Home দেশ-মহাদেশ ইউরোপের অন্যতম প্রাচীন দেশ পতুর্গাল -মুহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম

ইউরোপের অন্যতম প্রাচীন দেশ পতুর্গাল -মুহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম

পর্তুগালের সরকারি নাম পর্তুগিজ প্রজাতন্ত্র। পতুর্গাল দক্ষিণ—পশ্চিম ইউরোপের আইবেরীয় উপদ্বীপের পশ্চিম অংশে অবস্থিত একটি দেশ। এটি ইউরোপের মূলভূমির সবচেয়ে পশ্চিমের সার্বভৌম রাষ্ট্র। পর্তুগালের সীমান্তে রয়েছে পশ্চিম ও দক্ষিণে আটলান্টিক মহাসাগর এবং উত্তর ও পূর্বে স্পেন। এছাড়াও আটলান্টিক মহাসাগরের দু’টি স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপপুঞ্জ আজোরেস দ্বীপপুঞ্জ এবং মাদেইরা দ্বীপপুঞ্জ পতুর্গালের ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত। লিসবন পর্তুগালের রাজধানী ও বৃহত্তম শহর। পর্তুগিজ সরকারি ও জাতীয় ভাষা।
পতুর্গালের আয়তন ৯২ হাজার ২১২ বর্গ কিলোমিটার (৩৫ হাজার ৬০৩ বর্গ মাইল)। জনসংখ্যা ১ কোটি ২ লাখ ৯৫ হাজার ৯০৯ জন। জাতিগত গ্রুপের মধ্যে রয়েছে পর্তুগিজ ৯৫.৩ শতাংশ এবং অন্যান্য ৪.৭ শতাংশ। প্রধান ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে রয়েছে খ্রিষ্টান ৮৪.৩ শতাংশ, অধার্মিক ৬.৮ শতাংশ, অন্যান্য ধর্মাবলম্বী ০.৬ শতাংশ, অঘোষিত ৮.৩ শতাংশ। পর্তুগালের জাতীয় পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউটের ১৯৯১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, পর্তুগালে ৯ হাজার ১৩৪ জন মুসলিম আছে যা মোট জনসংখ্যার ০.১ শতাংশ। এদেশের জনসংখ্যা ০.২৩ শতাংশ হারে কমে যাচ্ছে। পর্তুগিজদের গড় আয়ু ৮১.২৯ বছর।

পর্তুগাল মোটামুটি আয়তাকার। এর উত্তরের ভূমি পর্বতময় ও সবুজে ছাওয়া; এখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় এবং আবহাওয়া শীতল। এই অঞ্চলটি, বিশেষ করে দোউরু নদীর উপত্যকা আঙ্গুরক্ষেতের জন্য বিখ্যাত। পতুর্গালের মূলভূমি তার প্রধান নদী তাগুসের মাধ্যমে বিভক্ত। নদীটি স্পেন থেকে প্রবাহিত হয়ে এসে রাজধানী লিসবনে তাগুস মোহনা তৈরি করে আটলান্টিক মহাসাগরে গিয়ে পড়েছে। পর্তুগালের মধ্য ও দক্ষিণ ভাগ অধিকতর উষ্ণ এবং শুষ্ক। এখানে আঙ্গুর ছাড়াও গম ও অন্যান্য কৃষিদ্রব্য উৎপাদিত হয়। এখানে কর্ক, ওক ও জলপাই গাছও জন্মে। দেশের একেবারে দক্ষিণে আলগার্ভে ও অ্যালেনতেজো অঞ্চল উষ্ণ গ্রীষ্মকাল এবং মাইলের পর মাইল জুড়ে বিস্তৃত রৌদ্রোজ্জ্বল বেলাভূমির জন্য পরিচিত।

