Home চিত্র-বিচিত্র ডাহুক পাখি -আরিফুর রহমান

ডাহুক পাখি -আরিফুর রহমান

ডাহুক পাখি দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি ভীতু প্রকৃতির। ডাহুক খুব সতর্ক পাখি। আত্মগোপনে পারদর্শী। পুকুর, খাল, জলাভূমি, বিল, নদীর পাড়ে লুকানো জায়গা এদের বসবাসের জন্য প্রিয়।
একসময় বর্ষা ও শরতে ডাহুকরা বাড়ির গৃহপালিত হাঁস মুরগির সঙ্গে ঘুরে বেড়াতো। এখন তেমনটা আর দেখা যায় না। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় এই পাখির নামে রয়েছে ডাহুক নদী।
ডাহুক পাখি সঙ্গীহীন থাকতে পছন্দ করে না। ডাহুক হারিয়ে গেলে ডাহুকী ডাকাডাকি করতে থাকে। রাতে ডাহুকের ‘কোয়াক’ ‘কোয়াক’ ডাক শুনে সহজেই একে চিনতে পারা যায়।

এদের দেহ কালচে। মুখ, গলা, বুক ও পেট সম্পূর্ণ সাদা। ডাহুকের লেজ ছোটো, লেজের নিচের অংশ লালচে আভা সমৃদ্ধ। পিঠের রং ধূসর থেকে খয়েরি-কালো, পা লম্বা। ঠোঁট হলুদ, ঠোঁটের ওপরে লাল রঙের একটি ছোটো দাগ আছে।
বর্ষাকাল এদের জন্য উত্তম ঋতু। এসময় তারা বাসা করে পানির কাছেই ঝোপঝাড়ের ভেতরে অথবা ছোটো গাছের ঝোপযুক্ত ডালে। একসাথে ৫-৭টি ডিম পাড়ে এরা। ডিমের রং গোলাপি মেশানো সাদা। ডাহুক-ডাহুকী দু’জন মিলেই ডিমে তা দেয়। বাচ্চাদের রং সব সময় হয় কালো।
ডাহুক ছানারা তিন মাসের মধ্যেই আলাদা জীবন বেছে নেয়। একটি পুরুষ ডাহুক অন্য একটি পুরুষ ডাহুককে সহ্য করতে পারে না। দেখলেই মারামারি করে। এই পাখি অনেকটা লড়াকু প্রকৃতির।

জলজ পোকা-মাকড়, উদ্ভিদের কচি ডগা, শ্যাওলা এদের প্রিয় খাবার। এছাড়াও শাপলা-পদ্ম ফুলের নরম অংশ, কচি পানিফল, জলজ শেওলা, লতাগুল্মের নরম অংশ, ধান, কাউন, ডাল, সরিষা, শামুক, কেঁচো, জোঁক, মাছ, ছোটো মাছ, শাকসবজি ও ফল খেয়ে থাকে।
ডাহুক বাংলাদেশ, ভারত ছাড়াও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে দেখা যায। সারা পৃথিবীতে প্রায় ৮৩ লাখ ৪০ হাজার বর্গ কিলোমিটার জুড়ে এদের আবাস।

ডাহুক বাংলাদেশের একটি বিপন্ন পাখি। নগরায়নের জন্য এদের উপযুক্ত আবাসস্থল কমে গেছে। তাই এদের সংখ্যাও প্রকৃতিতে কমে গেছে। তাছাড়া বর্ণিল এই পাখিটি নির্দয় শিকারিদের অত্যাচারে প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে। বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী আইনে ডাহুক পাখিকে সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু তেমন কেউ মানছেনা। তদারকিরও অভাব রয়েছে বটে!

SHARE

Leave a Reply