Home স্বপ্নমুখর জীবন বই পড়া ভারি মজা -আমিনুল ইসলাম ফারুক

বই পড়া ভারি মজা -আমিনুল ইসলাম ফারুক

আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা। কেমন আছো তোমরা? নিশ্চয়ই ভালো আছো। আমিও তোমাদের দোয়ায় আলহামদুলিল্লাহ্ ভালো আছি। প্রতি মাসের মতো এ মাসেও তোমাদের মাঝে হাজিরা দিতে চলে এলাম। আজকের শিরোনামটা অন্যান্য মাসের চেয়ে একটু ব্যতিক্রম। ব্যতিক্রমী এই শিরোনাম দেখে হইচই করো না কিন্তু। তোমাদের কাছে আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে বই পড়া হচ্ছে দুনিয়ার সবচেয়ে বিরক্তিকর একটি কাজ, সেই বই আবার আমাদের মাঝে কিভাবে আনন্দের উদ্রেক সৃষ্টি করতে পারে? হ্যাঁ পারে। কিভাবে পারে, সে বিষয় নিয়েই আজ তোমাদের সাথে আড্ডা হবে। বই নিয়ে একটি কমন ধারণা হলো বই আমাদেরকে জ্ঞান দান করে। বই পড়লে জ্ঞান বাড়ে। কিন্তু জ্ঞানের সাথে সাথে বই বিনোদনের উৎসও যে হতে পারে, বই নানাভাবে আমাদেরকে আনন্দ দিতে পারে সেটা হয়তো তোমরা অনেকেই জানো না। তাই আজ ঠিক করেছি তোমাদের সাথে এই চমৎকার বিষয়টি নিয়েই আলোচনা করব। তা ছাড়া তোমরা নিশ্চয়ই জানো, ফেব্রুয়ারি মাস ভাষার মাস। ফেব্রুয়ারি মাস বইয়ের মাস, বইমেলার মাস। তাই আজকের এই পর্বে বই নিয়ে আলোচনা করাটাই বেশি যুক্তিযুক্ত হবে।

‘বই পড়া ভারি মজা’ এটি মূলত তোমাদের মতো স্বপ্নবাজ শিশু-কিশোরদের উদ্দেশ করে সহজ সরল ও আবেগ মেশানো ভাষায় লেখা একটি বই। বইটি বেশ তথ্যবহুল এবং মজার। লেখক সৈয়দ শামসুল হক খুব দরদ দিয়ে সাবলীল ভঙ্গিতে বই পড়ার উপকারিতা নিয়ে এই বইটি লিখেছেন। কেমন বই পড়া উচিত, বই কিভাবে জীবন বদলায় এবং সেই সাথে বই কিভাবে আনন্দের উৎস হতে পারে, একের পর এক চমৎকার সব গল্প বলে গেছেন এই বইতে। লেখক আন্তরিকভাবে ‘তুমি’ ‘তোমরা’ সর্বনাম ব্যবহার করে তোমাদের মতো খুদে পাঠকদের আপন করে নিয়েছেন। বই সম্পর্কিত মোট পনেরোটি বিষয় নিয়ে মজার মজার রচনা রয়েছে এই গল্পের বইটিতে। আজকের আলোচনা তাঁর বই কিংবা তাঁকে নিয়ে নয়। ‘বই পড়া ভারি মজা’ এই কথার ভূমিকা দিতে গিয়ে এত কথা বলতে হলো। চলো এবার মূল আলোচনায়।

