Home কুরআন ও হাদিসের আলো কুরআনের আলো কুরআনের আলো

কুরআনের আলো

শোনা-কথার গোনাহ্

সবুজ কোনো দ্বীপে ঘুরতে বেরোলে মন তো গাঙচিল হবেই! লোনা সাগরের ঢেউয়ের ওপর যেন আছড়ে পড়ে তার দিগন্তছোঁয়া দুটি ডানা। আহা, একটুখানি পথ পেরোলেই লাল কাঁকড়ার দেশ! এমন শীতল অনুভূতি যখন ইরফানকে আবেগময় করে তুলেছে, তখনই একটি খবর তার মনে ঝড় বইয়ে দিলো। তার সাথে সফরে থাকা একজন বলল, তোমার বন্ধু ফাহমিদ তো তোমাকে নিয়ে অনেক খারাপ কথা বলেছে। সব শুনে ইরফান জ্বলে উঠল আগুনের মতোই। বলল, এর একটা উচিত জবাব দিতেই হবে।

সাগরের বুক ভেঙে ছুটে চলছে তাদের জাহাজ। যে ইরফান একটু আগেও আবৃত্তি করেছিল ‘সাত সাগরের মাঝি’- সে এখন চুপটি করে বসে আছে আহত পাখির মতো। দূর থেকে এক ভাইয়ার নজরে এলো বিষয়টি। তিনি তার কাছে এলেন। পিঠে হাত রেখে জানতে চাইলেন তার মন খারাপের কারণ। গভীর মনোযোগ দিয়ে সবকিছু শুনে তিনি বললেন, এ তো খুব সাধারণ বিষয় ইরফান! তুমি কীভাবে নিশ্চিত হলে, তোমার বন্ধু এমন কথা বলেছে? আবার এর মধ্যে তুমি প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনাও করে ফেলেছ! এ খবর যদি সঠিক না হয়, তোমাকেই শেষে লজ্জিত হতে হবে। শোনো তাহলে-

মহানবী (সা) ওয়ালিদ ইবনে উকবাহ (রা)-কে বনু-মুসতালিক গোত্রের জাকাত আদায়ের জন্য পাঠালেন। পথের মাঝে মহানবী (সা)-এর দূত ভাবলেন, ওই গোত্রের সাথে তো তার পুরনো দিনের শত্রুতা আছে। যদি তারা তাকে একা পেয়ে হত্যা করে ফেলে? এই ভয়ে তিনি ফিরে এলেন এবং বললেন, তারা জাকাত দিতে অস্বীকার করেছে এমনকি তাকে হত্যাও করতে চেয়েছে। মহানবী (সা) বিষয়টিকে সহজভাবে নিলেন না। তিনি একদল মুজাহিদ পাঠালেন প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য। তখন বনু-মুসতালিক গোত্রের সরদার হারেস ইবনে দিরার-এর সাথে তাদের দেখা হয়ে যায়। এরপর জানা গেল, এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি! তখন আল্লাহ তায়ালা আয়াত নাজিল করলেন-
“হে ঈমানদারগণ! যদি কোনো ফাসিক তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তাহলে তোমরা তা পরীক্ষা করে দেখো। তা না হলে অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো সম্প্রদায়কে আক্রমণ করে বসবে, ফলে তোমাদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হতে হবে।” সূরা আল হুজুরাত : ৬

ইরফান বলল, সত্যিই তো! আমি তো এ খবর যাচাই-বাছাই করিনি!
ভাইয়া বললেন, যেকোনো কথাই শোনামাত্র প্রতিক্রিয়া দেখানো যাবে না এবং প্রচারও করা যাবে না। অনলাইনে আমরা অনেক কিছু না জেনেই শেয়ার করি। এসো, আমরা এ ধরনের গোনাহ থেকে বেঁচে থাকি! ইরফান বলল, জি ভাইয়া।

SHARE

Leave a Reply