Home Featured শিক্ষাপাতা সুলুসশৈলীর ‘রা’ হরফ লিখবো যেভাবে -মোহাম্মদ আবদুর রহীম

সুলুসশৈলীর ‘রা’ হরফ লিখবো যেভাবে -মোহাম্মদ আবদুর রহীম

কয়েকদিন লাগাতার বর্ষা নামছে, কখনও টুপটাপ, কখনও ঝরঝর। তবে আজ সকাল থেকে বৃষ্টি নেই। জুমাবারের ক্যালিগ্রাফি ক্লাসে সবাই এসে হাজির হয়েছে বেশ আগে। রায়হানের তাড়া আছে একটা প্রদর্শনীতে কাজ জমা দিতে হবে। এজন্য সবাইকে আগেভাগে আসতে বলেছে। সবাই গত ক্লাসের দরস নিয়ে কথা বলছে আর দাল হরফের জুঝগুলো পরস্পর বুঝে নিতে চাইছে, ধীরে ধীরে ক্যালিগ্রাফি শেখার ক্লাস বেশ মজার হয়ে উঠছে। রায়হান ক্লাসে ঢুকতেই সবাই তাকে সালাম দিলো। ক্লাসের বন্ধুদের জোরে সালামের জবাবে রায়হান হেসে দিয়ে ওয়ালাইকুম সালাম ওয়ারাহমাতুল্লাহ বলে কুশল জানতে চাইল। সবাই আলহামদুলিল্লাহ বলে উত্তর দিলো।
কোনো ভূমিকা ছাড়া ক্লাসের পাঠদান শুরু করল সে। ক্যালিগ্রাফির প্রতিটি দরসে নতুন কিছু বিষয় থাকে আর পূর্বের ক্লাসের সংযোগ নিয়ে এগিয়ে যেতে হয়। রায়হান বলল, আমরা ক্যালিগ্রাফি শেখার ক্লাসগুলোতে মূলত হরফগুলোর ফরম শিখি, এ জন্য ২৯টি হরফের মধ্যে ১৭টি হরফ শিখলেই হয়। আর এর মধ্যে মৌলিক ফরম হিসেবে আলিফ, বা এবং নুন হরফকে গণ্য করা হয়। আমরা জানি এই তিনটি হরফের যৌগিক অবস্থায় নতুন হরফ হয়। যেমন- আলিফ এবং বা মিলে হয় কাফ হরফ। আবার আলিফ এবং নুন মিলে হয় লাম হরফ। এভাবে কোন হরফের মাথা অন্য হরফের শরীরে লাগিয়ে নতুন হরফ হয়। যেমন ওয়াও, ফা এবং ক্বফ হরফগুলোর মাথা এক শরীর আলাদা। রা হরফের শরীরে বসে হয় ওয়াও, বা হরফের শরীরে বসে হয় ফা এবং নুন হরফের শরীরে বসে ক্বফ হয়। এরকম আরো বিষয় আছে, আমরা আগামী ক্লাসগুলোতে শিখবো ইনশাআল্লাহ। সবাই জোরে ইনশাআল্লাহ বলল।
আজকের ক্লাসে আমরা রা হরফের মুফরাদাত (স্বতন্ত্র গঠন ও আকৃতি) শিখবো। রা হরফটি সুলুস শৈলীতে তিনটি সুরতে (প্রতিকৃতি) এসেছে। রা রাহমানি (ওস্তাদ বাগদাদীর ভাষ্যমতে) অথবা সুওবানি (অজগরের আকৃতি), এই রা রাহমানি সুরতটি আল-রাহমান লিখতে বেশি ব্যবহার হয়। এছাড়া কম্পোজিশনের ক্ষেত্রে এর ব্যবহার বেশি দেখা যায়। এরপর রা মুরসাল হরফটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় ক্যালিগ্রাফিতে। এর একটি ছোটো আকার ব্যবহার হয় কা’স (বাটিওলা) হরফগুলোর পেটের ভেতর। তখন একে রা মুসাগ্গর বলে। এরপর রা মাজমু বা অর্ধ গোলায়িত শরীরের এই রা প্রয়োজনীয় স্থানে ব্যবহার হয়। এখন চলো, কীভাবে এই হরফের তিনটি সুরত লিখতে হয়, সেটা শিখি।
