Home ভ্রমণ মেলাকা সফর -আশরাফ আল দীন

মেলাকা সফর -আশরাফ আল দীন

মালয়েশিয়ার পেতালিং জায়ার বুকিত জলিল এলাকা থেকে রওয়ানা হলাম সিঙ্গাপুর হাইওয়ে ধরে, ১১ই সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখে, বিকেল গড়িয়ে যাওয়ার পর। প্রায় দেড় শ’ কিলোমিটার দূরে মালাক্কার আলোর গাজাহ এলাকা। মূল সড়ক ছেড়ে দিয়ে আমরা ঢুকে পড়লাম রাবার গাছের সীমাহীন অরণ্যের ভেতর। পাথুরে উঁচু-নিচু পথে গাড়ি চালিয়ে পৌঁছালাম আমাদের অনলাইনে বুকিং করা রিসোর্টে। দ্য রাবার স্কেইপ মেলাকা। কান্ট্রি হাউজ স্টাইলে তৈরি, রাবার বাগানের অখণ্ড নির্জনতার ভেতর হঠাৎ এক টুকরো আধুনিক সুবিধা! তখন রাত সাড়ে নয়টা। গাড়ির হর্ন শুনে ভারী শরীরের সিকিউরিটি গার্ড তার গায়ের শার্টটা সামলাতে সামলাতে এসে বড়ো গেটটা খুলে দিলো। গাড়ি থেকে নামতেই ছুটে এলো বাঙালি-চেহারার এক কিশোর। বুঝে ফেললাম সে বাংলাদেশ থেকে এসে এই লোকালয়হীন অরণ্যে চাকরি করছে। আমি বাংলাতেই প্রশ্ন করলাম: ‘কী নাম?’ সে তার নাম বলবে কী! বরং চমকে উঠে আমাকেই পাল্টা প্রশ্ন করলো, ‘আপনারা বাংলাদেশী?’ আমি হেসে বললাম, ‘হ্যাঁ। তোমার নাম কী?’ এবার সে একটু লাজুক হেসে বললো,
: রুহুল আমিন।
: বাড়ি?
: কুমিল্লা।
: আমরা কি খুব দেরি করে ফেললাম?
: জি না। আমি আপনাদের জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। বস ফোন করে জানিয়েছিলেন আপনারা আসবেন। আজকে আপনারাই শুধু গেস্ট! আসেন।’ বলে সে আমাদের নিয়ে গেল সুইমিং পুলের পাশের রিসিপশনে। আমরা সোফায় বসলাম আর সে আমাদের জন্য চটজলদি ওয়েলকাম ড্রিঙ্ক নিয়ে এলো। ট্রান্সপারেন্ট রুমটা থেকে চারপাশের সবই দেখা যাচ্ছে, কাছের সুইমিং পুল দূরের বনবনানী- সবই! এরই মধ্যে আরেকজন এলো, রুহুল আমিনের মতোই কিশোর বয়সী। খানিকটা লম্বা, নম্র ব্যবহার, নাম সাকিব, বাড়ি চাঁদপুর।
এই রিসোর্টে সর্বসাকুল্যে ওরা চারজন। ভেতরের দিকটা ওরা দু’জন সামলায়, গেস্টদের দেখাশোনা এমনকি বারের কাজটাও। আর দু’জন গেটে, রাতে একজন মালয় আর দিনের বেলা একজন তামিল সিকিউরিটি গার্ডের দায়িত্ব পালন করে। সিকিউরিটি গার্ডদের ভেতরের কোনো কাজে নাক গলানো নিষেধ। একজন চীনা মালয়েশিয়ান এই রিসোর্ট আর পুরো রাবার বাগানের মালিক। টেলিফোনে সারাক্ষণ তিনি খোঁজখবর নেন। ছোটোখাটো এই রিসোর্টে মাত্র বারোটা রুম। চারিদিকে নতুনত্বের ছাপ। ক’দিন আগে মাত্র চালু করা হয়েছে। এখনো টুকটাক কাজ চলছে সৌন্দর্য বৃদ্ধির। রিসিপশন কাম বারের বাইরে খোলা জায়গায় ক’টা সোফা রাখা আছে। সেখানেই ডার্ট প্র্যাকটিসের মতো তীর-ধনুক দিয়ে খেলার ব্যবস্থা। অন্য পাশে কয়েকটা সাইকেল রাখা, অতিথিদের রাবার অরণ্যে ঘুরে বেড়ানোর জন্য, হারিয়ে যাওয়ার জন্য।
