Home গল্প কুসুমের স্বপ্ন -আহসান হাবিব বুলবুল

কুসুমের স্বপ্ন -আহসান হাবিব বুলবুল

প্রজাপতির সাত রঙা পাখায় ভর করে পরীরা নেমে আসে আকাশের সিঁড়ি বেয়ে। নীল পরী, লাল পরী। কী নরম তুলতুলে। ওরা আদর করে। চুমুতে চুমুতে ভরিয়ে দেয় কপোলখানি। ঘুম পাড়ানি গান গায়। উষ্ণতায় দু’চোখ জুড়ে ঘুম আসে কুসুমের।
কুয়াশার চাদর জড়িয়ে ঘুমিয়ে আছে রাজধানী ঢাকা শহর। এখন গভীর রাত। মধ্য পৌষে মৃদু শৈ^ত্যপ্রবাহ বইছে। কনকনে হিম। রাস্তার সোডিয়াম বাতিগুলো ঘন কুয়াশায় ঘোলাটে দেখাচ্ছে।
কোথাও কোনো সাড়া শব্দ নেই। একজন হকার চায়ের কাপে টুং টাং শব্দ তুলে রাতের নিস্তব্ধতা ভাঙছে। পলিথিন কাগজের ঝুপড়ির ভেতর দু’একজন নারী-পুরুষ চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে শীতকে ভ্রƒকুটি করছে। সায়েদাবাদ-মালিবাগ বাইপাস সড়কের প্রশস্ত ফুটপাথে একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই করে নিয়েছে এই ছিন্নমূল মানুষগুলো।
ঘন কুয়াশা ভেদ করে এগিয়ে আসে একটি জিপগাড়ি আধো লাইট জে¦লে। ধীরে শব্দে সন্তর্পণে এসে থামে। গাড়ির ভেতর থেকে ক’জন কর্মী নেমে আসে। তারা বড় একটা প্যাকেট থেকে হাতে হাতে রঙবেরঙের কম্বল নিয়ে ঘুমন্ত মানুষগুলোর ওপর ছড়িয়ে দেয়। হয়ত মহানুভব কোনো খেয়ালি মানুষের অনবদ্য এ দান। যাকে কেউ চিনবে না। জানবে না। নিরন্ন-বিবস্ত্র মানুষগুলো শুধু বিস্ময়ে উষ্ণতার পরশ নেবে।
কিছুক্ষণ পর অন্য একটি ভ্যানগাড়ি একই পথে এসে থামে। কালো ধোঁয়ার গন্ধ মিশছে বাতাসে। গাড়ির ভেতর থেকে একজন ঘাড় বাড়িয়ে বলে : এ্যাই বুইড়া ব্যাডা, কম্বলডা দিয়া দে দেড় শ’ টাকা পাবি।
: পাঁচশ ট্যাহার কম্বল দেড় শ’ ট্যাহায় দিমু! এ্যাঁ কেমুন কতা কন।
: বেশ তো দুইশই দিমু।
: কই আগে ট্যাহা দ্যান।
: সত্য কইরা কম্বলডা তুমি বেইচ্যা দিলা। মাইয়াডা আমার উম পাইয়া কী সুন্দর ঘুম আইচে!
: এ্যাই নতুন দামি কম্বল দিয়া আমরা কী করুম। দুইশ’ ট্যাহা হইলে সক্কাল বেলা গরম ভাত খাইবা। মাইয়াডারে একডা নতুন ফরগ কিনা দিমুনে।
কুসুমের মা মেয়েকে বুকের মধ্যে জড়িয়ে নেয়।
কাকডাকা ভোরে উঠে পড়ে ছমিরন বিবি। লোকে ডাকে কুসুমের মা। কাজে ছুটতে হবে এক্ষুনি তাকে। কুসুমের বাপ তখনো ছেঁড়া একটা কাঁথায় নিজেকে মুড়িয়ে পড়ে আছে।
খুক্ খুক্ করে কাশছে। কুসুমের ঘুম ভেঙে যায়। ছমিরন বিবি এক অজানা আশঙ্কায় মেয়ের দিকে চেয়ে থাকে। কুসুমের মায়ের চোখে চোখ রাখে।
: কী খোঁজোস মা!
: কিছু না। আইজ রাতে আমি একডা সপন দ্যাখছি। সপনডা খুব ভালা।
ছমিরন বিবি মেয়ের দিকে শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে।

SHARE

Leave a Reply