Home খেলার চমক হাজারি ক্লাব -আবু আবদুল্লাহ

হাজারি ক্লাব -আবু আবদুল্লাহ

ক্রিকেট রেকর্ডের খেলা। ক্রিকেটের মতো এত রেকর্ড সম্ভবত আর কোনো খেলায় নেই। প্রতি ম্যাচে, প্রতি ইনিংসেই দেখা যায় কোনো না কোনো রেকর্ড হয় ক্রিকেটে। তবে কিছু কিছু রেকর্ড অনন্য। যেখানে পৌঁছতে পারে শুধু সেরারাই। তেমনি একটি রেকর্ড ব্যক্তিগত ১০ হাজার রানের রেকর্ড। ক্রিকেটের ১৪৪ বছরের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত মাত্র ২০ জন ক্রিকেটার এই রেকর্ড গড়তে পেরেছেন। এই লেখায় আমরা আলোচনা করবো ব্যাটসম্যানদের এই মাইলফলকটি সম্পর্কে।
সবার আগে গাভাস্কার ও শচীন
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের যে কোনো একটি ফরম্যাটে একজন ব্যাটসম্যানের পক্ষে ১০ হাজার রান করাও যে সম্ভব, সেটি বিশ^কে প্রথম দেখিয়েছেন ভারতীয় ব্যাটসম্যান সুনীল গাভাস্কার। তখন ক্যারিয়ারের একেবারে শেষ পর্যায়ে গাভাস্কার। আহমেদাবাদে সেটি ছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্ট। ড্র হওয়া টেস্টে ভারত একবারই ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছিল। প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানের ৩৯৫ রানের জবাবে ভারতের হয়ে ইনিংস ওপেন করতে নামেন ‘সানি’। ৬৩ রানের ইনিংস খেলে আউট হন পাকিস্তান অধিনায়ক ইমরান খানের বলে। তবে এর আগেই তিনি গড়েছেন অমর এক কীর্তি। দিনটি ছিল ১৯৮৭ সালের ৪ মার্চ। প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে নির্দিষ্ট একটি ফরম্যাটে পূর্ণ করেছেন ১০ হাজার রান। ওই ম্যাচের পর আর একটি মাত্র টেস্টই খেলেছিলেন গাভাস্কার। ব্যাঙ্গালুরুতে ওই সিরিজের পঞ্চম টেস্টই ছিল তার ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট। দারুণ এই কীর্তি গড়লেও পাকিস্তানের কাছে সেবার সিরিজ হারের যন্ত্রণা নিয়েই টেস্ট ক্যারিয়ার শেষ হয়েছিল এই গ্রেট ব্যাটসম্যানের। এরপর ১৯৯৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার অ্যালান বোর্ডার দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে করেন ১০ হাজার রান।
টেস্টে যে কীর্তি গড়েছেন গাভাস্কার, ওয়ানডেতে সেটি আরেক ভারতীয় ব্যাটসম্যান শচীন টেন্ডুলকারের দখলে। ২০০১ সালের ৩১ মার্চ ভারতের ইন্দোরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজে তৃতীয় ওয়ানডেতে ১৩৯ রানের ইনিংস খেলার পথে ব্যক্তিগত ১০ হাজার রান স্পর্শ করেন এই ভারতীয় ওপেনার। সেটি ছিল তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ২৫৯তম ইনিংস। ৩ বছর পর দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে এই তালিকায় নাম লেখান পাকিস্তানের তারকা মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান ও সাবেক অধিনায়ক ইনজামাম উল হক। বার্মিংহামে ভারতের বিপক্ষে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ম্যাচ ছিল সেটি। সেদিন ইনজামাম খেলেছিলেন ৪১ রানের ইনিংস।

