Home জাতীয় কিশোরকণ্ঠ পাঠ প্রতিযোগিতা জাতীয় কিশোরকণ্ঠ পাঠ প্রতিযোগিতা ২০২১-এর পুরস্কার প্রদান

জাতীয় কিশোরকণ্ঠ পাঠ প্রতিযোগিতা ২০২১-এর পুরস্কার প্রদান

সর্বাধিক প্রচারিত শিশু-কিশোর মাসিক নতুন কিশোরকণ্ঠ আয়োজিত ‘জাতীয় কিশোরকণ্ঠ পাঠ প্রতিযোগিতা ২০২১’-এর পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। রাজধানীর এক মিলনায়তনে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিল সংখ্যার ওপর জাতীয় কিশোরকণ্ঠ পাঠ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে হাজার হাজার পাঠক অংশগ্রহণ করে। সঠিক উত্তরদাতাদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে বিজয়ীদের নির্বাচন করা হয়। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী প্রথম পুরস্কার ল্যাপটপ, দ্বিতীয় পুরস্কার নোট প্যাড, তৃতীয় পুরস্কার ট্যাবসহ মোট ১০ জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও প্রত্যেকের হাতে সনদপত্র, ক্রেস্ট ও মূল্যবান বই তুলে দেওয়া হয়।
কিশোরকণ্ঠের সম্পাদক বিশিষ্ট কবি মোশাররফ হোসেন খানের সভাপতিত্বে এবং সহকারী সম্পাদক শাহীদুল হাসান তারেক-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশনের মহাসচিব জনাব রাশেদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক নয়া দিগন্তের সাহিত্য সম্পাদক বিশিষ্ট কথাশিল্পী কবি জাকির আবু জাফর, বিশিষ্ট কবি ও গবেষক ড. ফজলুল হক তুহিন এবং কিশোরকণ্ঠ পাঠক ফোরামের পরিচালক মুশাররফ আনসারী। অনুষ্ঠানের শুরুতে নির্বাহী সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনাব রাশেদুল ইসলাম বলেন- “আজকে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা জাতি গঠনে এবং এদেশের মানুষকে বিশ্বের বুকে সম্মানের জায়গায় দাঁড়ানোর ব্যবস্থা করতে এখন পর্যন্ত ব্যর্থ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু সেই সময় কিশোরকণ্ঠ স্বপ্ন দেখে- সচেতন তরুণ সমাজ নিজেদের মেধা যোগ্যতা দিয়ে নিজেদের জ্ঞানকে আরও সুন্দর করে উপস্থাপন করার মধ্য দিয়ে জাতিকে একটি নতুন দিশা দেখাবে, ইনশাআল্লাহ। সমাজবিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে আগামীর বিশ্ব একটা জ্ঞানহীন বিশ্বে পরিণত হতে পারে। তবে কিশোরকণ্ঠ তার বিপরীত স্বপ্ন দেখে। আমরা আমাদের আদর্শকে ছাপার অক্ষরে ছাত্র-ছাত্রীসহ সর্বসাধারণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে ওইসব বিজ্ঞানীদের আশঙ্কাকে ভুল প্রমাণিত করে এ বিশ্বে একটি নতুন নজির স্থাপন করতে চাই। আমি আশা করি- কিশোরকণ্ঠের আজকের এ উদ্যোগ বাংলাদেশে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। এ প্রজন্মকে নতুন দিশা দেওয়ার জন্য আজকে যে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে এটা আরও বেশি সমৃদ্ধ হবে যদি আমরা আমাদের চিন্তা-চেতনাকে জাতির কাছে পৌঁছে দিতে পারি। আমরা আমাদের নৈতিকতাকে শানিত করে হৃদয়ে হৃদয়ে ছড়িয়ে দেবো ইনশাআল্লাহ।”

সভাপতির বক্তব্যে কিশোরকণ্ঠের সম্পাদক কবি মোশাররফ হোসেন খান বলেন, ‘কিশোরকণ্ঠ পড়বো জীবনটাকে গড়বো’- এই স্লোগানকে সামনে রেখে ১৯৮৪ সাল থেকে প্রকাশিত হয়ে আসছে বাংলাদেশের অসংখ্য শিশু-কিশোরের প্রিয় মাসিক নতুন কিশোরকণ্ঠ। কিশোরকণ্ঠ পত্রিকা একজন ছাত্রকে পড়ালেখার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় উৎসাহিত করে। আজকের শিশু-কিশোরদের আগামীর বাংলাদেশের জন্য সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এক সাহসী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে কিশোরকণ্ঠ। একই সাথে বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে জ্ঞানের রাজ্যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন ও আদর্শ নাগরিক তৈরি করার লক্ষ্যে এই পত্রিকা বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক কার্যক্রমের আয়োজন করে থাকে। জাতীয় কিশোরকণ্ঠ পাঠ প্রতিযোগিতা তার মধ্যে অন্যতম। শিশু-কিশোরদের সুন্দর ও যোগ্য করে তুলতে মাসিক নতুন কিশোরকণ্ঠের সকল উদ্যোগ যেন সার্বিকভাবে সফল হয় সেই কামনা করছি মহান আল্লাহর দরবারে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশনের পরিচালনা পরিষদের সদস্য আবু সাঈদ খুদরী লিখন, কিশোরকণ্ঠের সহকারী সম্পাদক তোফাজ্জল হোসাইন, ওয়াহিদ জামান, আবু তালেব, জিন্টু আহমেদ, আফজাল হোসেন প্রমুখ।

SHARE

Leave a Reply