Home সায়েন্স ফিকশন ক্লোন মানব -খন্দকার নূর হোসাইন

ক্লোন মানব -খন্দকার নূর হোসাইন

বিশ্ববিদ্যালয়ের গেইট পেরিয়ে সোজা ল্যাবরেটরির দিকে হাঁটা ধরল নিহান। ভেতরে ভেতরে চাপা উত্তেজনা কাজ করছে ওর। দীর্ঘদিনের গবেষণা আজ আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। কার্বন ডাই অক্সাইডের নিরাপদ ব্যবহার নিয়ে কাজ করছিল সে। ওর গবেষণা সফল হলে পৃথিবীতে যুগান্তকারী পরিবর্তন ঘটবে। ক্ষতিকর কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসের কবল থেকে মুক্তি পাবে মানবসভ্যতা। কার্বন ডাই অক্সাইড যানবাহন চলাচলে ব্যবহার উপযোগী করাই ছিল গবেষণার মূল বিষয়বস্তু। আজ সেটা পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করবে নিহান। হাঁটার গতি বাড়িয়ে দিলো সে।
ল্যাবের দরজায় পাসওয়ার্ড ছাড়াও টু স্টেপ সিকিউরিটি অন করা আছে। পাসওয়ার্ড দিয়ে ফিঙ্গার ও চোখের রেটিনা স্ক্যান করে দরজা খুলল সে। এই ল্যাবরেটরি রুমে শুধু ডিপার্টমেন্টের শিক্ষক ও সে প্রবেশ করতে পারে।
অন্য আরেকটা ল্যাবরেটরি আছে, ওটা যেকোনো শিক্ষার্থীর জন্য উন্মুক্ত। প্রত্যেক বছর বিশেষ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বিজ্ঞানের সেরা একজন ছাত্র এই ল্যাবরেটরিতে গবেষণার সুযোগ পায়। স্বভাবতই এখানে সুযোগ সুবিধা বেশি।
ল্যাবরেটরিতে ঢুকে ওর আশার আলো দপ করে নিভে গেল। টেস্টটিউব খালি। ভেতরের রাসায়নিক পদার্থগুলো হাওয়া। অথচ বাড়িতে যাওয়ার আগে সব ঠিকঠাক রেখে গিয়েছিল। এতটুকু সময়ের মধ্যে কী হলো? গবেষণার নথিপত্র ও থিউরিসহ গুরুত্বপূর্ণ ফাইলগুলো ল্যাপটপে সংগ্রহ করা ছিল। ল্যাপটপও নেই। দ্রুত ডিপার্টমেন্টের স্যারকে ফোন করল নিহান। দুবার ট্রাই করার পর কল রিসিভ করলেন স্যার। সালাম দিয়ে নিহান বলল, ‘ল্যাবের সবকিছু এলোমেলো হয়ে আছে। ল্যাপটপটা নেই। আপনি কিছু জানেন?’
‘আমি সবকিছু ঠিকঠাক রেখে গিয়েছিলাম। আজ আমার আসতে দেরি হবে। তুমি দায়িত্বরত গার্ডকে সিসিটিভি চেক করতে বলো। সবকিছু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানিয়ে রাখো। ওরা তদন্ত করে দেখবে।’ স্যারকে খুব চিন্তিত মনে হলো।
সিসিটিভি চেক করে কিছু পাওয়া গেল না। রহস্যময় কোনো কারণে সিসিক্যামেরা বন্ধ ছিল। দায়িত্বরত কর্মচারী জানালো ঘণ্টাখানেক আগে ওকেই ল্যাবে ঢুকতে দেখেছে। অথচ সে দশ মিনিট আগে এখানে এসেছে। তুমুল তর্কাতর্কি বেধে গেল দু’জনের। শেষে বোকা হয়ে ফিরে এলো নিহান। আরো বেশ কয়েকজন গার্ড একই কথা বলল।
