Home দেশ-মহাদেশ দক্ষিণ ইউরোপের বৃহত্তম দেশ স্পেন -মুহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম

দক্ষিণ ইউরোপের বৃহত্তম দেশ স্পেন -মুহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম

স্পেন ইউরোপ মহাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে অবস্থিত একটি রাষ্ট্র। সরকারি নাম স্পেন রাজ্য। শাসনব্যবস্থার ধরন অনুযায়ী দেশটি একটি সংসদীয় গণতান্ত্রিক রাজতন্ত্র। এটি আইবেরিয়ান উপদ্বীপের প্রায় ৮৫ শতাংশ অঞ্চলজুড়ে অবস্থিত। উপদ্বীপটির অবশিষ্ট অংশে স্পেনের ক্ষুদ্রতর প্রতিবেশী রাষ্ট্র পর্তুগাল এবং ব্রিটিশ শাসিত অঞ্চল জিব্রাল্টার অবস্থিত। স্পেনের আয়তন ৫ লাখ ৫ হাজার ৯৯০ বর্গকিলোমিটার (১,৯৫,৩৬০ বর্গমাইল)। আয়তনের দিক দিয়ে রাশিয়া, ইউক্রেন ও ফ্রান্সের পরে স্পেন ইউরোপের চতুর্থ বৃহত্তম এবং দক্ষিণ ইউরোপের বৃহত্তম দেশ। মাদ্রিদ স্পেনের বৃহত্তম নগরী ও রাজধানী। বার্সেলোনা, বালেন্সিয়া, সেবিইয়া, বিলবাও এবং মালাগা অন্যান্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর।
স্পেনের জনসংখ্যা ৪ কোটি ৭৪ লাখ ৫০ হাজার ৭৯৫ জন। জাতিগত গ্রুপের মধ্যে রয়েছে স্পেনিয়ার্ড ৮৪.৮ শতাংশ এবং অন্যান্য ১৫.২ শতাংশ। প্রধান ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে রয়েছে খ্রিষ্টান ৫৭.৬ শতাংশ, অধার্মিক ৩৭.৭ শতাংশ, অন্যান্য ২.৯ শতাংশ এবং অপ্রকাশিত ১.৮ শতাংশ। বর্তমানে এদেশে মুসলিমদের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৪.৪৫ শতাংশ। দেশটির সরকারি ভাষা কাস্তিলীয় স্পেনীয় ভাষা। তাছাড়া স্পেনে বাস্ক, আস্তুরীয়, কাতালান ও গালিসীয় ভাষাভাষীও রয়েছে।
স্পেনের উত্তর সীমানায় আটলান্টিক মহাসাগরের একটি বাহু বিস্কায়া উপসাগর অবস্থিত। উত্তর-পূর্ব সীমানায় পিরিনীয় পর্বতমালা স্পেনের সাথে ফ্রান্স এবং অতিক্ষুদ্র রাষ্ট্র অ্যান্ডোরার একটি প্রাকৃতিক সীমানা গঠন করেছে। পূর্ব দিকে ভূমধ্যসাগর, দক্ষিণে ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগর এবং পশ্চিমে পর্তুগাল ও আটলান্টিক মহাসাগর স্পেনের অবশিষ্ট সীমানা নির্ধারণ করেছে। স্পেনের সর্বদক্ষিণ বিন্দুটি মরক্কোর দিকে মুখ করে অবস্থিত এবং দেশ দু’টি সরু জিব্রাল্টার প্রণালী দিয়ে একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন। স্পেন তাই ইউরোপের সাথে আফ্রিকার সঙ্গমস্থলে অবস্থিত। এ ছাড়া আটলান্টিক মহাসাগরের লাস কানারিয়াস দ্বীপপুঞ্জ এবং ভূমধ্যসাগরের বালেয়ারীয় দ্বীপপুঞ্জগুলোও স্পেনের শাসনাধীন। এ ছাড়া মরক্কোতে সেউতা এবং মেলিইয়া নামের দুইটি ছিটমহল স্পেন পরিচালনা করে। উত্তর আফ্রিকার উপকূলের কাছে অবস্থিত পেনিয়ন দে বেলেস দে লা গোমেরা নামক দ্বীপ, আলহুসেমাস ও চাফারিনাস দ্বীপপুঞ্জগুলোও স্পেনের অধিকারে পড়েছে। ব্রিটিশদের অধীনে অবস্থিত জিব্রাল্টার স্পেনের মূল ভূখণ্ডের একেবারে দক্ষিণ প্রান্তসীমায় অবস্থিত।
