Home জাতীয় কিশোরকণ্ঠ পাঠ প্রতিযোগিতা লিফিন -তাহমিদ হাসান

লিফিন -তাহমিদ হাসান

কিশোরকণ্ঠ জাতীয় গল্প লেখা প্রতিযোগিতা ২০২০-এর ক-গ্রুপে চতুর্থ স্থান (যৌথ) অধিকারী গল্প

গবেষণাগারে বিজ্ঞানী মাহিন কাল থেকে কাজ করছেন। তার চোখে মুখে চিন্তার ছাপ। এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ তিনি বিকারে সামান্য পরিমাণে ঢেলে দিলেন। কিছুক্ষণ পর তার মুখে হাসি ফুটে উঠল। তিনি একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস নিয়ে তার সহকারী মিথিলাকে ফোন করলেন। মিথিলা কল রিসিভ করল।
হ্যালো, স্যার।
হ্যাঁ, মিথিলা। আমার নতুন আবিষ্কার প্রায় শেষের পথে। আমার বাসায় দ্রুত চলে এসো। আর কাউকে এ ব্যাপারে এখন জানাবে না।
স্যার আপনি নিশ্চিন্তে থাকুন। কেউ এ ব্যাপারে জানবে না। আমি আসছি আপনার বাসায়।
তারপর তাদের ফোনে কথা বলা শেষ হলো। বিজ্ঞানী মাহিন রানা বাংলাদেশের একজন নামকরা ব্যক্তি। তিনি তার জীবনের পুরো সময়টায় গবেষণা ও আবিষ্কারের পিছনে কাটিয়েছেন। বর্তমানে তার বয়স ৫৬ বছরের কাছাকাছি। মুখে বার্ধক্যের ছাপ বোঝা যায়। অল্প বয়সে তার স্ত্রী মারা যাওয়ায় তিনি ভেঙে পড়েন। বর্তমানে তিনি যে বিষয় নিয়ে গবেষণা করছেন তা পৃথিবীর এক বিরল গবেষণা। তিনি মৃত প্রাণীর অস্থি থেকে পুনরায় সেই প্রাণীকে জীবিত করার চেষ্টা করছেন। বর্তমানে তার গবেষণা শেষ পর্যায়ে। শুধু এটাকে পরীক্ষা করতে হবে যে তার আবিষ্কার কাজ করে কি না। তার এই রকম আবিষ্কারের পিছনে একটা ব্যক্তিগত কারণও আছে। তা হলো তার স্ত্রীকে পুনরায় জীবিত করা। তার গবেষণার খরচ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছে। এখানে প্রতিষ্ঠানটির স্বার্থ লুকিয়ে আছে। প্রফেসর মাহিন ভাবছেন তার আবিষ্কার যেন পৃথিবীর বুকে কোনো অমঙ্গল ডেকে না আনে। তিনি মানবজাতির এক নতুন জীবনদানের পথ উন্মোচন করতে যাচ্ছেন। তবুও তার মনে কেন জানি একটা ভয় কাজ করছে। তিনি এসব বিষয় নিয়ে ভাবছেন আর তখনই তার বাসায় কলিংবেল বেজে উঠল। ক্রিং ক্রিং।
তিনি সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়ে দেখলেন যে একজন নারী তার বাসার সামনে দাঁড়িয়ে। সে আর কেউ নয়; ফারজানা আঁখি। অর্থাৎ তার সহকারী মিথিলা। তিনি গিয়ে দরজা খুলে দিলেন। মিথিলা ভেতরে প্রবেশ করল।
স্যার, আপনার গবেষণার কাজ কেমন এগিয়েছে?
তোমাকে তো ফোনে বললামই যে কাজ সব শেষ। এখন শুধু এটা কোনো মৃত প্রাণীর অস্থির ওপর পরীক্ষা করে দেখতে হবে বাস্তবে কাজ করে কি না।
স্যার, আমার বিশ্বাস এটা কাজ করবে। কারণ আপনার কোনো গবেষণা আজ পর্যন্ত বিফল হয়নি। আর আশা করি এটাও হবে না। কিন্তু….