রুহুল আমিন দু’টা চাবি এনে আমাদের হাতে দিলো। এক রুমে আমি আর অন্যটায় শাওকি, আমার কনিষ্ঠতম কন্যা, এবং তার স্বামী, জুবায়ের। প্রশস্থ বাথরুমসহ রুমগুলো বেশ গোছনো ও সুন্দর। এতো মনোরম একটা জায়গা পছন্দ করার জন্য জুবায়েরের প্রশংসা করতেই হয়।
রুমের ভেতর ব্যাগগুলো রেখে আমরা অরণ্য থেকে বের হয়ে এলাম, সভ্যতার সন্ধানে। এ মুহূর্তে আমাদের প্রয়োজন দুটো, রাতের খাবার খাওয়া আর এশার নামাজ আদায় করা। আসার সময় বুকিত জলিল এলাকা ছেড়ে হাইওয়েতে উঠেই একটা সার্ভিস স্টেশনে আমরা মাগরিব পড়েছিলাম। স্বল্প পরিসর আর পরবর্তী নামাজিদের ভিড়ের কারণে নামাজ জমা করা হয়নি। তাই এশাটা বাকি রয়ে গেছে। হাতে একটা কফি নিয়ে গাড়িতে উঠে বসেছিলাম। রাস্তাও ভালো আর জুবায়েরের ড্রাইভিংও চমৎকার। নানা রকম কথাবার্তা বলতে বলতে দেড় শ’ কিলোমিটার পথ শেষ হয়ে গেল দেড় ঘণ্টারও কম সময়ে।
আমরা আবার হাইওয়েতে উঠে এলাম। রাবার স্কেইপ থেকে মালাক্কা শহর ২৫-৩০ কিলোমিটার হবে। মালাক্কা প্রদেশের রাজধানীর নাম : ‘মালাক্কা সিটি’। জুবায়ের আর শাওকি মিলে প্ল্যান করলো, হাইওয়ের পাশেই কোনো মালয় রেস্টুরেন্টে খেয়ে নেবো। এরপর রাতের মালাক্কা দেখতে থাকবো এবং স্থানীয় কোনো মসজিদে নামাজ আদায় করে নেবো। মালাক্কা বলতে গেলে সারা বছরই সারা বিশ্বের ভ্রমণপিপাসুদের আনাগোনায় সরগরম থাকে। তা ছাড়া, মালয় পরিবারগুলো ঘরে রান্না করে খাওয়ার চেয়ে হোটেলে খাওয়ার পর্বটা চুকিয়ে ফেলতে বেশি অভ্যস্ত। এর একটি কারণ এই যে, এদেশের প্রায় সব মহিলাই কর্মজীবী। বরং বলা ভালো, প্রত্যেক মহিলাই নিজেকে সম্পৃক্ত রাখে চাকরি, ব্যবসা বা অন্যকোন সামাজিক কর্মকাণ্ডে। ফলে সারা রাত খোলা থাকে এমন খাবার-দোকান কম নয়। তেমনি একটিতে আমরা দাঁড়ালাম।
সাইনবোর্ডে লেখা : নিকমত টমিয়াম সি ফুড (NIKMAT TOMYAM SEAFOOD)। আস্ত একটা মাছসহ স্থানীয় খাবার অর্ডার করা হলো। আমার সৌজন্যে জুবায়ের একটি ‘অক্স টেইল স্যুপ’ অর্ডার করলো। অক্স টেইলের রান্না আমি প্রথম খেয়েছিলাম চীনের ইনার মঙ্গোলিয়ার হোমা সিটিতে। অসাধারণ সুস্বাদু! গরুর লেজের ভেতরের হাড্ডি-মাংসটুকু যে সুস্বাদু খাবার হতে পারে সে ধারণা আমাদের দেশে এখনো ব্যাপক হয়নি। তৃপ্তির সাথে খেয়ে আমরা যখন মালাক্কা সিটি সেন্টারে পৌঁছালাম তখন রাত এগারটা অতিক্রন্ত। এখানে সর্বত্রই লেখা ‘মেলাকা’ (Melaka), কিন্তু ব্রিটিশরা লেখে ‘মালাক্কা’ (Malacca) এবং আমরাও ছোটোকাল থেকেই বাংলাতে মালাক্কাই পড়েছি। যেমন, ওরা আমাদের ‘ঢাকা’কেও লিখতো ‘ডেক্কা’ (Decca)! ভাবখানা এমন যেন, আমাদের রাজধানীর বানান তাদের কাছেই শিখতে হবে! আবার যেমন আমাদের ‘শেখ মুজিবুর রহমান’কে ভারতীয়রা লেখে ‘মজিবর’ দিয়ে। কি তাজ্জব ব্যাপার! এদেশের জাতির পিতার নামের বানান আমাদের শিখতে হবে ভারতীয়দের কাছে? এটা আমার কাছে মনে হয়েছে অন্যকে অবজ্ঞা আর হেয় করার মতো।