স্পেনের প্রাণকেন্দ্রে সমুদ্র সমতল থেকে অর্ধমাইল উচ্চতায় অবস্থিত মেসেতা নামক একটি প্রশস্ত কেন্দ্রীয় মালভূমি দেশটির অধিকাংশ আয়তনজুড়ে অবস্থিত। এই অঞ্চলের অধিকাংশ ভূমিতে গবাদি পশুপালন ও শস্য উৎপাদনের ঐতিহ্য রয়েছে। মেসেতা মালভূমির ভেতরে এবং এর চারপাশ ঘিরে অনেক পাহাড়-পর্বত রয়েছে, যেগুলোকে স্থানীয় ভাষায় সির্য়েরা নামে ডাকা হয়।
সুইজারল্যান্ড ও অস্ট্রিয়ার পরে স্পেন ইউরোপের সর্বাধিক পর্বতসঙ্কুল দেশ। মেসেতা মালভূমিটির কেন্দ্রে মাদ্রিদ নগরী অবস্থিত। মাদ্রিদ ইউরোপ মহাদেশে সমুদ্র সমতল থেকে সর্বাধিক উচ্চতায় অবস্থিত রাজধানী নগর। মেসেতা মালভূমির জলবায়ু রুক্ষ এবং শুষ্ক। তাই স্পেনের অধিকাংশ জনগণ সমুদ্র-উপকূল অঞ্চলে কিংবা প্রধান কিছু নদীর অববাহিকায় বসবাস করে। দেশের উত্তর-পূর্ব অংশে রয়েছে এব্রো নদীর প্রশস্ত উপত্যকা, কাতালুনিয়ার পার্বত্য অঞ্চল এবং বালেন্সিয়া নামক পাহাড়ি উপকূলীয় সমভূমি অঞ্চল। উত্তর-পশ্চিমে আছে গালিসিয়া নামক অঞ্চল ও তার রুক্ষ কান্তাব্রীয় পর্বতমালা, যেখানে বৃষ্টিস্নাত শ্যামল নিবিড় অরণ্যাবৃত উপত্যকাগুলোর মাঝে মাঝে সুউচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে। স্পেনের দক্ষিণে গুয়াদালকিভির নদীর উপত্যকা কমলালেবু-জাতীয় ফলের উদ্যানে পরিপূর্ণ। এই উপত্যকা থেকেই উত্থিত হয়েছে হিমাবৃত সির্য়েরা নেবাদা পর্বতমালা। স্পেনের দক্ষিণ প্রান্তটি মরুময়; আলমেইরা নামের এই মরুভূমিটি আফ্রিকার সাহারা মরুভূমিরই একটি প্রসারিত অংশ রূপে গণ্য করা হয়। স্পেনের দক্ষিণ-পূর্বের ভূমধ্যসাগরীয় উপকূল অঞ্চলটিতে পামবৃক্ষের সারি, সুগন্ধী রোজমেরির ঝাড় ও অন্যান্য ক্রান্তীয় উদ্ভিদের দেখা মেলে। মৃদু জলবায়ুর সুবাদে বালেয়ারীয় দ্বীপপুঞ্জ ও এই অঞ্চলটিতে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পর্যটক ও অবসরপ্রাপ্ত মানুষ বেড়াতে আসে।
স্পেন জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউরোজোন, কাউন্সিল অফ ইউরোপ, ইবেরো-আমেরিকান রাষ্ট্রসমূহের সংস্থা, ভূমধ্যসাগরীয় ইউনিয়ন, নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন (ন্যাটো), অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (ওইসিডি), ইউরোপের নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থা (ওএসসিই), বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা এবং অন্যান্য বহু আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্য। এদেশের মুদ্রার নাম ইউরো।
