Home চিত্র-বিচিত্র কাকাতুয়া পাখি -ফয়সাল আহমেদ

কাকাতুয়া পাখি -ফয়সাল আহমেদ

পোষা পাখি হিসাবে কাকাতুয়া সারা পৃথিবীতে বেশ সমাদৃত। সহজে পোষ মানা, রঙের শুভ্রতা, চমৎকার বুদ্ধিমত্তা, সৌন্দর্যময়তা এবং মানুষের অনুকরণশীলতার কারণে অনেকেই শখ করে এদের পুষে থাকে।
কাকাতুয়ার নামকরণ নিয়ে নানা মতবাদ প্রচলিত রয়েছে। অনেকেই বলে থাকেন এই পাখির নামটি এসেছে ইন্দোনেশিয়ার কোনো ভাষা থেকে। আবার অনেকেরই ধারণা দুইটি শব্দ ‘কাকাক’ ও তুয়া যুক্ত হয়েই এদের নাম হয়েছে। ধারণা করা হয় কাকাতুয়া শব্দটি ইন্দোনেশীয় ভাষা কাকা থেকে এসেছে যার অর্থ টিয়া।
এই পাখিটির দেখা মেলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ভারতীয় উপমহাদেশ ও পূর্ব ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জে। কাকাটুইডা গোত্রে বেশ কয়েকটি প্রজাতির পাখি কাকাতুয়া নামে পরিচিত।
কাকাতুয়া সর্বমোট ২১ প্রজাতির হয়ে থাকে; যার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো ককাটিল। কাকাতুয়ার শরীরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশটি হলো রঙিন ঝুঁটি। তবে প্রজাতিভেদে দৈহিক গঠন ও বর্ণের তারতম্য হয়।
কাকাতুয়া খুব মজাদার আর দুষ্ট প্রকৃতির পাখি। সাদা, ধূসর, কালো কাকাতুয়ার মাথায় রঙবেরঙের ঝুঁটি দেখতেও খুব সুন্দর লাগে। সাধারণত কাকাতুয়া দুই ধরনের হয়। বড়ো কাকাতুয়া আর ছোটো কাকাতুয়া। বড়ো কাকাতুয়ার মধ্যেও অনেকরকম ভাগ আছে যেমন আমব্রেলা, মোলুক্যান, সালফার ক্রেস্টেড আর ছোটো কাকাতুয়ার মধ্যে বেয়ার আই, রোজ ব্রেস্ট, গফিনস উল্লেখযোগ্য।

সৌন্দর্যের জন্য কাকাতুয়ার বেশ পরিচিতি রয়েছে। এদের সমপ্রজাতিদের অধিকাংশই সাদা রঙের হয়। অনেক ক্ষেত্রে গোলাপি ধূসর, কালো ও খয়েরি রংয়ের কাকাতুয়াও দেখতে পাওয়া যায়।
এই পাখি আকারে ১২ থেকে ২৪ ইঞ্চি আর ওজন ৬০০ থেকে ৯০০ গ্রাম হয়ে থাকে। এরা ১৫-৪০ বছর পর্যন্ত বাঁচে। তবে এর থেকে বেশিও বাঁচা সম্ভব। ঠিকমতো যত্ন আর সঠিক খাবার পেলে বহুদিন পর্যন্ত এরা বেঁচে থাকে। উঁচু গাছে এবং নীরবে এরা থাকতে পছন্দ করে। অনেক ক্ষেত্রে এরা পাহাড়ের গুহায়ও বাস করে।
এদের কণ্ঠস্বর খুবই জোরালো এবং কর্কশ। লম্বা লেজযুক্ত এ পাখিটি রেগে গেলে বা হঠাৎ কিছু দেখলে বা শুনলে ঝুঁটি ফুলিয়ে রাখে।এরা মানুষের কথা মোটামুটি নকল করতে পারে। এছাড়া ছোট থেকে প্রশিক্ষণ দিলে অনেক কিছুই শেখানো যায়। ঘণ্টায় প্রায় ৭০ কিলোমিটার বেগে উড়তে সক্ষম। এরা খুব আদুরে পাখি। এদের মাথার পেছনে ঘাড়ের কাছে হাত বুলিয়ে দিলে এরা খুব আরামবোধ করে৷
প্রজননকালে ১ থেকে ৮টি পর্যন্ত সাদা রঙের ডিম পাড়ে এবং স্ত্রী-পুরুষ উভয়েই তা দেয়। ২৫ থেকে ৩২ দিনের মধ্যেই ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়। সব কাকাতুয়ার বাচ্চাই মখমলের মতো লোমশ হয়। বাচ্চা নিজে খাওয়া শিখতে প্রায় ২ মাস লাগে।

কাকাতুয়া নানাধরনের শাকসবজি খায়। যেমন গাজর, আপেল, পালংশাক খেতে ভালোবাসে। বাদামের মতো দানাশস্যও এরা খায়। এরা ফল ও বীজ খেতে পছন্দ করে।
কাকাতুয়ার সব থেকে বড়ো আকর্ষণ হলো বেশিরভাগ কাকাতুয়াই কথা বলতে পারে। এরা খেলা করতে খুব ভালোবাসে।খেলার জিনিস দিলে খুশি হয়। এদের আর একটা মজার স্বভাব হলো এরা গান শুনতেও খুব ভালোবাসে।গান চালিয়ে দিলে এরা শান্ত হয়ে বসে শোনে।হাবভাব অনেকটা সঙ্গীত বিশারদের মতোই।
কাকাতুয়া খুব চালাক পাখি।কোনও কিছু শেখালে এরা খুব সহজেই রপ্ত করে ফেলে।ছোটো অবস্থা থেকেই এদের ট্রেনিং দেওয়া যেতে পারে। যেহেতু এরা খুব বুদ্ধিমান পাখি তাই এদের সবকিছু শেখার আগ্রহও অনেক বেশি।এরা মানুষকে খুব ভালোবাসে।এরা সঙ্গ চায়।নিজের চাহিদা ঠিকমতো পূরণ হলে কাকাতুয়াও মানুষের খুব ভালো সঙ্গী হয়ে উঠে।
পোষা পাখি হিসেবেও কাকাতোয়া বেশ পরিচিত। পোষ্য হিসেবে কাকাতুয়া বেশ দামি। বিশেষ ধরনের কাকাতুয়ার দাম লাখটাকারও বেশি হতে পারে। পঞ্চাশ হাজার টাকার নিচে এই পাখি পাওয়াই মুশকিল।
নানা কারণে অনেক প্রজাতির কাকাতুয়াই আজ বিলুপ্তির পথে। চাষের জমিতে বিষাক্ত উপাদান ব্যবহারে এদের মৃত্যু ঘটছে। বনভূমি ধ্বংস, জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা বিষয় এদের বিলুপ্তিতে ভূমিকা রাখছে। তাই এদের রক্ষা করার জন্য সবাইকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

SHARE

Leave a Reply