Home বিজ্ঞান ও বিশ্ব শৈবাল সাগর -মুসা রিপন

শৈবাল সাগর -মুসা রিপন

পৃথিবীতে এমন একটি সাগর আছে যার কোনো তীর বা কিনারা নেই। এটি উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত। তীরবিহীন সাগরটির নাম সারগাসো। তীরের পরিবর্তে সাগরটিকে ঘিরে আছে আটলান্টিক মহাসাগরের চার ধরনের স্রোত।
সাগরটির মাত্রা ৫.২ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার। এর প্রশস্ত ১.১০৭ কিলোমিটার এবং দৈর্ঘ্য ৩.২০০ কিলোমিটার। সাগরটির পশ্চিমে আছে গালফ স্ট্রিম, উত্তরে আটলান্টিক কারেন্ট, পূর্বে ক্যানারি কারেন্ট এবং দক্ষিণে নর্থ-ইকুয়েটোরিয়াল কারেন্ট। এই চারটি স্রোত অবিরাম ঘুরছে।
চারটি স্রোতের মাঝে থাকা সারগাসো সাগরের পানি স্থির ও প্রবাহহীন। তাই উত্তাল আটলান্টিক মহাসাগরের সব চেয়ে শান্ত অঞ্চল এই সারগাসো সাগর। এখানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম।
জানা যায় ১০৯০ খ্রিস্টাব্দে আলমোরাভিদ সাম্রাজ্যের সুলতান আলি ইবন ইউসুফ একটি জাহাজ পাঠিয়ে ছিলেন এই এলাকায়। জাহাজে ছিলেন বিখ্যাত মানচিত্র-নির্মাতা মুহাম্মদ আল-ইদ্রিসি। তিনি সাগরটির মানচিত্র নির্মাণ করেছিলেন।
সাগরটির নাম সারগাসো দিয়েছিল পর্তুগিজরা। সাগরে শৈবালের পরিমাণ অনেক। তাই তারা শৈবালের নামেই সাগরটির নাম দিয়েছিল সারগাসো।
সারগাসো সাগরের জীববৈচিত্র্য অন্যান্য সাগরের চেয়ে আলাদা। এই সমুদ্রের পানি অতিরিক্ত লবণাক্ত হওয়ায় এখানে প্ল্যাঙ্কটন বেশি জন্মাতে পারে না। প্ল্যাঙ্কটন সামুদ্রিক পরিবেশে খাদ্য শৃঙ্খলার একটি অপরিহার্য অঙ্গ। ফলে এখানে জীববৈচিত্র্য সেভাবে গড়ে উঠতে পারে না। এ কারণে, সারগাসো সাগর একটি সামুদ্রিক জৈবিক মরুভূমি হিসাবে পরিচিত।
এখানে কেবল শৈবাল দেখা যায়। সাগরটির কোনো কোনো জায়গায় শৈবালের পরিমাণ এত বেশি যে সেখানে জাহাজ চলাচল করতে পারে না। এছাড়া পানির স্রোত না থাকায় স্রোতের সাহায্যও পায় না জাহাজ।
ওই সব জায়গা দিয়ে জাহাজ চালাতে গেলে জাহাজের প্রপেলারে শ্যাওলা জড়িয়ে প্রপেলার বন্ধ হয়ে যায়। একই জায়গায় আটকে থাকে জাহাজ। ছোটো বোট হলে ডুবে যায়।
সারগাসো সাগরটিকে চারদিক থেকে ঘিরে রাখা পানির স্রোতই বয়ে নিয়ে এসেছিল সামুদ্রিক শৈবাল। এখনো নিয়ে আসে। এভাবেই সারগাসো সাগর ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছে শৈবাল সাগর।
এই সাগরের পানি অনেক স্বচ্ছ। পানির রঙ ঘন নীল। দিনে পানির নিচে ২০০ ফুট পর্যন্ত দৃষ্টি চলে যায়।
তবে মানুষ নানাভাবে নষ্ট করছে এখানকার পানি। সেই দূষণ চলে যাচ্ছে সারগাসো সাগর থেকে চারদিকের জলস্রোতে। এর ফলে আটলান্টিক মহাসাগর জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে দূষণ।
আজোর দ্বীপপুঞ্জ, বারমুডা, মোনাকো, ব্রিটেন ও আমেরিকাকে নিয়ে ২০১৪ সালের ১১ মার্চ গড়ে উঠেছে ‘সারগাসো সি কমিশন’। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের স্বেচ্ছাসেবীরা সারগাসো সাগরকে রক্ষা করার জন্য উদ্যোগ নিয়েছে।

SHARE

Leave a Reply