Home নিয়মিত Hello World! প্রোগ্রাম -নাদিম নওশাদ

Hello World! প্রোগ্রাম -নাদিম নওশাদ

আসসালামু আলাইকুম সবাইকে। সাথে সাথে সবার প্রতি ঈদের শুভেচ্ছা রইলো। সেমাই পায়েস খেয়ে আর ঈদের সালামি পেয়ে আশা করি দিনকাল অনেক ভালোই যাচ্ছে। গত পর্বে আমরা প্রোগ্রামিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম তৈরি করেছি। এখন কাজে নেমে পড়ার পালা। কী? ভুলে গেছো। কোনো সমসা নেই। তোমাদের মধ্যে আমার মতো যারা বারবার ভুলে যাও, তাদের জন্য চলো আরও একবার গত পর্বের সংক্ষিপ্ত আলোচনা করে আসা যাক।

প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ শেখার জন্য সর্বপ্রথম দরকার হলো একনিষ্ঠতা ও প্রবল আগ্রহ। তাই প্রোগ্রামিং শেখার জন্য অনেক অনেক প্র্যাকটিস করতে হবে। কম্পিউটারে প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজের সহকারী হিসাবে কাজ করে কম্পাইলার (compiler)। কম্পাইলারের কাজ হচ্ছে প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজকে কম্পিউটারের ভাষায় রূপান্তর করা। এছাড়া কম্পিউটারের ভাষায় রূপান্তর করার আগে প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজে কোনো ভুল আছে কি না সেটা পরীক্ষা নিরীক্ষা করার জন্য ডিবাগ করার দরকার হয়। এতে প্রোগ্রামিংয়ের ভাষা সহজে কম্পিউটার নিখুঁতভাবে পায়। কম্পিউটার তৈরির প্রথম দিকে কম্পাইলিং ও ডিবাগিং আলাদা আলাদা ভাবে করা হতো। কিন্তু বর্তমানে আধুনিক যুগে কম্পিউটারকে আরও দ্রুতগতির যন্ত্র হিসেবে উপস্থাপনের জন্য IDE (integrated development environment) ব্যবহার করা হয়। যার মাধ্যমে একটা ইনভার্নমেন্টে কম্পাইলিং ও ডিবাগিং করা হয়। যেহেতু আমরা প্রোগ্রামিংয়ে নতুন তাই আমাদের কাজ সহজ করার জন্য আমরা codeblocks ব্যবহার করবো।
এ পর্বে আমরা প্রোগ্রামিংয়ের সাধারণ কাঠামো নিয়ে কথাবার্তা বলবো। আর যেহেতু এখন ঈদের মাস তাই তোমাদেরকে ঈদের সালামি হিসাবে একটা প্রোগ্রাম চালিয়ে দেখাবো ইনশাআল্লাহ। কী, একটু নার্ভাস লাগছে? আরে, আজ কম্পিউটার তোমার কথা মতো কাজ করবে। তুমি যা বলবে তাই শুনতে সে বাধ্য থাকবে। একদম আলাদিনের জিনের মতো। বিষয়টা অনেক মজার না?
প্রথমেই চলো একটা উদাহরণ দিয়ে শুরু করি। তার জন্য তোমাকে codeblocks অ্যাপসটা open করতে হবে। সেজন্য তোমার কম্পিউটারের সার্চ বারে গিয়ে codeblocks লিখলেই চলে আসবে। এরপর তুমি অ্যাপসটি open করবে। তারপর তোমাকে কোড লেখার জন্য নতুন একটা ফাইল নিতে হবে।
Codeblocks on search bar
তার জন্য তোমাকে বাম পাশে ওপরে file নামের বাটনে ক্লিক করতে হবে। এরপর new বাটনে, তারপর empty file এ ক্লিক করতে হবে। অথবা যদি তুমি শর্টকাট পছন্দ করে থাকো তবে crtl + shift + n + হ একসাথে চাপতে হবে। ব্যাস্ নতুন ফাইল বানানোর কাজ শেষ।
New file creating
এরপর ফাইলটি save করার পালা। ফাইল save করার জন্য আবার file বাটনে ক্লিক করে save file as এ ক্লিক করতে হবে। শর্টকাট এ crtl+s.। এরপর একটা নতুন পপআপ আসবে। সেখান থেকে ফাইল যে folder এ রাখতে চাও সেটা সিলেক্ট করে, file name এ তোমার পছন্দমতো একটা নাম দিবে। নাম দেওয়া শেষ হলে নামের পরেই (. cpp) লিখতে হবে। এটাকে বলে extension। যেমন ছবির ফাইলের extension jpg, jpeg,png ইত্যাদি। (.cpp) দিয়ে বোঝা যায় এটা c++ প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজের এর ফাইল। সব কাজ শেষে save বাটনে ক্লিক করলেই তৈরি হয়ে যাবে আমাদের প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ লেখার নতুন ফাইল।
Save the file
যদি একটা রোডম্যাপ তৈরি করি তবে বিষয়টা এমন দাঁড়ায়,
file->new->empty file [new file created]
file->save as -> filename.cpp->save [c++ file is ready]
Saved file
ফাইল saveহবার পর আমরা আমাদের কোডটা লিখতে পারি। চলো নিচের কোডটা সবাই ঝটপট লিখে ফেলি। মনে রাখবে কোডটি হুবহু একই না হলে কিন্তু কাজ করবে না। তাই দাঁড়ি, কমা, সেমিকোলন সব হুবহু দিতে হবে। আয়নার সামনে যেমন নিজেকে হুবহু দেখতে পাও ঠিক তেমনই।
#include <iostream> using namespace std; int main() {cout << “Hello World!”;
return 0;} Execution of program
কোডটি রান করার জন্য codeblocks এর ফাইল এর ওপরে build and run বাটনে ক্লিক করলেই- বুম। তোমার প্রোগ্রাম run করছে। একটা কালো পপআপ দেখতে পাবে তোমরা। যেখানে Hello World! লেখা থাকবে। এর মানে হলো আমরা, Hello World! প্রিন্ট করলাম। প্রতিবার প্রিন্ট করার পর কালো পপআপটার ক্রস বাটনে ক্লিক করে কেটে দিবে। না হলে পরবর্তীতে আবার build and run করতে সমস্যা হবে। এখন ৫ নং লাইনের (cout<<”Hello World! “; ) Hello World! এর জায়গায় তোমার ইচ্ছামত যা-ই তুমি লিখবে তাই প্রিন্ট হবে। কোডটি বারবার লিখে নিজের আয়ত্তে নিয়ে আসবে আশা করি।
এইতো, একজন প্রোগ্রামার হিসেবে তুমি নিজের আত্মপ্রকাশ ঘটালে। এখন তুমি তোমার বন্ধুকে বলতে পারবে তুমি একজন কোডার। তারিখটা যত্ন করে মনে রেখো কিন্তু।
এবার তোমাদের কাজ হলো, তোমার নিজের নাম, আব্বুর নাম, আম্মুর নাম, ভাই বোনদের নাম ও দাদা-দাদীর নাম প্রিন্ট করা। সাথে বন্ধুদের ডেকে এনে তাদের নামও প্রিন্ট করে দেখাতে পারো।
পরবর্তী সংখ্যায় আমরা এই কোডটা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করবো। মানে কোন শব্দটা কেন ব্যবহার হলো, এটা ব্যবহার না করলে কী হতো, এসব আর কি। সাথে সাথে আরও এক ধাপ এগিয়ে নতুন কিছু জিনিস শিখবো ইনশাআল্লাহ। (চলবে)

SHARE

Leave a Reply