Home কুরআন ও হাদিসের আলো হাদীসের আলো হাদিসের আলো

হাদিসের আলো

সোনালি জীবন

শরতের আকাশে চোখ পড়তেই রাজিনের মনটা যেন ঈগলের মতো ডানা মেলে দিল! উড়তে উড়তে সে পৌঁছে গেছে মেঘমুলুকে, সাদার দেশে। মনে পড়ল প্রিয় কবিতা-
নীল শরতের আকাশগাঙে চোখ ডুবে যায় যদি কারো
সে চোখ তখন অতল রূপে ডুবতে থাকে আরো আরো!
মেঘ-মুলুকের দালান-কোঠা তুলোর মতো সাদা সাদা
মন হয়ে যায় উড়াল উড়াল, অচিন দ্বীপের শাহাজাদা!
সত্যি, সে যেন এক শাহজাদা!
শরতের ঝলমলে আকাশ আর মেঘের উৎসবে হারিয়ে যেতে চায় আজ সে! ভাইয়াকে বলল, দেখো, দেখো! আকাশের কী অপরূপ রূপ! ভাইয়া বললেন, চলো আমরা নদীর তীরে ছুটে যাই। মেঘ ও মেঘনার রূপে মুগ্ধ হই!
মেঘনার তীরে কাশফুলের বিপুল সমাহার। যেন ফেরেশতারা তাদের সাদা পালক বিছিয়ে রেখেছে! আর নদীর বুকে অবারিত ঢেউয়ের কল্লোল, ওপরে মেঘবতী আকাশ! ভাইয়া বলে উঠলেন সুবহানাল্লাহ! রাজিন বলল, এমন বিকেল বারবার ফিরে আসুক।
নদীর তীর ঘেঁষেই কিশোর ছেলেরা ফুটবল খেলছে। খেলার প্রতি ভাইয়ার তেমন আগ্রহ না থাকলেও রাজিন খুব মনোযোগ দিয়ে দেখছে। আবার বিশ্লেষণ করছে খেলার নানাদিক। দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বলয়েও ঢুকে পড়েছে সে। নামিদামি খেলোয়াড়দের নাম বলছে। নানা তথ্য তুলে ধরছে তাদের নিয়ে!
ভাইয়া বললেন, তুমি এত মানুষের নাম জানো! আচ্ছা, দশজন সাহাবির নাম বলো তো! যারা পৃথিবীতেই পেয়েছিলেন বেহেশতের সুসংবাদ!
রাজিন অপলক তাকিয়ে আছে শুধু! লজ্জা মেশানো কণ্ঠে বলল, জানি না ভাইয়া!
ভাইয়া বললেন, শোনো তাহলে। রাসূল (সা) বলেছেন, আবু বকর জান্নাতি, ওমর জান্নাতি, ওসমান জান্নাতি, আলী জান্নাতি, তালহা জান্নাতি, জুবাইর জান্নাতি, আবদুর রহমান ইবনে আওফ জান্নাতি, সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস জান্নাতি, সাঈদ জান্নাতি এবং আবু উবাইদাহ্ ইবনুল জাররাহ জান্নাতি! (তিরমিজি, ৩৭৪৭)।
রাজিন বলল, আমি এখনই মুখস্থ করে নিচ্ছি, ভাইয়া!
ভাইয়া, মুচকি হেসে বললেন, সবার আগে তাদের নামই জানা উচিত আমাদের। যাদের জীবন ছিল সোনালি, হেদায়াতের আলোয় রাঙা। ওই খেলোয়াড়দের জীবন থেকে নেওয়ার মতো কিছুই নেই।

বিলাল হোসাইন নূরী

SHARE

Leave a Reply