Home কুরআন ও হাদিসের আলো কুরআনের আলো কুরআনের আলো

কুরআনের আলো

সবুজ স্বপ্নের ছোঁয়া

পৃথিবীর সব খুশি যেখানে এসে খেলা করে, সে জায়গাটার নাম নানাবাড়ি। আনন্দ যেন নানাবাড়ির আঙিনায় শুয়ে থাকে, গড়াগড়ি করে। নানাবাড়ির বাতাসে যে সুখের খবর ভেসে বেড়ায়, তারচেয়ে ভালো খবর আর কে কোথায় কবে পেয়েছে? আহা! নানাবাড়ি।
মালিহা যতবারই নানাবাড়ি গিয়েছে, ফেরার সময় চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি কখনোই। নানাবাড়ির মাটিতে তার অশ্রুকণাগুলো যেন স্মৃতির স্মারক হয়ে রয়ে যেত। নানা-নানুর আদর-ভালোবাসার কোল ছেড়ে কারই-বা আসতে মন চায়?
কিছুদিন হলো, নানা চলে গেছেন মালিকের কাছে। এরচেয়ে কষ্টের খবর এর আগে আর কখনোই আসেনি তার জীবনে। হৃদয়টা ছিঁড়ে টুকরো টুকরো হয়ে আছে। এ যেন আর কোনোদিনই জোড়া লাগবে না।
মায়ের মনটাও ভীষণ খারাপ। কোনো কিছুতেই তিনি যেন আর কূল খুঁজে পাচ্ছেন না। দু’চোখের লোনাপানিই এখন তার সারাবেলার সঙ্গী। একদিন বাবা মালিহাকে ডাকলেন, ডাকলেন তার মা-কেও। তিনি যেন নানার স্মৃতির ঝাঁপি খুলে বসলেন। মায়ের কান্না কি আর থামানো যায়? বাবা তখন মাকে বললেন, তোমার জন্য একটি সুসংবাদ আছে। আছে তোমার বাবার সাথে মিলিত হওয়ার সুযোগ! দেখো, আল্লাহ তায়ালা কী বলেছেন-
“যারা ঈমান আনে এবং তাদের সন্তানেরা ঈমানের সাথে তাদের অনুসরণ করে, আমরা তাদের সাথে মিলিত করব তাদের সন্তান-সন্ততিকে এবং তাদের কর্মফল আমরা একটুও কমাবো না। প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ কৃতকর্মের জন্য দায়ী। আর আমরা তাদেরকে বাড়িয়ে দেব ফলমূল এবং গোশত যা তারা কামনা করবে। সেখানে তারা পরস্পরের মধ্যে আদান-প্রদান করতে থাকবে পানপাত্র, সেখানে থাকবে না কোনো অসার কথাবার্তা, থাকবে না কোনো পাপকাজও। আর তাদের সেবায় চারপাশে ঘোরাঘুরি করবে কিশোররা, তারা যেন সুরক্ষিত মুক্তা। তারা একে অপরের কাছে এসে জানতে চাইবে। তারা বলবে, নিশ্চয় আমরা পরিবার-পরিজনের মধ্যে শঙ্কিত অবস্থায় ছিলাম। অতঃপর আল্লাহ আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং আমাদের আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করেছেন। নিশ্চয়ই আমরা আগেও আল্লাহকে ডাকতাম। নিশ্চয় তিনি কৃপাময়, পরম দয়ালু।”
(সূরা আত-তুর : ২১-২৮)।
তাই, অযথাই কান্নাকাটি নয়। বরং ঈমানের ওপর অবিচল থাকো, ভালো কাজ করো আর হৃদয় খুলে দোয়া করো।
মায়ের মুখে যেন সজীবতা উঁকি দিলো। যেন নানাভাইয়ের সাথে জান্নাতে মিলিত হওয়ার সবুজ স্বপ্ন নিবিড়ভাবে ছুঁয়ে গেল তার হৃদয়ের জানালা।

SHARE

Leave a Reply