এক- রা রাহমানি। তোমার কলমকে প্রায় নব্বই ডিগ্রি কোণে রেখে ডান থেকে বামে আধা নোকতা বা কৎ বরাবর এরতেফা (ওপরে ওঠা) করতে হবে, এটা দুই কৎ ডান থেকে বামে যাবে। তারপর চার কৎ নুযুল (নিচে নামা) চল্লিশ ডিগ্রি জাবিয়া (কোণ) বরাবর। কলমের জাবিয়া নব্বই থেকে বিরানব্বই ডিগ্রি বরাবর রাখতে হবে। এরপর কলমের মাথা দিয়ে দুই কৎ বরাবর ফাসের মতো ওঠাতে হবে। এটা আলাদাভাবে করতে হয় বলে একে তারতিশ বা তাহবির বলে। তোমরা ক্যালিগ্রাফির এই টার্মগুলো মনে রাখবে কারণ সাধারণ অভিধানে এগুলো ভিন্ন অর্থে দেখানো হয়েছে। মাবরুর হাত তুলে বলল, ওস্তাদজি! আপনি ঠিক বলেছেন। মাদরাসার আরবি ক্লাসের ওস্তাদ জমাজমির হিসাবের কথা বলতে গিয়ে সুলুস মানে এক তৃতীয়াংশ বললেন, আমি এটা ক্যালিগ্রাফির বিখ্যাত একটি শৈলীর নাম বলাতে তিনি অভিধান খুলে দেখালেন সেখানে সুলুস বলে কোন ক্যালিগ্রাফির নাম নেই। রায়হান হেসে দিয়ে বলল, অভিধান বিভিন্ন রকমের হয়। ক্যালিগ্রাফির আলাদা অভিধান যেমন-মুসতলাহাতুল খত আছে, তেমনি মওসুআহ বা এনসাইক্লোপেডিয়া আছে। তোমরা বড়ো হয়ে এর ভেতরের অনেক রহস্য জানতে পারবে।
আচ্ছা, এই রা হরফের প্রথমাংশ সোয়াদ হরফের মাথার মত দেখায় বলে একে রা সোয়াদি বলে। আবার রা মুদগাম বলে ক্যালিগ্রাফারগণ অভিহিত করেন।
দুই- রা মাজমু। কলম নব্বই ডিগ্রি বরাবর রেখে তিন কৎ বরাবর নুযুল হবে এবং ডান থেকে বামে এক কৎ মায়েল (হেলানো) হবে। তারপর চার কৎ বরাবর ডান থেকে বামে নুযুল হবে। এখানে জাবিয়া হবে চল্লিশ ডিগ্রি বরাবর। এরপর কলম অর্ধ বৃত্তাকার হয়ে আড়াই কৎ এরতেফা হবে। শেষে কলমের মাথা দিয়ে হরফের মাথায় জুলফটি করতে হবে।
তিন- রা মুরসাল। এটি রা মাজমু এর মতো। শুধুমাত্র জিসম বা শরীরটি চার কৎ নুযুল হওয়ার পর আরও দুই কৎ মুসাল্লাস (ত্রিভুজ) আকৃতি তারতিশ করতে হবে। ফলে এই রা এর জিসম লম্বা হবে ছয় কৎ।
আশা করি তোমরা তিন প্রকারের রা মুফরাদাত লেখার কৌশল সহজে রপ্ত করতে পারবে এবং আগামী ক্লাসে প্রতিটি সুরত অন্তত দুই পাতা বাড়ির কাজ করে আনবে। আজকের দরস এ পর্যন্ত। আসসালামু আলাইকুম।

SHARE

Leave a Reply