প্রাচীনকালে ফিনিসীয়, কার্থেজীয় ও সবশেষে রোমানরা অঞ্চলটি দখল করেছিল। পঞ্চম শতকে উত্তর ইউরোপ থেকে আগত ভিজিগথ জাতির লোকেরা দেশটিকে শাসন করা শুরু করে। অষ্টম শতকে উত্তর আফ্রিকা থেকে আগত আরবিভাষী মুসলিম আরব ও উত্তর বার্বার জাতি কেরা ইবেরীয় উপদ্বীপের অধিকাংশ দখলে নিয়ে নিতে সক্ষম হয়। মধ্যযুগের প্রায় পুরোটা জুড়েই মুসলিমরা স্পেনের মূল শাসক ছিল; তাদের রাজ্যের নাম ছিল আল আন্দালুস। নবম ও দশম দশকে শিক্ষা, গণিত, ভূগোল, স্থাপত্য, জ্যোতির্বিজ্ঞান ও কাব্যচর্চায় কর্দোবা ছিল গোটা ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় শহর। ১৫শ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে এসে উত্তর স্পেনের খ্রিস্টান রাজ্যগুলো একত্র হয়ে মুসলিম আরব আফ্রিকানদের কাছ থেকে ইবেরীয় উপদ্বীপের দখল নিতে যুদ্ধ করে এবং ১৪৯২ সালে স্পেন থেকে শেষ মুসলিম আফ্রিকান গোত্রীয় শাসনকর্তাকে বিতাড়িত করা হয়। খ্রিস্টানরা স্পেন থেকে মুসলমানদের নারকীয়ভাবে হত্যা ও বিতাড়িত করে এবং মুসলিম সভ্যতার স্থাপত্য নিদর্শনাবলিগুলো দখল করে নেয়। মুসলিমদের এই ভূখণ্ডটি ধীরে ধীরে খ্রিস্টান রাজ্যে পরিণত হয়। অবসান ঘটে ৮০০ বছরের আল আন্দালুস (স্পেন) ইসলামী রাষ্ট্রের।
১৪৯২ সালে অভিযাত্রী নাবিক ক্রিস্টোফার কলম্বাসের নেতৃত্বে স্পেনের রাজার রণপোতসমূহ আমেরিকা মহাদেশে পদার্পণ করে। এরপরে প্রায় ৩০০ বছর ধরে স্পেনীয় অভিযাত্রী এবং যোদ্ধারা বিশ্বের আনাচে কানাচে ভ্রমণ করে এবং স্পেনীয় রাজার জন্য বিশাল আয়তনের ভূখণ্ড অধিকার করে। আমেরিকা মহাদেশ থেকে লুটকৃত ধনসম্পদের জন্য স্পেন ইউরোপের সবচেয়ে ক্ষমতাধর শক্তিতে পরিণত হয়। স্পেনীয় সৈনিক এবং ধর্মযাজকেরা বর্তমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অংশবিশেষ ও মেক্সিকো থেকে শুরু করে দক্ষিণে চিলি পর্যন্ত স্পেনের উপনিবেশ স্থাপন করে এবং সেখানে স্পেনীয় ভাষা ও সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেয়।
বহু প্রজন্ম ধরে স্পেন ছিল গোটা বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশ; এর সাম্রাজ্য বিশ্বের সমস্ত জায়গায় ছড়িয়ে ছিল। ১৭শ শতকেই স্পেনের অর্থনীতিতে স্থবিরতা দেখা দেয়। ১৮শ ও ১৯শ শতকে ইউরোপ মহাদেশ এবং সারা বিশ্বজুড়ে স্পেনের ক্ষমতা অবিরত হ্রাস পেতে থাকে এবং বিশ্বের ঘটনাবলিতে এর ভূমিকা তেমন ছিল না বললেই চলে। ১৯৩৬ থেকে ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত স্পেনে গৃহযুদ্ধ সংঘটিত হয়। যুদ্ধশেষে স্বৈরশাসক ফ্রানসিস্কো ফ্রাংকোর চার দশকব্যাপী শাসনের সময়ে স্পেন বিশ্বে আরও বেশি একাকী হয়ে পড়ে। ১৯৭৫ সালে ফ্রাংকোর মৃত্যুর পর হুয়ান কার্লোস নামক বুর্বন বংশের রাজা আবার সিংহাসনে ফেরত আসেন এবং দেশটিতে একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। তখন থেকে দেশটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছে।
