Home কুরআন ও হাদিসের আলো কুরআনের আলো কুরআনের আলো

কুরআনের আলো

সতর্ক সঙ্কেত

ফজরের সালাত চলছে। হালকা শীতের পরশ আর ইমাম সাহেবের শীতল তিলাওয়াত, হৃদয়টাকে যেন সালসাবিলের পানিতে ধুয়ে দিচ্ছে। এমন শিশিরছোঁয়া অনুভূতি আর কোথায় পাওয়া যাবে? আজহার ভাবছে, এ তিলাওয়াত কোনোদিন শেষ না হোক! এমন সুশোভিত শিউলি-ফজর কখনোই ঝরে না পড়ুক!
হঠাৎ কী যেন কী শুরু হলো। ইমাম সাহেবের কণ্ঠ কাঁপছে কেন? মাথা ঘুরছে কেন আজহারের? এখনই কি পড়ে যাবে সে? অন্যরাও অস্থির হয়ে উঠছে! ভয়ঙ্কর ভূমিকম্প হচ্ছে, বুঝতে পারল সকলেই। কিন্তু কেউই সালাত ছাড়ছে না। মরণ না হয় রবের সামনে দাঁড়িয়েই হোক! এরচেয়ে বড়ো সুখ আর কী হতে পারে?
ধীরে ধীরে সালাত শেষ করলেন ইমাম সাহেব। বললেন, কিয়ামত এভাবেই আসবে। কুরআনের ভাষায়-
“পৃথিবী যখন তার প্রবল কম্পনে কম্পিত হবে। পৃথিবী যখন তার বোঝা বের করে দেবে। আর মানুষ বলবে, “তার কী হলো?” সেদিন পৃথিবী তার বৃত্তান্ত বর্ণনা করবে। কারণ তোমার প্রতিপালক তাকে আদেশ করবেন। সেদিন মানুষ ভিন্ন ভিন্ন দলে বের হবে, যাতে তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম দেখানো হয়। সুতরাং কেউ অণু পরিমাণ ভালো কাজ করলে, সে তা দেখতে পাবে। এবং কেউ অণু পরিমাণ মন্দ কাজ করলে, তাও সে দেখতে পাবে।” (সূরা যিলযাল)
ইমাম সাহেব বললেন, শিঙায় প্রথমবার ফুঁ দেওয়ার পরই সমগ্র পৃথিবী কেঁপে উঠবে। আর দ্বিতীয় ফুঁ দেওয়ার পর মাটির নিচে দাফনকৃত সকল মানুষ, সকল খনিজ পদার্থ, গুপ্তধনসমূহ বের হয়ে পড়বে। মানুষ ভয়ে বলবে, কী হলো পৃথিবীর? এভাবে কাঁপছে কেন? সবকিছু বের করে দিচ্ছে কেন সে? এরপর আল্লাহর আদেশে মাটি বলে দেবে, তার ওপর কে কী কাজ করেছে! দিন এবং সময়ও বলে দেবে সে। মানুষ সেদিন দলে দলে বের হয়ে যাবে। কেউ জান্নাতের দিকে যাবে, কেউ জাহান্নামের দিকে। তারা দেখতে পাবে তাদের ভালো কাজের দৃশ্য এবং খারাপ কাজও। সেগুলো যত ছোটোই হোক না কেন। এমনকি তা যদি পিঁপড়ের চেয়েও ছোটো হয়।
ছোটো ছোটো ভূমিকম্প তো সেদিনেরই পূর্বসঙ্কেত! বলুন তো, আমরা কতটুকু প্রস্তুত?
আজহারের চোখ দিয়ে পানি ঝরছে। কাঁদছে অন্যরাও। এ অনুভূতিই হয়তো রহমের নদী হয়ে সব পাপ মুছে দেবে ইনশাআল্লাহ।

SHARE

Leave a Reply