Home কুরআন ও হাদিসের আলো কুরআনের আলো কুরআনের আলো

কুরআনের আলো

সবুজ মৃত্যু

শহর থেকে বাড়িতে ফিরলেই মনটা ঝরঝরে হয়ে যায় শাকিরের। চোখ জুড়ানো সবুজ আর মন জুড়ানো শীতল বাতাসে ঘুরে বেড়ায় প্রজাপতির মতো। আর মায়ের আঁচলতলে যে ছায়া ও মায়ার ঢেউ, তার তুলনা কোথায়? হাজার পৃথিবীর দামেও কি তা কখনো কেনা যাবে? মায়ের একটু হাসি, একটু ছোঁয়া যেন তাকে বেহেশতের দরজায় নিয়ে যায়!
তবে এবার বাড়িতে এসে তার মন অনেক খারাপ। সবকিছুই আগের মতো আছে, শুধু ফজলে করিম চাচার শরীর ভালো নেই। দূর সম্পর্কের চাচা। কিন্তু কেন যেন খুব আপন মনে হয়। ভীষণ ভালো মানুষ তিনি, মসজিদেও থাকতেন প্রথম কাতারে। এখন তিনি ঘরেই পড়ে আছেন। বেঁচে থাকার কোনো আশাই যেন নেই তার!
শাকির প্রতিদিনই চাচাকে দেখতে যায়। দেখতে গেলে চাচা একটা কথাই বলেন তাকে- “বাবা দোয়া করো, আমার মরণ যেন জুমার দিনে হয়!” শাকির কপালে হাত রাখে। আশার কথা শোনায়। তবে, চাচার একটাই কথা, তিনি জুমাবারেই মরতে চান!
কিছুদিন পর। সেদিন জুমাবার। শাকির মসজিদে। ইমাম সাহেবের সাথে সবাই সালাম ফিরালেন। আর ঠিক তখনই কান্নার আওয়াজ ভেসে এলো বাড়ির ভেতর থেকে। দৌড়ে গেল শাকির। হ্যাঁ, চাচার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। তিনি হাসিমুখে তাকিয়ে আছেন ডানদিকে। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন!
শাকির বিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কী বিস্ময়কর এক ইতিহাসের সাক্ষী হলো সে!
রাতের বেলা বাবার কাছে সব খুলে বলল শাকির। বাবা বললেন, জুমাবারের মৃত্যু তো পরম সৌভাগ্যের। আর আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের মৃত্যু হয় সহজ, সাবলীল! আল্লাহ বলেছেন, “যারা বলে, আমাদের প্রভু আল্লাহ, অতঃপর অবিচল থাকে, তাদের কাছে (মৃত্যুর সময়) ফেরেশতারা অবতীর্ণ হয় এবং বলে, তোমরা ভয় করো না এবং চিন্তিত হয়ো না; আর তোমাদেরকে যে জান্নাতের ওয়াদা করা হয়েছিল, তার সুসংবাদ শুনে নাও।” (সূরা ফুসসিলাত : ৩০)।
শাকির বলল, আমরাও এমন সুন্দর মৃত্যু চাই, পেতে চাই জান্নাতের সুসংবাদ। বাবা বললেন, আমিন। তবে এমন সবুজ, সুন্দর মৃত্যুর জন্য তোমার চাচার মতোই হৃদয়টা খুলে দিতে হবে আল্লাহর কাছে। শাকির বলল, জি বাবা! ইনশাআল্লাহ!

SHARE

Leave a Reply