কিন্তু কী?
এটা করা কি ঠিক হবে, স্যার? যদি এটা ভবিষ্যতে কোনো অমঙ্গল ডেকে আনে?
মিথিলার কথা শুনে প্রফেসর মাহিনের মুখে চিন্তার ছাপ পড়ে গেল। তিনি দ্বিধার মধ্যে পড়ে গেলেন। তবুও আত্মবিশ্বাস নিয়ে বললেন- আশা করছি এমনটা হবে না।
তাই যেন হয়। আমার তো এসবে খুব ভয় হয়।
মিথিলা, ভয় করলে কখনও বিজ্ঞানী হতে পারবে না। নিজের ভয়কে কাবু করো। আর মনে আত্মবিশ্বাস রাখো।
জি স্যার।
তাহলে চল আবিষ্কারটা পরীক্ষা করি, কাজ করে কি না।-এ বলে প্রফেসর মাহিন তার ল্যাবের দিকে এগিয়ে গেলেন। তার ল্যাবে প্রবেশ করার দরজাতে নিরাপত্তাব্যবস্থা আছে। একটি গোপন পাসওয়ার্ড আর তার চোখের রেটিনা স্ক্যান এর মাধ্যমে ল্যাবে প্রবেশ করা সম্ভব। তিনি এসব করার পর ল্যাবের দরজা খুলে গেল। প্রফেসর মাহিন ভেতরে প্রবেশ করলেন। তার পেছন পেছন মিথিলা প্রবেশ করল। প্রফেসর একটা ছোট্ট টেস্টটিউব হাতে নিলেন। ওটাতে লাল রঙের তরল রাসায়নিক পদার্থ।
মিথিলা জিজ্ঞেস করল- স্যার এটাই কি?
হ্যাঁ মিথিলা এটাই আমার সেই আবিষ্কার। যার নাম আমি দিয়েছি লিফিন। এখন এটাকে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে নেওয়া যাক।
এরপর প্রফেসর ল্যাবে রাখা দুটি পাঁচ ফুট আকারের ক্যাপসুলের সামনে গেল। সেখানে দুটি কঙ্কাল রয়েছে।
স্যার এগুলো কোনো প্রাণীর কঙ্কাল?
বানরের কঙ্কাল। আমার আবিষ্কার এই দুটি বানরের কঙ্কালের ওপর পরীক্ষা করব। যদি সফল হই তাহলে পরবর্তীতে মানুষের কঙ্কালের ওপর প্রয়োগ করব। কারণ বানর আর মানুষের গঠনে অনেক মিল তা তো তুমি জানোই।
জি স্যার।
এরপর প্রফেসর মাহিন ক্যাপসুল দুটির মধ্যে পানি দিয়ে ভর্তি করে দিলেন। ক্যাপসুল দুটিতে আগে থেকেই অক্সিজেন সিলিন্ডারের সাথে সংযোগ দেওয়া ছিল। কঙ্কাল দুটির মুখে অক্সিজেন মাস্ক লাগিয়ে দিলেন। মিথিলাও তাকে সাহায্য করছে। এরপর তিনি সর্বশেষ যে কাজ করলেন তা হলো ক্যাপসুল দুটির পানিতে ৫০ মি.লি. লিফিন মিশিয়ে দিলেন। এরপর ক্যাপসুলের মুখ বন্ধ করে দিলেন। মিথিলা প্রফেসরের দিকে তাকালেন একবার, আরেক বার ক্যাপসুল দুটির দিকে।
প্রফেসর তাকে বললেন- আমার হিসাব মোতাবেক লিফিন যদি কাজ করে তাহলে কঙ্কাল দুটির মাধ্যমে বানরগুলো তিন দিন পর পুনরায় জীবিত হবে। অর্থাৎ তারা পুনরায় প্রাণ ফিরে পাবে আর স্বাভাবিক বানরের মতো হয়ে যাবে।
স্যার তাহলে এখন আমাদের কাজ শেষ। তিন দিন অপেক্ষা করতে হবে।
হ্যাঁ। তবে আমাদের এই তিন দিন এসব পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে।
তখনই প্রফেসর মাহিনের ফোন বেজে উঠল। তিনি ফোনের দিকে তাকালেন এবং তার চোখের ভ্রু একটু কুঁচকে গেলো। বিষয়টি মিথিলার চোখ এড়ালো না।
স্যার, কে কল করেছে? কোনো সমস্যা?