পতুর্গালের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ হলো আজোরেসের পিকো দ্বীপে অবস্থিত মাউন্ট কিকো। এটা একটি প্রাচীন আগ্নেয়গিরি, যার উচ্চতা ২,৩৫১ মিটার (৭,৭১৩ ফুট)। এটি আজোরেসের প্রতীক। অপরদিকে, মূলভূমির সর্বোচ্চ স্থান হলো সেরা ডা এসট্রেলা। এই পর্বতচূড়ার উচ্চতা সমুদ্রস্তর থেকে ১,৯৯১ মিটার (৬,৫৩২ ফুট)। এটা স্কি খেলোয়াড় ও শীতকালীন ক্রীড়ামোদীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ মৌসুমি আকর্ষণীয় স্থান।
পতুর্গালে অঞ্চলভেদে প্রধানত ভূমধ্যসাগরীয় আবহাওয়া, নাতিশীতোষ্ণ সামুদ্রিক আবহাওয়া, আধা—ঊষর আবহাওয়া, উষ্ণ মরু আবহাওয়া ও আর্দ্র আধাগ্রীষ্মমণ্ডলীয় আবহাওয়া বিরাজ করে। পতুর্গালকে ইউরোপের উষ্ণতম দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম বলা হয়। মূলভূমি পতুর্গালে গড় তাপমাত্রা পার্বত্য অভ্যন্তর উত্তরে ১০—১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং দক্ষিণে ও গুয়াডিয়ানা নদী অববাহিকায় ১৬—১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করে। কিছু এলাকায়, যেমন গুয়াডিয়ানা অববাহিকায় বার্ষিক প্রাত্যহিক গড় তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠে এবং গ্রীষ্মকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। দেশের উত্তর ও মধ্যভাগে শীতকালে নিয়মিত বরফ পড়ে এবং তাপমাত্রা মাইনাস ১০ ডিগ্রির নিচে নেমে যায়। এসব জায়গায় অক্টোবর থেকে মে মাসের মধ্যে যেকোনো সময় বরফ পড়তে পারে। দেশের দক্ষিণে তুষারপাত বিরল ঘটনা তবে উঁচু স্থানগুলোতে পড়তে পারে।

পর্তুগালে একক আধা—প্রেসিডেন্সিয়াল সাংবিধানিক প্রজাতন্ত্র পদ্ধতির সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। এদেশের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মারসেলো রেবেলো ডি সাউসা এবং প্রধানমন্ত্রী এ্যান্টোনিও কস্তা। আইনসভা বা পার্লামেন্টের নাম অ্যাসেম্বলি অব দ্য রিপাবলিক। সদস্য সংখ্যা ২৩০ এবং মেয়াদ ৪ বছর। অপরদিকে প্রেসিডেন্ট ৫ বছর মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হন। প্রেসিডেন্টকে ১৭ সদস্যের কাউন্সিল অব স্টেট নামে একটি পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে উপদেশ দিয়ে থাকে। এই পরিষদে আছেন ৬ জন পদস্থ বেসামরিক অফিসার, একজন সাবেক নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট, পার্লামেন্টের বাছাইকৃত পাঁচজন এবং প্রেসিডেন্টের বাছাইকৃত পাঁচজন সদস্য। প্রশাসনিকভাবে, পর্তুগাল ৩০৮টি পৌরসভায় বিভক্ত। পৌরসভাগুলো আবার ৩ হাজার ৯২টি সিভিল প্যারিশে (যাজক পল্লী) বিভক্ত। পরিচালনাগতভাবে, জাতীয় সরকারের পাশাপাশি পৌরসভা ও সিভিল প্যারিশ হলো পর্তুগাল সরকারের চিহ্নিত একমাত্র বৈধভাবে স্থানীয় প্রশাসনিক ইউনিট। পরিসংখ্যানগত কাজের উদ্দেশ্যে পর্তুগিজ সরকার ‘নোমেনক্ল্যাচার অব টেরিটোরিয়াল ইউনিটস ফর স্ট্যাটিসটিকস (এনইউটিএস) নামে, আন্ত—পৌর জনপদ এবং অনানুষ্ঠানিকভাবে, জেলা ব্যবস্থা চালু রেখেছে। পর্তুগাল প্রধানত দুই অংশে বিভক্ত : মূলভূমি পর্তুগাল বা কন্টিনেন্টাল পর্তুগাল এবং স্বায়ত্তশাসিত পতুর্গাল অঞ্চল। কন্টিনেন্টাল পতুর্গাল ১৮টি জেলায় বিভক্ত সেগুলো হলো : আভেইরো, বেজা, ব্রাগা, ব্রাগানকা, কাসটেলো ব্রানকো, কোইমব্রা, ইভোরা, ফারো, গুয়ারডা, লেইরিয়া, লিসবন, পোরটালেগ্রে, পোরটো, সানটারেম, সেটুবল, ভিয়ানা ডো কাসটেলো, ভিলা রিয়াল ও ভিসিউ। এই প্রত্যেক জেলার নামকরণ জেলা রাজধানীর নামেই করা হয়েছে। পর্তুগাল স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল আবার দু’ভাগে বিভক্ত : আজোরেস স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল ও মাদেইরা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল।

জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব (সেক্রেটারি জেনারেল) অ্যান্তোনিও গুতেরেস পর্তুগালের নাগরিক। তিনি ১৯৯৫ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০০৫ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের উদ্বাস্তুবিষয়ক হাইকমিশনার ছিলেন। ২০১৭ সালের ১লা জানুয়ারি তিনি জাতিসংঘের মহাসচিব পদে অধিষ্ঠিত হন। তিনি হলেন অস্ট্রিয়ার কুর্ট ওয়াল্ডহেইমের (১৯৭২—১৯৮১) পর পশ্চিম ইউরোপের প্রথম মহাসচিব, মহাসচিব হওয়া প্রথম সাবেক সরকারপ্রধান এবং ১৯৪৫ সালের ২৬ জুন জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর জন্মগ্রহণকারী প্রথম মহাসচিব।
পর্তুগাল আইবেরিয়ান উপদ্বীপের সবচেয়ে প্রাচীন জাতি রাষ্ট্র এবং ইউরোপেরও অন্যতম প্রাচীন দেশ। প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে এদেশের শাসনাধীন ভূখণ্ড অব্যাহতভাবে নির্ধারণ হয়েছে, আগ্রাসনের শিকার হয়েছে এবং এ নিয়ে যুদ্ধ হয়েছে। এখানে প্রাক—সেলটিক ও সেলটিক জনগোষ্ঠী বসতি স্থাপন করে, ফিনিশিয়ানরা—কার্থাজিনিয়ানরা পরিদর্শন করে এবং রোমানরা শাসন করে। রোমানদের পর সুবেই ও ভিসিগোথিক জার্মানিক জনগোষ্ঠী আগ্রাসন চালায়। মুসলিমরা আইবেরিয়ান উপদ্বীপ দখল করার পর এর ভূখণ্ডের বেশির ভাগ আন্দুলুসের অংশ হয়ে যায়। খ্রিষ্টান পুনর্দখলের গোড়ার দিকে পর্তুগাল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ৮৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত পর্তুগাল দেশটি সাও মামেডে যুদ্ধের (১১২৮) পর প্রাধান্য লাভ করে। আওরিক যুদ্ধের (১১৩৯) পর পর্তুগাল রাজ্য ঘোষণা করা হয় এবং জামোরা চুক্তির (১১৪৩) মাধ্যমে লিওন থেকে স্বাধীনতার স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

