Home গল্প তোমাদের গল্প অন্যরকম ঈদ -বদরুল আলম রুমান

অন্যরকম ঈদ -বদরুল আলম রুমান

আকিফ ছোটোবেলা থেকেই বিভিন্ন সামাজিক কর্মকা- এবং সংগঠনের সাথে জড়িত। বিশেষ করে তাদের স্কুলে গড়ে তোলা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘স্বপ্ন’। এই সংগঠনের একদম শুরু থেকেই জড়িত আছে। বলতে গেলে তার হাত ধরেই ‘স্বপ্ন’-এর জন্ম। স্কুলের গ-ি পেরিয়ে ‘স্বপ্ন’ এখন আশপাশের বিভিন্ন জায়গায় তার সুনাম ছড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে গত বছর ঈদে গরিব অসহায় শিশুদের অর্থাৎ যাদের ঈদের নতুন জামা কেনার সামর্থ্য নেই এরকম শতাধিক শিশুকে তারা নতুন জামা বিতরণ করেছে। তাদের এই কাজটি সর্বমহলে প্রশংসা কুড়াতে সক্ষম হয়।
এসব কাজের ক্ষেত্রে সবসময় উৎসাহ অনুপ্রেরণা দেন আকিফের বাবা গালিব সাহেব। তিনি পেশায় একজন পুলিশ কর্মকর্তা। বাবার কাছে যখনই সহযোগিতা চেয়েছে তিনিও তার সাধ্যমতো সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছেন।
আকিফের অনেক দিনের ইচ্ছে গরিব শিশুদের বাসায় নিয়ে এসে একসাথে খাবার গ্রহণ করা। কিন্তু ভাড়া বাসায় থাকে বলে চাইলেও সেটা সম্ভব হয়নি।
এবার ঈদ করতে গ্রামের বাড়িতে এসেছে। বেশ ক’বছর পর গ্রামে ঈদ করতে আসা। পুলিশ বাহিনীতে চাকরিরত হওয়ায় ঈদে ছুটি খুব একটা পান না বললেই চলে। তবে দাদুর পীড়াপীড়িতে এবার আসতে বাধ্য হলেন।
হঠাৎ করেই গ্রামে ঈদ করতে আসায় আকিফ চিন্তা করতে লাগলো ঈদে কী করা যায়। তার মাথায় একটা চিন্তা এলো, যেহেতু অনেক দিনের ইচ্ছে অসহায় শিশুদের নিয়ে একসাথে খাবার খাওয়ার। ঈদের দিন সে আয়োজন করলে কেমন হয়! ঈদের আনন্দ কিছুটা হলেও তাদের সাথে ভাগাভাগি করা যাবে। বাবার সাথে এ বিষয়ে পরামর্শ করলো আকিফ। সব শুনে বাবাও রাজি হয়ে গেলেন।
– ঠিক আছে আব্বু, আগে তুমি তাদের দাওয়াত করো। আর কতজন হবে সেটা আমাকে জানাবে। আমি সব খরচ করে রাখবো, কেমন!
– জি আচ্ছা আব্বু।
আকিফ তার সমবয়সী চাচাতো ভাই রাব্বিকে নিয়ে বের হলো। রাব্বির জানাশোনা মতে গরিব শিশুদের বাড়ি গিয়ে দাওয়াত করে আসলো। তাদের ধারণামতে পঁচিশ-ত্রিশজনের মতো উপস্থিত হবে।
আজ ঈদের দিন। ফজরের নামাজ শেষ করেই শ্যাম্পু-সাবান দিয়ে গোসল সেরে নেয় আকিফ। নতুন জামাকাপড় গায়ে দিয়ে ফিরনি-পায়েস খেয়ে বাবা আর দাদুর সাথে ঈদগাহের দিকে চলল। ঈদের নামাজ শেষ করেই একসাথে সবাই বাড়ি ফিরে। বাড়ি এসেই আকিফ ব্যস্ত হয়ে পড়ে তার দাওয়াতি মেহমানদের জন্য সবকিছু ঠিকঠাক করে গুছাতে। আকিফের আম্মু আগে থেকেই খাবারদাবার সব রেডি করে রেখেছেন। বাবা আর দাদু ঘরের বারান্দায় বসে তখন গল্প করছিলেন। আস্তে আস্তে মেহমানরা আসতে শুরু করে। কিছু সময়ের মধ্যে প্রায় সবাই এসে পড়ে। আকিফ তাদের সবাইকে বসার ঘরে নিয়ে গেলো। প্রাথমিক নাস্তা দেওয়া হয় সবাইকে। এ কাজে সাহায্য করছে আকিফের চাচাতো ভাই রাব্বি।

ততক্ষণে বাবা আর দাদু বারান্দা থেকে এসে তাদের সাথে শরিক হলেন। আকিফের বাবা তখন আগত শিশুদের সাথে পরিচিত হতে লাগলেন। এক্ষেত্রে দাদু সহযোগিতা করলেন বাবাকে। এভাবে বেশ কিছু সময় কেটে গেলো। সবার সাথে হাসিখুশি, কথাবার্তা অনেক কিছুই হলো। দাদু আকিফকে খাবার নিয়ে আসতে বললেন। আকিফ আর রাব্বি দু’জন মিলে খাবার পরিবেশন করতে লাগলো। সবার কাছে খাবার পেঁৗঁছে দিয়ে তারাও খেতে বসলো। অনেক আয়োজন ছিল খাবারে। বেশ তৃপ্তি সহকারে সবাই খাবার গ্রহণ করলো।
এবার বিদায়ের পালা। বাবা তাদের সবার মাথায় হাত বুলিয়ে বিদায় দিতে লাগলেন। একে একে সবাই চলে যেতে লাগলো। আকিফ তখন বাবার পাশে দাঁড়িয়ে তাদের চলে যাওয়া দেখছিল। তার চোখ দুটো অশ্রুতে ছলছল করছিল। মনে মনে ভাবছিল ওদের সাথে যদি এরকম আরো কিছু সময় কাটানো যেতো!
আকিফকে কোলে তুলে দু’গালে চুমো খেলেন বাবা। হৃদয়ে তখন অন্যরকম প্রশান্তির ঢেউ খেলছিল তার। প্রাণ ভরে দোয়া করলেন ছেলের জন্য। ঈদের সত্যিকারের আনন্দ আজ তিনি অনুভব করতে পারলেন, যা দীর্ঘ ৪০ বছরের জীবনে কেবল আজকে বুঝলেন। অন্যরকম এক ঈদ হলো যেন।

SHARE

Leave a Reply