Home বিশেষ রচনা মধ্য রাতের সূর্যের দেশ -ইরফান তানভীর

মধ্য রাতের সূর্যের দেশ -ইরফান তানভীর

আমরা কত রকম আশ্চর্যের খবর জানি তার কোনো ইয়ত্তা নেই। হতে পারে আমাদের হাতের আঙুলের কর গুনেও তা শেষ করা যাবে না। এ যেমন গিজার মহা পিরামিড, ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান, আলেকজান্দ্রিয়ার বাতিঘর, জেরুসালেমের পুরনো নগর এবং জিম্বাবুয়ের ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতসহ আরো অনেক। এসবের সঙ্গে হয়ত আমরা ইতিপূর্বে পরিচিত হয়েছি।

আজকে আমরা বিস্ময়কর ও দারুণ আশ্চর্যের একটি দেশকে নিয়ে কথা বলব। যে দেশে শুধু দিনের বেলায় নয়, সূর্য দেখা যায় রাতের বেলাতেও। নিশুতি রাতের অন্ধকার যখন চারদিকে ঘন হয়ে আসতে শুরু করে তখন আমরা ঘর থেকে এক কদম পা ফেলতেও হিসাব করে ফেলি! সুনসান নীরবতা আর নিকষকালো অন্ধকারে ভয়ে আমাদের গা ছমছম করে। আর আমরা যারা গ্রামে বাস করি, মধ্যরাতে যদি কখনো প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে বের হই আর যদি আমাদের চোখ গিয়ে পড়ে অন্ধকারাচ্ছন্ন গুমোট পুকুর ঘাটে! কেমন যে ভৌতিক ভৌতিক মনে হয়! একদম রক্ত হিম হয়ে আসে।

কিন্তু এ নিশুতি অন্ধকার রাতেও যদি আমরা সূর্যি মামার দেখা পেতাম, তাহলে এমন হিমশীতল ভয় কি আমরা পেতাম? নিশ্চয় না!
কিন্তু পৃথিবীতে এমন একটি দেশ আছে যেখানে রাতের বেলাতেও সূর্যের আবির ঝলমল করে। গহিন রাতেও উঁকি দেয় সে আকাশে। এটাও কি সম্ভব? দেশটির নাম নরওয়ে। নরওয়ে উত্তর ইউরোপের স্ক্যান্ডিনেভিয়ার পশ্চিম অংশে অবস্থিত। দেশটি ইউরোপের দ্বিতীয় জনবহুল রাষ্ট্র এবং বিশ্বের ১১৯তম জনবহুল দেশ।

রূপকথার গল্পের মতো শোনালেও নরওয়েতে বছরের দুই মাস সূর্য অস্ত যায় না! মে মাসের ২১ তারিখ থেকে জুলাইয়ে ২১ তারিখ পর্যন্ত। এ সময়টাকে বলা হয় মিডনাইট সান। ঘুটঘুটে অন্ধকারের পরিবর্তে তখন পূব আকাশে গোধূলির আলো ফুটে থাকে।

কেন এমনটি হয়? প্রশ্ন অবশ্যই মনে বাসা বেঁধে আছে! নরওয়ে পৃথিবীর এমন এক দেশ যেখানে মধ্য রাতে সূর্যের দেখা পাওয়া যায়! এটা আবার কেমন নিয়ম! এটা মূলত ভৌগোলিক অবস্থার কারণে হয়ে থাকে।

নরওয়ে উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত হওয়ায় মে থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত সূর্যাস্ত না গিয়ে সবসময় আকাশ রাঙিয়ে রাখে। তবে বিশ ঘণ্টা সূর্যের আলো অনেক বেশি থাকে। আর বাকি চার ঘণ্টা আলো কিছুটা কমে আসলেও একেবারে অস্ত যায় না। এ সময় আর্কটিক সার্কেলের উত্তরে ও এন্টার্কটিক সার্কেলের দক্ষিণে সূর্যের অবস্থান দু’রকম মনে হয়। আর্কটিক সার্কেলে মধ্যরাতের পর সূর্যকে মনে হয় সূর্য বাম থেকে ডানে আবর্তন হচ্ছে আর এন্টার্কটিক সার্কেলে মনে হয় সূর্য ডানদিক থেকে বামদিকে আবর্তন করছে।

বড়ো চমৎকার ব্যাপার হচ্ছে নরওয়েতে যেমন দুই মাস ধরে মধ্যরাতে দিবালোকের মতো সূর্যের দেখা মিলে ঠিক তেমনি বছরের দুই মাস এখানে সূর্য উদয় হয় না! কী অবাক করা ব্যাপার না! আসলে তাই! নভেম্বরের একুশ তারিখ থেকে জানুয়ারির একুশ তারিখ পর্যন্ত গনগনে সূর্যের তাপ নরওয়ের বাসিন্দারা দেখতে পায় না! এ সময়টাকে ডার্ক পিরিয়ড বলে। তবে বলে রাখা ভালো, এ সময়টাতে আকাশ একদম অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকে ব্যাপারটা এমন নয়! ডার্ক পিরিয়ড চলাকালীন আকাশে লাল-সবুজ রঙের অরোরা বুরিয়াল দেখা যায়। এ এক অপূর্ব আলোর খেলা। সূর্য নেই তবে আলোর লাল-সবুজ রঙ ভেসে বেড়ায় আকাশ নীলে। ইশ যদি স্বপ্নলোকেও এমন মোহনীয় দৃশ্য দেখতে পেতাম!
নরওয়ে তার অবিশ্বাস্য সুন্দর সব পর্বতমালা, বিস্তৃত মালভূমি, খ্যাতির আরো নানা বিশেষণ ছাপিয়ে বিশ্বে পরিচিতি পেয়েছে মিডনাইট সান অথবা নিশীথ সূর্যের দেশ নামে।

SHARE

Leave a Reply