যখন আমি কিশোর ছিলাম -ইব্রাহীম মণ্ডল

আমার জন্ম ২৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৮ সালে, ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলায় পোড়াবাড়িয়া গ্রামে। আব্বা আব্দুল বারী মণ্ডল, মা আছিয়া বেগম। একসময় পাখির কলকাকলী, বাঁশঝাড়ের রিরি-ঝিরি বাতাসের সন-সন শব্দ আর শিয়ালের ডাকে ঘুমিয়ে যেতাম, আবার দূর থেকে ভেসে আসা মুয়াজ্জিনের মধুর কণ্ঠে জেগে উঠতাম। বিহান বেলায় আউশের ক্ষেতে ঢেউ খেলানো বাতাস, শীতে শিশিরভেজা আঁকাবাঁকা পথ অবারিত সর্ষে ক্ষেতে হলুদের কোমল উষ্ণতা আমাকে আপ্লুত করে তোলে। লাউয়ের জাংলার পার্শ্বে খড়ের গাদায় বসে রোদের উষ্ণতায় মুড়ি খাওয়া কী যে সুস্বাদু! শেখ বাড়িতে মক্তব ছিল সেখানেই পাঠ শুরু। বগলে কায়দা মাথায় টুপি পরে ভোরে চাচাতো ভাইবোনদের সাথে যেতাম। আমাদের গ্রামের পার্শ্বের গ্রামেই নানীর বাড়ি। পাশ দিয়ে বয়ে গেছে খাল, খালের পাশে মনিহারির দোকান। আসার সময় নানী চাল দিয়ে দিতেন তা দোকানে দিয়ে কোকিজ (ঝ-এর মতো) কিনে খেতে খেতে কামারবাড়ির পাশ দিয়ে বাড়ি চলে আসতাম।

নানীবাড়ির কাছেই শিববাড়ির বাজার, প্রতি বছর চৈত্রসংক্রান্তির মেলা বসে, আব্বার কড়া নিষেধ ছিল মেলায় যাওয়া। তাই ঘুড়ি-নাটাই কেনার জন্য নানিবাড়ি চলে যেতাম। রাত থেকে সকালে চলে আসতাম বাড়ি। ঘুড়ি উড়ানোর অনেক সখ ছিল আমার। পরে নিজেই বিভিন্ন রকম ঘুড়ি বানিয়ে আকাশে উড়াতাম, ধেনু বানিয়ে ঘুড়িতে লাগিয়ে দিতাম ভোঁ ভোঁ শব্দ করতো। দূর থেকে শোনা যেত সে শব্দ, সে কী আনন্দ!
প্রায় সময় খোলা মাঠে ঘাসের ওপর চিৎ হয়ে শুয়ে আকাশের মেঘের বিভিন্ন রং আকৃতি আর ছোটাছুিট দেখতাম, কখনো মেঘগুলো হাতি কখনো ঘোড়া, নদী ও মাঠের মতো মনে হতো। শরতে সফেদ আকাশ, জমিনে সফেদ কাশফুল। কী অপূর্ব!

আমি একমাত্র ছেলে থাকায় প্রতিবেশী আত্মীয় স্বজনদের ভালোবাসা পেয়েছি। এই ভালোবাসা এতটা লোভী করে তোলে যে, আমার প্রতি কারো অবহেলা দেখালে সহ্য করতে কষ্ট হয়। আমার নানার (মায়ের মামা) বাড়ি ছিল ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে। নির্ধারচর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল গফুর মাস্টার আমার নানা। বর্ষাকালে নদীতে ভরা জোয়ার, উপচে পড়া পানি। এই পাড়ে তেঁতুলিয়া ও গলাকাটা বাজার।
বাজারে এসে জোরে ডাক দিতে হতো “এই চান্দু নৌকা নিয়ে আয়।” প্রায় এক মাইল দূর থেকে শুনে পার করার জন্য নৌকা নিয়ে আসতো। তবে চৈত্র মাসে শুকনো মওসুমে নদী মরে যায়। অবারিত সবুজের মাঠ জেগে উঠে, বালি আর বালি, নদীতে হাঁটুপানি, হেঁটে নদী পার হয়ে যেতাম, বাদাম ক্ষেত থেকে কাঁচাবাদাম তুলে খেতে খেতে বাড়ি চলে যেতাম। কিছুক্ষণ পর পর অনেকগুলো পাটবোঝাই নৌকা এক সাথে বিভিন্ন রঙের পাল তুলে যাচ্ছে। সে কী নান্দনিক দৃশ্য। গ্রাম বাংলার চেনা- অচেনা জায়গা, নদী, নৌকা, কাশবন, বালিচর, মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক নান্দনিক দৃশ্য আমাকে পাগল করে দেয়। কাছে টানে, থেকে যেতে ইচ্ছে করে, জীবনানন্দের মতো বলতে ইচ্ছে করে “তোমার যেখানে সাধ চলে যাও; আমি রয়ে যাব এই বাংলার পাড়ে দেখিবে কাঁঠাল পাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে।”