এখানে কিছু তথ্য দিয়ে রাখি। মালয় উপদ্বীপ ও সুমাত্রার (ইন্দোনেশিয় দ্বীপপুঞ্জের একটি দ্বীপ) মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে ৮৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘মালাক্কা প্রণালী’। পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জাহাজ চলাচলের পথ সংযুক্ত করেছে ভারত মহাসাগর এবং প্রশান্ত মহাসাগরকে, উত্তর-পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে কোনাকোনিভাবে। ‘মালয়েশিয়া প্রণালী’ না হয়ে ‘মালাক্কা প্রণালী’ হলো কেন? কারণ এই নামকরণ হয়েছিল ‘মেলাকা সালতানাতে’র শাসনকালে (১৪০০-১৫১১ সাল); তখনও আধুনিক মালয়েশিয়ার জন্ম হয়নি। আনুমানিক ১৪০৩ খ্রিস্টাব্দে মালয়ের জনৈক পলাতক রাজা এই শহরটি প্রতিষ্ঠা করেন। সমুদ্র-বন্দরের কারণে এই শহর অচিরেই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি সমৃদ্ধ বাণিজ্যকেন্দ্রে পরিণত হয়। পালতোলা জাহাজের যুগে মালাক্কা শহর ছিল মালয় উপদ্বীপের সবচেয়ে ব্যস্ত বন্দরগুলির একটি। ১৫ শ’ শতকে মালাক্কার রাজারা মালয় উপদ্বীপের অধিকাংশ এলাকা এবং সুমাত্রা দ্বীপের ওপর নিয়ন্ত্রণ স্থাপন করেন। মালাক্কার মধ্য দিয়েই মালয় অঞ্চলে ইসলামের প্রচার ও প্রসার ঘটে। নৌপর্যটক আফনসু দি আলবুকের্কির ((Afonso de Albuquerque) নেতৃত্বে পর্তুগিজরা ১৫১১ খ্রিস্টাব্দে এই শহর দখল করে। পর্তুগিজ শাসনের সময় সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার এখানে খ্রিস্টধর্ম প্রচার করেন। ১৬৪১ সালে ওলন্দাজরা শহরটি দখল করে। তখন থেকে ১৮২৪ সাল পর্যন্ত শহরটি ওলন্দাজদের নিয়ন্ত্রণে ছিল, তবে মাঝে ১৭৯৫-১৮০২ এবং ১৮১১-১৮১৮, এই দুই সময়ে এটি ব্রিটিশদের অধীনে ছিল। ১৮২৪ সালের পর সুমাত্রা দ্বীপের বেনকুলেন (বর্তমান বেংকুলু) শহরের বিনিময়ে ব্রিটিশরা ওলন্দাজদের কাছ থেকে এই শহরটির দখল নিয়ে নেয়। ১৮২৬ থেকে ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত মালাক্কা শাসনের কাজ পেনাং ও সিঙ্গাপুরের সাথে একত্রে পরিচালিত হতো। কিন্তু আধুনিক সমুদ্রবন্দর হিসেবে সিঙ্গাপুরের উন্নতির সাথে সাথে মালাক্কা বন্দরের ও শহরের অবনতি ঘটতে থাকে। বর্তমানে, মালাক্কা (মালয় ভাষায় ‘মেলাকা’) মালয়েশিয়ার অন্যতম একটি শহর ও সমুদ্রবন্দর এবং মালাক্কা অঙ্গরাজ্যের রাজধানী। শহরটি দাঁড়িয়ে আছে মালাক্কা প্রণালীর তীর ঘেঁষে। একালের আধুনিক সমুদ্রগামী জাহাজগুলির জন্য মালাক্কা পোতাশ্রয়টি উপযুক্ত নয় বলে বর্তমানে বন্দরের কর্মকাণ্ড উপকূলীয় বাণিজ্যের মধ্যেই সীমিত। তবে, অতীতের অনেক স্মৃতি ধারণ করে এই শহর হয়ে উঠেছে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। বর্তমানে এখানে প্রায় সাড়ে চার লক্ষ লোকের বাস।
