Home গল্প ঠকালেই ঠকতে হয় -আব্দুর রাজ্জাক রাজু

ঠকালেই ঠকতে হয় -আব্দুর রাজ্জাক রাজু

এক গ্রামে বাস করতো এক কৃষক। গ্রামের হতদরিদ্র এই কৃষকের সম্বল বলতে একটি গাভী ছিল। প্রতিদিন কৃষক গাভীটি থেকে এক কেজি পরিমাণ দুধ পেতো যা বিক্রি করে তার পরিবার চালাতো। কৃষক খুব সাদাসিধে আর সহজ-সরল প্রকৃতির মানুষ ছিল। প্রতিদিন দুধ দোহন করে বিক্রি করার মতো দুধ রেখে বাকি যা থাকতো তা পরিবারের জন্য দিতো।

কৃষক এক দোকানদারের কাছে প্রতিদিন এই এক কেজি দুধ বিক্রি করে দোকানদার থেকে এক কেজি আটা নিয়ে আসতো এবং এই আটা দিয়ে রুটি তৈরি করে পরিবারের খাবারের ব্যবস্থা করতো। এভাবেই কোনো রকমে সংসার চলছে কৃষকের। কৃষক যে দোকানদারকে পাইকারি দামে দুধ দিতো সে দোকানদার ছিল খুবই চালাক ও ঠকবাজ টাইপের লোক। মাঝে মাঝে কৃষকের দেওয়া দুধে পানি মিশানো ও সমস্যা আছে এটা সেটা বলে টাকা কম দিতো। কৃষক কোনো প্রতিবাদ করতো পারতো না। একদিন দোকানদার কৃষককে সন্দেহ করে দুধ ওজন করলো।

এক কেজি দুধ আছে কি না। দোকানদার প্রথম দিন দুধ ওজন করে দেখলো এক কেজি থেকে প্রায় ২০০ গ্রাম কম। দোকানদারের খুবই মেজাজ খারাপ হলো। সত্যিই কৃষক দুধ কম দেয় কি না তা বুঝার জন্য পরপর তিন দিন দুধ ওজন করে দেখলো দোকানদার। কৃষক প্রতিদিনই এক কেজি থেকে ২০০ গ্রাম কম দেয়।
দোকানদার কৃষকের নামে মামলা করে দিলো পুলিশের কাছে। পুলিশ কৃষককে থানায় ধরে নিয়ে গেল। কৃষকের এই অবস্থায় কেউ নেই তাকে সাহায্য করার। কৃষক মনে মনে আল্লাহকে স্মরণ করে আর মোনাজাত করে কান্নাকাটি করতে থাকে আল্লাহর কাছে। কৃষক পুলিশকে জানায় আমি কোনো অপরাধ করিনি। দোকানদারকে আমি কোনো দিন দুধ কম দেইনি। পুলিশ তার কোনো কথাই শুনলো না। কিছুদিন থানায় আটক থাকার পর কৃষককে আদালতে হাজির করা হলো বিচারের জন্য। সেখানে দোকানদার লোকটিও উপস্থিত ছিল।
বিচারক : তুমি কি এই দোকানদারকে প্রতিদিন দুধ দাও।
কৃষক : জি, স্যার।
বিচারক : তুমি ওজনে কম দিয়েছো কেন?
কৃষক : স্যার আমি কোনোদিন ওজনে কম দেইনি।

বিচারক : তুমি যে পরিমাণ দুধ দিয়ে যেতে তা ওজন করে দেখা গেছে ২০০ গ্রাম কম আছে।
কৃষক : স্যার, আমি কোনো দিন ওজনে কম দেইনি।
বিচারক : তুমি মিথ্যে বলছো। তোমার কঠিন শাস্তি হবে। সত্যি করে বলো তুমি ওজনে কম দিয়েছো?
কৃষক : স্যার, আমি গরিব মানুষ। আমার ঘরে ওজন করার মতো কিছু নাই। আমি এই দোকানদার থেকে প্রতিদিন দুধ বিক্রি করে তার দামে এক কেজি আটা কিনে নিতাম। সেই এক কেজি আটা ওজন করে আমি তাকে দুধ দিয়েছি। স্যার, আমি কোনো দিন এর ব্যতিক্রম করিনি।
বিচারক : আশ্চর্য হয়ে গেলেন, কী বলো এসব! তাহলে তো দোকানদার আটা কম দিয়ে না জানি কত মানুষকে ঠকিয়েছে।
কৃষক : স্যার যদি আটার ওজন এক কেজি হয় তবে আমার দুধ এক কেজি। আর যদি আটার ওজন কম হয় তাহলে দুধের ওজন কম হবে। কারণ আমি আটা মেপে দুধ দিয়েছি।
বিচারক : দোকানদারের কাছ থেকে আটার কয়েকটি প্যাকেট আনার নির্দেশ দিলেন এবং তা ওজন করে দেখা গেল প্রতি প্যাকেটে ২০০ গ্রাম করে আটা কম আছে। বিচারক এবার কৃষককে ছেড়ে দিয়ে দোকানদারকে গ্রেফতার করার হুকুম দিলেন। সেই সাথে অনেকগুলো টাকা জরিমানা আদায় করলেন। দোকানদার মনে মনে খুবই অনুতপ্ত হলো নিজের এই কর্মের জন্য। অন্যকে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই ফেঁসে গেল। সে চেয়েছিল কৃষকের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করতে কিন্তু মানুষকে ঠকানোর অপরাধে সে নিজেই অপরাধীর শাস্তি পেল।

SHARE

Leave a Reply