Home চিত্র-বিচিত্র ম্যাগনোলিয়া ফুল -মুসা রিপন

ম্যাগনোলিয়া ফুল -মুসা রিপন

ম্যাগনোলিয়া ফুল সারাবিশ্বে পরিচিত এর সৌন্দর্য ও সুগন্ধের জন্য। এই ফুল বিভিন্ন রঙের হয়ে থাকে। রঙের বৈচিত্র্যের সাথে জড়িয়ে আছে ফুলটির ব্যবহারিক নানা তাৎপর্য।
এই ফুলের গাছ জাপান, চীন, উত্তর আমেরিকাতে জন্মায়। ষোড়শ শতকের দিকে একজন ফরাসি উদ্ভিদবিদ, পিয়েরে ম্যানগোল এই ফুলটি সম্পর্কে বেশ কিছু অজানা তথ্য দিয়েছিলেন। তাই তার নামানুসারে ফুলটির নাম হয় ম্যাগনোলিয়া।
প্রায় ২০০ প্রজাতির ফুলের গাছ রয়েছে, যা প্রাকৃতিকভাবে পাহাড়, বনে হয়ে থাকে। মেসোফাইটিক উদ্ভিদ হিসাবে, ম্যাগনোলিয়া মাঝারি আর্দ্র এবং উষ্ণ অঞ্চলে জন্মে।
ম্যাগনোলিয়া ছোটো গাছ বা ঝোপঝাড় আকারের হতে পারে। এদের শাখার বাকল বাদামি বা ধূসর রঙের। এই গাছ উচ্চতায় পাঁচ থেকে ত্রিশ মিটার পর্যন্ত হয়। এদের পাতা লম্বা, ঘন হয়।
ম্যাগনোলিয়া ফুল বিভিন্ন রঙের হয়। সাদা, ক্রিম, ফ্যাকাশে গোলাপ, উজ্জ্বল হলুদ, লাল, বেগুনি রঙের হয়ে থাকে।
এই ফুলের রঙ কতটা গাঢ় হবে সেটা নির্ভর করে তাপমাত্রার ওপর। তাপমাত্রা যত বেশি হবে ফুলের রঙও তেমন উজ্জ্বল হবে।
ম্যাগনোলিয়াস ফুল সাধারণত বসন্তের প্রথম দিকেই ফোটে। ফেব্রুয়াারির শেষের দিক থেকে মার্চের প্রথম দিকে প্রথম ফুল ফোটা শুরু করে। গ্রীষ্মের শেষ পর্যন্ত এই ফুল ফুটতে দেখা যায়।
ম্যাগনোলিয়াস আকর্ষণীয় হলেও ফুলের গন্ধ তীব্র। বেশি সময় ধরে এই ফুলের ঘ্রাণ নিলে শ্বাসকষ্ট, অস্বস্তি, মাথা ব্যথা এবং বমি বমি ভাব হতে পারে।
ম্যাগনোলিয়া ফুল ওষুধ হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। গাছের ফুল ও পাতা থেকে প্রয়োজনীয় তেল সংগ্রহ করা হয়। মাথা ঘোরা এবং মাথা ব্যথা দূর করার জন্য তেলটি ব্যবহার করা হয়। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও এই ফুলের ব্যবহার করা হয়। ম্যাগনোলিয়ার গোলাপি রঙের ফুল দেখতে অনেকটা পাখির মতো।
আমাদের দেশেও এই ফুল দেখা যায়। বাংলাদেশে এর একটি মাত্র প্রজাতি রয়েছে। সেই ম্যাগনোলিয়ার নাম দুলিচাঁপা। ঢাকায় রমনা পার্ক, মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন, বলধা গার্ডেন, শিশু একাডেমির বাগান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল এলাকায় ম্যাগনোলিয়ার দেখা মেলে।
অনুকূল পরিবেশে এটি ১০০ বছর বা তারও বেশি সময় বাঁচতে পারে। আদি ফুল হিসেবে শতাব্দীর পর শতাব্দী টিকে আছে ম্যাগনোলিয়ার অপার সৌন্দর্য।

SHARE

Leave a Reply