আব্বা আদর করে শ্লেটে পেন্সিল দিয়ে একটা হাতির ছবি এঁকে দিয়েছিলেন। আমি শ্লেটে হাতির ছবিটি হালকাভাবে মুছে রাখি, স্কুলে ক্লাসে বন্ধুদের সাথে শ্লেটে হালকা দাগের ওপর দিয়ে পেন্সিলের লাইন দেই, হাতি দৃশ্যমান হয়ে যায়। দেখে সবাই অবাক। এখন শুধু আমার ক্লাস নয়, অন্য ক্লাসের ছাত্ররাও হাতি আঁকা দেখতে আসতো, আমি একই কায়দায় হাতি এঁকে দেখাতাম। স্কুলে সবাই জেনে গেছে আমি হাতির ছবি আঁকতে জানি। আমার চাহিদা বেড়ে গেল। আমিও উৎসাহিত হলাম।
এখন আর শুধু হাতির ছবি নয় সুন্দর সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্যও আঁকি।

আমি স্বপ্ন দেখতাম, সে স্বপ্ন অগাধ ধন সম্পদ ও প্রাচুর্যের আয়েশি জীবন নয়। কবি, শিল্পী, সাহিত্যিকদের সংস্পর্শে আসা, কাছে থেকে দেখা। এই মাধ্যমগুলোতে কাজ করা, নিজের চিন্তা চেতনাকে প্রকাশ করা। আলহামদুলিল্লাহ। আমার ইচ্ছে অনেকটা পূরণ হয়েছে। উপমহাদেশের পণ্ডিত সৈয়দ আলী আহসান স্যারের ছাত্র ছিলাম, দুই বছর নন্দনতত্ত্বের ক্লাস করিয়েছেন এমএফএতে। আমার ক্যালিগ্রাফির ওপর একটি লেখাও লিখেছেন। র’নবী আমার সরাসরি শিক্ষক ছিলেন। কবি আল মাহমুদ ভাইয়ের সাথে চাকরি করেছি।
আমার চাচাতো ভাই আবুল হোসেন মাস্টার যাত্রাকান্দা ঘাগড়া স্কুলে যোগ দেওয়ার পর আমাকে স্কুল পরিবর্তন করে সেখানে নিয়ে যান।

পঞ্চম শ্রেণি পাসের পর আমাকে ক্লাস সিক্সে ভর্তি করিয়ে দিলেন ফি ছাড়াই। বাড়িতে এসে জানালে আব্বা ক্ষিপ্ত হয়ে গেলেন, বললেন, তুমি জন্মের পূর্ব থেকেই আমি নিয়ত করে রেখেছি তোমাকে মাদরাসায় পড়াবো। তুমি বড়ো আলেম হয়ে মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকবে। আমি স্কুলেই পড়বো মাদরাসায় পড়বো না, কান্নাকাটি করেও কোনো লাভ হলো না। আব্বার এক কথা- মাদরাসায় না পড়লে লেখাপড়া বন্ধ। আত্মীয়স্বজনকে এনে অনেক সুপারিশও করালেন মাদরাসায় ভর্তির জন্য।

যাক শেষ পর্যন্ত মন খারাপ করেই আব্বার কথা রাখলাম। আমার এক ভাতিজা আবদুল মোমেন মণ্ডল গফরগাঁও মাদরাসায় ওপরের ক্লাসে পড়তেন, তার সাথে গিয়ে গফরগাঁও জে এম সিনিয়র মাদরাসায় ভর্তি হই। প্রাথমিক বিদ্যালয় পাসের পর দাখিলে ভর্তি হয়েছি, ১৪টি সাবজেক্ট ছিল, এর একটা মিজানুস সরফ, মানে আরবি গ্রামার, অ্যারাবিকই জানি না আবার গ্রামার। পড়াতেন ওপরের ক্লাস নেন এমন শিক্ষক যাকে আমরা রাফাদানি হুজুর বলতাম। বুঝাতেন না শুধু সাপের মন্ত্রের মতো মুখস্থ করতাম। কীভাবে মারুফ থেকে মজহুল হয়। ছিগা ইত্যাদি। না বলতে পারলে বেতের পিটুনি। জোহরের নামাজের পর এই ক্লাসটা ছিল। অনেকেই নামাজ পড়ে মসজিদেই লুকিয়ে থাকতো কিন্তু রেহাই মিলত না। পরদিন প্রথম পিরিয়ডে এসে পিটিয়ে যেতেন। অনেকেই পিটুনি খেয়ে মাদরাসা ছাড়লো, কেউ আবার নিচের ক্লাসে নেমে গেল। আমাকে ক্লাস ক্যাপ্টিন বানানো হয়েছিল। চিন্তা করলাম কীভাবে এর থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। কয়েকজন ক্লাসমেট নিয়ে সুপারিনটেন্ডেন্ট হুজুরের সাথে কথা বললাম তিনি রাফাদানি হুজুরের পরিবর্তে কবি এবং সুবক্তা মাওলানা বাতেন হুজুরকে দিলেন। উনি সুন্দর করে বুঝিয়ে বাংলায় কবিতা বানিয়ে দিতেন “ফা কালমাকে জের, আইন কালমাকে পেশ, লাম কালমা আগের অবস্থায় রয় এইভাবে মারুফ থেকে মজহুল হয়। ক্লাস পালানো দূরের কথা ক্লাস হয়ে উঠল আকর্ষণীয়, আমরা ক্লাসের অপেক্ষায় থাকতাম। হুজুর কখন আসবেন। দুইজন শিক্ষকের মধ্যে কত পার্থক্য।