আমাকে যদি প্রশ্ন করা হয় পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বন্ধু কে? আমি বলব বই। যদি বলা হয় দুঃখ-দুর্দশা ও নিঃসঙ্গতায় কে আমাকে সবচেয়ে বেশি সঙ্গ এবং আনন্দ দেয়, আমি বলব বই। আমাকে যদি আমার জীবনের সুন্দর মুহূর্তগুলো বর্ণনা করতে বলা হয় তখন আমি বলব, বইপড়ার মুহূর্তগুলো সবচেয়ে সুন্দর। নানা ঘাত প্রতিঘাতে মানুষ যখন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে, হতাশার চোরাবালিতে ডুবে যায়। এই চোরাবালি থেকে মানুষকে উদ্ধার করতে পারে একটি ভালো বই। মানুষের আনন্দ লাভের পথ বহু বিচিত্র। গ্রন্থপাঠ আনন্দ লাভের শ্রেষ্ঠ পথ। এটি কর্মক্লান্ত দিনের ব্যস্ততা ও হানাহানির মধ্যে ক্লিষ্ট-পীড়িত চিত্তের ক্লান্তি দূর করে এনে দেয় অনাবিল প্রশান্তি। এ জন্যই ভিনসেন্ট স্টারেট (১৫৮১-১৬৬০) বলেছেন- When we buy a book, we buy pleasure. বিখ্যাত ঔপন্যাসিক লিও টলস্টয় (১৮২৮-১৯১০) বলেছেন- Three things are essential for life & these are books books and books.
মনীষী কার্লাইল (১৭৯৫-১৮৮১) তাঁর “On the choice of books.” প্রবন্ধের এক জায়গায় বলেছেন- “The true University of our days is the collection of book.”

সমস্ত প্রাণিজগতের সাথে মানুষের পার্থক্য এইখানে যে, মানুষ তার জ্ঞানকে, বোধকে অক্ষরের ভাষায় লিপিবদ্ধ করে বইয়ের মাধ্যমে মানুষের জ্ঞানার্জন ও আনন্দ লাভের জন্য রেখে যেতে পারে। বিশ্বের মহামূল্য গ্রন্থগুলো মানুষের জ্ঞান-বিজ্ঞান শিল্প-সাহিত্য সাধনার নির্বাক সাক্ষী। এগুলোর মধ্য দিয়েই মানুষ লাভ করেছে তার আপন অন্তরতম সত্তার পরিচয়। আমাদের বৃহত্তর জীবনের যাত্রাপথের সবচেয়ে বড় সঙ্গী বরেণ্য মনীষীদের লেখা মূল্যবান বই। প্রতিটি মানুষের জীবনী অনুসন্ধান করলে তোমরা দেখতে পাবে তাদের জীবনের বেশির ভাগ সময় কেটেছে বই পড়ে এবং বই লিখে।
আমেরিকার সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট (১৮৫৮-১৯১৯) অন্য লোকদের সাথে কথোপকথনের সময়েও ফাঁক দিয়ে বই পড়তেন। আর নেপোলিয়ন (১৭৬৯-১৮২১) যুদ্ধে গেলেও তার সাথে থাকতো একটি চলমান লাইব্রেরি। হজরত আলী (রা.) (৫৯৮-৬৬১) এর ব্যক্তিগত হাদিস সঙ্কলন ‘সহিফা’ সংরক্ষিত রাখতেন তাঁর তলোয়ারের খাপের ভেতর।

ক্যাডম্যান (১৮৮১-১৯৪৬) বারো বছর বয়স থেকে আহারের সময়ও পড়া চালিয়ে যেতেন। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর (১৮৯২-১৯৬৩) কোষ্ঠকাঠিন্য থাকায় টয়লেটে খুব বেশি সময় লাগত। তাই কমোডে বসেই প্রতিদিনের পত্রিকাগুলো পড়ে শেষ করতেন। সুতরাং প্রমাণ হলো বইয়ের সাথে না থাকলেও চব্বিশ ঘণ্টা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পড়ালেখার সাথে নিজেকে সংযুক্ত রাখা যায়।
এবার দেখবো পাঠ্য বইয়ের বাইরে তোমাদের জ্ঞানের সীমা কতটুকু। এ ক্ষেত্রে আমি তোমাদের একটি কুইজ ধরবো। বলোতো, বারকিনাফাসো, লেসোথা, ডোমিনিকা ও কসোভো এগুলো কিসের নাম? কোন ব্যক্তির নাম? ট্যাবলেটের নাম? নাকি কোন দেশের নাম? যদি উত্তরগুলো জানা থাকে তাহলে আজই ডায়েরিতে লিখে রাখো। আর জানা না থাকলে অনুসন্ধানে লেগে যাও।

