ইনভারমেন্ট সেটআপ -নাদিম নওশাদ

ছোট্ট বন্ধুরা, কেমন যাচ্ছে তোমাদের দিনকাল? আশা করি ভালোই যাচ্ছে। গত পর্বে আমরা শিখেছি কম্পিউটার কীভাবে কাজ করে। ভুলে গেছো নাকি? কোনো সমস্যা নেই। বংশ পরম্পরায় আমরাও অনেক সময় অনেক কিছু ভুলে যাই। এসো একটু রিভাইস করা যাক।

কম্পিউটারের অনেকগুলো প্রকারভেদ আছে। যেমন সুপার কম্পিউটার, মিনি কম্পিউটার ইত্যাদি। কম্পিউটারের দুইটি মৌলিক উপাদান আছে। তা হলো হার্ডওয়্যার (hardware) ও সফটওয়্যার (software)। হার্ডওয়্যার কম্পিউটারের ফিজিক্যাল পার্ট নিয়ে কাজ করে। সফটওয়্যার কাজ করে- কীভাবে কম্পিউটার কাজ করবে তা নিয়ে। আর কীভাবে কাজ করবে তার নির্দেশসমূহকে বলে কোডিং বা প্রোগ্রামিং। কম্পিউটার আমাদের কথা বোঝে না। তার নিজস্ব ভাষা আছে যার নাম মেশিন ভাষা (machine language)। মেশিন ভাষা শুধুমাত্র ০ ও ১ এ দুটি জিনিস চেনে। তাই আমাদের কথা কম্পিউটারকে বোঝানোর জন্য বিজ্ঞানীরা দোভাষী হিসাবে প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ (programming language) আবিষ্কার করেছেন ।

এ পর্বে আমরা প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ কীভাবে শেখা শুরু করতে পারি সে সম্পর্কে আলোচনা করবো। সাথে সাথে প্রোগ্রামিংয়ের জন্য আমাদের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো সম্পর্কে জানবো।
প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ শেখার জন্য সর্বপ্রথম যে জিনিসটা দরকার তা হলো একনিষ্ঠ ও প্রবল আগ্রহ। তুমি যদি শুধুমাত্র পড়ে যাও আর প্র্যাকটিস না করো তাহলে এর মজাটা পাবে না। তোমাকে এটা চেষ্টা করতে হবে। তবেই তুমি হয়ে উঠবে একজন ভালো প্রোগ্রামার। আচ্ছা, অনেক জ্ঞান দেওয়া হলো। চলো এবার আসল কাজ শুরু করা যাক।

আমাদের এই দোভাষী অর্থাৎ প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ এর একজন সহকারী প্রয়োজন হয়। তার নাম হচ্ছে কম্পাইলার compiler । কম্পাইলার এর কাজ হচ্ছে প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজকে অনুবাদ করা। এটাকে তোমরা দোভাষীর ব্রেইনের সাথে তুলনা করতে পারো। দোভাষী প্রথমে একটা ভাষা শোনে। তারপর তার ব্রেইন সেটাকে অনুবাদ করে। এরপর সে অপর জনকে তার ভাষায় কথাটা বুঝিয়ে দেয়। ঘাবড়ে গেলে নাকি? ভাবছো এত কিছু প্রয়োজন হয় কম্পিউটার চালানোর জন্য? হ্যাঁ, আল্লাহ তায়ালা মানুষকে অনেক জটিল করে সৃষ্টি করেছেন। তাই মানুষের তৈরি জিনিসগুলোও একটু জটিল হওয়াই তো স্বাভাবিক। তবে তোমাদের একটুও চিন্তার প্রয়োজন নেই। আমাদের বিজ্ঞানী বাবুরা আছেন তো! তারা দিনরাত পরিশ্রম করছেন কীভাবে জটিল কাজগুলো আমাদের সামনে আরও সহজ করে তুলে ধরা যায় সেজন্য। তারা কম্পাইলেশনের কাজ করার জন্য বিভিন্ন অ্যাপস তৈরি করেছেন। যার মাধ্যমে আমরা খুব সহজেই কম্পাইল করার কাজ করতে পারি।

