Home ঈদ প্রবন্ধ হারিয়ে যাওয়া ঈদের আনন্দ ফিরে আসুক আবার -মামুন মাহফুজ

হারিয়ে যাওয়া ঈদের আনন্দ ফিরে আসুক আবার -মামুন মাহফুজ

আনন্দ মানুষের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আনন্দ ছাড়া জীবন জীবন নয়, মৃত্যুর সমান। কিন্তু এই আনন্দ কোথায় থাকে? কীভাবে পাওয়া যায়? আনন্দ জিনিসটাই বা কী? এমন প্রশ্ন কি জেগেছে আমাদের মনে কখনও? নিশ্চয়ই জাগে। তখন আমরা আনন্দকে সুখ বা ভালোলাগা মনে করি, আবার সুখকে মনে করি আনন্দ। আনন্দের ইংরেজি হলো হ্যাপি, জয়, চিয়ার্স, স্মাইলিং ইত্যাদি। কিন্তু এ আনন্দ কোথায় থাকে, কীসের ওপর নির্ভরশীল এ নিয়েও গবেষণা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে আনন্দ ৫০ শতাংশ নির্ভর করে তার জিনের ওপর, বা জন্মগতভাবেই কিছু মানুষ হ্যাপি-মুডের হয়। ডেভিড লায়কেন ও অন্যান্য কয়েকজন গবেষক ঠিক এমনটাই দাবি করেন। একই জিনের দু’টি মানুষ বা যমজ সন্তানদের আলাদা আলাদা পরিবেশে রেখে তারা নিরীক্ষা চালিয়ে দেখেন; আনন্দ ৫০ শতাংশ নির্ভর করে তার জিনের ওপর এবং ১০ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ নির্ভর করে বিভিন্ন প্রকারের পরিস্থিতির ওপর। যেমন- আর্থ-সামাজিক অবস্থান, বৈবাহিক অবস্থান, স্বাস্থ্য, আয়, দাম্পত্যজীবন ইত্যাদির ওপর। আর ৪০ শতাংশ আনন্দ মানুষের মনের ওপর নির্ভরশীল। মানুষ মনের খেয়াল ও অন্যান্য অনেক অনির্দিষ্ট ধ্রুবক দ্বারা পরিচালিত হয়ে থাকে।
আনন্দের প্রতীক হচ্ছে হাসিমুখ। বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ সা. সর্বদা হাসিমুখে থাকতেন। তিনি কখনো কারো সাথে গোমড়া মুখে কথা বলতেন না। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে হারিস রা. থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, ‘আমি এমন কাউকেই দেখিনি যিনি রাসূল সা.-এর থেকে অধিক হাসিমুখে থাকতেন।’ (তিরমিজি)
রাসূল সা. বলেছেন ‘তোমার সম্পদ দিয়ে কখনোই তুমি লোকদের সন্তুষ্ট করতে পারবে না বরং তোমার প্রফুল্ল চেহারা ও উত্তম চরিত্রের মাধ্যমেই তুমি তাদের সন্তুষ্ট করতে পারবে।’

আনন্দ কী?
পরিতোষ, প্রেম, পূর্ণতা, পুলক, উল্লাস, আহ্লাদ ইত্যাদির একক, একাধিক বা সম্মিলিত অনুভূতিকে আনন্দ বা সুখ বলে ক্যামব্রিজ ডিকশনারিতে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া দার্শনিক ও আধাত্মিক সংজ্ঞা অনুযায়ী আনন্দ সেই পন্থা, যা অবলম্বনে উপযুক্ত ও উন্নত জীবনযাপন করা যায়।
অক্সফোর্ডে আনন্দবিষয়ক গবেষণায় বহুসংখ্যক বৈশিষ্ট্যের সাথে আনন্দের সরাসরি সংযোগ শনাক্ত করা হয়েছে। তার মধ্যে ধর্মীয় সম্পৃক্ততাও রয়েছে। সামাজিক কাজকর্ম, সম্পর্ক, আশাবাদ, আয় উপার্জন, পারিবারিক পরিস্থিতি ইত্যাদির সঙ্গে আনন্দ সরাসরি সম্পৃক্ত।
মুসলমানদের ঈদ হচ্ছে তেমনি একটি উপাদান যার মাধ্যমে অধিকসংখ্যক বা সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষ আনন্দ লাভ করতে পারে। কিন্তু সামাজিক অন্যান্য পরিস্থিতি বিশেষ করে করোনা-পরিস্থিতির কারণে মানুষের জীবনে ঈদের দিনটিও আর আনন্দের উৎস হয়ে উঠতে পারছে না পুরোপুরি।
পরিস্থিতি যাই থাক না কেন যেহেতু আনন্দ মানুষের মন বা মানসিক অবস্থার ওপর ৪০ শতাংশ নির্ভরশীল সেহেতু মনকে কাজে লাগিয়ে সকল প্রতিকূলতা মাড়িয়ে আমরা আবার আনন্দে পরিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারি। এবারের ঈদ আমাদের সেই প্রত্যয়কে সামনে রেখেই উদযাপিত হোক।
মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর আবার আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদ হচ্ছে মুসলমানদের ধর্মীয় সামাজিক উৎসব। ইসলাম ধর্ম মহান আল্লাহর মনোনীত একমাত্র ধর্ম। এই ধর্ম শেষ ধর্ম এবং ইসলাম ধর্মের নবী হযরত মোহাম্মদ সা. সর্বশেষ নবী। যার ফলে এই ধর্ম সকল মানুষকে একত্রিত করার, সকল মানুষের অধিকার রক্ষার এবং সকল মানুষকে শান্তির ছায়াতলে ঢেকে রাখার সকল উপায় বাতলে দিয়েছে। যে উপায়ে বিশ্বের সকল মানুষকে কল্যাণের ভাগীদার করা যায়, ভালোবাসার বন্ধনে জড়িয়ে রাখা যায়, কলহপূর্ণ সমাজব্যবস্থা নির্মূল করে শান্তিপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণ করা যায় তার অন্যতম উপায় হচ্ছে মুসলমানদের দু’টি ধর্মীয় উৎসব; ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা।