সারাদিন যারা শুধু পাঠ্যবই নিয়েই পড়ে থাকে তাদের চিন্তার জগৎ হয়ে যায় একেবারে সংকীর্ণ। তারা অ্যাকাডেমিক ভালো রেজাল্ট করতে পারে ঠিক কিন্তু জীবনে বড় কিছু করতে পারে না। জীবনে তোমাদের নানা বই পড়তে হবে, অজানাকে জানতে হবে, অচেনা পথে হাঁটতে হবে। তোমার সমগ্র জীবনে হয়তো বিশ-পঁচিশটি পথে হাঁটা হবে সেখান থেকে পাঁচটি রাস্তা বেরিয়ে আসবে এবং যা পরবর্তী সময়ে চমৎকার মহাসড়কে পরিণত হবে। কিন্তু তোমাকে মনে রাখতে হবে যে বিশটা রাস্তা হাঁটা হয়েছে, কিন্তু পরবর্তী সময়ে মহাসড়কে পরিণত হয়নি, সেই রাস্তাগুলোতে হাঁটা না হলে এই পাঁচটি রাস্তা মহাসড়কে পরিণত হতে পারতো না। তুমি যদি সত্যিকারের মানুষ হতে চাও সেটা বই তোমাকে পরিচয় করিয়ে দেবে। জীবনের নতুন নতুন দর্শন এবং আইডিয়ার সাথে পরিচয় করিয়ে দেবে। তাই বারবার বলি শুধু অ্যাকাডেমিক পড়াশোনার মধ্যেই জীবনকে সীমাবদ্ধ রাখলে জীবনের আসল পথ ধরতে পারবে না। যারা শুধু অ্যাকাডেমিক বিষয়াদি নিয়েই ব্যস্ত থাকে তারা জীবনের মানে ও আসল রাস্তা ধরতে পারে না। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে তারা থেকে যায় মায়ের কোলের সদ্যপ্রসূত শিশুর মতোই। সুতরাং তোমাদের পাঠ্য বইয়ের ফাঁকে ফাঁকে আদর্শ চরিত্র গঠনের জন্য ধর্মীয় গ্রন্থ পড়বে। সাধারণ জ্ঞানের জন্য পত্রিকা। অনুপ্রেরণার জন্য মহামনীষীদের জীবনী। মাঝে মধ্যে তাঁদের বিশেষ কিছু বাণী ডায়েরিতে লিখে রাখবে। এতে করে পাঠ্য বইটিও ভালোভাবে রপ্ত হবে। যেমন শুধু গোশত রান্না করলেই কিন্তু খাওয়া যায় না, তার সাথে তেল, লবণ, মরিচ, আদা, রসুন, পেঁয়াজ, গরম মসলা ইত্যাদি। তবেই তা হয় মুখরোচক আর হজমদায়ক।

তবে কিছু চালবাজ ধূর্ত লোকেরা বই পাঠকে ঘৃণা করে। সাধারণ লোকেরা বই পাঠের প্রশংসা করে, জ্ঞানী লোকেরা সেটা ব্যবহার করে। জ্ঞানী লোকেরা অভিজ্ঞতার মারফত বুঝতে পারে পাঠার্জিত জ্ঞানকে কিভাবে বাস্তব জীবনে কাজে লাগাতে হবে। পাঠ কাউকে নাকচ করার জন্য নয়; কোন কিছুকে স্বতঃসিদ্ধরূপে গ্রহণ করার জন্য নয়; বাদানুবাদের জন্যও নয়। পাঠ হবে বিচার-বিশ্লেষণের জন্য। তুমি যেসব অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছো সে অধিকার ফিরে পাবার জন্য। কিছু কিছু বই পড়বে স্বাদ নেওয়ার জন্য। কিছু বই গিলে ফেলার জন্য। কতিপয় বই চিবিয়ে খেয়ে হজম করে ফেলতে হয় অর্থাৎ মনোযোগ ও নিষ্ঠার সাথে পুরোটা পড়তে হয় শুধু বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার জন্য।

