Home ক্যারিয়ার গাইড লাইন

বিশ^ মাঝে
শীর্ষ হবো
আহসান হাবীব ইমরোজ

প্রতিভা : উদ্ভাবন ও উন্নয়নের প্রভা
প্রতিভা মানে কী? অভিধান চষে আমরা চারটি অর্থ পাই; এক) তীক্ষèবুদ্ধি দুই) উপস্থিত বুদ্ধি বা প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব তিন) নির্মাণক্ষমবুদ্ধি বা সৃজনীশক্তি চার) পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে প্রায়োগিক জ্ঞান বা প্রজ্ঞা।
তোমাদের সময় আছে? এ নিয়ে আমরা আরেকটু গবেষণা করবো কি? কী জন্য বলছি? কারণ গবেষণা মানে হচ্ছে বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ার তত্ত্বাদির অনুসন্ধান। সহজ বাংলায় বলতে গেলে গবেষণা শব্দের উৎপত্তি সংস্কৃত শব্দযুগল গো+এষণা অর্থাৎ কি না গরু খোঁজাখুঁজি। (বলতো মশাই সহজ হলো না কঠিন? আমার আর দোষ কী, ভাগ্যিস রবিঠাকুর বলেছিলেন, সহজ কথা যায় না বলা সহজে।)
প্রতিভার কোনও বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত সঠিক সংজ্ঞা নেই। কখনও কখনও Intelligent (বুদ্ধিমান) কিংবা Talent (মেধা)-কে প্রতিভার সাথে বিযুক্ত করা হয়। যাহোক প্রতিভার ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে, Genius.
১৪শ শতকের শেষের দিকে, ল্যাটিন শব্দ জেনি (from root gene- “give birth, beget,” with derivatives referring to procreation and familial and tribal groups.) থেকে জিনিয়াস শব্দের উৎপত্তি যার সরল শাব্দিক অর্থ জন্ম, পয়দা ।
পরবর্তীতে আভিধানিক অর্থে এমন অভিভাবক দেবতা বা আত্মা অর্থে ব্যবহৃত হয় যে কি না জন্ম থেকে প্রতিটি ব্যক্তির ওপর নজর রাখেন; তার জীবন পরিচালনা এমনকি বুদ্ধি, প্রতিভার বিকাশ ঘটান। ১৬৪০ সালে “প্রাকৃতিক বুদ্ধি বা প্রতিভাবান ব্যক্তি” এবং “উন্নত প্রাকৃতিক মানসিক ক্ষমতা” এর অর্থে সর্বপ্রথম এর ব্যবহার শুরু হয়।
তাহলে সহজ কথায় দাঁড়ালো প্রতিভা বা প্রতিভাবান হচ্ছেন এমন ব্যক্তি যিনি ব্যতিক্রমী বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতা, সৃজনশীল উৎপাদনশীলতা, মৌলিকতায় সর্বজনীনতা প্রদর্শন করেন, সাধারণত এমন একটি ডিগ্রিতে যা জ্ঞানের জগতে নতুন অগ্রগতি অর্জনের সাথে সম্পর্কিত হয়। ইতিহাস জুড়ে বহু বিষয়ে পণ্ডিতের (Genius) উপস্থিতি সত্ত্বেও, অধিকাংশ বুদ্ধিজীবী কেবলমাত্র এক ধরনের ক্রিয়াকলাপে উচ্চ সাফল্য দেখিয়েছেন। যেমন, রবিঠাকুর ২২৩০টি গান, হাজারো কবিতা ও ছোট গল্প লিখেছেন সাথে তার শৈল্পিক মন থেকে কিছু ছবিও এঁকেছেন। কিন্তু তিনি তৎকালীন বিশ্বশ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের সাথে সাক্ষাৎ করলেও তার নিজের তেমন কোনো বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার পাওয়া যায় না। উল্টোক্রমে টমাস এডিসন হাজারের ওপর বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার করলেও তার উল্লেখযোগ্য কোন কবিতা বা গল্প খুঁজে পাওয়া যায়নি।