মুসলিম জীবনে ঈদ মানে হচ্ছে যতো রেষারেষি, মান-অভিমান থাকুক সব ভুলে বুকে বুক মিলানো। আমরা ছোটোবেলা থেকেই দেখে আসছি, বন্ধুরা একে অপরের সাথে কতো বিষয় নিয়ে, কতো ঠুনকো কারণেই একে অপরের সঙ্গে ঝগড়ায় লিপ্ত হই, মারামারি করি, অভিমান করে একজন আরেকজনের বাড়িতে যাতায়াত ছেড়ে দেই, কিন্তু যেই না ঈদ চলে আসে আমরা সবকিছু ভুলে আবার একে অপরের সাথে বুক মিলাই, একে অপরের বাসায় যাই, মিষ্টি খাই, হাসি আনন্দে মেতে উঠি। ঈদের এই সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থান মুসলিম সমাজে এতটাই দৃঢ় যে যুগ যুগ ধরে, হাজার বছর ধরে মুসলমানরা হাজারো কলহ-বিবাদ সত্ত্বেও আজও সর্বাধিক পারিবারিক কাঠামো রক্ষা করে চলা সামাজিক জীব।
কলহ-বিবাদে একদিকে যখন পরিবারগুলো ও আত্মীয়-পরম্পরা ভেঙে যায় যায় অবস্থা দাঁড়ায় ঈদের আগমনে আবার তা জোড়া লেগে যায়। এভাবে ভাবতে গেলে ঈদের মাহাত্ম্য অনেক। আর ঈদের সামাজিক গুরুত্বও অনেক।
পবিত্র ঈদুল ফিতর আসে পবিত্র রমজান পালন শেষে, আরবি শাওয়াল মাসের প্রথম দিন। রমজান মাস হচ্ছে মুসলমানদের জন্য নানাবিধ ট্রেনিংয়ের মাস। সবচেয়ে বড়ো ট্রেনিং হচ্ছে সংযমের ট্রেনিং আর সবচেয়ে বড়ো প্রাপ্তি হচ্ছে প্রতিটি ভালো কাজের প্রতিদান ৭০ থেকে ৭০০ গুণ বেশি পাওয়া। আবার এই রমজান মাসেই মহান আল্লাহ তায়ালা এমন একটি রাত দিয়েছেন যে রাত হাজার রাতের চেয়ে উত্তম রাত। অর্থাৎ পবিত্র রমজান মাস, রমজান মাসের বিশেষ রাত লাইলাতুল কদর এবং রমজান শেষে পবিত্র ঈদুল ফিতর হচ্ছে মুসলমানদের বিশাল প্রাপ্তির একটি প্যাকেজ প্রোগ্রাম। তাই এই সময়টার অপেক্ষায় থাকে মুসলমানরা সারাটি বছর।

