Home কুরআন ও হাদিসের আলো হাদীসের আলো হাদিসের আলো

হাদিসের আলো

রোপণ করা গোপন কথা

বাইরে রিমঝিম বৃষ্টি। উঠোনের ওপারে দাঁড়িয়ে থাকা কদম গাছটাতে যেন আনন্দের উৎসব। কে জানে, কদমফুল বৃষ্টিকে ভালোবেসে পেখম খুলে দেয়, নাকি বৃষ্টিই তাকে ভালোবেসে নেমে আসে মেঘমুলুকের আকাশ থেকে? ভেজা বিকেলের এই আদুরে সময়ে জানালা খুলে বাইরে তাকিয়ে আছে নাওরিন ও নাঈমা। বৃষ্টির দিনে কত কথাই তো মনে পড়ে। বৃষ্টিবিলাসী দু’বোন যেন আজ গল্পকথার পসরা সাজিয়েছে।
নাঈমা বলল- আপু! আজ তোমাকে একটি গোপন কথা বলব। আমার বান্ধবী জারিন তার অনেক কথাই আমাকে বলে। নাওরিন বলল- না, আমি কারো গোপন কথা শুনতে চাই না। আর তোমার সেটা বলাও উচিত নয়। অন্যের গোপন কথা বুকের মধ্যেই রোপণ করে রাখো। তা না হলে, আমানতের খেয়ানত হবে। তোমার নাম লেখা হবে মুনাফিকের খাতায়!

নাঈমা বলল- না, আপু। কথাটা গোপনে আমাকে বললেও খারাপ কিছু নয়। আর ভালো কোনো কথা বলতে অসুবিধা কোথায়?
নাওরিন বলল- না রে বোন! গোপন কথা গোপনই রাখতে হয়। ভালো হোক আর খারাপ হোক। তাহলে একটি গল্প শোনো। একবার মহানবী (সা)-এর কাছে ফাতিমা (রা) পায়ে হেঁটে আসলেন। তাঁর হাঁটার ধরন ছিল মহানবী (সা)-এর হাঁটার মতোই। মহানবী (সা)- তাঁর মেয়েকে নিজের পাশে বসালেন। তারপর তাঁর কানে কানে কিছু কথা বললেন। ফাতিমা (রা) তখন খুব কাঁদলেন। তাঁকে ব্যথাতুর দেখে মহানবী (সা) তাঁর কানে কানে আবার কিছু কথা বললেন। ফাতিমা (রা) এবার হাসতে লাগলেন! মহানবী (সা) চলে যাওয়ার পর আয়েশা (রা) ফাতিমা (রা)-কে বললেন- মহানবী (সা) তোমাকে কী কথা বলেছেন? যা শুনে তুমি একবার কাঁদলে, আরেকবার হাসলে? তখন ফাতিমা (রা)-বললেন, আমি আল্লাহর রাসূলের গোপন কথা ফাঁস করতে পারব না! (বুখারি)।
নাঈমা অবাক হয়ে বলল- আয়েশা (রা)-এর কাছেও ফাতিমা (রা) কথাটি বলেননি? আচ্ছা আপু! আমারও তো খুব জানতে ইচ্ছে করছে, সেদিন কী বলেছিলেন মহানবী (সা)!
নাওরিন বলল- হ্যাঁ, জানতে পারবে। মহানবী (সা)-এর ইনতেকালের পর ফাতিমা (রা) তা প্রকাশ করেছিলেন। প্রথমবার মহানবী (সা) বলেছিলেন, ‘প্রতি বছর জিবরাইল আমাকে একবার কুরআন পাঠ করে শোনান, এবার শুনিয়েছেন দু’বার। মনে হয়, আমার সময় শেষ। আর আমার পরিবারের মধ্যে তুমিই প্রথম আমার সাথে সাক্ষাৎ করবে!’ দ্বিতীয়বার বলেছিলেন- ‘তুমি হবে জান্নাতবাসী নারীদের প্রধান। তুমি কি এতে খুশি নও?’
নাঈমা বলল- সুবহানাল্লাহ। তাহলে গোপন কথাগুলো রোপণ করাই থাক!

বিলাল হোসাইন নূরী

SHARE

Leave a Reply