Home কুরআন ও হাদিসের আলো হাদীসের আলো হাদিসের আলো

হাদিসের আলো

হালাল রিজিকের ঘ্রাণ

ছোটোচাচ্চুর বাড়ি ফেরা মানেই হলো দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর একপশলা শীতল বৃষ্টি। অথবা ঈদের আগেই খুশির খবর নিয়ে আসা একফালি নতুন চাঁদের উজ্জ্বল উপস্থিতি। নাম ছোটোচাচ্চু হলেও হৃদয়টা যেন সবচেয়ে বড়ো! ছোটোরা কি আসলে এমনই হয়? রাফসান ভাবে আর ভাবে! ভাবতে ভাবতে হারিয়ে যায় স্মৃতির খেয়ায়। যে খেয়া তাকে নিয়ে অবিরাম ভেসে চলে ছোটো ছোটো ঢেউতোলা এক শান্ত নদীর বুকে। এ নদীর নাম ভালোবাসা। হ্যাঁ, ছোটোচাচ্চুর ভালোবাসা।

ছোটোচাচ্চু এবারও এলেন উপহারের ডালি নিয়ে। যদিও উপহার বড়ো বিষয় নয় রাফসানের কাছে। ছোটোচাচ্চু নিজেই তো তার জন্য অসাধারণ উপহার। তবুও উপহারের দিকে তো চোখ চলে যায়-ই। সুন্দর ঝকঝকে একটি কুরআন তুলে দিলেন চাচ্চু তার হাতে। ক’দিন আগেই রাফসান কুরআনের সবক নিয়েছে। এখন সে সহিহভাবে তিলাওয়াতও করতে পারে। রাফসান পরম মমতায় তা বুকে চেপে ধরল আর বলল আলহামদুলিল্লাহ। এরচেয়ে ভালো উপহার আর কী হতে পারে?

এবার খাওয়া-দাওয়ার পালা!
দামি চকোলেট হাতে পেলে কি আর দেরি করা যায়? পাওয়া মাত্র খাওয়া! চাচ্চু বললেন, ‘বিসমিল্লাহ’ বললে না যে?

বিসমিল্লাহ? বিসমিল্লাহ কি বলতেই হয়? বলল রাফসান। চাচ্চু বললেন, হ্যাঁ। অবশ্যই বলতে হয়। পানাহারেরও আদব আছে। উমার ইবনে আবি সালামাহ (রা) বলেছেন, আমি একজন বালক হিসেবে রাসূল (সা)-এর অধীনে ছিলাম। খাবারের পাত্রে আমার হাত একজায়গায় থাকত না। রাসূল (সা) আমাকে বললেন, হে বালক! আল্লাহর নাম নিয়ে (বিসমিল্লাহ বলে) ডান হাত দিয়ে নিজের সামনে থেকে খাও। (বুখারি ও মুসলিম)।
আবার খাওয়া শেষ হলে বলতে হয় ‘আলহামদুলিল্লাহ’। অর্থাৎ সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। অবশ্যই আল্লাহ এমন বান্দার ওপর খুশি হন, যে খাবার খেয়ে তাঁর প্রশংসা করে অথবা পান করে তাঁর প্রশংসা করে। (মুসলিম)।

রাফসান বলল, শুরুতেই আল্লাহর নাম, শেষেও তাঁর প্রশংসা- এ চমৎকার বিষয়টি আমি তো জানতামই না!

চাচ্চু বললেন, এখন তো জানলে। আমরা হালাল রিজিকের ঘ্রাণ নেব, স্বাদ নেব কিন্তু রিজিকদাতার নাম নেব না, তা কি হয়? রাফসান বলল, এখন থেকে আর কখনোই ভুল হবে না ইনশাআল্লাহ। চাচ্চুর মুখে তখন নতুন চাঁদের হাসি। আর এ হাসিটার জন্যই অপেক্ষা করছিল রাফসান!

বিলাল হোসাইন নূরী

SHARE

Leave a Reply