না না..। তুমি ল্যাবে একটু থাকো, আমি কথা বলে আসছি।
বলেই প্রফেসর মাহিন ল্যাব থেকে বের হয়ে গেলেন। তার রুমে এসে দরজা বন্ধ করে কল রিসিভ করলেন। আসলে কল করেছিলেন অরুণ চৌধুরী। উনি হলেন সেই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিক যেটা প্রফেসর মাহিনের সব গবেষণার খরচ চালিয়ে যাচ্ছে।
হ্যালো প্রফেসর মাহিন। কেমন আছেন? ব্যস্ত নাকি?
ব্যস্ত তো আমি সবসময়ই থাকি তা তো আপনি জানেনই। সবসময় গবেষণার কাজে লেগে থাকতে হয়।
হ্যাঁ তা তো জানিই। তো আপনার বর্তমান গবেষণা কত দূর?
ভালোই চলছে।
আপনি বলেছিলেন যে এই মাসের মধ্যেই লিফিন তৈরি করে ফেলবেন। আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি আছে। আপনি জানেনই যে এসবে প্রচুর অর্থ ব্যয় হয়েছে। আমাদের প্রতিষ্ঠান লাভবান না হলে আপনাকে আর অর্থ দেবে না।
দেখুন অরুণ সাহেব উত্তেজিত হবেন না। আমি আমার কথা মতো কাজ শেষ করব। বর্তমানে লিফিন পরীক্ষামূলক পর্যায়ে। আমি দুটি বানরের কঙ্কালের ওপর প্রয়োগ করেছি। আশা করছি সফল হবো। তিন দিন পর আপনাকে সব জানাবো।
কিন্তু আমি নিজে চোখে দেখতে চাই এগুলো কাজ করছে কি না।
দেখুন অরুণ সাহেব আমি সব কিছুতে শতভাগ আশা দিতে পারব না। তাই আমি চাই আমি নিজেই এই তিন দিন এগুলো পর্যবেক্ষণ করি।
ঠিক আছে প্রফেসর। তবে আমাকে শুভসংবাদ তাড়াতাড়ি দেবেন। তাহলে রাখি।
প্রফেসর মাহিন আর অরুণ চৌধুরীর কথা বলা শেষ হলো। প্রফেসর মাহিন ল্যাবে এলেন। আর মিথিলাকে বাসায় চলে যেতে বললেন। রাতে তিনি ল্যাবে বসে থেকে ক্যাপসুলের ভেতরের সবকিছু বাইরে থেকে পর্যবেক্ষণ করছেন। লিফিন প্রয়োগের ১২ ঘণ্টা হয়ে গেছে। তিনি কঙ্কাল দুটোতে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করলেন। দেখলেন যে কঙ্কালের চারপাশে সজীব কোষের স্তর সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি দেখে খুশি হলেন। এভাবে ৭০ ঘণ্টা চলে গেল। এর মধ্যে কঙ্কালগুলো এখন পূর্ণ বানরে রূপ ধারণ করেছে। তাদের ক্যাপসুল থেকে বের করা হয়েছে। হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক বানরের মতো। এখন শুধু তাদের জ্ঞান ফিরতে হবে। তখনি হঠাৎ তিনি গাড়ির শব্দ পেলেন। সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখলেন ৩টা গাড়ি তার বাসার সামনে এসেছে। ভেতর থেকে অরুণ চৌধুরী এবং তার লোকজন বের হলেন। প্রফেসর মাহিন কিছুটা অবাক হলেন। কারণ তিনি অরুণ সাহেবকে এখনো আসতে বলেননি। তার মনে কেমন যেন একটা ভয় সৃষ্টি হলো। অরুণ সাহেব ও তার লোকজন বাসার দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলেন আর প্রফেসরকে খুঁজতে লাগলেন। কিন্তু প্রফেসর তার ল্যাবে ছিলেন। আর ল্যাবের দরজা ভেতর থেকে