Home তোমাদের গল্প চাপা কান্না -কাওসার আহাম্মেদ

চাপা কান্না -কাওসার আহাম্মেদ

আসাদুল্লাহর পিএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট দিয়েছে আজ! আসাদুল্লাহ জিপিএ ৫ পেয়ে তার আনন্দের সীমা নেই। বাবার কাছে বায়না ধরলো একটি ছাগল কিনে দেওয়ার জন্য। বাবা আলাল মুন্সি ছেলের কথা শুনে অবাক! নামের শেষে মুন্সি হলেও তিনি পেশায় একজন মুচি। বর্তমানে ছেলেরা আবদার করে সাইকেল, স্মার্টফোন, ঘড়ি আরও কত কী, কিন্তু ছেলের এই অবাক করা আবদারের কথা জানতে চাইলে ছেলে বললো বাবা আমাদের নবী হযরত মোহাম্মদ সা. ছাগল চরাতেন, তাই আমারও ছাগল পালন করতে ইচ্ছে করে। ছেলের কথা শুনে বাবা আলাল মুন্সি মহা খুশি। দুই দিনের মধ্যেই নিজের জমানো টাকাগুলো দিয়ে ছেলেকে একটি কালো রঙের ছোটো ছাগলের বাচ্চা কিনে দিলেন। আসাদুল্লাহ ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হলো, কিছুদিন ক্লাস হবার পরেই লকডাউনে স্কুল বন্ধ! আসাদুল্লাহ এখন সারাদিন ছাগল নিয়ে মহাব্যস্ত। গাছের সবুজ পাতা, জমি থেকে ঘাস কেটে ছাগলকে খাওয়ায়। নদীতে গোসল করার সময় তার প্রিয় ছাগলটিকে ও সাথে নিয়ে যায়। ছাগলকে শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করায়। এক কথায় ছাগলের যতেœর কোনো কমতি নেই। অপর দিকে লকডাউনের কারণে আসাদুল্লাহর বাবার কাজ পুরোপুরি বন্ধ! চার মাস হলো লকডাউন দু-মুঠো ভাত জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। রাতে আল্লাহর কাছে দু-হাত তুলে সাহায্য প্রার্থনা করে আলাল মুন্সি। আসাদুল্লাহর মা হুসনা বেগম উপায়ান্তর না দেখে ছেলের প্রিয় ছাগলটা বিক্রি করে দেওয়ার পরামর্শ দেন। অবশেষে অনেক ভেবেচিন্তে আলাল মুন্সি ছেলের ছাগলটা বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন। ছেলেকে বাবার ইচ্ছার কথা বলতেই ছেলেও রাজি হয়ে গেল। বাবার মুখের ওপর ছেলে কিছুই বললো না। আসাদুল্লাহ তার প্রিয় ছাগলটাকে জড়িয়ে ধরে শেষ আদর করে দেয়, তার হৃদয়টা হাহাকার করে ওঠে। তার আদরের ছাগলটাকে সে আর কোনদিন কাছে পাবে না। কেমন হবে তারা? যারা তার ছাগলটার পরবর্তী মালিক! তারা কি ঠিকমতো যত্ন করবে, ভালোবেসে শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করাবে, পরম যতনে গাছের কচি পাতা পেড়ে কি খাওয়াবে প্রিয় ছাগলটিকে? না কি জবাই করে মাংস হিসেবে বাজারে বিক্রি করবে? এরকম হাজারো প্রশ্ন আসাদুল্লাহর মনে! আসাদুল্লাহ এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে প্রিয় ছাগলটির দিকে। তার চোখের কোণে অশ্রু জমা হতে থাকে! কে দেখবে তার চাপা কান্না! তার বাবা আজ হাটে নিয়ে যাবে ছাগলটি বিক্রি করার জন্য তাই শেষবারের মতো শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করিয়ে দিলো আসাদুল্লাহ। ছাগলটার মাথায় একটু সরিষার তেল দিলো, আদর করে হাত বুলিয়ে দিলো তার মাথায়। তারপর ছাগলটার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল ভালো থাকিস! আর কোনদিন হয়তো তোর সাথে আমার দেখা হবে না, দেওয়া হবে না দৌড়ের প্রতিযোগিতা। আলাল মুন্সি ছাগল নিয়ে বাজারের দিকে রওয়ানা দিলেন। আসাদুল্লাহ পিছন থেকে বুকে জমে থাকা চাপা কান্না নিয়ে ছাগলটার দিকে বিচ্ছেদ মাখা দৃষ্টিতে চেয়ে রইলো। #

SHARE

Leave a Reply