একটি চন্দ্রবছর ঘুরে এই দিনটি আবার আমাদের মাঝে আসন্ন। গত দু’টি বছর সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশেও করোনা নামক মহামারীর আঘাতে এই মহিমান্বিত মাস, মহিমান্বিত রাত, মহিমান্বিত দিনটি অনেকটাই ম্লান হয়ে গেলেও এবার আমরা কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে শিখেছি। মহান আল্লাহর একান্ত রহমতে করোনা বা কোভিড নামক মহামারীর করাল গ্রাসকে আমরা আমাদের অভ্যস্ততা দ্বারা মোকাবেলা করতে শিখে গেছি। তাই এ কথা বলতে দ্বিধা নেই এবারের ঈদের দিনটি হবে আমাদের গত দুই বছরের ঈদের চেয়ে অনেক বেশি আনন্দের, অনেক বেশি প্রাপ্তির এবং অনেক বেশি সামাজিক।
করোনার কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা বাধ্যতামূলক থাকায়, গত দুই বছর ধর্মীয় এই উৎসব সামাজিকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়লেও এবার নিশ্চয়ই সে তার স্বরূপে ফিরবে ইনশাআল্লাহ।
ছোট্ট বন্ধুরা, তোমরা যারা এবার ঈদ উদযাপনের জন্য বেশ কৌতূহল নিয়ে অপেক্ষা করছো, তোমরা কি জানো ঈদ আসলে কী? কখন কীভাবে এই ঈদ এলো?
মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা মোকাররমা থেকে হিজরত করে পবিত্র মদিনায় গেলেন, তখন সেখানকার অধিবাসীরা ‘নওরোজ’ ও ‘মেহেরজান’ নামে দু’টি আনন্দ দিবস উদযাপন করতো। সাহাবায়ে কেরাম রা. মহানবী সা.-এর কাছে তাদের আনন্দ-উদযাপনে অংশগ্রহণ করবেন কি-না সে ব্যাপারে জানতে চাইলেন।
উত্তরে মহানবী সা. বললেন- ‘আল্লাহতায়ালা তোমাদের এর পরিবর্তে আরও উৎকৃষ্ট দু’টি দিন দান করেছেন- একটি ঈদুল ফিতরের দিন, অপরটি ঈদুল আজহার দিন।’
আর সেই থেকে ঐতিহাসিক ঈদ বা মানুষের তৈরি সব ঈদের দিন ছাপিয়ে মুসলমানদের জন্য দু’টি ঈদ নির্দিষ্ট হলো। ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা।

ঈদের সামাজিক গুরুত্ব কী?
ঈদের সবচেয়ে বড়ো সামাজিক গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ঈদ মানুষের মাঝে সম্প্রীতির বারতা নিয়ে হাজির হয়। তোমরা নিশ্চয়ই জানো যে মদিনার দু’টি গোত্রের মাঝে দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ-সংঘর্ষ লেগেই থাকতো। আওস খাজরাজ নামক সেই দুই গোত্রের হানাহানি মহানবী সা.-এর মদিনায় হিজরতের পর বন্ধ হয়ে গেল। আওস ও খাজরাজ গোত্র একে অপরের ভাই ও বন্ধু হয়ে গেল। মহান আল্লাহ মহাগ্রন্থ আল কুরআনের সূরা আলে ইমরানের ১০৩ নম্বর আয়াতে বলেন- “তোমরা তোমাদের ওপর আল্লাহর সেই নিয়ামতের কথা স্মরণ করো, যখন তোমরা একে অপরের দুশমন ছিলে, অতঃপর আল্লাহতায়ালা তোমাদের একের জন্য অপরের অন্তরে ভালোবাসা সঞ্চার করে দিলেন। অতঃপর তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহে ‘ভাই ভাই’ হয়ে গেলে। অথচ তোমরা ছিলে অগ্নিকুণ্ডের প্রান্ত সীমানায়। অতঃপর সেখান থেকে আল্লাহতায়ালা তোমাদের উদ্ধার করলেন, আল্লাহতায়ালা এভাবেই তার নিদর্শনগুলো তোমাদের কাছে স্পষ্ট করেন, যাতে তোমরা সঠিক পথের সন্ধান পাও।” (সূরা আলে ইমরান : ১০৩)
এ থেকে বোঝা যায় মানুষে মানুষে সুসম্পর্ক বজায় রাখা, ভ্রাতৃত্ববোধ কতোটা গুরুত্বপূর্ণ। মহান আল্লাহর অনেক বড়ো নিয়ামত এই পারস্পরিক ভালোবাসা, সহানুভূতি, সম্পর্ক। পবিত্র কুরআনের সূরা হুজুরাতের ১০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “নিশ্চয় মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই। কাজেই তোমরা তোমাদের ভাইদের মধ্যে আপস-মীমাংসা করে দাও। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, আশা করা যায় তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হবে।”
আর এই পারস্পরিক সম্পর্ক তৈরি ও পুনর্গঠনে অবিস্মরণীয় ভূমিকা রাখে ঈদ। এই ঈদে কবিরাও আহ্বান জানান সব দ্বেষ-বিদ্বেষ ভুলে এক হয়ে যেতে। কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত একটি গানে বলা হয়-
“ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ
তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে, শোন আসমানি তাগিদ।
————————-
আজ ভুলে যা তোর দোস্ত-দুশমন, হাত মেলাও হাতে,
তোর প্রেম দিয়ে কর বিশ্ব নিখিল ইসলামে মুরিদ।
ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।”
অর্থাৎ ঈদ হচ্ছে দুশমনি ভুলে একে অপরের বন্ধু হওয়া, সম্পর্ক জোড়া লাগানো বা সম্পর্ক পুনর্গঠনের নিয়ামক শক্তি। যদি আমরা সবাই নিজেদের হিংসা-ক্রোধ-জিঘাংসা-ঘৃণা-দুঃখ কষ্ট- মান অভিমান সব পরিত্যাগ করে দুশমনি ভুলে একে অপরের সঙ্গে হাত মেলাতে পারি, কাঁধে কাঁধ মেলাতে পারি তবেই ঈদ সার্থক হয়। আর এটাই ঈদের সামাজিক উপকার। সমাজ থেকে হানাহানি দূর করে ভালোবাসার পরিবেশ সৃষ্টি করে ঈদ।
তাই করোনা থাকুক বা কারও হৃদয়ে পাওয়া না পাওয়া, প্রিয়জন হারানোর যতো বেদনাই থাকুক সকলেরই উচিত সবকিছু ভুলে নিজেকে উজাড় করে ঈদের দিন সবার সঙ্গে মিলে আনন্দে মেতে ওঠা। কোনও কারণেই এই দিনটির মাহাত্ম্য নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। বরং মহান আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ পারস্পরিক ভালোবাসা দিয়ে দিনটিকে স্মরণীয় ও মহিমান্বিত করাই আমাদের দায়িত্ব। আর সেই দায়িত্বের কথাই বারবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন আমাদের কবি সাহিত্যিকরাও। বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে বাংলা সাহিত্যে সৈয়দ এমদাদ আলী প্রথম ঈদ নিয়ে কবিতা লেখেন। ঈদের মূল চেতনা সাম্য ও সম্প্রীতি গণ্য করে তিনি লেখেন-
“কুহেলি তিমির সরায়ে দূরে
তরুণ অরুণ উঠিছে ধীরে
রাঙিয়া প্রতি তরুর শিরে
আজ কি হর্ষ ভরে।
আজি প্রভাতের মৃদুল বায়
রঙে নাচিয়া যেন কয়ে যায়
মুসলিম জাহান আজি একতায়
দেখ কত বল ধরে।”