আমাদের সামনে কিন্তু আরও একটা সমস্যা আছে। আরে, ভয় পাবার কোনো কারণ নেই। সমস্যাটা খুব বেশি গুরুতর নয়। একটা উদাহরণ দিয়ে চলো বোঝা যাক। মনে করো, তুমি ইংরেজিতে বললে “ও I go to school.” বাংলায় এর অনুবাদ- আমি স্কুলে যাই। কিন্তু তুমি যদি যায় এ ‘য’ এর যায়গায় ‘খ’ বসাও তাহলে কিন্তু অনুবাদ পরিবর্তন হয়ে “আমি স্কুলে খাই” হয়ে যাবে। বিষয়টা কতটা হাস্যকর হবে আশা করি বুঝতে পেরেছো। উদাহরণটার মতো কম্পিউটার এর অনুবাদে যেন ভুল না হয় সেই জন্য একে ডিবাগ (debug) করতে হয়। ডিবাগিং (debuggin) হলো এমন একটা পদ্ধতি যার সাহায্যে প্রোগ্রামিং এর কোথায় ভুল ত্রুটি আছে সেটা খুঁজে বের করা হয়। যখন কোনো ভুল খুঁজে পাওয়া যায় তখন তাকে বাগ (bug) বলে। ভয় পাবার কোনো কারণ নেই, নাম বাগ হলেও এটা মোটেও বাঘের মতো আমাদের ক্ষতি করে না। এটা বাঘের মতো ভয় না দেখিয়ে হাজার হাজার লাইনের কোডের মধ্যে কোথায় ভুল আছে সেটা খুঁজে বের করে আমাদের বরং উপকারই করে। একবার ভেবে দেখো তো, তুমি একশো লাইনের রচনায় কোথায় দাঁড়ি দিতে ভুলে গেছো এটা বের করা কতটা কঠিন!

কম্পিউটার আবিষ্কারের প্রথম দিকে আলাদা আলাদা ভাবে কম্পাইলিং ও ডিবাগিং করা হতো। এ কারণে সময় বেশি লাগতো আবার কষ্টকরও ছিল। যার ফলে বিজ্ঞানীরা একটা নতুন সিস্টেমকে আমাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। যার নাম IDE (integrated development environment)। যার মাধ্যমে একটা পরিবেশেই আমরা কম্পাইল করতে পারবো, ডিবাগিং করতে পারবো। এমনকি দেখে নিতে পারবো আমি কম্পিউটারকে যা বোঝাতে চাচ্ছি সে সেটা বুঝতে পারছে কি না। একটা উদাহরণ দিয়ে চলো বোঝা যাক, তুমি দোকানে গেলে খাতা আর কলম কিনতে। একটা দোকান থেকে খাতা কিনে দেখলে সেখানে কলম নেই। আবার অন্য দোকানে গিয়ে তোমায় কলম কিনতে হলো। বিষয়টা কষ্টকর না? এর থেকে ভালো হতো না, যদি খাতা কলম একটা দোকান থেকেই কেনা যেতো? IDE এর বিষয়টা ঠিক এমনই। অনেক ধরনের IDE আছে বর্তমানে। কিন্তু আমরা যেহেতু নতুন, তাই আমরা খুব সহজ প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ এর জন্য IDE ব্যবহার করবো। আমার পছন্দের একটি IDE এর নাম codeblocks । google এ সার্চ করলেই তোমরা এটা পেয়ে যাবে। তারপরও তোমাদের সুবিধার জন্য ডাউনলোড লিংকটি দিয়ে দিচ্ছি-
http://www.codeblocks.org/downloads/binaries/

ডাউনলোড লিংকটি লিখে ব্রাউজ করে একটু নিচের দিকে এলেই তুমি ডাউনলোড করার জায়গা পাবে। যদি তুমি Windows 64 bit ব্যবহারকারী হও তাহলে setup.exe, অথবা যদি 32 bit ব্যবহারকারী হও তাহলে 32bit-setup.exe ফাইল ডাউনলোড করতে পারো। তোমার laptop বা desktop কতো bit এর তা জানার জন্য তোমার কম্পিউটারের home-এ যে সার্চবার আছে সেখানে about লিখে সার্চ দিলে about my pc নামে অপশন এ গেলেই তুমি জানতে পারবে তোমার pc কতো bit এর।

যদি Linux অথবা Mac ব্যবহার করো তাহলে আরেকটু নিচে গিয়ে তুমি ডাউনলোড এর জায়গা পেয়ে যাবে। এরপর FossHUB অথবা ourceforget.net এ ক্লিক করলেই ডাউনলোড শুরু হয়ে যাবে। ডাউনলোড শেষ হলে ডাউনলোড করা ফাইলে ডাবল ক্লিক করে অন্যান্য অ্যাপস installation এর মতো সব অপশন এ next ক্লিক করবে। ব্যাস্, তোমার codeblocks installation এর কাজ হয়ে গেল। এবার তোমার সার্চবারে codeblocks লিখে সার্চ করলেই চলে আসবে codeblocks অ্যাপসটি।

আমাদের কোডিং শেখার জন্য যা যা প্রয়োজন তা তৈরি। অনেকটা খাবার খাওয়ার জন্য প্লেটে খাবার প্রস্তুত করার মতো। এখন শুধু খাওয়াটা বাকি।

SHARE

Leave a Reply