Home কুরআন ও হাদিসের আলো কুরআনের আলো কুরআনের আলো

কুরআনের আলো

এক টুকরো স্বপ্নরাজ্য

বহু দিন পর, নিজের পড়ার ঘরটি মনের মতো করে সাজাতে পেরেছে উমায়ের। কল্পনার রঙে রাঙানো দেয়াল। চেয়ার-টেবিল, কম্পিউটার- সবই নতুন। নতুন বুকশেলফে তোলা হয়েছে নতুন নতুন বই। লাল কার্পেট, ফুলের টব- চারদিকে আরও কত কী! এ যেন এক টুকরো স্বপ্নরাজ্য। একজন আদর্শ ছাত্রের কাছে তার পড়ার ঘরের চেয়ে বড়ো দুনিয়া আর কী হতে পারে? আর সে দুনিয়া যদি হয় একেবারে মনের মতো, তাহলে তো সেখানে জোছনার ফুল ফুটবেই।
বাবা বলেছিলেন, আল-কুরআনের আমপারা হিফ্জ্ করতে পারলে, উমায়েরকে তার পড়ার ঘর সাজিয়ে দেওয়া হবে। বাবা কথা রেখেছেন।
উমায়ের তার পড়ার ঘরের দারুণ কিছু ছবি তুলেছে। শুধু ছবি তুললেই কি হবে? সবাইকে দেখাতে হবে না? ফেসবুকে সেসব ছবি আপলোড করে উমায়ের লিখেছে- ‘হয়তো তোমাদের কারোই এমন সুন্দর পড়ার ঘর নেই।’
তার এ লেখা বাবার সামনে এলো। বাবা বললেন, তুমি বরং এভাবে লেখো- ‘হয়তো এরচেয়েও সুন্দর পড়ার ঘর আছে তোমাদের।’ তুমি যা লিখেছ, তাতে অহঙ্কার আছে।
অহঙ্কার? আমি তো অহঙ্কার করে লিখিনি বাবা- বলল উমায়ের।
বাবা বললেন, অনেক সাধারণ কথায়ও অহঙ্কার প্রকাশ পেয়ে যায়। সেটা ইচ্ছায় হোক অথবা অনিচ্ছায়।
আর আল্লাহ বলেছেন, “অহঙ্কারীকে তিনি কখনো পছন্দ করেন না।” (সূরা লুকমান : ১৮)। লুকমান (আ) তাঁর ছেলেকে বলেছিলেন, “জমিনে অহঙ্কার ভাব নিয়ে চলো না।
আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক অহঙ্কারীকেই অপছন্দ করেন।” (সূরা লুকমান : ১৮)। তাই আমাদের ধন-সম্পদ, পদ-পদবি, সৌন্দর্য- যত কিছুই থাকুক, চলতে হবে বিনয়ের সাথে।
উমায়ের বুঝতে পারল বাবার সব কথাই। বলল- বাবা! আমি আল্লাহর অপ্রিয় হয়ে থাকতে চাই না। দোয়া করো, যেন আমার সকল কাজে বিনয়ের বৃষ্টি ঝরে পড়ে। আর লেখাটা এখনই ঠিক করে দিচ্ছি!
বাবা ঠোঁটের ডগায় হাসির রেখা টেনে বললেন, তা-ই হোক।

SHARE

Leave a Reply