স্পেনের রাজনীতি একটি সংসদীয় প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক সাংবিধানিক রাজতন্ত্রের কাঠামোতে পরিচালিত হয়। এই ব্যবস্থায় স্পেনের রাজা হলেন রাষ্ট্রপ্রধান এবং রাষ্ট্রপতি হলেন একটি বহুদলীয় ব্যবস্থায় সরকারি নেতা। স্পেনের বর্তমান রাজা ফিলিপ ষষ্ঠ এবং প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ। এদেশের আইনসভা দ্বিকক্ষবিশিষ্ট : উচ্চকক্ষ ২৬৬ সদস্যের সিনেট এবং নিম্নকক্ষ ৩৫০ সদস্যের প্রতিনিধি পরিষদ। স্পেনের প্রশাসনিক এলাকা ১৭টি স্বায়ত্তশাসিত কমিউনিটি এবং দুটি স্বায়ত্তশাসিত নগরীতে বিভক্ত। কমিউনিটিগুলো আবার প্রদেশে এবং প্রদেশগুলো পৌরসভায় বিভক্ত।
স্পেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চল কাতালোনিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণার পর দেশটি এক গভীর সাংবিধানিক সঙ্কটের মধ্যে পড়েছে। কাতালোনিয়ার আঞ্চলিক পার্লামেন্ট স্বাধীনতা ঘোষণার পক্ষে ভোট দেওয়ার পর পরই স্পেনের পার্লামেন্ট সেখানে কেন্দ্রের প্রত্যক্ষ শাসন জারির প্রস্তাব পাস করে।
দেশটির সঙ্গে অন্যান্য দেশের সুসম্পর্ক রয়েছে। এই দেশের পাসপোর্টে ১২৩টি দেশে বিনা ভিসায় ভ্রমণ করা যায়, যা পাসপোর্ট শক্তি সূচকে তৃতীয় স্থানে রয়েছে।
স্প্যানিশ রন্ধনপ্রণালীতে বিভিন্ন রকম খাবার রয়েছে, যা ভূগোল, সংস্কৃতি ও আবহাওয়ার পার্থক্য থেকে উদ্ভূত হয়েছে। দেশের চারপাশের পানি থেকে পাওয়া সামুদ্রিক খাবার এদেশের রন্ধনপ্রণালীতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। এদেশের রন্ধনপ্রণালীতে তিনটি প্রধান বিভাগ সহজেই চিহ্নিত করা যায়। যেমন ভূমধ্যসাগরীয় স্পেনে পেসকাইটো ফ্রিটো (মাছ ভাজা), বেশ কিছু ঠাণ্ডা স্যুপ যেমন গাজপাচো এবং অনেক ভাতভিত্তিক খাবার (কালো চাল) খাওয়া হয়। এই অঞ্চলের ভ্যালেন্সিয়ার ভাতভিত্তিক খাবার পায়েলা বেশ জনপ্রিয়। অভ্যন্তরীণ স্পেনে গরম ঘন স্যুপ যেমন রুটি এবং রসুনভিত্তিক ক্যাস্টিলিয়ান স্যুপ, সঙ্গে স্টু খাওয়া হয়। আটলান্টিক স্পেনে আস্তুরিয়ান, বাস্ক, ক্যান্টাব্রিয়ান ও গ্যালিসিয়ান খাবারসহ সবজি ও মাছভিত্তিক স্টু খাওয়া হয়। এছাড়াও এগুলোর সাথে রয়েছে আরো বিচিত্র খাবার।
ফুটবল স্পেনের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। স্পেন ২০১০ সালে ফিফা বিশ্বকাপ জিতেছিল। এছাড়া দেশটি ১৯৬৪, ২০০৮ ও ২০১২ সালে উয়েফা ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ জেতে। রিয়াল মাদ্রিদ সিএফ এবং এফসি বার্সেলোনা হলো বিশ্বের সবচেয়ে সফল ফুটবল ক্লাব। বাস্কেটবল, টেনিস, সাইক্লিং, হ্যান্ডবল, ফুটসাল, মোটরসাইকেল চালানো প্রতিযোগিতা এদেশের অন্যান্য জনপ্রিয় খেলা।
স্পেনে প্রতি বছর নানারকম উৎসব হয়ে থাকে। সারা বিশ্ব থেকে লাখ লাখ পর্যটক এগুলোর অভিজ্ঞতা নিতে যায়। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো প্যামপ্লোনার সান ফার্মিন উৎসব। এই উৎসবে এনসিয়েরো বা ষাঁড়ের দৌড় হয়। যা ৭ থেকে ১৪ই জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হয়।

SHARE

Leave a Reply