কেউ নিহানের গবেষণা চুরি করেছে। যেভাবেই হোক কাজটা করেছে। কিন্তু কোনো প্রমাণ রেখে যায়নি। সবাই বলছে শেষবার ওকেই ঢুকতে দেখেছে। বেশ চিন্তায় পড়ে গেল নিহান। গবেষণা তো গেল, সাথে ওগুলো হারানোর দোষও ওর ওপর এসে পড়ল।
মাথায় কিছু ঢুকছে না ওর। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে রিপোর্ট করে এসে, ফুটবল মাঠের ঘাসের ওপর শুয়ে পড়ল সে। সবকিছুই কেমন যেন অদ্ভুত নতুন মনে হচ্ছে নিহানের। অথচ এটা ওরই সুপরিচিত ক্যাম্পাস। মাথায় আছড়ে পড়ছে উপচে পড়া স্মৃতি।
হঠাৎ মনে হলো, বাড়ির কথা। মরুভূমিতে দিকভ্রান্ত ও তৃষ্ণার্ত পথিকের রাস্তা খুঁজে পাওয়ার মতো, আশার ক্ষীণ আলোকচ্ছটা ঝিলিক দিয়ে উঠল মনে। গবেষণা নথির বেশ কিছু অংশ কপি করে বাড়িতে রেখে দিয়েছিল সে। বেকার বসে না থেকে ওগুলো নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করে সামনে এগুনো যেতে পারে। গবেষণা চুরির বিষয়টা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দেখবে। ওসব নিয়ে সে মাথা ঘামাতে চায় না।
দ্রুত বাড়ির পথে হাঁটা ধরল সে।
সোজা ওর রুমে ঢুকে পড়ল নিহান। রুমের সবকিছু এলোমেলো হয়ে আছে, কেউ ঘাঁটাঘাঁটি করেছে মনে হচ্ছে। ওয়াল কেবিনেটে ওর নথিগুলো নেই। আম্মুকে ডাক দিল নিহান। তিনি বললেন, ‘একটু আগে তুইই তো সব নিয়ে গেলি। কোথায় যাচ্ছিস জিজ্ঞেস করলাম, কথাও বললি না।’
এবার যেন আকাশ থেকে পড়ল নিহান। সে কি পাগল হয়ে যাচ্ছে? সবাই ঠিক আর সে ভুল?
চিন্তায় পড়ে গেল নিহান। কী হচ্ছে ওর সাথে?
মিনিট দুয়েক পায়চারি করে প্রফেসর মরগানের এক্সপেকটেশন সায়েন্স বইটি খুঁজতে শুরু করল। এ বইয়েই কার্বন ডাই অক্সাইডের নিরাপদ ব্যবহারের সূত্র পেয়েছিল সে।
বইটি পেল না নিহান। মনে হলো বইটি লাইব্রেরিতেই আছে। দেরি করল না সে। শহরের সেন্ট্রাল লাইব্রেরিতে চলে এলো। এখানে মাত্র এক কপিই আছে এই বই।
কেউ নেয়নি। বুক সেলফে এখনো সোভা পাচ্ছে।
পেছনে কারো পদশব্দ পেয়ে ফিরে তাকাল নিহান। আরে ওটা কী? চোখ কোটর ছেড়ে ঠিকরে বেরিয়ে পড়ার উপক্রম হলো ওর। চোখের সামনে ওরই অবয়ব হেঁটে আসছে। ওকে এখনো দেখতে পায়নি। লুকানোর তাড়া অনুভব করল নিহান। বুকসেলফের আড়ালে লুকিয়ে পড়ল সে।
এখনো বিশ্বাস করতে পারছে না নিহান। মনে আকাশ পাতাল কল্পনা এসে চেপে বসল। ওটা ওর ক্লোন? যদি সত্যি হয় তবে একেবারে নিখুঁত ক্লোনিং হয়েছে। ওর ক্লোন তৈরি করে গবেষণা চুরি করেছে কোনো দুষ্ট বিজ্ঞানী। কিন্তু মানব ক্লোন নিষিদ্ধ অনেক আগে থেকেই। এর মধ্যেই মানব ক্লোনিং এতদূর এগিয়ে গেছে?
