লো। রিকশা চলতে লাগলো লঞ্চঘাটের দিকে। মুনজুর বারবার এদিক ওদিক তাকাচ্ছে। দেখছে সন্ধ্যার আলো ঝলমলে শহর।
লঞ্চঘাটে রিকশা থামলো। ওরা রিকশা থেকে নেমে লঞ্চঘাটের ভেতরের দিকে হাঁটা শুরু করলো। রাস্তার পাশে অসংখ্য ট্রাকের সারি। শ্রমিকরা লঞ্চ থেকে মালামাল বহন করে ট্রাকে উঠাচ্ছে। কেউ কেউ ট্রাকে মাল সাজাচ্ছে। পাশের চায়ের দোকানগুলোতে লোকজনের ভিড়। মানুষের মুখের আওয়াজ, গাড়ির হর্ন ও বিভিন্ন যন্ত্রের শব্দে কোলাহলপূর্ণ লঞ্চঘাট। যেখানে সেখানে শুয়ে বসে আছে বিভিন্ন বয়সের মানুষ। একজন বয়স্ক লোক জড়সড় হয়ে একটি পিলারের গোড়ায় কাত হয়ে শুয়ে আছে। তার একটু দূরে মুনজুরেরা দাঁড়ালো। মুনজুরের আম্মু একটি খাবারের প্যাকেট ওর হাতে দিয়ে বৃদ্ধ লোকটার দিকে ইশারা করে বললো, ‘মুনজুর! ওই চাচ্চুর কাছে গিয়ে সালাম দেবে। তারপর তিনি যদি ঘুম থেকে না জাগেন, তাহলে উনার মাথায় হাত বুলাবে। দেখবে, তিনি জেগে গেছেন। তারপর প্যাকেটটা উনার হাতে দিয়ে বলবে, আপনার রাতের খাবার।’
মুনজুর আম্মুর কথা মন দিয়ে শুনলো। তারপর ওর আব্বুর দিকে তাকালো। ওর আব্বু মুচকি হেসে মাথা নেড়ে সম্মতি দিলো। মুনজুর মৃদু পায়ে লোকটার কাছে গেল। সালাম দিলো। বৃদ্ধ সালামের উত্তর দিতে দিতে উঠে বসলো। মুচকি হেসে মুনজুর তার হাতে খাবারের প্যাকেটটি দিয়ে বললো, ‘আপনার রাতের খাবার।’
বৃদ্ধ বললো, ‘তোমার নাম কী, বাবা?’
বললো, ‘মুনজুর।’
বৃদ্ধ আর কিছু বললো না। মুনজুর ওর আব্বু-আম্মুর কাছে ফিরে আসলো। মুনজুরের মনে আনন্দ বয়ে গেল। খুব ভালো লাগছিল ওর। মুনজুরের আব্বু আরেকটি প্যাকেট ওর হাতে দিয়ে অন্য একজনকে দেখিয়ে বললো, ‘উনাকে খাবারের প্যাকেটটি দিয়ে আসো।’
মুনজুর হেঁটে গিয়ে তার কাছে দাঁড়ালো। সালাম দিলো। লোকটা কোনো সাড়া দিলো না। তারপর ও আব্বুর দিকে তাকালো। ওর আব্বু ইশারায় লোকটার মাথায় হাত বুলাতে বললো। মুনজুর ধীরে ধীরে তার মাথায় হাত বুলালো। কয়েকবার হাত বুলাতেই লোকটা কাশতে কাশতে উঠে বসলো। মুনজুর খাবারের প্যাকেটটি তার হাতে দিয়ে বললো, ‘আপনার রাতের খাবার।’
লোকটা খাবারের প্যাকেটটা হাতে পেয়ে অনেক খুশি হলো। মুনজুর যখন তার কাছ থেকে ফিরে আসছিল, তখন দেখলো ঘাটের কাছাকাছি একটা ছেলে বসে আছে। বয়সে মুনজুরের থেকে বড়ো হবে। গায়ে ময়লা শার্ট। উশকোখুশকো চুল। করুণ চাহনি। ছেলেটি মুনজুরের দিকে তাকিয়ে আছে। মুনজুর ওর আব্বুকে বললো, ‘আব্বু! ওই ভাইয়াকে একটা খাবারের প্যাকেট দিয়ে আসবো?’
ওর আব্বু বললো, ‘অবশ্যই। এই নাও।’ তারপর আরও একটা খাবারের প্যাকেট মুনজুরের হাতে দিলো।
মুনজুর প্যাকেটটি নিয়ে ছেলেটির কাছে গেল। ছেলেটিকে সালাম দিলো। ছেলেটি চাপা স্বরে সালামের জবাব দিলো। মুনজুর খাবারের প্যাকেটটি ছেলেটির হাতে দিলো। ছেলেটি কিছু বলতে পারলো না। শুধু তাকিয়ে রইলো মুনজুরের দিকে। মুনজুর ছেলেটিকে বললো, ‘রাতে খেয়ে নিও।’
এভাবে খাবারের প্যাকেটগুলো বিলি করা হয়ে হয়ে গেল।
মুনজুরেরা এবার রিকশায় চড়ে সায়াদদের বাসার দিকে রওয়ানা করলো। মুনজুরের আব্বু ওকে বললো, ‘এতোগুলো মানুষকে খাবার দিয়ে তোমার কেমন লাগছে?’
মুনজুর বললো, ‘খুব ভালো লাগছে, আব্বু!’
মুনজুরের আব্বু বললো, ‘মানুষের উপকার করলে সত্যিই খুব ভালো লাগে। আর আল্লাহ তায়া’লাও খুশি হন।’ হ

SHARE

Leave a Reply