পর্তুগাল খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীতে রোমান সাম্রাজ্যের অংশে পরিণত হয়। দোউরু নদীর মোহনায় অবস্থিত প্রাক্তন রোমান বসতি পোর্তুস কালে থেকে পতুর্গাল নামটি এসেছে। খ্রিস্টীয় পঞ্চম শতাব্দীতে রোমান শাসনের অবসানের পর ইউরোপের অভ্যন্তরভাগ থেকে জার্মানীয় জাতির লোকেরা এসে পর্তুগাল শাসন করে। এরপর উত্তর আফ্রিকা থেকে মুসলিমরা এসে দেশটি দখল করে। এরপর এলাকাটি স্পেনীয় রাজাদের অধীনে আসে। দ্বাদশ শতাব্দীতে পর্তুগাল একটি স্বাধীন রাজ্যে পরিণত হয়।
পঞ্চদশ শতাব্দীতে পতুর্গাল ইউরোপের প্রধান সমুদ্রাভিযান কেন্দ্রে পরিণত হয়। পরবর্তী প্রায় ১০০ বছর পতুর্গিজ নাবিকেরা বিশ্ব ভ্রমণে বেরিয়ে যান এবং বিশ্বের সমুদ্র বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করেন। এই নাবিকদের সহায়তায় পতুর্গাল ইউরোপের প্রথম রাষ্ট্র হিসেবে একটি বৃহৎ সাম্রাজ্য গড়ে তোলে। আফ্রিকা, এশিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকায় তাদের উপনিবেশ ছিল। বর্তমানে পর্তুগিজ ভাষা বিশ্বের সবচেয়ে বেশি প্রচলিত ভাষার একটি, যা তার অতীতের বিশাল সাম্রাজ্যের পরিচয়বহ। ষোড়শ শতাব্দীর শেষ নাগাদ পতুর্গালের শক্তি ও সম্পদ নিঃশেষ হয়ে যায় এবং দেশটি তার বেশির ভাগ এশীয় উপনিবেশ হারায়। পর্তুগাল তার বৃহত্তম উপনিবেশ ব্রাজিলের ওপর ঊনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত এবং তার বিশাল আফ্রিকান সাম্রাজ্যের ওপর বিংশ শতাব্দী পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে।

১৯১০ সাল পর্যন্ত পতুর্গালে রাজতন্ত্র প্রচলিত ছিল। ঐ বছর পতুর্গালে প্রথম প্রজাতন্ত্রের আবির্ভাব ঘটে। এর পরবর্তী বছরগুলো ছিল খুব অশান্ত। ১৯২৬ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং এটি পাঁচ দশক ধরে পতুর্গাল শাসন করে। ১৯৬০—এর দশকে আফ্রিকায় ঔপনিবেশিক যুদ্ধের কারণে পতুর্গালের সম্পদ হ্রাস পায় এবং জাতীয় অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়ে। ১৯৭৪ সালে পতুর্গালে একটি বিপ্লব ঘটে এবং একটি সামরিক সরকার ক্ষমতায় আসে। ১৯৭৫ সালে পতুর্গাল তার সমস্ত আফ্রিকান ঔপনিবেশকে স্বাধীনতা দিয়ে দেয়। ১৯৭৬ সালে প্রণীত নতুন সংবিধানে গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়। তখন থেকে পতুর্গাল ইউরোপের সাথে নতুন করে সম্পর্ক স্থাপন করেছে এবং অর্থনীতির আধুনিকায়নে জোর দিয়েছে। পতুর্গাল ১৯৮৬ সালে ইউরোপীয় সম্প্রদায়ে (পরবর্তীকালে যা ইউরোপীয় ইউনিয়নে পরিণত হয়) যোগদান করে এবং ১৯৯৯ সালে মুদ্রা হিসেবে ইউরো—কে গ্রহণ করে। এর আগে পতুর্গালের মুদ্রার নাম ছিল পতুর্গিজ এসকুডো। ১৯৯৯ সালেই পতুর্গাল এশিয়ায় তার শেষ উপনিবেশ মাকাও—কে চীনের কাছে ফেরত দেয়।

পতুর্গাল সারাবিশ্বে ব্যাপক সাংস্কৃতিক, স্থাপত্য ও ভাষাগত প্রভাব রেখে গেছে। বিশ্বে প্রায় ২৫ কোটি মানুষ পতুর্গিজ ভাষায় কথা বলে। এ ছাড়া পতুর্গালে রয়েছে ইউরোপীয় ও আফ্রিকান মিশ্রণে জাত ক্রেওল জনগোষ্ঠীর বহু মানুষ। অগ্রসর অর্থনীতি ও উচ্চ জীবনযাত্রার মানসহ পতুর্গাল একটি উন্নত দেশ। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, শেনজেন এরিয়া ও ইউরোপ পরিষদের সদস্য পতুর্গাল ন্যাটো, ইউরোজোন, ওইসিডি, এবং কমিউনিটি অব পতুর্গিজ ভাষা দেশসমূহের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।

