Home কুরআন ও হাদিসের আলো কুরআনের আলো কুরআনের আলো

কুরআনের আলো

ভালো কাজের আলো

ঈদের দিনের সন্ধ্যা। রজনীগন্ধা ফুটুক আর না ফুটুক, নানাবাড়ি সুবাসিত হবেই। ফেরেশতারা যেন খুশির লোবান ছিটিয়ে যায় সেখানে। ঈদ আসবে, অথচ নানাবাড়ি বেড়াতে যাবে না জিবরান, তা কি হয়? তাহলে সেটা কি আর ঈদ থাকে? কারণ, সন্ধ্যা হলেই সেখানে গল্পের আসর বসে। এ যেন চাঁদের হাট। এ হাটে ছোটোমামা হয়ে যান আলোর ফেরিওয়ালা। ছোটোদের নিয়ে তিনি চলে যান দূর বহুদূর। খুলে দেন কল্পনার মহাকাশ।

এবারও, এই কুরবানির ঈদেও যথারীতি চলছে মামার ঈদ উৎসব। শুধু গল্প নয়, হচ্ছে গান-কবিতাও। এমন অনুপম আয়োজনে হঠাৎ করেই নেমে এলো অন্ধকার। অন্ধকার? শুধু অন্ধকারই নয়, গাঢ় অন্ধকার! বিদ্যুৎ চলে গেছে। কিছুটা এলোমেলো হয়ে গেল সবকিছু! সবাই কথা বলা শুরু করেছে। মামা বললেন- শোনো, এ অন্ধকার থেকেই এখন শুরু হবে আলোর গল্প!

মামা মুঠোফোনের আলো জ্বালালেন। অল্প আলো। মিটিমিটি। এরপর বললেন- আলো শুধু দুনিয়াতেই নয়, আখিরাতেও লাগবে। যারা ভালো মুমিন হতে পারবে, আলো তাদের পথ দেখাবে। জান্নাতের পথ। আর মুনাফিকরা পড়ে থাকবে অন্ধকারে। জাহান্নামে। আল্লাহ বলেছেন- “সেদিন তুমি মুমিন নর-নারীদের দেখবে, তাদের সামনে ও ডানে আলো ছোটাছুটি করছে। বলা হবে, আজ তোমাদের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ। যার তলদেশে নদীমালা প্রবাহিত। সেখানে তোমরা চিরদিন থাকবে। এটাই মহাসাফল্য।” (সূরা আল-হাদীদ : ১২)

এ আলোও কিন্তু কম-বেশি হবে। আমল অনুযায়ী। কারো আলো হবে পাহাড় সমান। সবচেয়ে কম যে পাবে, তার আলো থাকবে বুড়ো আঙুলে। যা একবার জ্বলবে আরেকবার নিভবে।

জিবরান বলল- যারা আলো পাবে না, তারা কেমন করবে?

মামা বললেন, কুরআন থেকেই শোনো- “সেদিন মুনাফিক পুরুষ ও নারীরা মুমিনদের বলবে, তোমরা আমাদের জন্য একটু থামো, যাতে আমরা তোমাদের কিছু আলো নিতে পারি। বলা হবে, তোমরা তোমাদের পেছনে ফিরে যাও এবং আলোর খোঁজ করো। অতঃপর উভয়ের মাঝামাঝি দেওয়া হবে একটি প্রাচীর। যাতে একটি দরজা থাকবে। যার ভেতরে থাকবে রহমত এবং বাইরে আজাব।” (সূরা আল-হাদীদ : ১৩)

এবার বলো তো, আলো পেতে হলে আমাদের কী করতে হবে? সবাই একসুরে বলল- ভালো কাজ!

SHARE

Leave a Reply