Home নিয়মিত সুলুস ক্যালিগ্রাফিতে হরফ ‘বা’ লিখবো যেভাবে -মোহাম্মদ আবদুর রহীম

সুলুস ক্যালিগ্রাফিতে হরফ ‘বা’ লিখবো যেভাবে -মোহাম্মদ আবদুর রহীম

আজ জুমাবার সকাল সকাল ক্যালিগ্রাফি ক্লাসে সবাই এসে হাজির। রায়হানের বন্ধুরা গত ক্লাসের হোমওয়ার্ক বের করে পরস্পর দেখাতে লাগল এবং সেগুলো কতটা সঠিক হয়েছে তা নিয়ে কথা বলল। রায়হান আসতে সালাম দিল সবাই। ক্লাসের শুরুতে সে বলল, শোনো! ক্যালিগ্রাফি ক্লাসের কিছু আদব কায়দা আছে, তোমাদের তা মেনে চলতে হবে। তোমরা ক্লাসে আসার আগে অজু করবে, অন্তত এক গ্লাস হালকা কুসুম গরম পানি পান করবে। আর এখন থেকে ফ্রিজের ঠান্ডা পানি খাওয়া একেবারে বন্ধ। মাবরুর হাত তুলল। রায়হানের অনুমতি পেয়ে সে বলল, আচ্ছা, আমি তো ফ্রিজের পানি ছাড়া চলতে পারি না আর ক্যালিগ্রাফির সাথে এর কী সম্পর্ক আছে। রায়হান হেসে দিয়ে বলল, ক্যালিগ্রাফির ওস্তাদগণের মতে, ক্যালিগ্রাফি করার জন্য শরীর সুস্থ ও কাজের উপযোগী থাকা আবশ্যক। আর এই ঠান্ডা পানি হলো শরীর অসুস্থ হওয়ার প্রধান কারণ। এটা পেটের গোলমাল করে ও নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা তৈরি করে। মাবরুর বলল, ভাইয়া আপনি ঠিক বলেছেন, আম্মুও না করেন আর কয়েকদিন পর পর আমার পেটের গোলমাল লেগে থাকে। এখন থেকে গরম পানি খাবো।
রায়হান সবার খাতা দেখে আলিফ হরফ ঠিক করে লিখে দিল। সবাইকে উদ্দেশ করে বলল, বাড়ির কাজ করার সঠিক নিয়ম হলো, প্রথমে কালি ছাড়া কলমটি তোমরা ওস্তাদের লেখা হরফের ওপরে বারবার ঘুরাবে এবং খেয়াল করবে কোথায় কেমনভাবে কলমের কৌণিক অবস্থান রয়েছে। এরপর বিসমিল্লাহ বলে কলম কালিতে আলতো করে চুবিয়ে ওস্তাদের হরফটি দেখে হুবহু লেখার কোশেশ করবে। মনে রাখবে! প্রতিবার লেখার সময়, আগে ওস্তাদের হরফটি দেখবে তারপর লিখবে। আর লেখার পর সেটা মিলিয়ে দেখবে, ওস্তাদের হরফের সাথে কতটা মিল হলো। যতক্ষণ হুবহু মিল না হয় ততক্ষণ মশ্ক চালিয়ে যেতে হবে। আর বিরক্তি আসলে লেখা বন্ধ করে দেবে। জারিফ জিজ্ঞেস করল, হোমওয়ার্ক করার ভালো সময় কোনটি? জবাবে রায়হান বলল, সাধারণত ফজরের সালাত আদায়ের পর কিছুক্ষণ তাসবিহ তাহলিল পাঠ করে হালকা নাস্তা করার পর হোমওয়ার্ক করা উত্তম। তবে যেকোন নিরিবিলি সময়ে তা করা যেতে পারে।
রায়হান ক্যালিগ্রাফির খাতা বের করে বলল, আজ আমরা সুলুস শৈলীর ‘বা’ হরফটি লেখা শিখবো। এটা হলো মুফরাদাত বা একক হরফ পর্বের দ্বিতীয় ক্লাস। বা হরফটির দুটো অংশ। র’স অর্থাৎ মাথা এবং জিসম অর্থ দেহ। আমরা র’স দিয়ে শুরু করবো। সুলুস শৈলীতে এ হরফটির দুটো সুরত অর্থাৎ দেহকাঠামো রয়েছে। এক. আদি অর্থাৎ মৌলিক, দুই. কাফ হরফের মাথা সদৃশ।
আমরা তিনটি ধাপে ‘বা’ আদি লিখবো। এক- প্রথমে আমরা হরফটির র’স লিখবো। কলম ৬০ ডিগ্রি কোণে রেখে এক কত্ অর্থাৎ এক নোকতার চার ভাগের একভাগ পরিমাণ ডান দিকে মায়েল অর্থাৎ হেলানো হবে এবং নুযুল অর্থাৎ নিচে নামবে দেড় কত্। তোমরা র’সটি ভালো করে খেয়াল করো।
দুই- র’স লেখা যেখানে শেষ হয়েছে, সেখানে কলমটি ৪৫ ডিগ্রি কোণে রেখে বাম দিকে চার কত্ বরাবর কলম চালাতে হবে এবং নুযুল হবে এক কত্। এই দরব অর্থাৎ স্ট্রোকটির শুরুতে ৪৫ ডিগ্রি, দুই কত্ পরে ৬০ ডিগ্রি এবং শেষে ৯০ ডিগ্রি হবে। কলম এক কত্ বরাবর ৯০ ডিগ্রি রাখতে হবে।
তিন- এরপর কলম আধা বৃত্তাকার হয়ে ওপরের দিকে উঠে যাবে। এটা দুই কত্ বামে এবং এরতেফা অর্থাৎ ওপরে উঠবে ২ কত্।
কাফ এর মাথা সদৃশ ‘বা’ হরফটিও তিন ধাপে করতে হবে। এক- কলম ৬০ ডিগ্রি বরাবর রেখে আধা কত্ বামে যাবে সামান্য ঢেউ হয়ে। তারপর নুযুল এক কত্ বরাবর কলম বামে চলবে ৪ কত্।
দুই- কলম আধা বৃত্তাকার আকারে দুই কত্ এরতেফা হবে।
তিন- কলম হরফের প্রথমে রেখে বাম দিকে ৪৫ ডিগ্রি বরাবর নুযুল হবে এক কত্।
আমরা ‘বা’ হরফটির শেকল অর্থাৎ আকৃতির অনুরূপ ‘তা’ এবং ‘ছা’ হরফ লিখবো, এখানে নোকতা দিয়ে আলাদা হরফ চিহ্নিত করা হয়। এছাড়া মিলিত ‘বা’ (রবত আল বা) হরফের কয়েকটি প্রকার এখানে লিখে দেখালাম। এগুলো তোমাদের বাড়ির কাজ থাকবে। সবাই অন্তত পাঁচ পাতা লিখে আনবে। আজকে এটুকু থাকলো। আল্লাহ হাফিজ।

SHARE

Leave a Reply