Home চিত্র-বিচিত্র মার্লিন মাছ -হাবীব মাসুদ

মার্লিন মাছ -হাবীব মাসুদ

মার্লিনকে বাংলায় নীল মার্লিন বলা যায়। এদের প্রিয় স্থান গভীর সমুদ্র। সমগ্র সাগরেই বিচরণ করে মার্লিন মাছ। মার্লিন মাছ আকারে অনেক বড়ো হয়। এরা গড়ে প্রায় ১৪ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। মার্লিন মাছের ওপরের চোয়াল দেখতে সরু তরবারির মতো লম্বা।

এদের ওজনও অনেক বেশি। পুরুষ মার্লিনের তুলনায় স্ত্রী মার্লিনের ওজন বেশি হয়। পুরুষ মাছ সাধারণত ১৪০-১৬০ কেজি পর্যন্ত হয়। স্ত্রী মাছ ৫০০-৫১০ কেজি হয়।
মার্লিনের দেহে পাতলা এবং বড়ো আঁশ রয়েছে। মার্লিন খুব দ্রুত সাঁতার কাটতে পারে। ঘণ্টায় প্রায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ছুটতে পারে।
এরা দ্রুত এদের রঙ পরিবর্তন করতে পারে। শিকারের সময় মাছেরা তাদের রঙ পরিবর্তন করে উজ্জ্বল নীল রঙ ধারণ করে।

মার্লিনের আরেকটা মজার বিষয় হলো, এরা কখনও ঝাঁক বেঁধে ঘুরে না। একটা মাছ একাই প্রায় পুরো জীবন কাটিয়ে দেয়। এমনকি ডিমে তা দেওয়ার সময়ও বাবা মা ওদের পাশে থাকে না।

মা মার্লিনরা পানিতে ডিম পেড়ে নিজের মতো চলে যায়। এরপর ডিম পানিতে ভেসে ভেসে যেখানে যায় সেখানেই ডিম ফুটে বাচ্চা হয়। এরপর বাকি জীবন তারা একা নিজের মতোই কাটিয়ে দেয়। মার্লিনের লার্ভা খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায়। অনুকূল পরিবেশে এদের বৃদ্ধির হার প্রতিদিন প্রায় পনেরো মিলিমিটার হয়। একটা মার্লিন মাছ প্রায় ২৭ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে।

মার্লিনের খুব প্রিয় স্থান সমুদ্রের ওপরের পৃষ্ঠের গরম পানি। প্রায়ই ভারত মহাসাগর, প্রশান্ত মহাসাগর, আটলান্টিক মহাসাগরের পৃষ্ঠের গরম পানিতে ওদের সাঁতার কাটতে দেখা যায়। গরম বাতাস মার্লিনদের এতই পছন্দ যে ওরা গরম পানির স্রোতে শত, সহস্র মাইল পথ পাড়ি দেয়।

মার্লিনরা পানির ওপরের দিকে থাকা খাবার খায়। তবে মাঝে মাঝে বিশাল শরীর নিয়ে পানির একদম নিচে চলে যায়। যেখানে অনেক স্কুইড, টুনা মাছ আর অন্য মাছের ঝাঁক আছে। এরা ওপরের চোয়াল প্রসারিত করে খপ করে মাছদের খেয়ে ফেলে। মার্লিন মাছ তুলনামূলকভাবে উচ্চ ফ্যাটযুক্ত হওয়ায় বাণিজ্যিক বাজারে এর চাহিদা রয়েছে।

SHARE

Leave a Reply