Home Featured শিক্ষাপাতা সুলুসশৈলীর ‘দাল’ হরফ লেখার কৌশল -মোহাম্মদ আবদুর রহীম

সুলুসশৈলীর ‘দাল’ হরফ লেখার কৌশল -মোহাম্মদ আবদুর রহীম

সকাল থেকে ঝিরি ঝিরি বর্ষা নামছে, সাথে দূর আকাশে দেয়া ডাকছে। জুমাবারের আজকের ক্যালিগ্রাফি ক্লাসে কাকভেজা হয়ে সবাই এসে হাজির হয়েছে। ছাত্ররা খুব আগ্রহী, ক্লাস কামাই দিতে তারা নারাজ। খাতা বের করে সবাই প্রস্তুত। রায়হান ক্লাসে ঢুকে সবাইকে সালাম দিলো। ক্লাসের বন্ধুরা জোরে সালামের জবাব দিয়ে কুশল জানতে চাইল। রায়হান আলহামদুলিল্লাহ বলে ক্যালিগ্রাফির একটি মজার কথা বলল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো ভালো কাজ করবে, সে তার উত্তম প্রতিদান পাবে। আরবিতে কথাটা হলো “আদ দাল্লু আলাল খইরি কা ফাইলিহি”। এখানে ক্যালিগ্রাফারগণ সুন্দর একটি দাল হরফ লিখে তার পেটের ভেতর বাকি কথাটা ক্যালিগ্রাফি করেন।

তোমাদেরকে আমাদের ইনস্টিটিউটের উস্তাদজির বাহরি আল বাঙ্গালিতে করা একটা ক্যালিগ্রাফি দেখাই। এখানে দাল হরফটির ভেতর সুন্দর করে বাকি কথাটা ক্যালিগ্রাফি করা হয়েছে। ক্লাসের সবাই বলে উঠল ওয়াও! কী সুন্দর! রায়হান বলল, শোনো! কোনো কিছু দেখে মুগ্ধ হলে বলতে হবে সুবহানাল্লাহ! এবার সবাই বলল, সুবহানাল্লাহ! আমরাও এমন সুন্দর ক্যালিগ্রাফি করবো ইনশাআল্লাহ!

রায়হান তার খাতা খুলে বলল, চলো! আজকে আমরা ‘দাল’ হরফ লেখা শিখি। হরফ লেখার আগে আমরা কত্ দিয়ে হরফের দৈর্ঘ্য-প্রস্থ চিহ্নিত করে নিতে পারি। এটা হলো মুফরাদাত বা একক হরফ পর্বের তৃতীয় ক্লাস। ‘দাল’ হরফটির তিনটি অংশ। এক. র’স অর্থাৎ মাথা দুই. জিসম বা দেহের ওপরের অংশ এবং জিসমের নিচের অংশ। প্রথমে আমরা র’স দিয়ে শুরু করবো। সুলুসশৈলীতে এ হরফটির দুটো সুরত অর্থাৎ দেহকাঠামো রয়েছে। এক. আদি অর্থাৎ মৌলিক, দুই. মিলিত দাল। মিলিত দালের নিচের অংশ মুদাওয়ার হয় সাধারণত। তবে কখনও সেটা মুরসাল করা যায় সাজানোর স্বার্থে।

তোমরা খেয়াল করো- দাল হরফের র’স লিখতে কলমকে আমরা প্রায় ৯০ ডিগ্রি কোণে খাতার ওপর রেখেছি। এরপর ডানদিকে এক নোকতা বরাবর ৩৫ ডিগ্রি কোণে কলম চালাতে হবে। আমরা জানি দাল হরফের পরিমাপ প্রস্থে ৩ কত্ এবং ওপর-নিচ ৩ যোগ আড়াই কত্। র’স থেকে কলম ডানদিকে মায়েল বা ঢালু হয়ে নিচে নেমে যাবে (ছবি-এক)। এই দরব বা স্ট্রোকে দেড় কত্ বরাবর নিচের দিকে ঢেউ হবে, পরের দরব ওপরের দিকে দেড় কত্ বরাবর ঢেউ হবে (ছবি-দুই)। নিচের দরব লেখার সময় কলমকে ৪৫ ডিগ্রি কোণে বাম দিকে ৪ কত্ বরাবর নুযুল বা ঢালু হয়ে নামাতে হবে। এখানে সরাসরি দরবটি আসলে ২ কত্ নুযুল হয়েছে। কলমকে এই চালানোর সময় তোমরা কোথায় কোথায় কলমের কৌণিক অবস্থান কেমন আছে তা খেয়াল করো। এখানে কলম নুযুল শেষ করে আবার র’সের দিকে মাঝের সতর/খত্তুল ওসাতি বা লাইন বরাবর উঠবে (ছবি-তিন)।

অন্য হরফের সাথে মিলিত বা মুরাক্কাব দাল লেখার নিয়ম হলো- নিচ থেকে কলম ৫ কত বরাবর এরতেফা বা ওপরে উঠবে। এখানে ওপরের অংশ বাম দিকে মায়েল বা হেলানো হবে এক কত্। ওপরের অংশ থেকে নিচে কলমটি তিন কত্ নেমে বাম দিকে ৪৫ ডিগ্রি কোণে ৪ কত্ বরাবর নুযুল হবে। এইখানে আধা দাওর বা অর্ধ বৃত্তাকার অংশটি মুফরাদ বা একক দাল থেকে বড়ো হবে (ছবি-চার)। কখনও মুরাক্কাব দালের নিচের অংশ মুরসাল বা সোজা ৪৫ ডিগ্রি বরাবর নেমে যায় (ছবি-পাঁচ)। আবার কখনও মুফরাদ দালটিও কম্পোজিশন বা সাজানোর সুবিধার জন্য মুরাক্কাব হিসেবে ব্যবহার হয় (ছবি-ছয়)।
এগুলো তোমাদের বাড়ির কাজ থাকবে। সবাই অন্তত পাঁচ পাতা লিখে আনবে।
আজকে এ পর্যন্ত দরস থাকল।
আল্লাহ হাফিজ।

SHARE

Leave a Reply