পতুর্গিজ জনপ্রিয় খাবারগুলো খুবই বৈচিত্র্যময়। পতুর্গিজরা প্রচুর পরিমাণে শুঁটকি কড মাছ খায়। পতুর্গিজ ভাষায় কডমাছকে বলা হয় বাকালহাউ। কডমাছ দিয়ে কয়েক শ’ পদের (রেসিপি) রান্না হয়ে থাকে। বছরের প্রতিদিনই কডমাছের কোনো না কোনো খাবার পতুর্গিজরা খেয়ে থাকে। মাছের অপর দু’টি জনপ্রিয় পদ হলো ঝাঁঝরিতে ভাজা সার্ডিন মাছ ও কালডেইরাডা। কালডেইরাডা হলো কয়েক প্রকারের মাছের টমেটো—ভিত্তিক ঝোল যার সাথে পেঁয়াজ, রসুন, মরিচ, আলু, টমেটো, পার্সলি বা ধনেপাতা মেশানো হয়। পতুর্গিজদের আদর্শ গোশতের রেসিপি গরু, ভেড়া, ছাগল বা মুরগির গোশতের তৈরি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে কোজিডো আ পোরতুগুয়েসা, ফেইজোয়াডা, চানফাজা ইত্যাদি। উত্তরাঞ্চলের খুবই জনপ্রিয় রেসিপি খাবার হলো ডোব্রাডা। এটা হলো সাদা শিম ও গাজরসহ নাড়িভঁুড়ির ঝোল যা সাদা গরম ভাতের সাথে পরিবেশন করা হয়। পেরি—পেরি চিকেন হচ্ছে একটি মসলাযুক্ত চারকোল চিকেন পদ যা ভাত ও সবজির সাথে পরিবেশন করা হয়। সারা পতুর্গালেই এটি জনপ্রিয়, তবে আলগারভে অঞ্চলে এই খাবার সবচেয়ে বেশি খাওয়া হয়।

পতুর্গালে ফাস্ট ফুড হিসেবে পেস্ট্রি বেশ জনপ্রিয়। বাদাম, ভ্যানিলা, দারুচিনি, ময়দা, ডিম ইত্যাদি মিশিয়ে বিচিত্র সব চমৎকার প্রেস্ট্রি তৈরি করা হয়। এগুলোর মধ্যে লিসবনে উৎপত্তি পেসটিস ডি বেলেম (বা পেসটিস ডি নাটা) এবং অ্যাভেইরোতে উৎপত্তি ওভোস মোলেস উল্লেখযোগ্য।
ফুটবল পর্তুগালের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। কিংবদন্তি ‘ইউসেবিও’ পর্তুগিজ ফুটবল ইতিহাসে এখনো একটি প্রধান প্রতীক। ফিফা ওয়ার্ল্ড বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার বিজয়ী লুইস ফিগো ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো হলেন দু’জন বিশ্ব—মানের পর্তুগিজ ফুটবল খেলোয়াড়। তারা ফিফা ব্যালোন ডি’ওর পুরস্কার জিতেছিলেন। পর্তুগিজ ফুটবল ম্যানেজাররাও উল্লেখযোগ্য। সবচেয়ে বিখ্যাতদের মধ্যে মরিনহো অন্যতম। পর্তুগাল কখনও ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ জয় না করলেও ১৯৬৬ ও ২০০৬ সালে যথাক্রমে তৃতীয় ও চতুর্থ হয়। এদেশে ফুটবল ছাড়াও রোলার হকি, বাস্কেটবল, ফুটসাল, হ্যান্ডবল ও ভলিবল খেলাও হয়ে থাকে। রাগবী ও গলফ খেলাও এদেশে হয়ে থাকে। এছাড়া অ্যাথলেটিকসেও এদেশের খেলোয়াড়দের সমান পদচারণা রয়েছে।

SHARE

Leave a Reply