কিন্তু ব্যতিক্রম আছে, যেমন ইবনে সিনা যাকে আধুনিক মেডিসিনের জনক হিসাবে বিবেচনা করা হয়। তিনি একাধারে একজন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসক, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, দার্শনিক, চিন্তাবিদ এবং ইসলামী স্বর্ণযুগের লেখক। তার প্রায় ৪৫০টি রচনাসম্ভারের মধ্যে প্রায় ২৪০টি পাওয়া যায়, যার ভিতর দর্শনশাস্ত্রে ১৫০ এবং চিকিৎসায় ৪০টি রয়েছে। তাঁর সর্বাধিক বিখ্যাত রচনাগুলি হলো বুক অফ হিলিং, এটি একটি দার্শনিক ও বৈজ্ঞানিক বিশ্বকোষ, এবং দ্য কানুন অফ মেডিসিন, একটি মেডিক্যাল এনসাইক্লোপিডিয়া। যা বহু মধ্যযুগীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একটি স্ট্যান্ডার্ড মেডিক্যাল পাঠ্য হিসেবে ছিল। এমনভাবে আবু-রুশদ, আল ফারাবী, আল কিন্দি, আল খাওয়ারিজম, আল জাবেরসহ শতশত মনীষীর নাম নেওয়া যায়। পশ্চিমা বিশ্বেও লিউনার্ডো দ্যা ভিঞ্চি এমন একজন ছিলেন। যাদেরকে Polymath বা বহুমুখী পণ্ডিত বলা হয়।
প্রতিভার এমন শ্রেষ্ঠ ও অনন্য উদাহরণ খুঁজে পাই আমরা প্রথম মানুষ হজরত আদম আ.-এর ভেতর ।
মিল্লাতে ইবরাহিমের সকলের সাধারণ বিশ্বাস আদম-হাওয়া বা এডাম-ইভের মাধ্যমেই পৃথিবীতে মানব সভ্যতার সূচনা। সৃষ্টির শুভ-সূচনাতেই পরম প্রভু শিক্ষক হয়ে প্রথম মানব আদমকে যাবতীয় নাম শিক্ষা দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সূত্রপাত ঘটালেন। And He taught Adam the nature of all things; then He placed them before the angels, and said- Bow down to Adam;”(Baqarah-31-34 )
আমরা যদি একটু চিন্তা করি এই পৃথিবীর ১০ হাজার প্রজাতির পাখি, ৪ লক্ষ প্রজাতির ফুল, ৮০ লক্ষ প্রজাতির জীব এবং এমনকি এ মহাবিশ্বের ১০ হাজার কোটি তারকার নাম ও তাদের প্রকৃতি সম্পর্কে তিনি কি জানতেন? আল্লাহপাক ‘আসমাআ কুল্লাহা’ শব্দযুগলের মাধ্যমে স্বয়ং শিক্ষক রাব্বুল আলামিন জানান দিচ্ছেন, হ্যাঁ আদম আ. সব জানতেন।
এ শিক্ষায় সর্বোচ্চ সফলতার কারণে আদম আ. এবং সমগ্র মানবজাতি হলো আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব।
নবী, সাহাবী এমনকি তাদের পরবর্তীদের জীবনে যারা শুধু আমাদের কাছে নয় বরং পশ্চিমা বিশ্বের কাছেও জ্ঞানের দিকপাল। যাদেরকে ওরা সাধারণকে ভ্রান্তিতে ফেলতে নাম দিয়েছে আভিসিনা, আভেরুস ইত্যাদি। কিন্তু তাদের অবদানকে অস্বীকার করতে পারেনি। আজকে আমাদেরই দায়িত্ব হচ্ছে সেই সকল হারানো দিকপালদের তারকাসম কৃতিত্ব বিশ্বের সামনে তুলে ধরা। এ জন্য নিজেদেরকে তৈরি করতে হবে জ্ঞান, যোগ্যতা ও চরিত্রে বিশ্বমানের।
আল্লাহ হাফিজ।

SHARE

Leave a Reply