একবার আমার ক্লাসমেট আমার খাতায় আঁকা ছবি ক্লাসে মাওলানা সামাদ হুজুরের কাছে দিয়ে বলল, ‘হুজুর দেখেন ইব্রাহীম কি সুন্দর ছবি এঁকেছে!’ আমিতো ভয়ে অস্থির। হারাম কাজের জন্য আজ রেহাই নেই, হুজুরদের নিষ্ঠুর মার থেকে। হুজুর ছবি দেখে বললেন, ‘দারুণ হয়েছে তো। ছাত্রজীবনে আমিও ছবি আঁকতাম। থানা লেবেলে প্রতিযোগিতায় হারিকেন পুরস্কার পেয়েছিলাম।’ আমি হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম।
মাদরাসায় যতদিন পড়েছি সব সময়ই প্রথম ছিলাম। দ্বিতীয় ও তৃতীয়, আমার চেয়ে অনেক কম নাম্বার পেত; কাজেই আমি পড়াশুনার খুব বেশি চাপ অনুভব করিনি। প্রচুর বই পড়তাম। গল্পের বই, উপন্যাস, কবিতার বই, নীহারঞ্জন গুপ্তের বনহুর সিরিজ ও অন্যান্য। আমার চাচাতো ভাই আব্দুস সাত্তার মণ্ডলের “ইকবাল লাইব্রেরি” নামে বইয়ের দোকান ছিল। আমি পছন্দমতো বই নিয়ে যেতাম এবং পড়া শেষ করে ফেরত দিতাম। গ্রামে বন্ধুদের নিয়ে উদয়ন সাহিত্য সংস্কৃতি সংঘ নামে সাংস্কৃতিক সংগঠন গঠন করি। সাপ্তাহিক অনুষ্ঠানে গান, বক্তৃতা, কবিতা পাঠ, ফুটবল, ভলিবল খেলার প্রতিযোগিতা করতাম বিভিন্ন স্কুলের সাথে।
মাদরাসায় আমাদের ইংলিশের একজন শিক্ষক ছিলেন, ব্রিটিশ আমলের বিএ বিএড, কাঁধে ঝোলানো ব্যাগে থাকতো জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলো। তিনি সারাদিন পেপার পড়তেন। ক্লাসে এসে ক’দিন পরপরই বলতেন বড়ো হয়ে তুমি কী হবে? তিনি বিয়ে করেননি, কারো সাথে তেমন একটা মিশতেনও না। বাড়ি ছিল ব্রহ্মপুত্র নদের চর এলাকায়।

প্রথম মাদরাসায় ভর্তি হতে না চাইলেও পরে মনে হয়েছে এটাই আসল শিক্ষা। ভর্তি না হওয়ার চিন্তা ভুল ছিল। স্বাধীনতার পর স্কুল কলেজসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুললেও মাদরাসা খুলেনি। ছাত্র- শিক্ষক কিছুই নেই, ক্লাসমেট ও অন্যরা স্কুল কলেজে ভর্তি হয়ে গেছে। আমি মাদরাসায়ই পড়বো এই সিদ্ধান্তে অটল থেকে ছয় মাস পর্যন্ত ছিলাম। পরে দেখি পড়াশুনা বন্ধ হয়ে যাবে। এই ভেবে শেষ পর্যন্ত স্কুলে ভর্তি হই। আব্বার ইচ্ছা পূরণ করা হলো না। কান্দিপাড়া এ আলী হাই স্কুল, থানার মধ্যে নামকরা স্কুল। আট’শ ছাত্র। পড়াশুনা, খেলাধুলা, ভালো ফলাফল করতো। পড়াশুনার পাশাপাশি ছবি আঁকা, কবিতা লেখা, গান লেখাও চলতে থাকে আমার, তবে সুর না থাকায় ক্লাসমেইট শাহাবুদ্দিন ও আক্তার সুর দিয়ে গাইতো ।
সহকারী প্রধান শিক্ষক ছিলেন সাহিত্য ও সংস্কৃতিমনা, উনার উৎসাহ ও সহযোগিতায় সাপ্তাহিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সভা করতাম, মাইকের ব্যবস্থা থাকতো। এই অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ ও আমার লেখা গান গাওয়া হতো।