এবার চলো দেখি, মহামনীষীরা বইপড়া সম্পর্কে কী বলেছেন। স্পিনোজা (১৬৩২-১৬৭৭) বলেছেন- “ভালো খাদ্য বস্তুতে পেট ভরে কিন্তু ভালো বই মানুষের আত্মাকে পরিতৃপ্ত করে।” ইউরোপ কাঁপানো নেপোলিয়ন কী বলেছেন জানো? তিনি বলেছেন- “অন্তত ষাট হাজার বই সাথে না থাকলে জীবন অচল।” মারকুস টুলিয়াস (১৮৬৪-১৯২১) বলেছেন- “A room without books is like a body without soul.” জেমস রাসেল (১৮১৯-১৮৯১) বলেছেন- “বই হলো এমন এক মৌমাছি যা অন্যদের সুন্দর মন থেকে মধু সংগ্রহ করে পাঠকের জন্যে নিয়ে আসে।” ফ্রান্স কাফকা (১৮৮৩-১৯২৪) বলেছেন- “আমাদের আত্মার মাঝে যে জমাট বাঁধা সমুদ্র, সেই সমুদ্রের বরফ ভাঙার কুঠার হলো বই।”
গ্যাটে (১৭৪৯-১৮৩২) বলেছেন- “কতগুলো বই সৃষ্টি হয় আমাদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য নয়; বরং তাদের উদ্দেশ্য হলো আমাদের এই কথা জানানো যে, বইগুলোর স্রষ্টারা কিছু জানতেন।” ভলতেয়ার (১৬৯৪-১৭৭৮) বলেছেন একটি মজার কথা- “সে দেশ কখনো নিজেকে সভ্য বলে দাবি করতে পারবে না যতদিন না তার বেশির ভাগ অর্থ চুইংগামের পরিবর্তে বই কেনার জন্য ব্যয় হবে।” লিমনি সানকেট বলেছেন- “Never trust anyone who has not brought a book with them.” আর সবচাইতে চরম কথাটি বলেছেন নর্মান মেলর (১৮৯৩-১৯৬৯)- “আমি চাই, বই পাঠরত অবস্থায় যেন আমার মৃত্যু হয়।” আর রাসূল (সা.) বলেছেন সবচাইতে মহামূল্যবান কথাটি- “জ্ঞান হচ্ছে তোমাদের হারানো সম্পদ, সুতরাং যেখানে তা পাও কুড়িয়ে নাও।” মনীষীরা তাদের জীবনের বেশির ভাগ সময়ই বইয়ের সাথে একাত্ম করে রেখেছিলেন। বই-সংশ্লিষ্ট এমন কিছু মজার ঘটনা তাদের জীবনে ঘটেছে সেখান থেকে দুয়েকটি ঘটনা উল্লেখ না করার লোভ সামলাতে পারছি না।
১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট ভারত পাকিস্তান যখন আলাদা হলো, বরেণ্য লেখক ও রাজনীতিক আবুল মনসুর আহমেদ (১৮৯৮-১৯৭৯) তখন কলকাতায়। কলকাতা চৌরঙ্গীর মোড়ে বইয়ের দোকান ঘুরে ফিরে বই হাতড়ানোই ছিল তাঁর একটি শখের কাজ। এমনিতে নানান কিসিমের বইয়ে ভরা বুক স্টলে বই দেখে বেড়ানো ছিল তাঁর চিরকালের একটি অভ্যাস। তখন কলকাতায় দাঙ্গা-হাঙ্গামা চরমে থাকায় অনেক বইয়ের দোকান বন্ধ হয়ে যায়। তাই চৌরঙ্গীর বই-পুস্তকের নতুন দোকানগুলোতে বইপ্রেমী মনসুর সাহেবের যাতায়াত ছিল বেশি। বই কেনার চেয়ে পরখ করতেন বেশি। এতে অবশ্য দোকানদারেরা রাগ করতেন না।

