Home চিত্র-বিচিত্র সাদা গোঁফের বানর -সাইফুল ইসলাম

সাদা গোঁফের বানর -সাইফুল ইসলাম

বানরের বিভিন্ন প্রজাতি রয়েছে। এই প্রজাতির মধ্যে একটি অদ্ভুত শ্রেণি রয়েছে যার মুখভর্তি গোঁফ ও দাড়ি। ভিন্ন প্রজাতির এই বানর যেন অল্প বয়সেই বৃদ্ধ। এটি রাজকীয় প্রাণী হিসেবে পরিচিত।
এদের নাম এম্পেরর টামারিন। শুধু দেখতে নয় চালচলনেও এক ধরনের রাজকীয় ভাব রয়েছে এদের। টামারিন নামটি রাখার পেছনে একটি কারণ রয়েছে। কারণটি হলো তাদের ব্যতিক্রমী লম্বা সাদা গোঁফ। প্রচলিত আছে তাদের এই রাজকীয় গোঁফ অনেকটাই জার্মান সম্রাট উইলহেলম এর গোঁফ এর সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
এম্পেরর টামারিন দেখতে বেশ ছোটো। আমাজন বেসিনের দক্ষিণ-পশ্চিমে, পেরুর পূর্বে, বলিভিয়ার উত্তরে ও পশ্চিম ব্রাজিলের অ্যাকরে এবং আমাজোনাসে এদের বসবাস। এরা বৃষ্টিভেজা অঞ্চল পছন্দ করে।
একটি প্রাপ্ত বয়স্ক এম্পেরর টামারিন প্রায় ৭ থেকে ১২ ইঞ্চি লম্বা হয়। পাশাপাশি এদের দেহের ওজন ৯০০ গ্রামের মতো হয়ে থাকে। এরা সাধারণত ১০ থেকে ২০ বছর বাঁচে।
টামারিন স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং বেশ বুদ্ধিমান। এদের অধিকাংশ প্রজাতিই গাছে বাস করে। তবে মাটির গুহায়ও এদের বাসা বাঁধতে দেখা যায়।
এম্পেরর টামারিন কর্ডাটা পর্বের স্তন্যপায়ী শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। ধূসর দেহের এ প্রাণীর লেজ লালচে বাদামি। এরা বেশ সামাজিক প্রাণী। এদের প্রতিটি দলে প্রায় ২০টির মতো টামারিন বানর থাকে।
টামারিনের বুকের দিকে ছোটো ছোটো হলুদ দাগ রয়েছে। রয়েছে অসাধারণ একজোড়া সাদা গোঁফ যা তার কাঁধ ছাড়িয়ে দুই দিকে ছড়িয়ে পড়েছে।
এম্পেরর টামারিনের দুটো উপ-প্রজাতি রয়েছে। ব্ল্যাক চিনড এম্পেরর টামারিন। এর প্রতিটি আঙুলে নখর রয়েছে। এর সাদা গোঁফ থাকলেও থুতনিতে কোনো সাদা লোম দেখা যায় না।
পেট এবং বুকের দিকে লাল, কমলা ও সাদায় মেশানো লোম থাকে এবং পিঠের দিকে থাকে কালচে বাদামি লোম। হাত-পায়ের ভেতরের দিকের লোম হয় অনেকটা কমলা রঙের।
টামারিন পায়ের নখ ব্যবহার করে গাছের ডালে আটকে থাকে। এরা গাছের ওপর দিয়ে চলাচল করে। এদেরকে খুব কমই জঙ্গলের মাটিতে চলাচল করতে দেখা যায়।
এরা ফল এবং ফুল খায়। গাছের উপরিভাগে বসবাস হবার কারণে সহজেই খাবার খুঁজে পায়।
টামারিনের প্রজননের বয়স প্রায় ১৬ থেকে ২২০ মাস। এদের গর্ভকালীন সময় ৬ মাস পর্যন্ত থাকে। বেশির ভাগ সময় বৃষ্টির মৌসুমে এরা সন্তান জন্ম দেয়। কারণ এসময় এদের খাবারের পর্যাপ্ততা থাকে।
টামারিন নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য বিশেষ আওয়াজ ব্যবহার করে। এই আওয়াজ দেড় মিটার দূর থেকেও শোনা যায়।
টামারিনের সংখ্যা দিনদিন কমে যাচ্ছে। বন্য পরিবেশ কমে যাবার ফলে এদের জীবন সঙ্কটাপন্ন্ হয়ে গেছে। এদের রক্ষা করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

SHARE

Leave a Reply