আমাদের স্কুলে কাকলী নজরুল সেনা সংগঠন ছিল; এখানে একজন চিত্রশিল্পী আসবেন। শিল্পী আসবেন আমরা অপেক্ষা করছি। অনেক শিক্ষকও অপেক্ষায় আছেন শিল্পীকে দেখার জন্য। খাওয়ার আয়োজন করা হয়েছে। প্রথম একজন শিল্পীকে দেখার অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় আছি। অনেক অপেক্ষার পর শিল্পী এলেন ইয়া লম্বা গোঁফ। উদাস চাহনি মাথায় লম্বা চুল। স্যারদের সে কী ব্যস্ততা। ইংরেজির শিক্ষক মোশাররফ স্যার আমাকে পরিচয় করিয়ে দেন। আমার আঁকা ছবি দেখে উনি খুব খুশি হলেন, বললেন, “তুমি তো অনেক ভালো আঁক। তুমি আর্ট কলেজ পড়বে।”
শিল্পী অবনী বাবু আর এলেন না। অনেক দিন পর মোশাররফ স্যার আমাকে ডেকে একটা চিঠি দিলেন। তাতে লেখা ‘আমি ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও অর্থের অভাবে চারুকলা পড়তে পারিনি, আশা করি তুমি পড়বে। আমার আশীর্বাদ রইলো, ইতি অবনী বাবু।’

আমি জানতাম আমার ব্রেন ভালো নয়, তবে ভালো করতে হবে। এ জন্যে রাত জেগে প্রচুর পড়াশুনা করতাম, অর্ধেক রাত মাদরাসার বই অর্ধেক রাত স্কুলের বই। যাক ১৯৭৪ সালে দাখিল পরীক্ষা দিলাম, নয় নম্বরের জন্য প্রথম বিভাগ পাইনি। ১৯৭৫ সালে এসএসসি পাস করে গফরগাঁও কলেজে ভর্তি হই। এখানেও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত হই। একদিন কলেজের প্রিন্সিপাল মোশাররফ স্যার আমার আঁকা ছবি দেখে তাঁর বাসায় ডেকে ছবির প্রশংসা ও উনার আগ্রহ ব্যক্ত করেন। আমাকে ছবি আঁকার ইন্সট্রুমেন্ট কিনে কলেজে প্রদর্শনী করতে বলেন, সব খরচ কলেজ থেকে তিনি ব্যবস্থা করবেন। কথা মতো প্রায় ৩০টির মতো ছবি এঁকে কলেজের দু’টি রুমে প্রদর্শনীর আয়োজন করি। ছবির মধ্যে ছিল, গ্রাম বাংলার নৈস্বর্গিক দৃশ্য নদী, নৌকা, ফসল কাটা, বন্যা, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি ইত্যাদি। প্রচুর দর্শকের উপস্থিতিও হয়েছিল। এতে আমার শিল্পী হিসাবে প্রচারের পরিধিও বেড়ে গেল। তখনকার এমপি আবুল হাশেম ভাইয়ের উদ্যোগে থানাব্যাপী সাংস্কৃতিক সপ্তাহ পালনের আয়োজন করা হয়। আমি ছবি আঁকা প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়ে মেডেল পেয়েছিলাম। তখনকার কৃষিমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আযাদের হাত থেকে।

গোধূলির রং বেয়ে যখন অন্ধকার নামে। পৃথিবীর সব রং মুছে যায়, কেবল প্রাণহীন কংক্রিটের শহরে শকুন, পেঁচা আর শিয়ালের ফিসফিসানিতে চোখের পাতা ভারী হয়ে আসে। অবচেতনে মন ছুটে যায় মায়ের আদরমাখা স্মৃতির ঘ্রাণে। যেখানে শিশু-কিশোর, শৈশব, পদচিহ্ন, বেড়ে ওঠা, ব্রহ্মপুত্র, পালতোলা নৌকা, কাশবন, মাছধরা, ঘুড়ি, স্কুলের আঁকাবাঁকা পথ, বন্ধুদের আড্ডা, বেলি, হাসনাহেনার, রজনীগন্ধার ঘ্রাণ মাছরাঙা, ফিঙ্গে, ঘুঘুর ডাকে, আমায় চলে যেতে ইচ্ছে করে, খুব ইচ্ছে করে চলে যেতে সে মধুমাখা সময়টিতে। শান্তির নীড়ে।

SHARE

Leave a Reply