মনসুর সাহেব বিলাত থেকে ব্যারিস্টারি পাস করে এলেও দেশে ফিরে তিনি উকিল সাব হিসেবেই বেশি পরিচিতি পেয়ে যান। কালো শেরওয়ানি পরা মনসুর আহমেদকে দীর্ঘ বারো বছর যাবৎ তারা চিনতেন উকিল সাব বা এডিটর সাব পরিচয়ে। আসল নাম না জানলেও এই লোকটাকে বই পুস্তকের দোকানদাররা যথেষ্ট খাতির করতেন। তিনি যেকোনো বই দেখতে চাইলে দোকানদাররা নামিয়ে দেখাতেন, যদিও তারা জানতেন শেষ পর্যন্ত উকিল সাব বইটা কিনবেন না। হাজার টাকার বই ঘেঁটে শেষ পর্যন্ত আট আনা এক টাকার একটি বই অবশ্য কিনতেন। তাও আবার নিয়মিত না মাঝে মধ্যে। মনসুর আহমেদের এই অভ্যাসের সাথে প্রায় সব দোকানদাররা পরিচিত হয়ে উঠল। উকিল সাব আসছেন দেখলেই দোকানিরা মুচকি হেসে একে অন্যের দিকে তাকাতাকি করে ঠাট্টা করত। মনসুর সাহেবও সেটা বুঝতেন, ঠাট্টার ব্যাপারটি গায়ে না মেখে তিনিও তাদের সাথে মুচকি হাসতেন। মনসুর সাহেবকে দেখে যদিও ইশারা-ইঙ্গিতে বলতো- আইয়ে সাব যাইয়ে সাব। মনসুর সাহেবের ধারণা দোকানদাররা ইশারা-ইঙ্গিতে এমনটা করলেও মনে মনে ঠিকই বলতো- দু’ চারঠা দেখখে চলে যাইয়ে সাব অর্থাৎ দু চারটি বই দেখে জনাব এমনিতেই চলে যাবে।

আরেকটি ঘটনা নন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদকে (১৯৪৮-২০১২) নিয়ে। ক্যান্সারের চিকিৎসা করাতে হুমায়ূন আহমেদ তখন আমেরিকায়। অসুস্থতার কথা ভুলে থাকার জন্য নিজেকে বইয়ের মধ্যে ব্যস্ত রাখতে চেষ্টা করছেন। ওই উদ্দেশ্যে প্রচুর বই জোগাড় করলেন। বইগুলোর বেশির ভাগই নবী (সা.)-এর সিরাত সংক্রান্ত।

তিনি আমেরিকায় যে বাড়িতে উঠছিলেন তাঁর পাশেই একটি পাবলিক লাইব্রেরি ছিল। ফরম পূরণ করে তিনি ঐ লাইব্রেরির মেম্বার হলেন। একদিন লাইব্রেরির বুক সেলফে গিয়ে হুমায়ূন আহমেদ তো রীতিমতো হতবাক হলেন। তিনি দেখলেন বিদেশি লেখকদের বইয়ের সেলফে তাঁর নিজের লেখাও অনেক বই আছে। হুমায়ূন আহমেদ সকৌতুকে লাইব্রেরিয়ানকে জিজ্ঞেস করলেন- আরে এই বইগুলো তো আমার প্রিয় লেখকের বই! লাইব্রেরিয়ান বললেন- আপনি যেহেতু আমাদের লাইব্রেরির সদস্য, চাইলে আপনার প্রিয় লেখকের বই নিয়ে আপনি পড়তে পারেন। হুমায়ূন আহমেদ তাঁর নিজের লেখা জনপ্রিয় একটি উপন্যাস ‘মাতাল হাওয়া’ বইটি ইস্যু করে নিয়ে এলেন।
ব্যক্তি হুমায়ূন আহমেদ তো সিরাত নিয়ে বই লেখার লোক না। কিন্তু জীবন সায়াহ্নে এসে তিনি কেন সিরাত নিয়ে পড়াশোনা করতে চেয়েছিলেন এবং সিরাত নিয়ে লিখতে চেয়েছিলেন তারও একটি চমৎকার প্রেক্ষাপট এবং মজার কাহিনী আছে সেটা কোনো দিন সুযোগ হলে বলব। সেই আশা নিয়ে আজকের মতো এখানেই বিদায় নিচ্ছি। সবাই ভালো থাকবে, সুস্থ থাকবে। আল্লাহ হাফিজ।

SHARE

Leave a Reply