দুই ফরম্যাটেই একই কীর্তি
বলা হয় কোনো রেকর্ড একবার কেউ করতে পারলে অন্যদের জন্যও সেটি স্পর্শ করা অনেক সহজ হয়ে যায়। ক্রিকেটে ব্যক্তিগত ১০ হাজার রানের রেকর্ডটিও তেমন। টেস্টে ১৪ জন ও ওয়ানডে ক্রিকেটে ১৩ জন ব্যাটসম্যান এখন পর্যন্ত ব্যক্তিগত ১০ হাজার রান পূর্ণ করেছেন; কিন্তু সাতজন এমন ব্যাটসম্যান রয়েছেন, যারা উভয় ফরম্যাটেই গড়েছেন এই কীর্তি। অর্থাৎ টেস্টে ১০ হাজার রান করেছেন, আবার ওয়ানডেতেও করেছেন। এই সাতজন হলেন ক্যারিবীয় লিজেন্ড ব্রায়ান লারা, ভারতের শচীন টেন্ডুলকার ও রাহুল দ্রাবিড়, শ্রীলঙ্কার কুমার সাঙ্গাকারা ও মাহেলা জয়াবর্ধনে, অস্ট্রেলিয়ার রিকি পন্টিং ও দক্ষিণ আফ্রিকার জ্যাক ক্যালিস।
দুই ফরম্যাটের ক্রিকেটে এটি একটি বিরাট কীর্তি। কারণ সবার পক্ষে টেস্ট ও ওয়ানডেতে সমান তালে খেলে যাওয়া সম্ভব নয়। অনেকে হয়তো টেস্টে খুব ভালো খেলেন, আর কেউ টেস্টের চেয়ে ওয়ানডেতে বেশি দক্ষ। যে কারণে এই তালিকায় নাম লেখানোর যোগ্যতা এত কম ক্রিকেটারেরই হয়েছে।

অনন্য ক্যালিস
টেস্ট কিংবা ওয়ানডে- ১০ হাজারি ক্লাবে যারা নাম লিখিয়েছেন তারা সবাই নিজ নিজ সময়ের সেরা ব্যাটসম্যান। আবার ক্রিকেট ইতিহাসেরও সেরা ব্যাটসম্যানদের তালিকা করলে তাদের নাম থাকবে; কিন্তু এই তালিকায় একজন ব্যতিক্রম, তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার পেস বোলিং অলরাউন্ডার জ্যাক ক্যালিস। একজন ব্যাটসম্যান বেশি রান করবেন সেটাই স্বাভাবিক; কিন্তু একজন জাত অলরাউন্ডার- যাকে বোলার হিসেবেও দলের পক্ষে নিয়মিত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হয়েছে, তার পক্ষে এত ভালো ব্যাটিংয়ের রেকর্ড সত্যিই বিস্ময়কর।
জ্যাক ক্যালিস তাই এই তালিকায় অনন্য এক নাম। অনেকেই তাকে ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা অলরাউন্ডার মনে করেন। বল-ব্যাট দুই ভূমিকায়ই তিনি দলের সেরা পারফরমার ছিলেন। বেশির ভাগ সময় তিন নম্বরে ব্যাট করতেন, যেটি সাধারণত দলের সেরা ব্যাটসম্যানের জন্যই বরাদ্দ থাকে, আবার পেস বোলিংও করতেন নিয়মিত। টেস্টে তার উইকেট সংখ্যা ২৯২টি আর ওয়ানডেতে ২৭৩টি। অলরাউন্ডার হয়েও সেরা ব্যাটসম্যানদের তালিকায় থাকা শুধু তার পক্ষেই সম্ভব হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি, টেস্টে সবচেয়ে কম ইনিংসে ১০ হাজার রান পূর্ণ করার রেকর্ড যৌথভাবে তিন জনের- লারা, টেন্ডুলকার ও সাঙ্গাকারা (১৯৫)। আর সবচেয়ে বেশি ইনিংসে করেছেন স্টিভ ওয়াহ (২৪৪)। ওয়ানডেতে সবচেয়ে কম কোহলির (২০৫ ইনিংস) আর সবচেয়ে বেশি জয়াবর্ধনে (৩৩৩ ইনিংস)।

SHARE

Leave a Reply