কবি কায়কোবাদ ঈদ আবাহন কবিতায় মুসলিম ঐক্যের আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন-
“আজি এই ঈদের দিনে হয়ে সব এক মনপ্রাণ,
জাগায়ে মোম্লেম সবে গাহ আজি মিলনের গান।
ডুবিবে না তবে আর ঈদের এ জ্যোতিষ্মান রবি,
জীবন সার্থক হবে, ধন্য হইবে এ দরিদ্র কবি।” (অশ্রুমালা)

কবি গোলাম মোস্তাফা লেখেন-
“আজ নতুন ঈদের চাঁদ উঠেছে নীল আকাশের গায়,
তোরা দেখবি কারা ভাই- বোনেরা আয়রে ছুটে আয়।
———
ওরে চাঁদ নহে ও, ওযে মোদের নূরেরি খঞ্জর
ওই খঞ্জরেতে কাটবো মোরা শয়তানের পঞ্জর
মোরা ভুলবো আজি সকল বিরোধ মিলবো গো ঈদগায়।’’

জাগরণের কবি ফররুখ আহমদের ভাষায়-
“আজ ঈদগাহে নেমেছে নতুন দিন,
চিত্তের ধনে সকলে বিত্তবান,
বড়ো ছোটো নাই, ভেদাভেদ নাই কোন;
সকলে সমান- সকলে মহীয়ান।”

এভাবে প্রায় সকল কবিই ঈদকে মহা মিলনের, সম্প্রীতির, বন্ধনের, ভ্রাতৃত্বের উপলক্ষ্য হিসেবেই চিত্রিত করেছেন।
তাই এসো ঈদের দিনটিতে আর কোনও বেদনার বেলাভূমে ক্রন্দন নয়, চলো সব ভুলে সব জনে মিলে একাকার হয়ে যাই ঈদ আনন্দমেলায়। করোনা নামক মহামারী আমাদের সামাজিকভাবে শারীরিকভাবে এক অপরের থেকে দূরে সরিয়ে রাখলেও মনের দিক থেকে দূরে সরাতে পারবে না। যত রোগ-ভোগ হোক শরীরের, আমাদের মন থাকবে সতেজ, পূত পবিত্র ও নীরোগ ইনশাআল্লাহ।

SHARE

Leave a Reply