Home কুরআন ও হাদিসের আলো হাদীসের আলো হাদিসের আলো

হাদিসের আলো

শিউলিসাদা ভোর

ঈদের সকাল। কী সতেজ তার হাসি, কী কোমল তার সুরভিত মুখ! শিউলিসাদা ভালোবাসায় চারদিক যেন থইথই করছে! এমন সকাল আসতে এত দেরি হয় কেন? তার কি কোনো অভিমান আছে মানুষের ওপর? নেহলার কাছে এমনই মনে হয়েছে আজ! সেই কখন ঈদের চাঁদ উঠেছিল, অথচ চাঁদরাত যেন শেষই হতে চাচ্ছিল না! এমন রাতে কি কেউ ঘুমাতে পারে?
আজ ফজরের আজানের আগেই অজু করে নামাজের জন্য তৈরি হয়ে বসে ছিল নেহলা। আর আজান শোনার সাথে সাথেই মনে হয়েছিল, বেহেশতে থেকে কোনো খুশির আওয়াজ নেমে এসেছে পৃথিবীতে! আজকের ফজরটাও অন্যদিনের মতো নয়। এ যেন এক অতিথি ফজর, যে বছরে একদিনই আসে!
ঈদের সকালে নেহলার কত কাজ! নামাজ ও কুরআন তিলাওয়াতের পর প্রথম কাজই হচ্ছে- নতুন জামা-কাপড়গুলো বের করে লুকিয়ে লুকিয়ে আরেকবার দেখা! হাতের পরশ বুলানো! নাকের কাছে এনে একটু ঘ্রাণ নেওয়া! ঘরে-বাইরে প্রজাপতির মতো একটু ছোটাছুটি! আর মায়ের পেছনে ঘুরঘুর করে বারবার জানতে চাওয়া, কখন সে তৈরি হবে নতুন পোশাক পরে!
মা নেহলার সবকিছুর দিকেই চোখ রাখছেন, আর মনে মনে হাসছেন।
গোসল সেরে আসার পর মা বললেন, নাও! এবার তোমার পোশাক পরে নাও। এই বলে তিনি কী একটা কাজে মনোযোগ দিলেন। দূর থেকে শুনলেন, নেহলা কী যেন পড়ছে। কাছে এসে বললেন, মাশাআল্লাহ! তোমাকে ভীষণ সুন্দর লাগছে! যেন এক বেহেশতি প্রজাপতি! আচ্ছা, মা! একটু আগে তুমি কী যেন পড়ছিলে?
নেহলা একগাল হেসে বলল, কেন, নতুন পোশাক পরার দোয়া- “আল্লাহুম্মা লাকাল হামদু, আনতা কাসাউতানিহ্, আস-আলুকা মিন খায়রিহি ওয়া খায়রি মা সুনিয়া লাহু, ওয়া আউযু বিকা মিন শাররিহি ওয়া শাররি মা সুনিয়া লাহু।”
মা বললেন, কী চমৎকার! কে শিখিয়েছে তোমাকে? নেহলা বলল, বাবা।
মা বললেন, আচ্ছা, তাহলে এর অর্থটাও জেনে নাও- “হে আল্লাহ্! তোমার জন্যই সকল প্রশংসা। তুমিই আমাকে এ কাপড় পরিয়েছো। আমি তোমার কাছে এর মধ্যে নিহিত কল্যাণ ও এটা যে জন্য তৈরি করা হয়েছে সেসব কল্যাণ প্রার্থনা করছি। আর আমি এর অনিষ্ট এবং এটি যার জন্য তৈরি করা হয়েছে তার অনিষ্ট থেকে তোমার আশ্রয় কামনা করছি।”
নেহলা হেসে বলল, ধন্যবাদ মা!
বিলাল হোসাইন নূরী

SHARE

Leave a Reply