Home কুরআন ও হাদিসের আলো হাদীসের আলো হাদিসের আলো

হাদিসের আলো

যোগ্য-অযোগ্য

বহুদিন পর শ্রেণিকক্ষে ফেরা! শরীরটা ভীষণ খারাপ ছিল জাকওয়ানের। মনে হয়েছিল, পৃথিবীতে কোনো রং নেই, ঘ্রাণ নেই! তার প্রতিটি দিন ছিল শুকনো পাতার মতো ধূসর। তবুও তার মধ্যে কোনো হতাশা কাজ করেনি। সে সবসময় ভাবত, আমার তো একজন মালিক আছেন। যিনি রহমান, করুণাময়। তিনিই আমাকে সুস্থ করে তুলবেন। অচিরেই!
শ্রেণি-শিক্ষকের কথা শুনে জাকওয়ান যেন আরও সতেজ, আরও সবুজ হয়ে উঠল। তিনি এত চমৎকার করে কথা বলেন! যেন মিষ্টি কথার বৃষ্টি ঝরে। শীতল, হৃদয়ছোঁয়া! আহা, কতদিন পর সে এমন মধুর পরিবেশ খুঁজে পেল। মনে মনে বলল, আলহামদুলিল্লাহ!
শেষের দিকে শিক্ষক বললেন, আজ আমরা একজন প্রতিনিধি নির্বাচন করব। যে হবে তোমাদের অধিনায়ক, ক্লাস ক্যাপ্টেন। এরপর শুরু হলো সবার মতামত নেওয়ার পালা। লিখিতভাবে। সবার মধ্যেই উত্তেজনা। অধীর আগ্রহ। কে পাচ্ছে দায়িত্ব?
ফলাফল যা এলো, তার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিল না জাকওয়ান। জাকওয়ানই নির্বাচিত হয়েছে! হ্যাঁ, সে-ই! শিক্ষক মহোদয়ও যেন এমনটিই চেয়েছিলেন। তার চেহারার ভাষা যেন এ কথাই বলে দেয় অকপটে। ফল ঘোষণার পর তিনি চলে গেলেন। কিন্তু জাকওয়ান কেঁদে বুক ভাসাচ্ছে! সহপাঠীরা অবাক সবাই। তারা বলল, কি রে! এ তো খুশির খবর! আর তুই কাঁদছিস? জাকওয়ান বলল, আমি আমার নিজেকে খুব ভালো করেই চিনি। আমি জানি, আমি এর যোগ্য নই! একটি হাদিস শোনো-
একদিন রাসূল (সা) মানুষের সামনে আলোচনা করছিলেন। একজন বেদুইন এসে জানতে চাইল, কেয়ামত কখন সংঘটিত হবে? রাসূল (সা) তাঁর আলোচনা চালিয়ে গেলেন। এতে কেউ কেউ বললেন, লোকটি যা বলেছে তিনি তা শুনেছেন কিন্তু তার কথা পছন্দ করেননি। আর কেউ কেউ বললেন, তিনি শুনতেই পাননি। আলোচনা শেষে তিনি বললেন, কেয়ামত সম্পর্কে জানতে চাওয়া লোকটি কোথায়? সে বলল, এই যে আমি, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন, যখন অনুপযুক্ত ব্যক্তির ওপর কোনো কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তখন তুমি কিয়ামতের অপেক্ষা করবে। (বুখারি)।
জাকওয়ান বলল, আমাকে এ কাজের জন্য বাছাই করা মানে, কেয়ামত খুব কাছে! আমি এ থেকে রেহাই চাই।
শ্রেণি-শিক্ষককে জানানো হলো সবকিছু। তিনি চুপ থাকলেন। এরপর মুচকি হেসে বললেন, যোগ্যরাই নিজেদের অযোগ্য ভাবে। আর অযোগ্যরা ভাবে, তারাই সকল কাজের যোগ্য। তিনি জাকওয়ানের কাছে আবার আসলেন। পিঠে হাত রেখে বললেন- সাহস রাখো, ক্যাপ্টেন! আল্লাহ ভরসা ।
বিলাল হোসাইন নূরী

SHARE

Leave a Reply