ক্লোন নিহান প্রফেসর মরগানের বইটি বুক সেলফ থেকে নিয়ে বেরিয়ে গেল। আড়াল থেকে বেরিয়ে বাইরে চলে এলো নিহান। ওর ক্লোন নিহান নামেই এন্ট্রি করেছে।
রাস্তায় নেমে গেছে ক্লোন নিহান। চুপিচুপি তার পিছু নিল নিহান।
রিসিপশনিস্ট কিছু বুঝতে না পেরে গোলগোল চোখে তাকিয়ে রইলো ওদের পথের দিকে।
ক্লোন নিহান ট্যাক্সি নিয়ে শহরের বাইরে এসে জঙ্গলের মধ্যে নেমে গেল। পেছনে রাস্তার বাঁকের ওপারে আরেকটা ট্যাক্সি থেকে নামলো নিহান। ট্যাক্সির ভাড়া মিটিয়ে ওর ক্লোনের পিছু নিলো।
হাইওয়ে ছেড়ে লোকাল রাস্তায় ঢুকে পড়ল ক্লোন নিহান। একবারও পেছনে তাকায়নি সে। আশপাশে ওরা দু’জন ছাড়া কেউ নেই। খুব সাবধানে ক্লোন নিহানকে অনুসরণ করছে নিহান।
বহু পুরনো পরিত্যক্ত বাড়ির কাছে এসে থেমে গেল ক্লোন নিহান। এদিকে আগে কখনো আসেনি নিহান। ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে পড়ল সে। এখানে কী করছে ওর ক্লোন? দেখেই বোঝা যাচ্ছে, অনেকদিন ধরে এখানে কেউ থাকে না।
ভাবনা আর এগোলো না। চারদিক সাবধানে চোখ বুলিয়ে গেইটের দিকে এগিয়ে গেল ক্লোন নিহান। বাড়ির ভেতরে অদৃশ্য হয়ে গেল সে। ঝোপ থেকে বেরিয়ে পিছু নিলো নিহান।
অবহেলিত দোতলা ভাঙা বাড়ি। ওপরে প্লাস্টার খসে পড়া ছাদ। হলঘরের বামে আন্ডারগ্রাউন্ড রুমের সিঁড়ি। ওদিকে চলে গেল ক্লোন নিহান। সিঁড়ির গোড়ায় বসে সাবধানে উঁকি দিলো নিহান। কাঠের সিঁড়ি দেওয়ালের কাছে শেষ হয়েছে। ওখানেই থেমে গেল ক্লোন নিহান। পাশেই প্লাস্টার খসে বেরিয়ে থাকা ইটে হাত রাখল। একটু পরেই বোঝা গেল ওটা ইটের ক্যামোফ্লেজে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরবোর্ড। খুলে গেল পুরনো দেওয়ালের একাংশ। উজ্জ্বল সাদা আলো ক্ষণিকের জন্য বাইরে এলো। ভেতর থেকে আবার বন্ধ হয়ে গেল দরজা। নিচে নেমে এলো নিহান।
কীভাবে দরজা খোলা যায়, সে উপায় খুঁজতে শুরু করল। দরজা ভাঙার উপায় নেই। দেওয়ালের রঙের সাথে মিশে আছে পুরু স্টিল। দরজা খুলেই ভেতরে ঢুকতে হবে। ওর ক্লোন দরজা খুলেই ঢুকেছে। আচ্ছা ওর ক্লোন যেহেতু খুলতে পেরেছে, সেও তাহলে পারবে না? সম্ভবত ওদের ফিঙ্গারপ্রিন্টও এক রকম। নয়তো বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে ঢুকল কীভাবে?
যেই ভাবা সেই কাজ। সেন্সর বোর্ডে হাত রাখল নিহান।
বিস্মিত হলো সে।
দেওয়াল সরে বেরিয়ে পড়ল আধুনিক রুম। ভেতরে কাউকে দেখা যাচ্ছে না। একা একা এখানে ঢোকা কি ঠিক হবে? স্যারকে ফোন করে সবকিছু জানিয়ে রাখতে চাইল নিহান। অবশেষে সে চিন্তাও বাদ দিলো। স্যারকে বলতে গেলে সবকিছু খুলে বলতে হবে। এতটা সময় এখানে নষ্ট করতে চায় না সে। সাবধানে চোখ বুলাতে লাগল নিহান। খুবই সাধারণ রুম। নিত্য ব্যবহার্য জিনিসপত্রে ঠাসা। এগুলো দেখার আগ্রহ নেই ওর। রুমের শেষ মাথায় আরেকটা দরজা। চেহারা স্ক্যান করে খুলতে হয়। কোনো সমস্যা ছাড়াই খুলে ফেলল সে।
অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরি রুমে প্রবেশ করেছে সে। ভেতরে ঢুকতেই পেছনের দরজা বন্ধ হয়ে গেল।
বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ, বড়ো তিনটা ক্যাপসুল ও টিউব রাখা আছে এখানে। ল্যাবের কোনায় বড়ো স্কিনের কম্পিউটার। আশপাশে কাউকে দেখা যাচ্ছে না। এখানে এসে নিজের আবিষ্কার চুরির কথা বেমালুম ভুলে গেল নিহান। দেরি না করে ক্লোন তৈরির ফাইল খুঁজতে শুরু করল সে। একটা ডয়ারও বাদ রাখল না।
কিন্তু কোথাও নেই ওগুলো। শেষমেশ কম্পিউটারের সামনে বসে পড়ল। সিকিউরিটি পাসওয়ার্ড দিয়ে লক করা কম্পিউটার। মৃদু হাসি ফুটে উঠল ওর মুখে। সে বিজ্ঞানের ছাত্র হলেও একজন হ্যাকার। মুহূর্তে লক উড়িয়ে দিল। ঘাঁটাঘাঁটি করতে কাক্সিক্ষত ফাইলটা পেয়ে গেল। বিজ্ঞানী আনিস হাসানের দীর্ঘদিনের গবেষণার ফসল ক্লোন মানব। মানব কোষের নিউক্লিয়াস ক্যাপসুলে সংগ্রহ করে বিশেষ প্রক্রিয়া ল্যাবেই তৈরি করা হয় মানব ক্লোন। ক্লোন আসল মানুষের মতো বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়ে ওঠে। আসল ব্যক্তির শরীরে বা মাথায় ইনজেকশনের মাধ্যমে অতিক্ষুদ্র মাইক্রোচিপ ট্রান্সমিটার ঢুকিয়ে দিলে ক্লোন মানব তার সকল চিন্তা জানতে পারে। ক্লোন মানব সেই ব্যক্তির মতো চিন্তাতেও একই বৈশিষ্ট্যের হয়ে ওঠে।
ক্লোন মানব প্রকৃতপক্ষে অত্যাধুনিক রোবট। সে স্বাধীনমতো কাজ করার পাশাপাশি অপারেটর চাইলে তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।
শিউরে উঠলো নিহান। ওর শরীরেও তবে ট্রান্সমিটার সেট করে দেওয়া হয়েছে?
যেভাবেই হোক এদের থামাতে হবে। নয়তো ভয়াবহ বিপদের মুখে পড়বে মানবসভ্যতা।
আচমকা করতালিতে চমকে উঠল নিহান। ওর পেছনে দু’জন এসে দাঁড়িয়েছে। ওর ক্লোনের পাশে দাঁড়ানো বিজ্ঞানী আনিস হাসান। মুখে হাসি ছড়িয়ে চেয়ারে বসে পড়লেন। নিহানের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘আমার গবেষণা সফল হয়েছে। একজন মানুষের মতোই বুদ্ধিমান ক্লোন মানব তৈরি করতে পেরেছি। সে ন্যায়-অন্যায়ও বোঝার ক্ষমতা রাখে। তোমাকে পরিকল্পনা অনুযায়ী এখানে আনা হয়েছে।’
‘আমার গবেষণা নথিপত্র আপনি চুরি করিয়েছেন? কোথায় ওগুলো?’ এতক্ষণে ওগুলো মনে হলো নিহানের।
‘হা-হা-হা’ অট্টহাসিতে ফেটে পড়লেন বিজ্ঞানী, ‘তোমার বলে আদতে কিছুই নেই। তুমি একটা ক্লোন মানব ছাড়া কিছুই নও। মজার ব্যাপার হলো তুমি নিজেই তা জানো না। আমি চাইলেই তোমাকে পুতুলের মতো নাচাতে পারি। আসল নিহান আমার পাশে দাঁড়ানো।’
কম্পিউটারে সামনে বসা নিজেকে আসল নিহান ভাবা ক্লোন নিহান উঠে দাঁড়িয়েছিল। থমকে দাঁড়ালো সে। বিজ্ঞানীর কথা শুনে হতাশায় দেওয়ালে পিঠ ঠেস দিয়ে ফ্লোরে বসে পড়ল। সে কি সত্যিই ক্লোন মানব? বিশ্বাস করতে পারছে না। এ জন্যই সবকিছু অদ্ভুত নতুন মনে হচ্ছিল ওর। চারপাশের বন্ধু, মা-বাবা এগুলো কেউ ওর নয়? সব ঐ আসল নিহানের? ভাবতেই কষ্টের অনুভূতি হচ্ছে। চোখের কোণ ভিজে উঠেছে ওর। এখন মনে পড়ছে, কেমন উপচে পড়া স্মৃতি নিয়ে ল্যাবরেটরিতে প্রবেশ করেছিল সে। হঠাৎ সেগুলো মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছে দুষ্ট বিজ্ঞানী। ওর বলে কিছু নেই, হাসি-কান্নার স্মৃতিগুলো সব আসল নিহানের।