লাগানো। প্রফেসর ছাড়া কেউ কোনো ভাবেই দরজা খুলতে পারবে না। প্রফেসর দেখলেন বানর দুটি নড়াচড়া শুরু করেছে। তাদের জ্ঞান ফিরে এসেছে। তিনি এটা দেখে খুশি হলেন কিন্তু তার এখন খুশি হওয়ার সময় না। কারণ তিনি বুঝে গেছেন যে অরুণ চৌধুরী আর তার লোকেরা এখানে কেন এসেছে। তার কাছে থাকা অবশিষ্ট লিফিন নষ্ট করে দিলেন এবং তার ল্যাপটপটা একটা গোপন স্থানে রাখলেন। তিনি খেয়াল করলেন যে তার ল্যাবের দরজা ভেঙে অরুণ সাহেব ভেতরে এসে গেছেন। বানর দুটি ল্যাবে ছোটাছুটি শুরু করেছে। কয়েকজন লোক এসে বানর দুটিকে একটা খাঁচায় বন্দি করলেন। অরুণ সাহেবের মুখে কুটিল হাসি দেখা গেল।
প্রফেসর মাহিন বললেন- অরুণ সাহেব এগুলো কী হচ্ছে?
কী হচ্ছে তা আপনি ভালো মতোই জানেন। আপনি আমার কথা মতো চললে এগুলো করতাম না। কিন্তু আপনি আমার কথা শুনেননি। এখন আপনার সেই আবিষ্কার লিফিনটা দিয়ে দিন তাহলে আপনাকে জীবন ভিক্ষা দেবো।
আপনি কি ভেবেছেন অরুণ সাহেব, আপনি বললেই লিফিন আপনাকে দেবো। আমার বড় ভুল হয়েছে। আমার সহকারী মিথিলা ঠিকই বলেছিল। লিফিন মানবজাতির মঙ্গল নয় বরং অমঙ্গল ডেকে আনবে। আমি অবশিষ্ট লিফিনটুকুও নষ্ট করে দিয়েছি। আপনি আমাকে মেরে ফেললেও আমি আবার নতুন করে লিফিন বানাবো না।
আমি জানতাম আপনি এমন একটা কিছুই করবেন প্রফেসর। আর হ্যাঁ কী বললেন? মিথিলা আপনাকে সতর্ক করে দিয়েছিল। হা হা হা…। তিন দিন আগে মিথিলা যখন এখানে আপনার সাথে কাজ করছিল তখন আপনার অলক্ষ্যে একটা ছোট্ট সিসিটিভি ক্যামেরা এখানে লাগিয়ে দিয়ে যায়। কী ভেবেছেন মিথিলা আপনার খুব বিশ্বস্ত সহকারী। ঐ মেয়ে আমার দলেরই একজন। আপনার ওপর নজর রাখার জন্য ওকে বলেছিলাম। কারণ আপনার ওপর আমার আগে থেকেই সন্দেহ ছিল যে আপনি আমাদের বিরুদ্ধে যেতে পারেন।
প্রফেসর শুনে খুব অবাক হলেন যে মিথিলা তাকে ধোঁকা দিলো। তিনি বললেন- আপনি যতই চেষ্টা করেন না কেন অরুণ সাহেব আমি আপনার কথা আর শুনব না। আর লিফিন পুনরায় তৈরি করা তো দূরের কথা।
আমি জানতাম আপনি এমনটাই বলবেন। এ জন্য আগে থেকে আমি ব্যবস্থা করে রেখেছি।
তারপর অরুণ সাহেব তার ফোন বের করে একটা ভিডিও দেখালেন। প্রফেসর দেখলেন যে মিথিলাকে তার ড্রইংরুমে চেয়ারের সাথে বেঁধে রাখা হয়েছে এবং মিথিলা সেখানে ঝিমাচ্ছে।
আমি জানি প্রফেসর মিথিলাকে আপনি আপনার মেয়ের মতো দেখেন। মিথিলার শরীরে এক জাতীয় বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে যা তাকে এক ঘণ্টার মধ্যে মেরে ফেলবে। আর আশা করি আপনি মিথিলাকে এভাবে মারা যেতে দেখতে চান না। তাই আপনি যদি আমার কথা শোনেন তাহলে আমি মিথিলাকে বাঁচানোর জন্য এন্টিডোট দিয়ে দেবো।
আমি আপনার সব কথা শুনব। দয়া করে মিথিলার ওমনটা করবেন না। কী করতে হবে আমাকে?