আমরা পুরাতন চার্চের কাছে গাড়ি রেখে হাঁটতে থাকলাম। এই চার্চ (ক্রাইস্ট চার্চ মেলাকা) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৭৫৩ সালে। পাশেই প্রবাহিত হচ্ছে মেলাকা নদী। ছোট্ট একখানা ব্রিজ। ব্রিজের ওপর দাঁড়িয়ে নদীর ও নদীর দু’পাশের সুন্দর দৃশ্য উপভোগ করলাম। ব্রিজের দু’পাশের পত্র-পল্লবিত বৃক্ষগুলোর শাখা-প্রশাখা ওপরে গিয়ে মিলেমিশে গেছে আর সেখানে অসংখ্য পাখি বিরতিহীনভাবে কিচির-মিচির করছে! আবার কর্তৃপক্ষ ওই গাছগাছালির ওপর হালকা রঙিন আলো প্রক্ষেপণ করেছে শোভা বৃদ্ধির জন্য। অনেকক্ষণ আনমনে নীরবে দাঁড়িয়ে শোনার ও দেখার মতো একটি সুন্দর পরিবেশ। ব্রিজটা হেঁটে পার হলেই ওপারে যে ঐতিহাসিক সড়ক তার নাম ‘জংকার ওয়াক’। বহু বছরের পুরনো বাড়ি-ঘর ও দোকানপাট নিয়ে ওটাই এখন ‘স্মৃতির রাস্তা’! এককালে হয়তো ওটাই ছিল এখানকার প্রধান সড়ক। এই রোডকে ইউনেস্কো ‘ওয়ার্ল্ড কালচারাল হেরিটেজে’র অন্তর্ভুক্ত করেছে। এই রোডে দ্বিতলের বেশি কোনো ঘর নেই। একটি বন্ধ দোকানের সাইন বোর্ডে লেখা ‘Bistro 1673’। অন্য একটি দোকানে ইংরেজিতে লেখা ‘Old Shop 1818’ এবং এর নিচের লেখাগুলো চীনা ভাষার। পুরনো একটা আর্ট গ্যালারি দেখলাম; বাইরে চীনা কৃষ্টির কারুকাজ।
পাশের রোডেই ঐতিহাসিক মসজিদ Masjid Kampung Kling. সম্ভবত এই এলাকার নাম ‘কামপুঙ ক্লিঙ’। আজো এটি অত্র এলাকার মুসলমানদের অন্যতম প্রধান মসজিদ। ডিসপ্লে বোর্ড থেকে জানা গেল : এই মসজিদের নির্মাণকাজ শেষ হয় ১৭৪৮ সালে। এর আর্কিটেকচার সুমাত্রান স্টাইলের যাতে হিন্দু নির্মাণশৈলীর প্রভাব সুস্পষ্ট। এর সুউচ্চ মিনার তৈরি করা হয়েছে বৌদ্ধদের প্যাগোডার ঢঙে। মূল মসজিদের টাইলগুলো ইংরেজ ও পর্তুগিজ স্টাইলের মিশ্রণ। মসজিদের মূল ঘরে চোখে পড়বে প্রতিসম খিলানসহ করিন্থীয় কলামগুলি, একটি ভিক্টোরিয়ান সেন্ডেলিয়ার, হিন্দু এবং চীনা স্টাইলের খোদাই করা কাঠের একটি মিম্বার। এ ছাড়াও অজুখানার চৌবাচ্চা ঘিরে দেখা যাবে মুর মুসলমানদের কৃষ্টিসংবলিত ঢালাই লোহার ল্যাম্প পোস্ট। ভেতরে গিয়ে মসজিদের ও অজুখানার টালিযুক্ত চৌচালা আর চালার কোণগুলোর স্টাইল ও সাজসজ্জা দেখে আমার বেইজিংয়ের শহরতলিতে দেখা একটি চীনা মসজিদের কথা মনে পড়ে গেল। আমরা তিনজন অজু করে জামাতে এশার নামাজ আদায় করলাম। পুরাতন কিন্তু সুন্দর এই মসজিদে নামাজ আদায় করে তৃপ্তিতে মন ভরে গেল। সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর। মধ্যরাতের মেলাকা শহর ক্লান্তিতে নির্জন ও নীরব হয়ে পড়েছে।
আমরা রাতের নির্জনতার মেলাকা সিটির পথ হেঁটে হেঁটে গাড়িতে গিয়ে উঠলাম। রাত দেড়টা নাগাদ আমরা ‘দ্য রাবার স্কেইপে’র পরিপাটি রুমে স্থিত হলাম। কাচের দেয়ালের অপর পাশেই রাবার বাগান। রুমের আলো নিভিয়ে দিয়ে পর্দাটা খানিক সরিয়ে দিয়ে শুয়ে পড়লাম। আমার দৃষ্টিজুড়ে হালকা জ্যোৎস্নায় উদ্ভাসিত সটান দাঁড়িয়ে থাকা রাবার গাছগুলোর ঘন অরণ্য। মনে হলো আমি অরণ্যের ভেতর শুয়ে আছি, নির্জনতার চাদর মুড়ি দিয়ে, একা! নিজের অজান্তেই ঘুমের জোয়ারে আমি ভেসে গেলাম।

SHARE

Leave a Reply