Home কুরআন ও হাদিসের আলো কুরআনের আলো কুরআনের আলো

কুরআনের আলো

সাংবাদিক পাখি

বাড়ির পাশে মাঠ, মাঠের ওপারে নদী। নদীর ওপারে বাঁশবন। যতদূর নদী, ততদূর। ঘন সবুজ। শেষ বিকেলে এখানে যেন পৃথিবীর সব সুখ নেমে আসে। হাজার হাজার পাখি এসে বাঁশবাগানে ডাকাডাকি করে আপন মনে। দলবেঁধে ওড়াউড়ি করে এখান থেকে সেখানে! এ যেন পাখির দেশ। কী স্বাধীন তারা! কত সুখ তাদের জীবনে! প্রতিদিন তাই বহু মানুষ এখানে এসে একটু সুখের স্বাদ নিতে চায়! তাওফিক প্রায়ই আসে। কখনো বাবার সাথে অথবা চাচ্চুর সাথে। আজ এসেছে ভাইয়ার সাথে। পাখিদের কলকাকলিতে তারা দু’জনই মুগ্ধ, অভিভূত। ভাইয়া বললেন, চলো একটা গান ধরি-
পাখির ভাষায় গাইছে পাখি / রহিম নামের গান,
তাদের ভাষাও বুঝেছিলেন / নবী সুলায়মান…

গান শেষ হয়েছে, তবে তাওফিকের মনে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। অনবরত। ভাইয়াকে বলল, সুলায়মান (আ) পাখির ভাষা বুঝতেন? ভাইয়া বললেন, সকল প্রাণীর ভাষাই তিনি বুঝতে পারতেন। একটি পাখি তো এমন ছিল, যে তাকে বিভিন্ন খবর সরবরাহ করত। সাংবাদিক পাখি। নাম তার হুদহুদ!
হুদহুদ! খুব সুন্দর নাম তো! ভাইয়া বললেন, শুধু নামই সুন্দর নয়, দেখতেও সে অপরূপ। চোখজুড়ানো। বাদামি শরীর। ডানা ও লেজে সাদা-কালোর দাগকাটা নকশা। মাথায় রাজকীয় ঝুঁটি। ঝুঁটির পালকগুলো হলদে বাদামি, তবে সেগুলোর অগ্রভাগ কালো রঙের। আমাদের দেশেও মাঝে-মধ্যে দেখা মেলে হুদহুদ পাখির।
তাওফিক বলল, হুদহুদের সংবাদ দেওয়ার কোনো গল্প বলবে কি? ভাইয়া বললেন, তাহলে কুরআনের ভাষায় শোনো- “সুলাইমান (আ) পাখিদের খোঁজ-খবর নিলেন এবং বললেন, কী ব্যাপার! আমি হুদহুদকে দেখছি না কেন? সে কি অনুপস্থিত? সে যথাযথ কারণ না দেখালে আমি অবশ্যই ওকে কঠিন শাস্তি দেব অথবা জবাই করে ফেলব। একটু পরই হুদহুদ এসে পড়ল এবং বলল, আপনি যা অবগত নন, আমি তা অবগত হয়েছি এবং সাবা রাজ্য হতে সুনিশ্চিত সংবাদ নিয়ে এসেছি। আমি এক মহিলাকে দেখেছি, সে সাবাবাসীদের ওপর রাজত্ব করছে। তাকে সব কিছুই দেওয়া হয়েছে এবং তার আছে এক বিরাট সিংহাসন। আমি তাকে ও তার জাতিকে দেখলাম, আল্লাহর পরিবর্তে সূর্যকে সিজদা করছে।” (সূরা নামল : ২০-২৪)।

এরপর কী হলো? ভাইয়া বললেন দীর্ঘ ইতিহাস। সুলায়মান (আ) রানি বিলকিসকে ডেকে পাঠালেন। নানা অলৌকিক ঘটনা অবলোকন করে রানি ইসলাম কবুল করলেন! সূরা নামলে এর বিবরণ জানতে পারবে।
অবশেষে রানি ইসলামই কবুল করে ফেললেন? হুদহুদ তো এখানে চমৎকার সাংবাদিকতাই করেছে, বলল তাওফিক।

SHARE

Leave a Reply