আপনি জানেনই কী করতে হবে। লিফিন পুনরায় তৈরি করে আমাকে দিন এক ঘণ্টার ভেতর। তাহলে মিথিলাকে আপনি বাঁচাতে পারবেন।
প্রফেসর মাহিন আর কোনো কথা না বলে লিফিন তৈরি করা শুরু করে দিলেন। ৫৬ মিনিটের মধ্যে তিনি লিফিন তৈরি করে ফেললেন।
বাহ প্রফেসর। সত্যিই আপনি একজন ভালো বিজ্ঞানী। কিন্তু কি আর করার আপনার, সব আবিষ্কার তো আর ভালো কাজে ব্যবহার হবে না। এই নেন এন্টিডোট। আর ৩ মিনিট আছে মিথিলার হাতে। তাড়াতাড়ি যান।
প্রফেসর খুব তাড়াতাড়ি এন্টিডোট নিয়ে মিথিলার কাছে চলে এলেন। মিথিলার শরীরে এন্টিডোট দিলেন। ২ মিনিটের মধ্যেই তার জ্ঞান ফিরল। প্রফেসর নিজের বাসায় নিরাপত্তার জন্য ল্যাবে একটা বোম তৈরি করে রেখেছেন যাতে বিপদের মুহূর্তে ল্যাবে শত্রু প্রবেশ করলে ল্যাবটা বাইরে থেকে ধ্বংস করে দিতে পারেন। তিনি এখন তাই করার সিদ্ধান্ত নিলেন। কারণ লিফিন এখন অরুণ সাহেবের কাছে। তাই তিনি বাসার দরজা দিয়ে মিথিলাকে নিয়ে বের হয়ে আসলেন। আর সাথে সাথে রিমোটে টিপ দিয়ে বোমা বাস্ট করে তার ল্যাবসহ পুরো বাসা ধ্বংস করে দিলেন। বাসার ভেতরে থাকা সব কিছুই শেষ।
মিথিলা বলল- স্যার আমি আপনার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করতে চাইনি। কিন্তু ওরা আমাকে বাধ্য করেছে। আমাকে মাফ করে দেন স্যার।
মিথিলা যা হওয়ার হয়েছে। এখন আমি একটা নতুন জীবন শুরু করতে চাই। সাধারণ মানুষের মতো তাদের মাঝে বাঁচতে চাই। আমি বুঝে গেছি যে জন্ম-মৃত্যু সব সৃষ্টিকর্তার হাতে। কেউ সেটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না।
৫০ বছর পর
প্রফেসর মাহিন রানা ৭২ বছর বয়সে মারা গেছেন। কিন্তু এখনও মননে আছেন তিনি দেশবাসীর অন্তরে তার কর্মের জন্য। আর মিথিলা পরবর্তীতে একটা স্কুলে বিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে যোগ দান করে তার বাকি জীবন কাটিয়ে দেন।

SHARE

Leave a Reply