আসল নিহান ও বিজ্ঞানী তর্ক করছে। বিজ্ঞানী ক্লোন মানব বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করতে চায়। কিন্তু নিহান এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে বিজ্ঞানীকে বোঝানোর চেষ্টা করছে। উঠে দাঁড়ালো ক্লোন নিহান। চোখের পানি মুছে ফেলল। দু’ চোয়াল শক্ত হয়ে উঠেছে ওর। বিজ্ঞানীকে তার কাজের প্রতিদান দিতে চায় সে।
ওর মনোভাব বুঝতে পেরে ওকে নিষ্ক্রিয় করার সুইস চাপতে যাচ্ছিলেন বিজ্ঞানী। তার আগেই হাতের সেলফোনটা ছুড়ে মারল ক্লোন নিহান। মাথায় লেগে জ্ঞান হারিয়ে চেয়ার ছেড়ে পড়ে গেলেন বিজ্ঞানী। দৌড়ে এলো নিহান। ওকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিল ক্লোন নিহান। হাতে তুলে নিয়েছে প্লামজা রাইফেল। শক্ত কণ্ঠে বলল, ‘তুমি এখানে নাক গলাতে এসো না।’
নিহান বাধা দিতে পারল না।
ল্যাবরেটরিতে তৈরি বিশেষ ধরনের ইঞ্জেকশন বিজ্ঞানীর মাথায় পুশ করে দিলো ক্লোন নিহান। অতিক্ষুদ্র মাইক্রোচিপ বিজ্ঞানীর মাথায় পুশ করেছে সে। এবার কম্পিউটারের সামনে বসে পড়ল। নিহান ওর ক্লোনের চিন্তা পড়তে পারছে। তবুও বাধা দিতে পারল না। ছোট্ট মাইক্রোচিপের সাহায্য বিজ্ঞানীর স্মৃতি থেকে বিজ্ঞানের সমস্ত জ্ঞান মুছে দিলো ক্লোন নিহান। বাকি জীবন তিনি সাধারণ মানুষের মত জীবনযাপন করবেন। বিজ্ঞানী এখনো অজ্ঞান হয়ে আছেন।
হাতে অত্যাধুনিক প্লাজমা রাইফেল নিয়ে নিহানকে নির্দেশ দিল ওর ক্লোন, ‘সাবেক এই বিজ্ঞানীকে নিয়ে এক্ষুনি চলে যাও।’
ওর মনের কথা পড়ে নিয়েছে নিহান। সে এই ল্যাবরেটরির সাথে নিজেকেও ধ্বংস করে দেবে। সুন্দর পৃথিবীর জন্য কোনো প্রমাণ রাখতে চায় না সে।
উপায় নেই। সাবেক বিজ্ঞানীকে কাঁধে নিয়ে দরজার দিকে এগিয়ে গেল নিহান। পেছন থেকে ওর ক্লোন ডেকে বলল, ‘পৃথিবীটা তোমাদের। একে সুন্দর রেখো। তোমার জ্ঞানকে মানুষের কল্যাণে ব্যয় করো। সবাইকে সাথে নিয়ে বেঁচে থাকো সুন্দর পৃথিবীতে।’
চোখ মুছে দরজা বন্ধ করে দিলো ওর ক্লোন।
নিহান বাইরে এসে বিজ্ঞানীকে ঘাসের ওপর নামিয়ে রাখল। বাড়ির গেইট পেরিয়ে এসেছে ওরা। ঠিক তখনই প্রচণ্ড বিস্ফোরণে চিরতরে ধ্বংস হয়ে গেল গোপন ল্যাবরেটরিটা।
ওর ক্লোনের জন্য খারাপ লাগছে। ওর সাথে অন্যায় করেছে ওরা। পৃথিবীর নিরাপত্তার জন্য অনেক বড়ো ত্যাগ স্বীকার করল সে। পারবে কি তার প্রতিদান দিতে?
দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল নিহান। ওর ক্লোনের শেষ কথা মেনে চলবে সে। বিজ্ঞানের জ্ঞান সবসময় মানুষের কল্যাণে ব্যয় করবে।
এখন ওর সঙ্গীকে বাড়ি পৌঁছে দিতে হবে।
বিস্ফোরণের শব্দে জেগে উঠেছেন সাবেক বিজ্ঞানী।
অবাক দৃষ্টিতে তিনি ধূমায়িত বাড়িটা দেখছেন!

SHARE

Leave a Reply